fbpx
 

জাতি অতিষ্ঠ, তাহলে কেন অপেক্ষা? ঘর থেকে বের হন: অলি

Pub: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১০, ২০১৯ ১০:২৫ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সরকারের অত্যাচারে জাতি অতিষ্ঠ তাই সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে মানুষকে ঘর থেকে বের হতে আহবান জানিয়েছেন জাতীয় মুক্তিমঞ্চের আহবায়ক ও এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে জোটের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহবান জানান।

এলডিপি সভাপতি বলেন, ‘সরকার বারবার ভারতের কাছে কূটনৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে। ভারতের যা কিছু দরকার সবকিছু দিয়ে দিয়েছে এই সরকার। দেশের স্বার্থ রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে সরকার।’

অলি আহমদ বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি। একটাই লক্ষ্য ছিল, দেশকে স্বাধীন করা। আজকে দেশের দুর্দিন। এই দুর্দিনে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব রয়েছে জনগণের সামনে বিপথগামী সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তুলে ধরা এবং যত দ্রুত সম্ভব তাদের ক্ষমতা থেকে বিদায় করা।’

অলি আহমদ বলেন, ‘আমরা আশা করবো, জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সরকার এবং আওয়ামী লীগের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে, ছাত্রদের হাতকে শক্তিশালী করবে, আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করবে। মনুষ্যত্ব ফিরিয়ে আনতে হবে, এই সরকারের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে। প্রয়োজন সৎ ও শিক্ষিত নেতৃত্ব এবং জনগণের ঐক্য। জাতি আজ অতিষ্ঠ, তাহলে কেন অপেক্ষা? ঘর থেকে বের হন, শান্তিপূর্ণ ও আইন অনুযায়ী প্রতিবাদ করুন।’ 

জাতীয় মুক্তিমঞ্চের আহবায়ক বলেন, ‘আপনাদের অবগতির জন্য বলতে চাই, কিছুদিন আগে আমরা ঐক্য করেছি। ২০ দলীয় জোটের এক নেতা স্টেটমেন্ট দিয়েছিলেন যে তাকে ‘অনেক অনুরোধ করা হয়েছে আসার জন্য, কিন্তু তিনি আসেননি।’ আমরা আপনাদের এটাই বলতে চাই, কোনও ধান্দাবাজকে আমরা এই মঞ্চে আসতে দেবো না। যারা এসেছে, তারাই থাকবে। এরপর যদি কাউকে আসতে হয়, এখন যারা মঞ্চে আছে, এই দলগুলোর অনুমতি ছাড়া মঞ্চে তাদের বসতে দেওয়া হবে না। সবচেয়ে বড় কথা, ধান্দাবাজ ও রাজনৈতিক সাইনবোর্ডধারী কোনও দলকে এই মঞ্চের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করা হবে না।’

আবরার হত্যার নিন্দা জানিয়েছে তিনি বলেন, ‘জাতীয় মুক্তিমঞ্চের পক্ষ থেকে আমি বলতে চাই, মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের নির্মম, নির্দয় ও অমানবিক হত্যাকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। জাতিকে মেধাশূন্য করা সরকারের একটি নীলনকশা। অন্যথায় বর্তমান সরকার কখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অদক্ষ ব্যক্তিদের শিক্ষক বা ভিসি হিসেবে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দিতো না। এছাড়া বিরোধী দলগুলোকে শায়েস্তা করার জন্য তারা তাদের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। ধান্দাবাজি এবং গুণ্ডামি করার পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেরা রাজনৈতিক দলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।’

ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়নি দাবি করে অলি আহমদ বলেন, ‘গ্রেফতার হওয়া আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, ‘তারা মন্ত্রীকে মার্সিডিজ গাড়ি দিয়েছেন, বস্তায়-বস্তায় টাকা দিয়েছেন। অনেক মন্ত্রী ও বড় বড় নেতা শামিমের টাকার ভাগ পেয়েছেন। এখনও তারা কেন গ্রেফতার হচ্ছেন না?’ পত্রপত্রিকায় দেখেছি ২৭ জন এমপিকে গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারিতে রেখেছে। এখনও সরকার তাদের ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। আমাদের দাবি থাকবে, এ ধরনের ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে তাদের লুটের টাকা উদ্ধার করে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করা হোক।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পারওয়ার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, জাগপার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান আসাদ, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের একাংশের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কাসেমী প্রমুখ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ