fbpx
 

বিএনপির আমন্ত্রণ অগ্রাহ্য জামায়াতের

Pub: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯ ১১:২৭ অপরাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯ ১১:২৮ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে বিএনপির সমাবেশে জামায়াতের অনুপস্থিতি নতুন গুঞ্জন তৈরি করেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আগের জোট ২০ দলের অন্যসব জোটসঙ্গী এবং নতুন জোট ঐক্যফ্রন্টের সব দলের প্রতিনিধি অংশ নিলেও আমন্ত্রণ পেয়েও আসেননি জামায়াতের কেউ।

১৯৯৯ সালে জোটবদ্ধ হওয়ার পর বিএনপির কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও জামায়াতের অনুপস্থিতির এই ঘটনাটি বিরল বলেই জানাচ্ছেন বিএনপি নেতারা।

দলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রবিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা করে বিএনপি। নিজ দলের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি জোটসঙ্গীদের জন্যও মূল মঞ্চে আসন রাখা হয়। কয়েক ঘণ্টার অনুষ্ঠান চলাকালে জামায়াতের কোনো প্রতিনিধির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।

আলোচনায় দুই জোটের উপস্থিত বক্তাদের বেশিরভাগ নেতাই বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পেয়েছেন। সবাই তাদের বক্তব্যে জোটের ঐক্য ধরে রাখার তাগিদও দিয়েছেন। তবে জামায়াতের অনুপস্থিতির বিষয়ে কেউ কথা বলেননি। বিষয়টি তারা এড়িয়ে গেছেন বলা চলে। যদিও দর্শক সারিতে এ নিয়ে কানাঘুষা করছেন।

আলোচনা সভা শেষে বিএনপির একাধিক পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বললে তারা জামায়াতের এমন আচরণে অবাক হওয়ার কথা বলেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির দপ্তরের এক নেতা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বুঝলাম না। জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমির, সেক্রেটারি জেনারেলকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। ২০ দলের শরিকদের দপ্তর থেকে দাওয়াত দিয়েছি, আর ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের সিনিয়র নেতাদের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। সবাই এলো কিন্তু জামায়াতের কেউ তো এলো না।’

২০ দলীয় জোটে জামায়াত ঘনিষ্ঠ একাধিক দল আছে। জামায়াত তাদের মাধ্যমেও নিজেদের কথা তুলে থাকে জোটের বৈঠকে। এমন দুটি নেতার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে চাইলে তারা এড়িয়ে যান। একজন নেতা বলেন, ‘এটা বিএনপি জানে আর জামায়াত জানে।’

একটি দলের চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। কেন জামায়াত আসেনি এটা আসলে তারাই বলতে পারবে।’

জামায়াত ঘনিষ্ঠ অন্য একটি দলের মহাসচিব অবশ্য বলেন, ‘সম্ভবত জামায়াতের কাউকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। দাওয়াত দেয়া হলে তাদের সেক্রেটারি জেনারেল আসতেন বলে জানি।’

জোটের বৈঠকসহ অন্যান্য কর্মসূচিতে নানা সময় সক্রিয় থাকেন- জামায়াতের এমন একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘দাওয়াতের বিষয়টা আমি জানি না।’

দুই দশক আগে আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয় বিএনপি। ২০০১ সালের নির্বাচনে এর সুফলও পায় তারা। ভূমিধস জয়ে ক্ষমতায় ফেরে দলটি। তবে মুক্তিযুদ্ধের সময় খুনি বাহিনী আলবদরের দুই নেতা মতিউর রহমান নিজামী এবং আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে মন্ত্রিত্ব নিয়ে সমালোচিত হয় বিএনপি।

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জরুরি অবস্থা জারির পর থেকে রাজনীতিতে বিএনপির বেকায়দায় পড়ার পর থেকে জামায়াতের সম্পর্ক তাদের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে কি না, এই প্রশ্ন সামনে আসে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবি জোরাল হয়ে উঠার পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে বড় পরাজয় হয় বিএনপি জোটের। সে সময় জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধতাকে একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

২০১৩ ও ২০১৪ সালের আন্দোলনে নজিরবিহীন সহিংসতায় সমালোচনার পর বিএনপি এজন্য জামায়াতকে দায়ী করেছিল। আর দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ‘সময় এলে’ জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের কথা বলেছিলেন।

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে নতুন জোট করা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রকাশ্যেই জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি তোলে। ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা কামাল হোসেন ভোটের আগে বলেন, জামায়াত জোটে থাকবে জানলে তিনি বিএনপির সঙ্গে আসতেন না।

নির্বাচনের পর ২০ দলীয় জোটের একাধিক শরিক এমনকি বিএনপির শীর্ষ নেতারাও জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের পরামর্শ দিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য রেখেছেন। তবে বিএনপি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ