fbpx
 

আঞ্জুর ওপর হামলা ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত চায় মহানগর বিএনপি

Pub: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৯ ৯:২০ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৯ ৯:২১ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জুকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে সংগঠনের বিবদমান দুই পক্ষই।

গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মোহাম্মদপুর থানার বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের রোষাণলে পড়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জু। একইসঙ্গে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসান ও যুগ্ম সম্পাদক এজিএম শামসুলকেও নেতাকর্মীরা ধাওয়া করেন। তবে তারা দৌড়ে পালিয়ে যান। এর পর থেকে মহানগর বিএনপির একাংশ ঘটনার জন্য সংগঠনের বিদ্রোহী নেতাদের দাবি করে আসছিলো।

ঘটনার ৩দিন পর বুধবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতিকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় নিন্দা জানানো হয়। একইসঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

অপরদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিতর্কিত থানা কমিটি গঠন নিয়ে বিভক্ত নেতারাও মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জুর উপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে তদন্ত কমিটি গঠন এবং সংগঠনের আওতাধীন সব থানা ও ওয়ার্ড কমিটি স্থগিত ও পুনরায় গঠনের দাবি জানান। তারা বুধবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত এক আবেদনে এ দাবি জানান।

লিখিত আবেদনে তারা বলেন, মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জুর উপর হামলার ঘটনার পর থেকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসান ও যুগ্ম সম্পাদক এজিএম শামসুল ইসলাম ঘটনার জন্য মহানগর উত্তর বিএনপির সহ সভাপতি একেএম মোয়াজ্জেম হোসেন, সহ সভাপতি ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম পারভেজ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রহমানকে দায়ি করে সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য দেন।

অন্যদিকে সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক এবিএম রাজ্জাক হামলাকারী হিসেবে ৭-৮জনের কথা বলেন। এর মধ্যে জনৈক শুক্কর নামের একজনকে তিনি চিহ্নিত করেন।

নেতারা বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অসঙ্গতি রেখে ভিন্ন সময়ে পৃথকভাবে যাওয়ার সময়ে অনভিপ্রেত এই ঘটনাটি ঘটেছে। একমাত্র আমরাই মিছিল সহকারে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে একত্রিতভাবে অন্যান্য বছরের মতো অনুষ্ঠান সম্পন্ন করি।

তারা বলেন, দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এখন বিভাজন বা আভ্যন্তরীন দ্বন্দের সময় নয়। নিজেদের মধ্যে প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসারও সময় নয়। সঠিক তদন্ত ব্যতিরেকে কোন কাদা ছোড়াছুড়ির সময় নয়। এখন সময় ঐক্যবদ্ধ থাকবার। আমরা প্রত্যেকেই প্রায় দীঘ আড়াইযুগেরও বেশি সময় ধরে ছাত্রদল থেকে এখন বিএনপিতে এসেছি। আমাদের জীবনের স্বনালী সময়টুকু এই দলটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। উত্তর বিএনপিরসহ-সভাপতি ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টির ভাই শহীদ নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু প্রাণ দিয়েছেন। তার স্বামী সাবেক ছাত্রদল নেতা সাইদুর রহমান নিউটনও নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন। জাতীয় পাটি থেকে আসা এবং সংস্কারপন্থী একজন নেতার মুখে ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টিসহ আমরা যারা ছাত্রদলের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার পার করে এসে এখন বিএনপি করছি তাদেরকে আওয়ামীগের দালাল বলা কতটুকু শোভনীয় তার বিচারের ভার পূর্ন আস্থা সহকারে আপনারউপরে ছেড়ে দিলাম।

লিখিত আবেদনের সাথে কাইয়ুম-হাসানের অনিয়ম, কমিটি বাণিজ্য, সাংগঠনিক ব্যর্থতা ও স্বেচ্ছাচারিতার বিস্তারিত বর্ণনা সংযুক্ত করা হয়েছে।

অবেদনে মহানগর উত্তর বিএনপির সহ সভাপতি একেএম মোয়াজ্জেম হোসেন, সহ সভাপতি ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম পারভেজ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রহমানসহ আরও ২৮জন নেতার সাক্ষর রয়েছে।

গত বছরের ৩ জুন দলের গুরুত্বপহৃর্ণ এই সাংগঠনিক ইউনিটের ২৫টি থানা ও ৫৮টি ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগরের উত্তরের সভাপতি এমএ কাইয়–ম ও সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান। বিতর্কিত ও অখ্যাতদের দিয়ে পকেট কমিটির অভিযোগ তুলে মহানগর উত্তরের ৬৬ জন নেতার মধ্যে ৩২ জন ঘোষিত কমিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ঘোষিত কমিটি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ লিখিত আকারে তারা দলের ভারপ্রাপ্টø চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে দেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছয় দফা বৈঠক ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সবকিছু অবহিত করেন তারা। তবে দলের হাইকমান্ড কোন্দলকে সমাধান করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিদ্রোহী নেতারা পৃথক ব্যানারে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ