বিএনপির সাংসদ হারুন উর রশিদ ও রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদ উত্তপ্ত

Pub: সোমবার, জুন ১৭, ২০১৯ ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, জুন ১৮, ২০১৯ ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিএনপির দুই সংসদ সদস্য হারুন উর রশিদ ও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্য দেয়ার সময় সংসদ কিছুক্ষণের জন্য উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। রবিবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা বক্তব্য দেন।

এদিন সংসদের সদস্যদের নির্বাচিত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ও দলের সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। আর বিএনপি সংসদে যোগ দিলেও এই নির্বাচন ও সরকার বৈধতা পাবে বলে মন্তব্য করেন দলের যুগ্ম-মহাসচিব হারুন উর রশিদ।

রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যের শুরুতেই জিয়ারউ রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক সম্বোধন করায় আওয়ামী লীগের সদস্যরা আপত্তি জানান, কিছু সময় উত্তপ্ত হয়ে উঠে সংসদ। তখন রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি বলতে পারবো, একটু ধৈর্য সহকারে শুনুন। আমি প্রথম দিন দুই মিনিট পেয়েছিলাম বলার জন্য, কিন্তু এক মিনিটিও ধৈর্য সহকারে বলতে পারিনি।’

এসময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘বিনয়ের সঙ্গে বলছি আপনি বাজেট নিয়ে বলুন, বাজেটের বাইরে বলবেন না দয়া করে। এমন কোনো বক্তব্য দেবেন না যাতে অন্যরা ক্ষুব্ধ হতে পারে।’

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘একটি সরকারের সক্ষমতা বাড়ার কথা কিন্তু ধীরে ধীরে সক্ষমতা কমে আসছে। বাজেট মাত্র ৭৩ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়। বাজেট বাস্তবায়নে বিরাট ঘাটতি আমরা লক্ষ্য করি। কীভাবে নির্বাচন হয়েছে আমরা জানি। সংবিধানে আছে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতে হবে। কিন্তু কয়জন সংসদ সদস্য জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।’

এসময় ডেপুটি স্পিকার আবারও বলেন, বিনয়ের সঙ্গে আপনি বাজেট নিয়ে বলুন।

এরপর রুমিন ফারহানা আরও বলেন, দেশে আইনের শাসন নেই। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হচ্ছে। গত এক মাসে ১৪৮ জন হত্যা হয়েছে দেশে। এগুলো নারী সংসদ সদস্য আছেন তারা নারী ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে সংসদে কথা বলেন না। বাজেটের টাকা কোথায় যায়, কাদের হাতে যায় তার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। ব্যাংকের টাকা পাচার হয়, সোনা চুরি হয় তার কোনো তদন্ত হয় না। জবাবদিহিতা থাকলে এই অবস্থা হতো না। আপনারা কি প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, হননি।

রুমিন ফারহানার বক্তব্য শেষ হলে ডেপুটি স্পিকার বলেন, আমি শুরুতেই আপনাকে বলেছিলাম বিষয়ে বাইরে আপনি বক্তব্য দেবেন না। কিন্তু আপনি সেটা করেননি। আপনি যে সব অসংসদীয় কথা বলেছেন সেগুলো বাদ দেওয়া হলো।

অপরদিকে হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত, সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে খালেদা জিয়া জেলে আছেন।’

এরপর তিনি বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। নিঃসন্দেহে এটি একটি ট্রাজেডি। অতি নিন্দনীয়। কোনো বোধসম্পন্ন মানুষ এই হত্যাকাণ্ড সমর্থন করতে পারে না। ইনডেমনিটি দিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করে দিয়েছিল মোস্তাকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি অংশ। বিএনপি ইনডেমিনিটি দেয়নি।

হারুনুর রশিদ বলেন, আজ ধান কাটার কামলা পাচ্ছি না। আর এতে নাকি আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। কৃষকরা উৎপাদিত ধানের দাম পাচ্ছে না। কৃষকরা যাতে দাম পায় সেই উদ্যোগ কেন নেওয়া হচ্ছে না। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলে গত কয়েক বছর কত লাখ টন ধান চাল আমরা আমদানি করেছি। তাহলে কেন আমদানি করা হলো। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলবো আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হইনি। যদিও কৃষিক্ষেত্রে অনেক সফলতা আছে।

‘সরকারের প্রণোদনা ও কৃষকের আন্তরিকতার কারণে গত নির্বাচনে চার হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। কিন্তু এই নির্বাচন করতে গিয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো গ্রহণযোগ্যতা দেখাতে পারেনি। নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ। এই ব্যর্থ নির্বাচন কমিশনকে সরে যেতে হবে। আমরা ছয়জন সংসদে প্রবেশ করায় জাতীয় সংসদ বৈধতা পাবে না। সংবিধানে যে গণতান্ত্রিক স্পেস আছে, সেটা আজ অনুপুস্থিত। আমি সংসদ নেতাকে অনুরোধ করবো, যারা যত বেশি আপনাকে তোষামোদ করছে, তাদের প্রতি সর্তক থাকবেন।’

হারুনুর রশিদের এমন বক্তব্যের সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা আপত্তি করেন, তাদের হট্টগোলে হারুনুর রশিদ তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাকে বলতে দিন। তা না হলে মেসেজ যাচ্ছে, আপনারা আমাদের সংসদে কথা বলতে দিতে চান না। আজ উচ্চ আদালত, নিম্ন আদালত কোনোটা স্বাধীন না। দুর্নীতি দমন কমিশনে আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে পাঠানো হচ্ছে, আর সেখান থেকে রেহাই দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। আর বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হচ্ছে। এই বিষয়গুলো দেখতে হবে।’


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ