গাজীউল হকের মত বীরদের কথা ভুলে যেতে বসেছি : ন্যাপ মহাসচিব

Pub: সোমবার, জুন ১৭, ২০১৯ ২:২৯ অপরাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, জুন ১৭, ২০১৯ ২:২৯ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমরা অবলীলায় জাতীয় বীরদের কথা, তাদের অর্জন ভুলে যেতে পারি। কোনো রকম গ্লানি তো নয়ই, লজ্জাও পাই না আমরা বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, গাজীউল হকের মত জাতীয় বীরদের কথা ভুলে যেতে বসেছি, যা ক্ষমার অযোগ্য। রাজনৈতিক পথের পার্থক্য থাকলেও জাতীয় বীরদের জীবনী আজকের ও আগামী প্রজন্মের নিকট তুলে ধরতে হবে।

তিনি বলেন, ভাষা সৈনিক গাজীউল হকের ইতিহাস আজকের প্রজন্ম জানতে পারছে না তার জন্য দায়ি রাজনৈতিক বিভক্তি। আজকের প্রজন্ম কি জানে অবিভক্ত ভারতবর্ষের একমাত্র কিশোর যে সরকারি ভবন থেকে বৃটিশ পতাকা নামিয়ে ফেলার অপরাধে স্কুলের ছাত্রাবস্থায় কারাবরণকারীও সেই গাজীউল হক ? জানে না কারণ, আমরা রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হয়ে আমাদের কৃতিমানদের অবদানকেউ ছোট করতে কুন্ঠিত হই না।

সোমবার নয়াপল্টনের যাদু মিয়া মিলনায়তনে ভাষা সৈনিক গাজীউল হকের দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সাংস্কৃতিক আন্দোলন আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৯৪৬ সালে তিনি ধুবড়িতে অনুষ্ঠিত আসাম মুসলিম লীগ কনফারেন্সে যোগ দিতে গিয়ে মাওলানা ভাসানীর ব্যক্তিত্ব, বাগ্মীতা এবং নেতৃত্বে আকৃষ্ট হন। ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্ন-বেতন কর্মচারীগণ ধর্মঘট আহবান করলে ছাত্রনেতাদের সঙ্গে তিনিও এর সমর্থন করেন। ১৯৪৯ সালের দুর্ভিক্ষ মোকাবেলায় তিনি কাজ করেন। এ সময় মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে একটি ভুখা মিছিল বের হয়। এই মিছিলে গাজীউল হকও শরিক হন।

ন্যাপ মহাসচিব বলেন, কাগমারী সম্মেলনে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠনে আওয়ামী লীগের সর্বাঙ্গীন প্রতিকূলতা প্রতিরোধে মাওলানা ভাসানীর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে কাজ করেন। বগুড়ায় ১৯৬৯ সালের ১১ দফা আন্দোলনের মূল চাবিকাঠি ছিল বিড়ি শ্রমিক ও মজদুরগণ। গাজীউল হকও ১১ দফা আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধে হিলিতে পাকসেনাদের বিরুদ্ধে একটি খণ্ড যুদ্ধে অংশগ্রহণের পর কলকাতায় ফিরে গিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধের মুখপাত্র ‘জয়বাংলা’ পত্রিকার বিক্রয় বিভাগের দায়িত্বসহ আকাশবাণী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে রণাঙ্গনের সংবাদ প্রচারের দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তী সকল অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলন, সাংস্কৃতিক ও জাতীয় সংগ্রামে গাজীউল হক অংশ নিয়েছেন। ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৪-র সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণ আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে প্রথমে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠক হিসাবে কঠিন দায়িত্ব পালন করেছেন।

সংগঠনের সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা সোলায়মান সোহেলের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, জাতীয় গণমুক্তি আন্দোলননের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ন্যাপ ভাইস চেয়ারম্যান কাজী ফারুক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল ভুইয়া, যুব নেতা আবদুল্লাহ আল কাউছারী, সংগঠনের নির্বাহী সদস্য ছায়মা খাতুন রিভা, আবদুল্লাহ আল কাফী প্রমুখ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ