পল্টনে ছাত্রদলের বিক্ষোভ, গুলশানে বিএনপির বৈঠক

Pub: মঙ্গলবার, জুন ১১, ২০১৯ ৭:৩৪ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, জুন ১১, ২০১৯ ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বয়সসীমা না করে ধারাবাহিক কমিটির দাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিদ্যুতের লাইন কেটে দিয়েছে। অপরদিকে ছাত্রদলের সাবেক নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে কোন সমাধানে আসতে না পেরে দলের চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যাললয়ে বৈঠকে বসেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা এবং ছাত্রদলের কমিটি গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

মঙ্গলবার দুপুর ১ টায় দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারা বৈঠকে বসেছেন বলে সূত্রে জানা গেছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলেছে।

বৈঠকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা আমান উল্লাহ আমান, শামসুজ্জামান দুদু, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ উপস্থিত আছেন।

এদিকে সকাল সোয়া ১১ টায় রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন সাবেক ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

এর আগে সকাল ১০ টা থেকে সাবেক ছাত্র নেতারা নয়াপল্টনের সামনে জোড়ো হতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল সোয়া ১১ টায় নয়াপল্টনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে ১১ টা ২০ মিনিটে কার্যালয়ের সামনে আসেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুর হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং প্রশিক্ষণ বিষয় সম্পাদক এবিএম মোশারফ হোসেন।

বিএনপির এই চার নেতা কার্যালয়ে প্রবেশ করতে চাইলে তাদেরকে বাধা দেন সাবেক ছাত্রনেতারা। এসময় তাদের সঙ্গে ছাত্রনেতাদের কমিটির বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। বিএনপির চার নেতাকে ছাত্রনেতারা বলেন, বয়সসীমা না করে ছাত্রদলের ধারাবাহিক কমিটি দিতে হবে। আর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একাই দুটি পদ নিয়ে অফিসকেই বাড়ি-ঘর বানিয়েছেন। রিজভীকে এখান থেকে বের করে নিয়ে যান।

এসময় শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী কার্যালয়ে ভিতরে গেয়ে কথা বলার অনুরোধ করেন। তবে ছাত্রনেতারা বলেন, ভিতরে নয়, এখানেই কথা বলুন।

পরে বরকত উল্লাহ বুলু কার্যালয়ের সামনে থেকে চলে যান। আর মিলন, এ্যানী ও মোশারফ কার্যালয়ে পাশে বইয়ে দোকানে বসতে চাইলে দোকানের সাটার নামিয়ে দেন ছাত্র নেতারা। এরপর এ্যানী ছাত্রনেতাদের ধমক দিলে এক নেতা তাকে ধাক্কা দেন। মিলন, এ্যানী ও মোশারফ কার্যাললয়ের পাশে ভিক্টোরী হোটেলের পাশে দাঁড়িয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের শান্ত হতে বলেন।

তবে নেতাকর্মীদের অনুরোধের পরও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আন্দোলন থেকে সরে যাননি।

এরপর সেখানে আসেন ছাত্রদলের সাবেক নেতা শামসুজ্জামান দুদু, আমান উল্লাহ আমান, আসাদুজ্জামান রিপন, মীর সরাফত আলী সপু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, হাবিবুর রশিদ হাবিব এসে কথা বললেও পরিস্থিতি শান্ত করতে পারেননি।

সেখান থেকে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে গুলশানে বৈঠক করতে যান ছাত্রদলের সাবেক এই নেতারা। আর ছাত্রদলের নেতাকর্মীর কেন্দ্রীয় কার্যাপলয়ের সামনে অনশনে বসেন। অনশন থেকে রিজভীর দুই গালে জুতা মারো তালে তালে, আওয়ামী লীগের দালালে হুঁশিয়ার সাবধানসহ বিভিন্ন স্লোগানে কেন্দ্রীয় কার্যানলয়ে প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তুলেন তারা।

ছাত্রনেতাদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক শেষে সাংবাদিকদের ফজলুল হক মিলন বলেন, কমিটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দল থেকে দেওয়া হয়েছে। আর আমরা সবাই বসে এটা কার্যক্রর করবো। তবে দু:খ ও অভিমান থাকতেই পারে। এটা অস্বাভাবিক কোন ঘটনা না। আর তাদের দু:খ ও বেদনা আমরা শুনবো। সেটা আমরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বলবো।

গত ৩ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি বাতিল করা হয়।

এতে বলা হয়, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিলদের মতামতের ভিত্তিতে সংগঠনটির নতুন কেন্দ্রীয় সংসদ গঠন করা হবে।

ছাত্রদলের অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্য হতে হবে। অবশ্যই বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র হতে হবে। কেবল ২০০০ সাল থেকে পরবর্তীতে যে কোনো বছরে এসএসসি অথবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

সংগঠনটির সাবেক নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ছাত্রদল কমিটি গঠনে বয়সের কোন সীমারেখা নির্ধারণ না করে স্বল্পমেয়াদে আগামী ১ জানুয়ারি পর্যন্ত একটি কমিটি গঠন এবং পরের কমিটিকেও এক বছরের স্বল্পমেয়াদে গঠন করে ছাত্রদলের নেতৃত্বের জট কমানোর দাবি করেছেন। কিন্তু বিএনপির শীর্ষ নেতারা তাদের সেই দাবিকে অগ্রাহ্য করে নানান শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। সিন্ডিকেটের পছন্দের নেতাকে সামনে আনার জন্য তারা এ ধরণের শর্ত দিয়েছেন বলেও অভিযোগ ছাত্রনেতাদের।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ