fbpx
 

ঐক্য গড়ে হারানো গণতন্ত্র ফেরাতে হবে

Pub: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯ ৯:৪৩ অপরাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯ ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দলটির শীর্ষ নেতা ও জোট নেতারা আগামী দিনে আন্দোলন সংগ্রামের প্রস্তুতি নিতে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্য গড়ার তাগিদ দিয়েছেন। তারা বলছেন, ক্ষমতাসীনদের দুঃশাসনের কারণে দেশ থেকে গণতন্ত্র হারিয়ে গেছে। এই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

রবিবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি। এতে বিএনপি, ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তাদের বেশিরভাগই আগামী দিনে ঐক্যের প্রতি জোরালো বক্তব্য দেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ২০ দলের অন্যতম শরিক জামায়াতের কোনো নেতাকে দেখা যায়নি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ব্যর্থতার জন্য বিএনপির জন্ম হয়েছিল। এমন একটি রাজনৈতিক শূন্যতায় বিএনপির জন্ম হয়েছিল যা তৈরি করেছিল আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের জনগণ যখন জিয়াউর রহমানের ডাকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তার মূল চেতনা ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। এই জায়গাটি যখন আওয়ামী লীগ কেড়ে নিয়ে ক্ষমতা দীর্ঘ করার জন্য একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করল তখন যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো তা পূরণ করতে জিয়াউর রহমান তার নেতৃত্ব দিয়ে গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে সমন্বয়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। এক ঐতিহাসিক প্রয়োজনে বিএনপির জন্ম হয়েছিল।’

ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির ওপর বারবার আঘাত এসেছে, বিপর্যয় এসেছে। কিন্তু আমরা কখনো পেছনে ফিরে যাইনি। জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে আমরা এগিয়ে গেছি। এজন্যই বিএনপি জনগণের কাছে জনপ্রিয়।’

আওয়ামী লীগের হাতে বেশি রক্ত এমন দাবি করে তিনি বলেন, ‘আগেও তারা দেশপ্রেমিক মানুষকে হত্যা করেছে।’

রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে সরকার কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে বাংলাদেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। আর এখন ব্যর্থতা ঢাকতে বলছে বিএনপি চায় না রোহিঙ্গারা চলে যাক। আবার বড় গলায় বলছে চীন, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব সুউচ্চ পর্যায়ে। আসলে এদের হাঁটুতে জোর নেই।’

অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে ফখরুল বলেন, তিনি খুব অসুস্থ। এর মধ্যেও মাথা নত করেননি। তাই আসুন নিজেদের মধ্যে ছোটখাটো ত্রুটি বিচ্যুতি ভুলে ঐক্যবদ্ধ হই।

স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র হত্যাকারী। সেখানে বিএনপি বারবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।’

আন্দোলনের জন্য সবাইকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দল ও অন্য সংগঠনকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সময়মত শক্তি সঞ্চয় করতে হবে।’ দেশে বিচারিক নির্যাতন শুরু হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করার জন্য অনেক রকম চেষ্টা করছি কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তাকে মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। রাজপথেই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আনতে হবে।’

মওদুদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি আছেন ঠিকই কিন্তু তার জনপ্রিয়তা অনেক অনেক বেশি করেছে আওয়ামী লীগ। তাদের নেতাদের রাতে-ঘুম হয় না বেগম জিয়ার কথা চিন্তা করে।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সরকারের পতন অবশ্যম্ভাবী। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়, রাজপথই একমাত্র সমাধান। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে কর্মসুচি দিতে হবে। ভয়কে জয় করতে হবে, মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে না পারলে গণতন্ত্র মুক্তি পাবে না, খালেদা জিয়াও মুক্তি পাবেন না।’

ঐক্যে জোর দিলেন জোট নেতারা

খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা ইসহাক বলেন, ‘বিএনপি সব থেকে জনপ্রিয় দল। যে কারণে ৯২ বছর বয়সেও আমি এই অনুষ্ঠানে চলে এসেছি। সরকার অন্যায়ভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছে। সবার কাছে জানতে চাই আপনারা কি আন্দোলন করে তাকে মুক্ত করতে পারবেন। আমার বিশ্বাস আপনারা পারবেন।’

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, ‘সব ভেদাভেদ ভুলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আন্দোলন করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’

ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও জেএসডির সভাপতি আ স ম রব বলেন, ‘পোস্টার ফেস্টুন আর হলরুমে অনুষ্ঠান করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না। বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’

এলডিপির মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমেদ বলেন, ‘অনেকে বলেন জোটে ঐক্য নেই। আসলে আমাদের মাঝে কোনো অনৈক্য নেই। আমরা সবাই সবার জায়গা থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। অন্য দলে থাকলেও বিএনপির প্রতি ভালোবাসা এখনো আছে।’

ঐক্য নিয়ে টক শো আর গণমাধ্যমের কথায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ঘাবড়াতে বারণ করে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘যে যাই বলুক সময়মত দেখবেন আমাদের ঐক্য আছে কি না। যারা এসব বলছে তারা সেদিন জবাব পাবে।’

এছাড়াও অনুষ্ঠানে ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মাওলানা রকিবউদ্দিন আহমেদ, সাইফুদ্দিন মনি, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ বক্তব্য দেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ