খালেদা জিয়ার জন্য মরার দরকার নেই,সাহস করে রাস্তায় আসেন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, গণতন্ত্রের জন্য এই দেশের জনগণ স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছে, জীবন দিয়েছে। কিন্তু আজ স্বাধীন দেশে গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বারবার নেতৃত্ব দিয়ে বিজয়ী হওয়া সেনাপতি বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, তারা এখন আনন্দ করছে। আনন্দ করুক। বিএনপিও আনন্দ করবে যেদিন সকল মানুষকে সাথে নিয়ে রাস্তায় নেমে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা যারা এখানে বসে আছি, তারা সবাই বলছি- বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কি করা দরকার। এ নিয়ে বহু আলোচনা করছি। কিন্তু আসলে কিছুই করছি না। কি করা দরকার, এ বিষয়ে কারো বুদ্ধির অভাব নেই। তবে সেই কাজটা করার মতো কোনো উদ্যোগ নাই! ভাসানীর সময় যত আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে সবসময় তিনি অংশগ্রহণ করতেন। মাওলানা ভাসানী জনগণের জন্য কথা বলতেন, জনগণের জন্য কাজ করতেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এখানে একজন বলেছেন, আত্মাহুতি দেয়া দরকার। আত্মাহুতি দেয়ার জন্য কারো অনুমতি লাগে নাকি? আমি যদি আত্মাহুতি দিতে চাই, তাহলে একা একাই আত্মাহুতি দিতে পারি। কিন্তু আপনার মৃত্যু তো আমার চাওয়া না। আমার চাওয়া হলো খালেদা জিয়ার মুক্তি। আর বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য আপনার মরার দরকার নেই, সাহস করে রাস্তায় আসেন। চলেন একসঙ্গে রাস্তায় নেমে মিছিল করি। তাহলেই বেগম জিয়ার মুক্তি হবে।

ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ কৃষকদলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকার উন্নয়ন উন্নয়ন বলে গলা ফাটাচ্ছে। দেশে উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু তা অসম উন্নয়ন। যারা ধনী তারা আরো ধনী হচ্ছে। এ দেশে বর্তমানে ধনীরা যে হারে আরো ধনী হচ্ছে সে হারে চীন ও আমেরিকার ধনীরাও ধনী হচ্ছে না। এ রকম অসম উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে একসময় দেশে বিলাসবহুল পণ্যের ছড়াছড়ির সঙ্গে গরিবের লাশের ছড়াছড়ি দেখা যাবে।

তিনি বলেন, খুবই অন্যায়ভাবে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে শুধু রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে সরকার খালেদা জিয়াকে আটকে রেখেছে। বেগম জিয়ার মামলার শুনানির সময় আমরা সারাদিন আদালতে গিয়ে বসে থাকতাম। সেখানে সরকারদলীয় কোনো আইনজীবী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেননি। তারা ধারণা করছেন, বেগম জিয়া এসব অভিযোগের সঙ্গে জড়িত। আদালত কি ধারণা দিয়ে পরিচালনা হয়? আদালত প্রমাণ চায়।

সাবেক এ রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ভারতের বন্ধুপ্রতীম দেশ। কিন্তু আমাদের সাথে তাদের যেসব চুক্তি হয়েছে সে মোতাবেক ন্যায্য অধিকার পাচ্ছি না। পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে এত যুদ্ধ এত বৈরিতা কিন্তু তাদের মধ্যেও তো পানি চুক্তি আছে এবং তা সঠিকভাবে মানা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের ফারাক্কা চুক্তির কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না?

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সরকারের দায়িত্বহীনতায় কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষেতে আগুন দিয়েছে। আজকে শুধু কৃষক নয়, শ্রমিকদের অবস্থাও খুব খারাপ। দেশের আপামর জনগণ খুব খারাপ অবস্থায় আছে। এরকম কখনো হয়নি, এই সরকারের আমলে সেটা আমরা দেখতে পেলাম। দেশে একটা প্রতারক সরকার আছে বলে দেশের এই অবস্থা। এ সরকারের কোনো দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা নেই। একেবারে ডাকাতি করে জোর করে এই সরকার ক্ষমতায় আছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফোনঃ +৪৪-৭৫৩৬-৫৭৪৪৪১
Email: [email protected]
স্বত্বাধিকারী কর্তৃক sheershakhobor.com এর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত