fbpx
 

ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের শোডাউন

Pub: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯ ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯ ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পাল্টাপাল্টি স্লোগান * খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে ছাত্রদলের মিছিল * স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলার আহ্বান ছাত্রলীগের

ঢাবি প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি ‘শোডাউন’ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। দুই বৃহৎ ছাত্র সংগঠনের শোডাউনে অনেকদিন পর ক্যাম্পাস অনেকটাই সরব হয়ে ওঠে।

তবে কিছু কর্মীর অসৌজন্যমূলক আচরণ সহাবস্থানের পরিবেশকে অনেকটাই ম্লান করে দেয়। মধুর ক্যান্টিনের মধ্যেই পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে দেখা যায় দুই ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের। যদিও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

মধুর ক্যান্টিন ত্যাগ করার সময় ছাত্রদলের নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সহাবস্থান থাকলেও পুরোপুরি নেই। আমরা ছাত্রলীগের কাছে সৌজন্যমূলক আচরণ পাইনি।’

রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে নিয়ে মধুর ক্যান্টিনে যান ছাত্রদলের নবনির্বাচিত ফজলুর রহমান খোকন এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল। ক্যান্টিনে ঢুকেই তারা আগে থেকে অবস্থান করা ছাত্রলীগের টেবিলের দিকে এগিয়ে যান নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে। টেবিলে ছিলেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় সেখানে ছিলেন না।

ছাত্রদলের দুই নেতা যখন শুভেচ্ছা বিনিময় করছিলেন, তখন পাশ থেকে ছাত্রলীগের কয়েক শ নেতাকর্মী তাদেরকে লক্ষ করে ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন। ছাত্রলীগের কর্মীরা পরে ‘ছাত্রদলের গুণ্ডারা, হুশিয়ার সাবধান’, ‘হইহই রইরই, ছাত্রদল গেল কই’, ‘খালেদা জিয়ার দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার নামে পাল্টা স্লোগান দেন। পাল্টাপাল্টি স্লোগানের মধ্যেই ৩০ মিনিটের মতো মধুর ক্যান্টিনে অবস্থান করে ছাত্রদল। পরে নেতাকর্মীদের নিয়ে ভিসি কার্যালয়ে যান ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সেখানে ভিসি মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারা। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে তারা ক্যাম্পাসে মিছিলও করেন।

ভিসির বাসার উদ্দেশে রওনা দেয়ার আগে মধুর ক্যান্টিনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, ক্যান্টিনে তারা ছাত্রলীগের কাছ থেকে সৌজন্যমূলক এবং ছাত্রসুলভ আচরণ পাননি। ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে চাই। সেজন্য ক্যাম্পাসে এসেছি। আর এখান থেকে আমাদের কার্যক্রম শুরু করতে চাই। আপনারা দেখছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সহাবস্থান থাকলেও পুরোপুরি নেই। এখানে ভিন্নমত প্রকাশে বাধা দেয়া হচ্ছে।’

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মধুর ক্যান্টিনে আমাদের জন্য পর্যাপ্ত মতপ্রকাশের জায়গা নেই। এখানে আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে নানা ধরনের উসকানিমূলক স্লোগান দেয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে আমরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলাম। তারা সে সৌজন্যতাবোধও দেখায়নি। এটা আসলে ভিন্নমতের প্রতি একধরনের বাধা।’

ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বের আগমন উপলক্ষে আগে থেকেই মধুর ক্যান্টিনের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে লেখা ব্যানার নিয়ে অবস্থান করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলের মধুর ক্যান্টিনে আসার খবরে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মিছিল ও মহড়া দিতে দেখা যায়।

পরে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘ক্যাম্পাসে যে কেউ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে ক্যাম্পাসকে কেউ অস্থিতিশীল করতে চাইলে তা প্রতিহত করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ঠিক রেখে কেউ যদি রাজনৈতিক চর্চা করে, সেক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মীরা কখনই কাউকে বাধা দেবে না। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীরা যদি কাউকে প্রতিহত করে, সেই দায়ভার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেবে না। আমরা তাদেরকে স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলার আহ্বান জানাই।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ