দশ বছর ধরে জনগনের ওপর নির্যাতনের স্টিমরোলার চলছে : মির্জা আলমগীর

Pub: বৃহস্পতিবার, জুন ২৭, ২০১৯ ১:০৩ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, জুন ২৭, ২০১৯ ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্বৈরশাসন হটাতে ‘জনঐক্য’ গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার, জুন ২৬, বিকালে রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে ‘নির্যাতিতদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস ২০১৯ — International Day in Support of Victims of Torture’ উপলক্ষে ‘নীরবতাও নির্যাতনের কারণ হতে পারে’ শীর্ষক এই সেমিনারে তিনি এই ডাক দেন।

সেমিনারের শুরুতে বিএনপি ও বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ননির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘রাইট টু লিভ’ উপস্থাপন করা হয়।

মানবাধিকার ডেস্কের প্রতিবেদন তুলে ধরেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান, ইউএনডিপিসহ কয়েকটি দেশের কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা আলমগীর বলেন, বর্তমান অবস্থা থেকে বেরুনোর উপায় কী? মানবসভ্যতার ইতিহাসে রয়েছে এই উপায়। একমাত্র জনগণের শক্তি দিয়ে এই ধরনের শাসকদেরকে যারা একদলীয় শাসন রক্ষা করতে চায়, যারা ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চায় তাদেরকে পরাজিত করতে হবে। সেজন্য আমাদের সবচেয়ে বড় যেটা প্রয়োজন ঐক্য, ঐক্য, ঐক্য। আমাদের জনগণের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে, রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। আমাদের যারা বুদ্ধিজীবী আছেন, বিভিন্ন সংগঠনে আছে, মানবাধিকারে কাজ করছে তাদের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করে ঐক্যবদ্ধ শক্তি দিয়ে এদেরকে পরাজিত করতে হবে। আমাদের ভাইয়েরা-বোনেরা যারা নির্যাতিত হয়েছেন তারা বার বার একথা বলছেন, আমরা নির্যাতিত হয়েছি কিন্তু আমরা মানসিক দিক দিয়ে পরাজিত হইনি। আমরা চাই যে, সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এদেরকে পরাজিত করবো। ইনশাল্লাহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা এদেরকে পরাজিত করতে সক্ষম হবো।

গত এক দশক বিরোধী দলের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, এই দেশে বিগত একযুগেরও ওপরে অত্যন্ত সুপরিকল্পতভাবে সচেতনভাবে জনগণের ওপর নির্যাতনের স্টিমরোলার চলছে। উদ্দেশ্য একটি ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করে রাখা, উদ্দেশ্য একটি একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে চিরস্থায়ী করা। বাংলাদেশে যে চিত্র আমরা দেখছি আমাদের সকলের কাছে তা অত্যন্ত পরিচিত একটা চিত্র। ২০০৭ সালে এক এগারোর সরকার আসার পর থেকে যে নির্যাতন এদেশে শুরু হয়েছে, তার মূল উদ্দেশ্য ছিলো বিরাজনীতিকরণ, রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে হবে গোটা জাতিকে। আরেকটি, যারা রাজনীতি করছেন তাদের সমাজে হেয় মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে এবং রাজনীতিতে সুন্দর মানুষদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে এবং সেটা ভয় দেখিয়ে, নির্যাতন করে কর, যৌন নির্যাতন করে। আজকে বিশ্ব সেই সোভিয়েত ইউনিয়নে যাওয়া দরকার নাই তো। আমরা আমাদের দেশেই যা দেখতে পাই, আমরা নর্থ কোরিয়াতে দেখতে পাই, আমরা রাশিয়াতে দেখতে পাই, আমরা সিরিয়াতে দেখতে পাই, আফগানিস্তানে দেখতে পাই, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে দেখতে পাই। অর্থাৎ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করবার জন্যে এই নির্যাতনকে বড় হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১২/১৩ বছর ধরে এই দেশে যা চলছে – এটা আমার মনে হয় সাম্প্রতিককালে বিশ্বে এই ধরনের নির্যাতন নজিরবিহীন। আপনারা নির্যাতিতদের মুখে শুনেছেন। এখানে বসে আছেন আমাদের ভাইবোনেরা। ওই কোনায় এক বোন বসে আছেন, যিনি নির্বাচনের পূর্বে একটা দলের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে তার চোখ দুইটি চলে গেছে, এখানে এক বোন কথা বলেছেন, তার সম্ভ্রম লুন্ঠিত হয়েছে। অসংখ্য অসংখ্য চিত্র। আমাদের সামনে বড় উদাহরণ, গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি শুধুমাত্র এই সরকারের একদলীয় শাসনের পাকাপোক্ত করবার যে চক্রান্ত, সেই চক্রান্তের কারণে তাঁকে আজকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁকে নির্যাতন করে পঙ্গু করে নির্বাসিত করা হয়েছে। আমাদের কারাগারের মধ্যে আমাদের সহকর্মী সতীর্থরা এখনো রয়েছেন আমাদের আবদুস সালাম পিন্টু ভাই, হাবিব- উন-নবী খান সোহেল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ইসহাক সরকার অসংখ্য অসংখ্য বন্দি হয়ে আছেন।

সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের প্রধান দাবি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। এর পরের দাবি হচ্ছে, অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা- এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ বলে আমরা মনে করি। আমরা আহবান জানাই, অবিলম্বে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা পিছিয়ে থাকবো না, আমরা পিছিয়ে পড়বো না যতই অত্যাচার-নির্যাতন হোক। আমাদের ওপরে অনেক অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে, ১০ বছর যাবত আমরা নিপীড়িত। আজকে আমাদের নেত্রী একটা মিথ্যা ভুয়া মামলায় একবছর ৫ মাস জেলখানায় আছেন, নির্যাতিত অবস্থায় আছেন। আমি মনে করি, এতো নিপীড়ন-নির্যাতনের পরও বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করা সম্ভবপর হবে না। আগামী শত বছরের জন্য বিএনপিকে এই সরকার অত্যাচার-নিপীড়ন করে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছে। এখানে দেখেছেন নির্যাতিতদের পা চলে গেছে, হাত-পা চলে গেছে, পঙ্গু হয়ে গেছে কিন্তু তারপরেও তারা বিএনপির কথা বলছে। এরা কোনোদিন আওয়ামী লীগ সরকারকে সমর্থন করবে না।

বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন, জাহেদুল আলম হিটো ও ব্যারিস্টার জুয়েল মন্ডলের পরিচালনায় সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী।

বিগত বছর নির্যাতিত নোয়াখালীর সুবর্ণচরের পারুল বেগম, সিরাজগঞ্জের মেরিনা মেরী, ময়মনসিংহের নুরুজ্জামান চাঁন, রাজশাহীর দুর্গাপুরের মোশতাক আহমেদ, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইয়াসিন, ঢাকার আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, আকরাম হোসেন, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ বর্তমান সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র কর্মীদের নির্মমতায় নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। নরসিংদীর তানজিরুল হক লিমনকে হুইল চেয়ারে অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে আসার পর তার অবস্থা তুলে ধরেন তার মা মমতাজ বেগম।

অনুষ্ঠানে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, শামা ওবায়েদ, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, শামীমুর রহমান শামীম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করীম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, তাঁতী দলের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ, ওলামা দলের আহবায়ক শাহ নেছারুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ