এখনই বিএনপি অফিস ছাড়ছেন না অসুস্থ রিজভী

Pub: বৃহস্পতিবার, জুন ১৩, ২০১৯ ২:৪৬ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, জুন ১৩, ২০১৯ ২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

টানা ১৬ মাস নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেয়া দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আগের চেয়ে এখন অনেকটা সুস্থ। তবে এখনই কার্যালয়ে ছেড়ে যাচ্ছেন না তিনি।

গত রোববার হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। প্রথমে তার কঠিন পেটব্যথা শুরু হয়, পরে বমিও হয়।

এরপর থেকে গত কয়েকদিন তাকে শিরায় স্যালাইন দিয়ে রাখা হচ্ছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে তার খাওয়া বন্ধ রাখা হয়।

বুধবার বিকেলে চিকিৎক খাওয়ার পরামর্শ দেন। সেই মোতাবেক বিকেলে অল্প পরিমাণ পানি পান করানো হয়।

বিএনপির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম নয়াপল্টনে রিজভীর চিকিৎসা করান। তিনি জানান, ১৯৮৪ সালে রুহুল কবির রিজভীর পেটে ও মেরুদণ্ডে গুলি লাগার কারণে মাঝে মাঝেই তার ব্যান্ড এডিকশন সৃষ্টি হয়। এ কারণে তিনি মাঝে মাঝেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। আগেও বেশ কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, দেশের খুব সিনিয়র একজন চিকিৎসক অধ্যাপক সানোয়ার হোসেন ওই সময় রিজভীর অপারেশন করেছিলেন। এবারও আমরা তার কাছ থেকে কনসালটেশন নিয়েছি। তিনি এসে দেখেও গেছেন। তিনি বলেছেন, আমরা যে চিকিৎসা রিজভীকে দিচ্ছি তা ঠিক আছে।

এই মুহূর্তে রিজভীকে হাসপাতালে নেয়ার প্রয়োজন নেই বলেও জানান রফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, গত কয়েকদিন পর আজ আমরা তাকে কিছুটা ওরাল খাবার সাজেস্ট করেছি। তাকে পানি পান করতে দিয়েছি। আমরা দেখতে চেয়েছি, তার সাব একিউট ইন্টেস্টেনাল অবস্ট্রাকশন কতটা কমেছে। কতটা কাজ করছে। এখন পর্যন্ত যা দেখতে পাচ্ছি তাতে আমরা সন্তুষ্ট। সে কারণে এই মুহূর্তে তাকে হাসপাতালে বা বাসায় নেয়ার প্রয়োজন নেই।

এদিকে, বুধবার সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রিজভী পরিবর্তন ডটকমকে জানান, গত কয়েকদিন পর আজ কিছুটা সুস্থবোধ করছি। কয়েকদিনের মধ্যে আজই প্রথম বিকেলে অল্প পানি পান করেছি। গত কয়েকদিন ধরেই চিকিৎসকদের পরামর্শে সব ধরনের খাওয়া-দাওয়া থেকে বিরত থাকতে হয়েছে।

বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় দলের দাপ্তরিক কার্যালয়। দপ্তরে রিজভীর বসার পেছনে (দক্ষিণে) একটি ছোট পরিসরের কক্ষে তিনি দিনের বিশ্রাম সারেন, রাতে ঘুমান। বর্তমানে তিনি সেই ছোট্ট কক্ষে শুয়ে আছেন। সেখানেই চলেছে তার চিকিৎসা। বুধবার সন্ধ্যায় তার পাশে বসে ছিলেন তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা আইভী।

বুধবার দিনভর নেতাকর্মীরা রিজভীকে দেখতে দলীয় কার্যালয়ে আসেন। দুপুরে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসনে। তার শারীরিক খোঁজ-খবর নেন। এছাড়া দুপুরের পর আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী। সন্ধ্যার আগে আসেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এছাড়া বিএনপি ও অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরাও আসছেন।

আশির দশকের শেষদিকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলি তার মেরুদণ্ড ভেদ করে যায়। সেই থেকেই তিনি কার্যত অসুস্থ জানালেন রিজভী।

তিনি আরও জানান, গুলি লাগার কারণে তার খাবার হজমে গুরুতর সমস্যা হয়। খাবার তার খাদ্যনালীতে আটকে যায়। চিকিৎসকদের ভাষায় এ রোগের নাম সাব একিউট ইন্টেস্টেনাল অবস্ট্রাকশন।

হাসপাতাল বা বাসায় ফেরার প্রয়োজন অনুভব করছেন কি না জানতে চাইলে রিজভী বলেন, এখনও এ বিষয়ে ভাবছি না। আগের চেয়ে কিছুটা স্বস্তিবোধ করছি। বমি বন্ধ হয়েছে। পেটের ডানপাশের তীব্র ব্যথা এখন নির্দিষ্ট স্থানে আছে, তবে তা আগের চেয়ে কম। তাই আগে দেখি, পরে হাসপাতাল বা বাসায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগের দিন থেকে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন রিজভী। এর মধ্যে তিনি বেশ কয়েকবার খালেদার মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে মিছিল করে আবারও কার্যালয়ে অবস্থান নেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ