fbpx
 

‘জয় বাংলা আ’লীগের কোন দলীয় স্লোগান নয়, মুক্তিযোদ্ধাদের রণধ্বনি’

Pub: Saturday, October 19, 2019 7:48 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজ্জাম্মেল হক এমপি বলেছেন, জয় বাংলা আওয়ামী লীগের কোন দলীয় স্লোগান নয় এটি মুক্তিযোদ্ধাদের রণধ্বনি। মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করার পাশাপাশি এ রণধ্বনি দিয়ে পাক হানাদারদের মনবল ভঙ্গ করেছিল। অনেকেই আজ মনে করেন জয় বাংলা দলীয় স্লোগান এটি কখনোই দলীয় স্লোগান হতে পারে না। এ স্লোগানকে মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব স্লোগান করা উচিত।

মন্ত্রী বলেন, পাঠ্যবই সংশোধনের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধের গৌরবের কথা, রাজাকারদের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হবে। বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের বোনাস প্রদান করা হবে। ১৫ হাজার অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর নির্মাণ করে দেয়া হবে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন গেজেট প্রকাশ করে ওয়েব সাইডে মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হবে। নিজেদের সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। যাতে করে সন্তানরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে বিচ্যুতি হয়ে অন্য কোন আদর্শে চলে না যায়। মুক্তিযোদ্ধারা জীবিত থাকাবস্থায় যাতে গ্যাস, বিদ্যুৎ বিল ও চিকিৎসা ভাতা বাবদ তিন হাজার টাকা পায় সেই ব্যাপারে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।

শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সাহাপুর এলাকায় নবনির্মিত সোনারগাঁও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশিদ বিপিএম(বার) পিপিএম বার, সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জসীমউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. আব্দুল হাকিম, নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী অধ্যক্ষ শিরিন বেগম, সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূইয়া, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা সম্পাদক ড. সেলিনা আক্তার, সোনারগাঁও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ওসমান গণি প্রমুখ।

মন্ত্রী আরো বলেন, দেশের অধিকাংশ জেলা ও উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মান করা হয়েছে। ২৫টি উপজেলায় কমপ্লেক্স নির্মান বাকি আছে অচিরেই এগুলো সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া দেশের প্রতিটি যুদ্ধ ক্ষেত্র, বধ্যভূমি, মুক্তিযোদ্ধাদের কবর একই নকশায় নির্মান করা হবে যাতে পরবর্তী প্রজন্ম এগুলো দেখেই বুঝতে পারে এগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি চিহ্ন। মন্ত্রী আরো বলেন বধ্যভূমি, মুক্তিযোদ্ধের ঐতিহাসিক স্থান এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষন করা হবে। এসব স্থান একই নকশায় সংরক্ষন করা হবে। দখল হয়ে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধের স্থান ও বধ্যভূমিগুলো উদ্ধার করা হবে। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে পরিচয় পত্র বিতরণ করা হবে। মুক্তিযোদ্ধারা মারা গেলে দাফন খরচ হিসেবে ৫ হাজার টাকা প্রদান করা হতো। এ টাকার পরিমাণ ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হবে। প্রয়োজনে পরিবহন খরচ দেয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন বিভিন্ন কারণে এতদিন বন্ধ ছিল অচিরেই এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা কখনোই নির্বাচনের বিপক্ষে নই। আদালতে মামলা থাকায় নির্বাচন বিলম্বিত হয়েছে এখন কোন মামলা নেই তাই নির্বাচনে কোন বাঁধা নেই।

তিনি আরো বলেন, আমরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছি। কিন্তু আমাদের সন্তানরা যদি অন্য মতাদর্শে বড় হয় তাহলে এটা খুবই দুঃখজনক।

তিনি মুক্তিযোদ্ধাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার সন্তান যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শে বড় হয় সে ব্যাপারে সজাগ থাকবেন।

পরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজ্জাম্মেল হক এমপি ও অতিথিদ্বয় সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, সোনারগাঁও উপজেলার সাহাপুর এলাকায় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় ১০ শতাংশ সরকারী জমির উপর প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে দুই বছরে নির্মাণ করা হয় তিন তলা বিশিষ্ট সোনারগাঁও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ