fbpx
 

ষড়যন্ত্র করেও আ.লীগকে জনবিচ্ছিন্ন করা যায়নি: রাজ্জাক

Pub: শনিবার, মে ১৮, ২০১৯ ৯:৩৪ অপরাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, মে ১৮, ২০১৯ ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে হত্যার পর নানামুখি ষড়যন্ত্র করেও আওয়ামী লীগকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি।’

শনিবার (১৮ মে) বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত ‘কৃষকরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ দিবস উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়ার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘দেশের এমন কোনও পাড়া নেই, মহল্লা নেই যেখানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক নেই। দেশের সর্বত্র বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক থাকাতেই সেইদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। তিনি দেশে ফিরে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে হত্যার পর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সামরিক ও স্বৈরশাসকরা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে দেশের গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিলো। দেশকে শাসনের নামে শোষণ করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশে আসার পর তাঁর জীবনে সুখকর ছিল না। ১৯ বার তাঁকে হত্যা করার জন্য আঘাত করা হয়েছে। এমনকি তাঁকে হত্যার জন্য গোপালগঞ্জেও বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য সর্বশেষ ২০০৪ সালে এই পার্টি অফিসের সামনে গ্রেনেট বোমা হামলা করা হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এ বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছিলেন বলেই বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার বিচার হয়েছে। আওয়ামী লীগ বরাবরই আইনের শাসনে বিশ্বাসী হওয়ায় বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিশোধ না নিয়ে বিচারের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করেছে।’

ধানের দাম নিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘ধানের দাম কমে যাওয়ায় সরকারের উচ্চ পর্যায়ে গভীর চিন্তিত। কৃষকরা কি শুধু ধানের দাম পায় না? কৃষকরা যখন সবজি করে সবজির দামও পায় না। এই কাওরান বাজারে এর চিত্র পত্রপত্রিকায় বহুবার এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘সুদূর ঈশ্বরদী থেকে কপি নিয়ে এসেছে, কপির দাম পায় না। কৃষকরা ট্রাক রেখে পালিয়ে গেছে। টমেটো এরকম বিক্রি হয় না, দুই টাকা কেজি টমেটো। দশটা ফুলকপি পাঁচ টাকায় বিক্রি হয়। এদেশের কৃষকেরা নানান অভাবে দুঃখি ছিল। শেখ হাসিনা কৃষক শ্রমিকের জীবনের পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম লড়াই করছেন।’

কৃষক ধানের দাম না পাওয়ার পিছনে উৎপাদন বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এই যে ধানের দাম পাচ্ছে না কৃষক; ধানের উৎপাদন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তা একটি বড় কারণ। গত বোরো মৌসুমে অনেক ধান হয়েছে, আমনে আমাদের টার্গেট ছিল ১ কোটি ৪০ লক্ষ টন, সেটা বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ৫৩ লক্ষ টন। ১৩ লক্ষ টন ধানের উৎপাদন আমাদের টার্গেটের বেশি উৎপাদন হয়েছে। আলুর উৎপাদন আমাদের দরকার ৬০-৭০ লক্ষ টন, সেখানে উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৩ লক্ষ টন। ৩৩ লক্ষ টন আলু বেশি হয়েছে, চাষিরা বিক্রি করতে পারছে না। এটা কোনও যাদু বলে হয় নাই, কোন আলাউদ্দিনের আর্শ্চর্য প্রদীপের আলোতে হয় নাই, এটা হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার কৃষিবান্ধব কর্মসুচির জন্য, তাঁর দূরদর্শিতার জন্য।’

ধানের দাম নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত চিন্তিত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যায় না, এবং সেই শ্রমিক পাওয়া যায় না বলেই আজকে ধান করে মানুষের লাভ হচ্ছে না। এ জন্য সরকার খুবই চিন্তিত। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ আমরা চিন্তা করছি।’

তিনি বলেন, ‘খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশে যেখানে খাদ্য উদ্বৃত্ত করতে পারে সেখানে আমরা রফতানি করলে কৃষক দাম পাবে। কৃষকের এই সমস্যা সাময়িক। এই সমস্যারও সমাধান আমরা করবো।’

সমস্যার সমাধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কিভাবে করবো, কৃষিকে আমরা বাণিজ্যিক কৃষি করবো, এই কৃষিকে আমরা বহুমুখি করবো। শুধু ধান না অন্যান্য অর্থকরী ফসলের দিকে নিয়ে যাবো। এই কৃষিকে আমরা যান্ত্রিকীকরণ করবো। আজ শ্রমিক পাওয়া যায় না, শ্রমিক আর দরকার হবে না। এই যান্ত্রিকীকরণের জন্য আমরা ভর্তুকি দেবো।’

কৃষক লীগের সভাপতি মো. মোতাহার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী প্রমুখ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ