fbpx
 

জাতীয় পার্টির নাটকীয় সমঝোতার নেপথ্যে কে?

Pub: Sunday, September 8, 2019 11:08 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দলের চেয়ারম্যান, বিরোধীয় দলীয় নেতা, রংপুর-৩ আসন নিয়ে দুই দিন ধরে তীব্র দ্বন্দ্ব। পাল্টাপাল্টি বিরোধী দলীয় নেতার চিঠি, চেয়ারম্যান, মনোয়ন বোর্ড ঘোষণায় চূড়ান্ত ভাঙনের মুখে সাবেক স্বৈরাশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি। কিন্তু হঠাৎ এক রাতের বৈঠকে সব আপতত থেমেছে বলে মনে যাচ্ছে।

দেবর-ভাবির সমঝোতায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন এরশাদের ভাই জিএম কাদের। অন্যদিকে সংসদে বিরোধী দলের নেতা হিসাবে দায়িত্বে থাকবেন এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ। এছাড়া রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে সাদ এরশাদকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

হঠাৎ শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে প্রায় ২ ঘণ্টার বৈঠকে সৃষ্ট বিরোধের সমাধান হলো। কিন্তু জনমনে প্রশ্ন- মধ্যরাতের সমাধানের নেপথ্যে কে? দেবর-ভাবীর চরম দ্বন্দ্বের অবসান ঘটালো কে? 

কর্তৃত্ব নিয়ে যখন জিএম কাদের ও রওশন এরশাদ পাল্টাপাল্টি ঘোষণা দিচ্ছিলেন সেই দুইদিন নিখোঁজ ছিলেন দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। ক্ষমতাসীন মহাজোটের গতবারের সরকারের প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না।

বিরোধের সমাধানে রওশনপন্থি ও জিএম কাদেরপন্থিরা শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে বারিধারা ক্লাবে সমঝোতা বৈঠক হচ্ছে বলে শোনা গেল। জানা গেল সেই বৈঠকে মধ্যস্থতা করছেন পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাই। 

রবিবার সংবাদ সম্মেলনেও সেটাই জানালেন রাঙা। গত তিনদিন কোথায় ছিলেন সাংবাদিকরা জানতে চাইলে রাঙ্গা বলেন, ‘পিতা-মাতা যখন ঝগড়া করেন, তখন সন্তানরা বড় বিপদে পড়ে যায়। দলের বড় ভাই হিসেবে তাই তিনদিন আড়ালে ছিলাম। তবে চলমান বিরোধ মেটাতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি। এই প্রচেষ্টার ফলেই গতকাল বৈঠকের আয়োজন করতে পেরেছি।’

এর আগে জিএম কাদেরপন্থি কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘খোদ এরশাদ আমাকে অসিয়ত করেছেন জিএম কাদেরের সঙ্গে থাকতে। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তৃতীয় একটি গোষ্ঠীর ইঙ্গিতে জাপাকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন। এটা শত্রুদের কাজ।’

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর বিভিন্ন সময় সংকট দেখা দেয়। সংসদ ও দলের নানা বিষয়ে রওশন এরশাদসহ দলের সিনিয়র নেতাদের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রভাবশলী ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হতে দেখা গেছে। 

যদিও গত শুক্রবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘জাতীয় পার্টির টানাপোড়েন নিয়ে আওয়ামী লীগের কিছু করার নেই। এটা তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়।  তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে। তাদের মধ্যে কে বিরোধী দলীয় নেতা হবে এটা তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। আওয়ামী লীগ এ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। স্পিকার নিয়মতান্ত্রিকভাবেই বিরোধী দলীয় নেতাকে স্বীকৃতি দেবে। এখানে কারও প্রতিই শেখ হাসিনা বা অন্য কারও পক্ষপাতিত্ব নেই। আমরা এ বিষয়ে কারও পক্ষপাতিত্ব করতে চাই না।’

তবে জাপাকে সরকারের ‘অনুগত’ দল আখ্যায়িত করে বিএনপি নেতারা বলেছেন, দলটিতে অভ্যন্তরীণ বিরোধ স্বাভাবিক ঘটনা। ফলে জাপার যে নেতা সরকারের আনুকূল্য পাবেন, তিনিই সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার আসনে বসতে পারবেন। অর্থাৎ সরকারের পছন্দের ব্যক্তিই বিরোধীদলীয় নেতা হবেন বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে অন্য রাজনৈতিক দল নিয়ে কথা বলা ঠিক নয়। তবে, জাপা যে স্বাধীনভাবে চলতে পারে না, আজকে তাদের মধ্যে পদ-পদবি নিয়ে বিরোধ চলছে, এটি তারই প্রমাণ। তাদের দলের সিদ্ধান্তের জন্য যখন উভয় পক্ষ প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চায়, তখন এর চেয়ে দেউলিয়াপনা কী হতে পারে?’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে সরকারের অনুগত থাকার কারণে বিরোধীদলীয় নেতা হতে পেরেছেন রওশন এরশাদ। ফলে যে পক্ষ সরকারের কথামতো চলবে, তারাই জাপা ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার আসনে বসতে পারবেন।’


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ