fbpx
 

কী অবস্থা খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজার

Pub: Friday, July 26, 2019 1:08 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফিরোজা রঙ দিয়ে বাড়িটির গেটের সামনে ইংরেজিতে লেখা ‘ফিরোজা’। দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে বাড়িটির মূল ফটক বন্ধ। রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরের ৭৯ নম্বর সড়কের এ বাড়িটি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভাড়া বাসা। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্র“য়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যান খালেদা জিয়া। এরপর থেকেই বাড়ির মূল ফটকটি বন্ধ।

মঈনুল রোডের বাসা থেকে গুলশানের ফিরোজায় উঠেছিলেন খালেদা জিয়া। এক সময় ফটকের বাইরে পুলিশের অবস্থান থাকলেও এখন তা আর দেখা যায় না। সে সময় একজন হাবিলদারের নেতৃত্বে সাতজন পুলিশ সদস্য পালা করে বাড়িটির নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করত। বাড়ির সাথেই ছিল পুলিশ সদস্যদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা। ফটকের বাইরে পুলিশ সদস্যদের বসার জায়গা ছিল। এখন সেখানে সিএসএফের এক কর্মকর্তাকে দেখা যায়। ফটকের কাছে থাকা ইন্টারকমটিও দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। বাড়ির ভেতরে যোগাযোগের প্রয়োজন হলে ব্যক্তিগত মোবাইল দিয়ে যোগাযোগ করা হয়। তবে সাংবাদিকসহ বহিরাগত কারোরই বাড়ির ভেতরে প্রবেশের কোনো অনুমতি নেই।
বাড়িটির ভেতরে আম, কাঁঠাল, নারকেলসহ বিভিন্ন ধরনের গাছপালা রয়েছে। ভেতরের দোতলা সাদা ঝকঝকে বাড়িটির ছাদে একসময় বাঁশের মাচায় লকলকিয়ে ওঠা লাউয়ের ডগা দেখা গেলেও এখন আর এসবের কিছুই চোখে পড়ে না।

জানা যায়, সিটি করপোরেশন থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় মশার ওষুধ না দেয়ায় বাড়িতে থাকতে কষ্ট হচ্ছে সেখানকার কর্মচারীদের। সোমবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের বাসভবন ফিরোজার সামনে গেলে দেখা হয় সিএসএফ কর্মকর্তা নুর নবীর সাথে। এ সময় কী করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, মশার কামড় খাচ্ছি। অভিযোগের সুরে নূর নবী নয়া দিগন্তকে বলেন, ম্যাডাম কারাগারে যাওয়ার পর থেকে আশপাশের সব বাড়িতে সিটি করপোরেশন থেকে মশানিধনের ওষুধ দেয়া হলেও আমাদের এ বাড়িতে সিটি করপোরেশন থেকে কোনো মশার ওষুধ দেয়া হয় না। ফলে মশার যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে দিনের বেলায়ও আমাদের কয়েল ব্যবহার করতে হয়।

আবেগজড়িতকণ্ঠে নূর নবী জানান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া না থাকায় আমাদের মানসিক অবস্থা ভালো নেই। সব সময় আমরা ম্যাডামের ফেরার অপেক্ষায় থাকি। সবসময় তিনি আমাদের খোঁজ নিতেন। তিনি বলেন, সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, বিনা অপরাধে ম্যাডামকে এত দিন জেলে থাকতে হবে এটা আমরা কল্পনাও করিনি। তিনি আরো জানান, আমরা সব সময় নামাজ পড়ে দোয়া করি ম্যাডাম যেন দ্রুত আমাদের মাঝে ফিরে আসেন।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত আলমগীর হোসেন নয়া দিগন্তকে জানান, ম্যাডাম থাকতে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও আমাদের মনোবল খুব চাঙ্গা ছিল। আমরা চাই ম্যাডাম দ্রুত মুক্তি পেয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুন।

‘ফিরোজা’র সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মাসে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান এবং তার দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান সেখানে দু’বার এসেছিলেন। তবে খালেদা জিয়ার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা প্রায়ই এসে বাড়িতে অবস্থানরত লোকজনের খোঁজখবর নিয়ে যান।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে গত বছরের ৮ ফেব্র“য়ারি থেকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। সেখানে তার সাথে রয়েছেন গৃহকর্মী ফাতেমা। এর মধ্যে খালেদা জিয়াকে দু’বার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়েছিল। প্রথমবার কয়েক ঘণ্টা হাসপাতালে কাটানোর পর তাকে কারাগারে ফেরত নেয়া হয়। তবে দ্বিতীয় দফায় বেশ কিছুদিন সেখানে ছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি বিএসএমএমইউ হাসপাতালের ৬২১ নম্বর কক্ষে চিকিৎসাধীন।

গত ঈদুল ফিতরের ঈদ নিয়ে তিনটি ঈদ বন্দী অবস্থায় কাটন ৭৪ বছর বয়সী খালেদা জিয়া। গত ঈদে শুধু সাতজন নিকটাত্মীয়কে তার সাথে দেখা করার সুযোগ দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। দেখা করেছিলেন বোন সেলিমা ইসলাম ও তার স্বামী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, ভাই মরহুম সাইদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন এস্কান্দার, ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের ছেলে অভীক এস্কান্দার ও ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম ডিউকের মেয়ে তামান্না হক, তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমানের বড় বোন শাহিনা খান জামান বিন্দু ও মরহুম আরাফাত রহমানের শাশুড়ি মোখরেমা রেজা।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রথমে পাঁচ বছরের এবং পরে তা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। অন্য দিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছে তার। এ দুই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ