fbpx
 

লন্ডনে বিএনপির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় তারেক রহমান

Pub: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৯ ৮:৪০ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৯ ৮:৪৩ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের জাতির পিতা’ ঘোষনা

ওএনবি (লন্ডন ০৪ সেপেম্বর) : স্বাধীনতার ঘোষক বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ‘জাতির পিতা’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত দলের ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভায় বাংলাদেশ সৃষ্টিতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অবদান এবং ঐতিহাসিক বাস্তবতা উপস্থাপন করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের জাতির পিতা স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান। এ সময় নেতাকর্মীরা সমস্বরে হ্যাঁ ধ্বনি দিয়ে এত সমর্থন করেন। এ সময় তারেক রহমান বলেন, এই জনসমাবেশে জনগণের সিদ্ধান্ত হলো আজ থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ‘জাতির পিতা’ ।

সোমবার (০২ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনের রয়েল রিজেন্সি হলে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক। সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন দলের নেতারা। ৪৬ মিনিটের বক্তব্যে তারেক রহমান, দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে কথা বলেন।

সভার প্রধান অতিথি তারেক রহমান ঐতিহাসিক কার্যকারণ তুলে ধরে কেন শহীদ শহীদ জিয়া বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের জাতির পিতা তার যৌক্তিকতা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, আপনার, আমার আমাদের জাতীয়তা কি? বাংলাদেশী। অর্থাৎ আমরা বাংলাদেশী বাঙালী। বাংলাদেশে অন্য ভাষার মানুষও আছেন। যেমন চাকমা,মারমা,মনিপুরি,সাওতালসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী। তারা হয়তো বাংলা শিখেছেন কিন্তু তারা বাঙালি নাও হতে পারেন। যেমন ইংরেজী ভাষায় কথা বললেই কেউ ‘ইংরেজ’ হয়ে বা ‘ইংলিশ’ হয়ে যায়না। কেউ ইংরেজী ভাষা,কেউ চাইনিজ,কেউ রুশ ভাষা শিখেছে। ভাষা শিখলেই তিনি ভাষাভিত্তিক ওই জাতির মানুষ হয়ে যান না।

তিনি বলেন, প্রতিটি দেশেই বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ আছে। বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ হচ্ছে বাঙালি। তারা জাতি হিসেবে বাঙ্গালী। কিন্তূ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জনগণ দেখলো, সেই সময় বর্তমানের এই স্বৈরাচারী দল আওয়ামীলীগ এই ইস্যুতে জাতিকে বিভক্ত করে ফেললো। তারা বললো, সবাই বাঙালী। তাহলে অন্য যে জাতিগুলো আছে তাদের পরিচয় কি? হতে পারে তারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। তবে তাদের নিজস্ব ভাষাও রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, এইসব ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষগুলোও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রেখেছেন। তাদের মধ্যে যারা শিক্ষিত তারা শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। সেই ছোট ছোট জাতিগোষ্ঠির মধ্যে ব্যবসায়ী,ডাক্তার,ইন্জিনিয়রসহ বিভিন্ন পেশায় আছেন তারাও দেশ গঠনে অবদান রেখেছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে শুধু বাংলাদেশের বাঙালীরাই নয়, মারমা,চাকমা,শাওতাল,মনিপুরীসহ অন্যান্য জাতি যারা আছে তারাও বিভিন্ন ভাবে অবদান রেখেছিলেন। তবে আওয়ামীলীগ এদেরকে বাদ দিয়ে এদেরকে অস্বীকার করেছিল। বাঙালী কিন্তু কলকাতাতেও আছে। তবে আমরা হলাম বাংলাদেশী বাঙালী।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই ব্যক্তি যিনি বাঙালি কিংবা অন্য যেকোনো ভাষাভাষী প্রত্যেকটি মানুষ, বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের মধ্যে যাদের ঠিকানা প্রত্যেককে একটি পরিচয়ে পরিচিত করলেন , সেটি হলো ‘বাংলাদেশী’ । বাঙালি, মারমা কিংবা চাকমা যাইহোক, জাতীয়তায় তাদের একটাই পরিচয় আমরা ‘বাংলাদেশী’। এই পরিচয়ে আমরা সবাই একটি ছায়াতলে। আমাদের পাসপোর্ট পাসপোর্টে লেখা থাকে, জাতিয়তা, বাংলাদেশী। সুতরাং বাঙালি বললে অন্য জাতিগোষ্ঠীর পরিচয় কি? তাই সবাইকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ছায়াতলে এনে ‘বাংলাদেশী’ পরিচয়ে আনার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের জাতির পিতা। শুধু বাঙ্গালী জাতি জাতি নন সকল ‘বাংলাদেশী’র জাতির পিতা।

চলমান রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা কোন দ্বিপাক্ষিক সমস্যা নয়। অথচ এই ইস্যুতে কেউই বাংলাদেশকে সাহায্য করতে আসছে না। কারণ সারা পৃথিবীর মানুষ জানে এই সরকার ‘নিশিরাতের সরকার’। তারা জনগনের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসেনি। এই গণবিচ্ছিন্ন সরকার গত দুই বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও তারা দেশে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হয়নি। রোহিঙ্গা সমস্যা দিন দিন জটিল হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে আনতে হলে, প্রয়োজন সর্বদলীয় বৈঠক। শুধু সর্বদলীয় বৈঠক নয়, বৈঠকের আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সর্বদলীয় বৈঠকে অংশ নেবেন খালেদা জিয়া। ১৯৯৪ সালে সফলভাবে বেগম খালেদা জিয়া রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করেছিলেন। তাই বর্তমান রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অভিজ্ঞতাকে রাষ্ট্রীয় স্বার্থে কাজে লাগাতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, দলীয়ভাবে মোকাবেলা করতে গিয়ে সরকার ২০০৯ সালে বিডিআর পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞ ঠেকাতে পারেনি। তাদের ব্যর্থতার কারণে সেদিন ৫৭জন সেনা অফিসারকে প্রাণ দিতে হয়েছিলো। তারা হত্যাযজ্ঞের মধ্যে সেনা অফিসারদের ঠেলে দিয়েছিলো। এই নিয়ে এখনো জনমনে নানা প্রশ্ন।

তাই রোহিঙ্গা ইস্যু কখনোই দলীয় কিংবা ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার মতো ইস্যু হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দেশে শতশত মানুষ গুম খুন করে কেউ যদি রোহিঙ্গ্যা ইস্যু ব্যবহার করে নিজের খুনি ইমেজ পরিবর্তনের কুচিন্তা করে, তাহলে রোহিঙ্গ্যা ইস্যু আরো জটিল আকার ধারণ করবে, বলেন তারেক রহমান। .

কারাবন্দি দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে জোর করে বন্দী করে রাখা হয়েছে। কেন বন্দি করে রাখা হয়েছে, কারণ খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্র এখন সমার্থক। তাই যদি খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রাখা যায় তাহলে বন্দি করে রাখা সম্ভব বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার। অবাধে লুটপাট করা যায় মানুষের ধন-সম্পদ। খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা গেলে টিকিয়ে রাখা যায় ক্ষমতাসীন অপশক্তির অবৈধ ক্ষমতা।

তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ বিচারের নামে অবিচার করছে। বিচার বিভাগ এই অবিচারের মধ্য দিয়ে প্রমান করেছে যারা বিচারপতির আসনে বসে আছেন তারা বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ নন। তারা ক্ষমতাসীনদের দলীয়
স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। এইসব বিচারপতিরা নিজেদের স্রেফ সরকারি চাকুরিজীবী হিসাবে পরিণত করেছেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াসহ দলের নেতাকর্মীদের সাথে বিচারপতিরা যে অবিচার করে যাচ্ছেন, একদিন এইসব বিচারপতিদেরকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, বিচার বিভাগ এখন নৈতিক এবং আর্থিকভাবে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে।

বর্তমান সরকারকে ‘নিশীরাতের সরকার’ সরকার উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান স্বৈরাচারি সরকার বলছে, বাকশাল থাকলে নাকি অনেক আগেই নাকি দেশ সমৃদ্ধ হতো। এই দলটি মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও আসলে তারা দেশে একদলীয় বাকশাল কায়েম করতে চায়। ৭৪ সালে এই বাকশাল দিয়ে তারা গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে যতবার নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, জনগণের রায়ে ক্ষমতায় গিয়েছে বিএনপি। কিন্তু আওয়ামী লীগ কখনোই জনগণের ভোটে ক্ষমতায় যেতে পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না। তিনি তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বাকশাল এবং বাকশালী দুঃশাসন সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহবান জানান।

তারেক রহমান বলেন, প্রতিদিন বর্তমান জনম্যান্ডেটহীন সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, বিএনপির নাকি জনসমর্থণ নেই। না থাকলে তাদের এতো মাথাব্যথার কারণ কি? আসলে, বাস্তবতা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ যেখানে ব্যর্থ হয়েছে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেখানে সফল, বিএনপি সেখানে সফল, এ কারণেই বিএনপিকে নিয়ে আওয়ামী লীগের মাথাব্যথা। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিতে আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছিল। শহীদ জিয়া সফল হয়েছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছিলো দেশের মানুষকে অন্ন-বস্ত্র বাসস্থান ও নিরাপত্তা দিতে। ব্যর্থ হয়েছিল দেশ পরিচালনায়। অপরদিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে সফল হয়েছিলেন শহীদ জিয়া।

সাফল্যের অগ্রযাত্রায় বিএনপির সঙ্গে না কুলিয়ে উঠতে না পেরে আওয়ামী লীগ এখন বিএনপিকে দাবিয়ে রাখতে চায়। কারণ বিএনপিকে দাবিয়ে রাখতে পারলে দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেয়া যাবে। তিনি বলেন, ব্রাক্ষণবাড়িয়াযা বাংলাদেশের সীমানায় একটি প্রতিবেশি একটি দেশ ঢুকে পড়েছে অথচ ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকারের মাথা নেই।

তারেক রহমান বলেন, এই অবৈধ সরকারের মন্ত্রীরা বলেন, বিএনপি নাকি ৯ মিনিটও আন্দোলন করতে পারেনা। যদি তাই হলে তাহলে প্রতিদিন কেন অবৈধ মন্ত্রীরা ৯০ মিনিট বিএনপিকে নিয়ে আলোচনা করেন? বিএনপি যদি আন্দোলন করতে পারে তাহলে তো সব ঠিকঠাক চলার কথা।
তাহলে কি কারণে শেয়ার বাজার থেকে বিদেশিরা ৬০০ কোটি টাকা প্রত্যাহার করে নিলো ? বাংলাদেশে কেন কমছে বিদেশী বিনিয়োগ ?
বিভিন্ন দেশে ব্যবসা বাণিজ্যের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে প্রতি বছর বিশ্বব্যাংক একটি প্রতিবেদন তৈরী করে। ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস ইনডেক্স’ এ দেখা যায় ব্যবসা সুবিধায় বাংলাদেশের অবস্থান ২০০৮ সালে ছিল ১৮৯টি দেশের মধ্যে ১১৫তম। আর ২০১৯ সালে ব্যবসা সুবিধায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৯টি দেশের মধ্যে ১৭৬তম। দেশ ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণে থাকলে ব্যাবসায় পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার কথা ছিল, তাহলে এই অবনতির চিত্র কেন? এফবিআই বলেছে,রাষ্ট্রীয় মদদে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরি হয়েছে। ব্রীজের রেলিং তৈরী হচ্ছে বাঁশ দিয়ে এটাই নাকি উন্নয়নের রোল মডেল। এটা এমনি এক রোল মডেল, দুধ পরীক্ষার জন্যও ভারতে পাঠাতে হয়। বালিশ কিংবা বই কেনা সবখানেই দুর্নীতি। দুর্নীতিই এখন নীতিতে পরিণত করেছে আওয়ামী লীগ।

তারেক বলেন, ক্ষমতাসীনরা দেশটাকে কোথায় নিয়ে গেছে ? তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মানেই এখন অপশাসন। আওয়ামী লীগ মানেই ভোট ডাকাতি, গুম, শেয়ারবাজার লুট,সন্ত্রাস, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ, মানুষের বাক স্বাধীনতা খর্ব করা, নারী ধর্ষণ, নায্যমুল্যে ধানের দাম না পেয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়া, পাট চাষির আত্মহত্যা, বিরোধীদের নামে মামলা-হত্যা, লুণ্ঠন, দুই কোটি মানুষ না খেয়ে থাকা। তিনি বলেন, এখন আওয়ামী লীগ মানেই দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতা পাকপোক্ত করার অপচেষ্টা করা, আওয়ামী লীগ মানেই বাকশালের পদধ্বনি।
তারেক বলেন, নিশিরাতের সরকার দেশটা বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দিয়েছে।

তারেক রহমান বলেন,১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রমনার বটমুলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই দলটি এখন জনগনের কাছে এমন একটি দল যাদের কাছে বাংলাদেশ নিরাপদ, গণতন্ত্র নিরাপদ, নিরাপদ মানুষের স্বাধীনতা ও সম্মান।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে দলের মরহুম নেতাদের স্মরণ করেন। শহীদ জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে শহীদ জিয়া সেদিন স্বাধীনতাকামী জনগনের কাছে ‘দিশারী এবং সাহসের প্রতীকে’ পরিণত হয়েছিলেন। একইভাবে দেশ স্বাধীনের পরে যখন দেশে গণতন্ত্র হত্যা করা হলো, মানুষের বাক স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হলো যেমন পরিস্থিতিতে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং মানুষে বাক ও ব্যাক্তি স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে জনগণের কাছে তিনি পরিণত করেছিলেন গণতন্ত্র ও অগ্রযাত্রার প্রতীক হিসেবে। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে গিয়ে দলের যেসব নেতাকর্মী নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, নির্যাতিত, প্রাণ হারিয়েছেন তাদেরকেও স্মরণ করেন।

নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে থেকে যারা বিএনপির ব্যর্থতা খুঁজতে চান, তাদের উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান বলেন, দল হিসেবে আন্দোলন সংগ্রামে সফলতা ব্যর্থতা থাকবে, আন্দোলনের গতিতে জোয়ার ভাটা থাকবে, থাকবে নানা কৌশল এবং সেটি .থাকতেই পারে তবে দলীয় ব্যর্থতার অজুহাতে আমরা রাষ্ট্রকে ব্যর্থ করে দিতে পারিনা। কারণ, এই দেশটা কোনো ব্যক্তির নয়, কোনো দলের নয়, এই দেশটা আমার -আপনার-আমাদের সকলের। তিনি দেশ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখার আহবান জানান। তিনি বলেন, প্রতি নাগরিকের নিজের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে আন্দোলনে অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তারেক রহমান বলেন, নির্যাতন নিপীড়ন সহ্য করেও বিএনপি নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলন করতে গিয়ে খালেদা জিয়া বন্দি। লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীরা মামলার আসামী, নির্যাতনের শিকার। তিনি বলেন, বিএনপির উদ্দেশ্য একটাই, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দুর্নীতিমুক্ত এমন একটি বাংলাদেশ নির্মাণ যেখানে সমুন্নত থাকবে সাম্য-মানবিক মর্যাদা-এবং ন্যায় বিচার। যেখানে গণতন্ত্র এবং মানুষের মৌলিক অধিকার ভুলুন্ঠিত হবেনা। এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনোই অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করেননি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

তারেক রহমান সারাদেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আপনারা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করুন। নির্যাতিত জনগনের পাশে দাঁড়ান। আপনাদের আন্দোলনেই মুক্তি পাবে খালেদা জিয়া। মুক্তি পাবে জনগন। মুক্ত হবো গণতন্ত্র, মুক্তি পাবে বাংলাদেশ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ