fbpx
 

ক্ষমতাসীনরা এখন ‘থরহরি কম্পমান’: মান্না

Pub: Thursday, October 24, 2019 1:47 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সরকারের প্রাণভোমরার খবর আমাদেরও কিছু কিছু জানা আছে উল্লেখ করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহামুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘ক্ষমতাসীনরা এখন থরহরি কম্পমান অবস্থায়। সাহস নিয়ে লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।’

মান্না বলেন, ‘সরকার সব জায়গায় ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে। ক্রিকেটাররা ধর্মঘট করছে। আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা বলছেন, শেখ হাসিনাকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র চলছে। যা-ই ঘটছে তারা ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে।’

বুধবার (২৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

‘দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল, আবরার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ভোলার ঘটনার দ্রুতবিচার এবং খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি’তে আলোচনা সভাটির আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, ‘বাস্তবে এখন ছাত্রলীগ নেই, যুবলীগের তো খবরই নাই, যুবলীগ মানে ‘জুয়ালীগ’। পত্রিকায় দেখলাম কোনও কোনও এমপি সাহেব তাদের নামে নাকি দুদক নোটিশ দিয়েছে। দুদক যদি চার-পাঁচজন এমপিকে নোটিশ দেয় তাহলে সংসদও টেকে কিনা তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।’

ক্ষমতাসীনদের প্রাণভোমরার খবর জানা থাকার কারণে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছাড়া পেয়েছেন এমন দাবি করে মান্না বলেন, ‘হাফিজ ভাই যেভাবে জেল থেকে বের হলেন আমার নিজেরই বিশ্বাস হয়নি। বিএনপির আর কোনোও নেতা এভাবে বের হয়েছে? আজকে সন্ধ্যায় ধরেছে, কত বড় মামলা? ২৪ ঘণ্টা যেতে পারেনি, ছেড়ে দিতে হয়েছে, কেন?’

তিনি বলেন, ‘তার মানে এই সরকারের দুর্বল জায়গা, প্রাণভোমরার খবর আমাদেরও কিছু কিছু চেনা আছে। আমরা জানি কোথায় কোথায় ধরলে সরকার বিপদে পড়তে পারে। মামলা তো দিতেই পারে, ওটা আমি বিবেচনা করছি না, কারণ ওরকম রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা তো আমারও আছে, প্রতিমাসে হাজিরা দেই। দুর্বল জায়গা সরকারের আছে যেখানে হাত দিলে সরকারের হাত পুড়ে যেতে পারে। সরকারেরও হাত পোড়ে, সরকারেরও মাথা নত হয়। শেষ পর্যন্ত সরকারের চেয়ারও সরে যায়, সেই ইতিহাসও আমরা দেখেছি। তাই সাহস নিয়ে লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।’

ভারতের সাথে ফেনী নদীর পানিচুক্তির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতা বলেন, ‘এতদিন ধরে আমরা তিস্তার পানিসহ অনেক কথা বলেছিলাম। সেটা কোনও আলোচনার মধ্যেই আসলো না। আর বলা হলো, আমরা ফেনী নদীর পানি দিয়ে এসেছি। কেন?’

নিজেদের সমালোচনা করে মান্না বলেন, ‘১৩ তারিখে যখন পুলিশ এখানে ব্যারিকেড দিলো, আমরা ব্যারিকেড ভেঙে যেতে কেন পারলাম না কেউ? বক্তৃতা করার সময় আমরা বলি- রক্ত দেবো, জীবন দেবো, বেগম জিয়াকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। তো পুলিশের সামনেই তো ব্যারিকেড ভাঙতে যান না। রক্ত দেবেন কোত্থেকে? লড়াই করবেন কী করে?’

বিএনপি নেতাদের প্রতি কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘বাইরে আসবার দরকার নেই, মসজিদে ঢুকে যান, আল্লাহর সাথে বেশি যোগাযোগ হবে, আল্লাহর কাছে বলেন, আমরা মিছিল-টিছিল করতে পারবো না। আল্লাহই বলেছেন, আপনি নিজে যদি কাজ না করেন, তাহলে সফলতা আসবে না। আমি গায়ের জোরে, হটকারী কথা বলছি না, সাহস করতে হবে যুক্তিসিদ্ধভাবে।’

তিনি বলেন, ‘বোরহানউদ্দিনে দেখেছেন মানুষ কি রকম করে নেমেছে? একটা বিশ্বাস থেকে তো নেমেছে। আমি জিজ্ঞেস করছি- যদি বোরহানউদ্দিনে ওরকম করে মানুষ নামতে পারে, তবে ঢাকায় পারছে না কেন? আমি আপনার সবার কাছে প্রশ্নটা করছি, যে রকম বোরহানউদ্দিনে মানুষ নেমেছে, যে রকম করে কোটা আন্দোলনের সময় মানুষ নেমেছে, যে রকম করে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় মানুষ নেমেছে, ভ্যাটের বিরুদ্ধে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেমেছে সেরকম করে ঢাকায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা কি নামতে পারবেন? নাকি পারবেন না? মাঝে মাঝে শুনি, ‘আমরা তো নামছি, জনগণ নামে না’। জনগণ যদি না-ই নামে তাহলে বোরহানউদ্দিনে ওরা কারা?’

মান্না আরও বলেন, ‘জনগণ যদি না-ই নামে তাহলে কোটা আন্দোলনে ওরা কারা? কিন্তু কেউ যদি মনে করেন, আমি এই প্রেসক্লাবের মধ্যে বড় একটা সেমিনার করে অথবা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করলে মানুষ ঝাঁকে ঝাঁকে আমার কাছে এসে জড়ো হবে এরকম আন্দোলন বাংলাদেশে কেন, পৃথিবীর কোথাও হবে না।’

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত-এর সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ বক্তব্য দেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ