fbpx
 

পদায়নের অপেক্ষায় সহস্রাধিক সাবেক ছাত্রনেতা

Pub: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫, ২০১৯ ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আসছে নভেম্বর-ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, দুই মহানগর ও চার সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্র এবং মহানগর শাখার সম্মেলন। এই সম্মেলনের সঙ্গে সঙ্গে অন্তত ১১৪ জনের পদায়ন হবে। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তো সহস্রাধিক পদ থাকছেই। এ নিয়ে ঈদের খুশি ক্ষমতাসীন শিবিরে। পার্টি অফিসসহ দ্বারে দ্বারে হাজিরা দেয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। এই হাজিরায় সাবেক ছাত্রনেতারা আছেন এগিয়ে।

জানা গেছে, ছাত্রলীগের গত ৭/৮ কমিটির কেন্দ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার অন্তত সহস্রাধিক নেতা কোথাও পদ পাননি। ছাত্রলীগ থেকে বিদায় নেয়ার পর থেকে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তাদের সহযোদ্ধাদের অনেকে হতাশ হয়ে হাল ছেড়েছেন। কিন্তু তারা এখনও নেত্রীর দিকে তাকিয়ে আছেন।

এ ছাত্রনেতারাই একসময়ে ক্যাম্পাস ও রাজপথ কাঁপিয়েছেন। জয় বাংলার স্লোগানে বিরোধীদের ভীতে কম্পন সৃষ্টি করেছেন। পদ-পদবী আর রাজনীতি করার সেরকম সুযোগ না পাওয়ায় হয়তো চুপসে আছেন। কিন্তু আদর্শ থেকে এতটুকু টলেননি।

আওয়ামী লীগ নেতারাও বলছেন, ‘‘এবার বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এ নেতাদের পদায়নের বিশাল সুযোগ। এতে অনেকে জায়গা পাবেন।’

গত কয়েকদিন আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির কার্যালয় ও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ ঘুরে দেখা গেছে, সাবেক ছাত্রনেতাদের মিছিল যেন সেখানে। প্রতিদিন বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পার্টি অফিসের ভেতর ও বাহির, অলিগলি এমনকি আশপাশের চায়ের দোকানও এখন সাবেক ছাত্রনেতাদের দখলে। নানা খোশগল্প আর নিজেদের অতীত স্মৃতিচারণ করছেন।

প্রকাশ্যে জানতে চাইলে বলেন, ‘‘আদর্শের টানে আসি, পদ-পদবী বড় ব্যাপার নয়। নেত্রী আমাদের চেনেন, জানেন। তিনি যখন যেখানে প্রয়োজনবোধ করবেন, কাজে লাগাবেন।’

ছাত্ররাজনীতিতে এই পদে ছিলাম, দলের জন্য এই করেছি, সেই করেছি, এসব কথার ভেতর দিয়ে ইশারা ইঙ্গিতে বুঝাতে চান, পদ পেলে আবারও সব উজাড় করে দেবেন এই দলের জন্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সত্যিকার অর্থেই এসব ছাত্রনেতারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আবারও আওয়ামী লীগ বা সহযোগী সংগঠনে সুযোগ পেলে নিজের সাংগঠনিক যোগ্যতার প্রমাণ দেবেন। তুলে ধরবেন নিজেকে।

এ তালিকায় ছাত্রলীগের সাবেক-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকই আছেন ডজনখানেক। তবে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি-সম্পাদকদের বাইরেও আছেন সহস্রাধিক ছাত্রনেতা। যারা নানা সময়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে দুর্দাণ্ড প্রতাপের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এরাই এখন দ্বারে দ্বারে পদ-পরিচয়ের জন্য ঘুরছেন। এছাড়াও বেশকিছু প্রবীণ নেতা আছেন। তারা প্রকাশ্যে হাজিরা দেন না। পদ-পদবী না থাকায় ওভাবে সামনে আসেন না। নিজের অধীনস্থ কর্মীরা নেতা, এমপি-মন্ত্রী, অথচ তাদের পরিচয় নেই। এ কারণে সামনে না আসলেও অনেকে ভেতরে ভেতরে নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলেছেন।

এই আদর্শের পতাকা হাতে রাজপথে সক্রিয় কিন্তু পদ-পদবী না পাওয়া এসব সাবেক ছাত্রলীগ নেতার নাম পরিবর্তন ডটকমের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে-

সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে বাহালুল মজনুন চুন্নু, মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, ইসহাক আলী খান পান্না, বাহাদুর বেপারী, অজয় কর খোকন, লিয়াকত শিকদার, মাহমুদ হাসান রিপন, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ, সিদ্দিকী নাজমুল আলম, সাইফুর রহমান সোহাগ ও এসএম জাকির হোসাইন। তারা এখনো দলে পদ পাননি। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই এখনো সক্রিয়। পার্টি অফিসসহ নানা জায়গায় নিয়মিত যাতায়াত করেন। তবে সিনিয়র দু-একজন সেরকমভাবে পার্টি অফিসে না আসলেও পদ পেলে ঠিকই সক্রিয় হবেন।

এর বাইরেও ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র ডাকসাইটে নেতা মোশারফ হোসেন রাজা, শাহাবুদ্দিন ফরাজি, আবদুল মতিন, কামরুল হাসান বারী, প্রকৌশলী আকতারুল আলম, সুবক্তা কাজী তারেক কায়কোবাদদের এখানো দলে পদায়ন হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরাও ঘুরছেন পদের জন্য। এদের মধ্যে কামরুল হাসান রিপন, গোলাম সরোয়ার কবির, ইসহাক মিয়া, মেহেদী হাসান মোল্লা, ওমর শরীফসহ অনেকে নানা জায়গায় হাজিরাও দিচ্ছেন।

এছাড়া ছাত্রলীগের লিয়াকত-বাবু কমিটির সহ-সভাপতি আবু নাসের, অসীত বরণ বিশ্বাস, আনিসুর রহমান, প্রশান্ত ভুষণ বড়ুয়া, মিহির কান্তি ঘোশাল, লুৎফর নাহার মুন্নি, সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান খলিল, অলক বনিক, দফতর সম্পাদক কামরুল হাসান খোকন, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা এএইচ এম মাসুদ দুলাল, নাজমুল ইসলাম তুহিন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী ও সমাজসেবা এমএ মমিন পটোয়ারীর পদায়ন হয়নি কোথাও। তারাও আছেন ফ্রন্টলাইনে।

এই সংগঠনের রিপন-রোটন কমিটির সহ-সভাপতি হাসানুজ্জামান লিটন আলাউল ইসলাম সৈকত, রফিকুল আলম গাফ্ফারী রাসেল, ফারুক হাসান হিপলু, মেহেরুল হাসান সোহেল, জাফরুল হাসান পলাশ, হাবিবুর রহমান, মিজানুর রহমান, লাভলু মোল্লা শিশির, আবু সাঈদ, যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, রিপন পোদ্দার, শাহীনুর রহমান টুটুল, জসিম উাদ্দন ভূঁইয়া, এবিএম আরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুর রহমান, প্রচার সম্পাদক আরিফুল ইসলাম উজ্জল, গণশিক্ষা সম্পাদক আবু আব্বাস ভূঁইয়া, স্কুলছাত্র সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রেজাউল করিম টিটন, আইন সম্পাদক আবু হানিফ, উপ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম ঢালি, ঢাবি যুগ্ম সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া রাসেল- তারা এখনো কোনো পদ পাননি।

তারাও তাকিয়ে আছেন নেত্রীর দিকে। তাদের বিশ্বাস নেত্রী তাদের খবর রাখেন। সময়মত ঠিকই পদায়ন করবেন।

ছাত্রলীগের সোহাগ-নাজমুল কমিটির সহ-সভাপতি আলী আশরাফ, মোর্শেদুল আলম চৌধুরী, রাকিবুল ইসলাম শাওন, সুমন কুণ্ডু, রিশান মাহমুদ, যুগ্ম সম্পাদক মামুন অর রশীদ, আনোয়ার হোসাইন, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, হাসানুজ্জামান তারেক, আবদুর রহমান জীবন, সাংগঠনিক তরিকুল ইসলাম, দফতর সম্পাদক শেখ রাসেল, আইন সম্পাদক ময়েজ উদ্দিন শরীফ রুয়েল, অর্থ সম্পাদক আশিকুল ইসলাম ও কৃষি শিক্ষা সম্পাদক রইসুল ইসলাম জুয়েলরাও পদ বঞ্চিত। এরা গত সম্মেলন থেকে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস ঘিরে আড্ডা জমিয়েছেন। হয়নি কাঙ্ক্ষিত পদায়ন। এবারও আশা ছাড়ছেন না, লেগে আছেন।

এই ছাত্র সংগঠনের সোহাগ-জাকির কমিটির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু, কাজী এনায়েত, অহিদুর রহমান জয়, আরিফুর রহমান লিমন, আদিত্য নন্দী, মেহেদী হাসান রনি, আমিনুল ইসলাম, সৈয়দ আশিক, শাহাদাত হোসেন রাজন, মাকসুদ রানা মিঠু, কামরুজ্জামান সালাম, নুসরাত জাহান নুপুর, নিশিতা ইকবাল নদী, এসএম আবদুর রহিম তুহিন, যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান নাদিম, চন্দ্র শেখর মণ্ডল, দিদার মো. নিজামুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান, সায়েম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোবারক হোসেন, শেখ জসিম উদ্দিন, বিএম এহতেশাম, দফতর সম্পাদক দেলোয়ার শাহজাদা, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ইমরান খান ও পরিবেশ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ বিপ্লব। এরা কোথাও না কোথাও জায়গা পাওয়ার আশায় দৌড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের অফিসে, আর সালাম দিচ্ছেন নেতাদের।

এ নেতারা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহযোগী সংগঠনগুলোর শীর্ষপদে পদায়নের আগের প্রার্থীর ছাত্রলীগের ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে নেয়ার কথা বলেছেন। এজন্য তারা বেশ আশাবাদী। তারা মনে করেন, বঞ্চিত বেশিরভাগ সাবেক ছাত্রনেতা এবার পদ পাবেন। এজন্য আগের তুলনায় আরও সক্রিয় হয়েছেন।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, ‘গতবারেও আমরা দেখেছি, সাবেক ছাত্রনেতাদের অনেককে পদায়ন করা হয়েছে। আমি মনে করি, এবারও সাবেক ছাত্রনেতার মধ্যে যারা রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বা সক্রিয় আছেন, তাদের মূল্যায়ন করা হবে।’

ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘মূল দলসহ চার সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন হচ্ছে, এতে অনেক পদায়ন হবে। এ উপলক্ষে যেকোনো যোগ্য ব্যক্তিই এবার আশাবাদী হতে পারে। কে কোন সংগঠন করলো? এটা পদায়নের মানদণ্ড নয়। সৎ, নিবেদিত, পরিশ্রমী, নির্ভেজাল, স্বচ্ছ-পরিচ্ছন্ন ও পরীক্ষিত কর্মীরাই পদ পাবেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও জানিয়েছেন, ‘উজ্জ্বল ভাবমূর্তির নেতারাই এবার সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে আসবে।’


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ