fbpx
 

নিরপেক্ষ নতুন নির্বাচনেই সংকটের সমাধান : মির্জা ফখরুল

Pub: Thursday, October 24, 2019 8:25 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

১৮ দিন পর দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সরকারের নানামুখী ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অবিলম্বে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের মাধ্যমে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নতুন নির্বাচন করে চলমান সংকটের সমাধান করা যেতে পারে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে স্ত্রী রাহাত আরা বেগমকে নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান মির্জা ফখরুল।

গত ৩ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য তিনি তার সহধর্মীনীকে নিয়ে সিঙ্গাপুর যান। সিঙ্গাপুর র‌্যাফেলস হসপিটালে তিনি চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে সিঙ্গাপুর থেকে অস্ট্রেলিয়াতে যান বিএনপি মহাসচিব। সেখানে তিনি ‘এশিয়া প্যাসিফিক ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (এপিডিইউ) বৈঠকে যোগ দেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান।

ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকান্ডের বিচারের রায়ে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়া হয়নি সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, যেহেতু পুলিশের ওপর এই সরকার নির্ভরশীল। সেজন্য তারা (সরকার) পুলিশ সদস্যদের ছাড় দিয়ে যাচ্ছে। মোট কথা যেটা সেটা হচ্ছে যে, এই সরকার তো নির্বাচিত সরকার নয়, তাদের কোনো ম্যান্ডেট নেই। তারা জোর করে ক্ষমতায় আছে, জোর করে থাকার জন্যই তারা এই ধরনের দুর্বৃত্তায়ন করছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে যখন সংবাদের ঘনঘটা ওই সময়টা আমি মিস করেছি। তবে আমি ট্র্যাকে ছিলাম, খোঁজ-খবর রেখেছি, অবজারভ করেছি। বুয়েটের আবরার ফাহাদ হত্যার যে ঘটনা- এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক, এটা ক্ষমাহীন একটা অপরাধ। এই অপরাধের পেছনে আমি সম্পূর্ণভাবে সরকারকে দায়ী করবে এজন্য যে, সরকারের রুলিং পার্টি আছে তাদের প্রশ্রয়ে এ সমস্ত এলিমেন্টস আজকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে যাচ্ছে। ছাত্রলীগ বা যুবলীগ গত কয়েক বছর ধরে একেবারেই লাগামীহীন হয়ে গোটা দেশে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, যে বিষয়টা নিয়ে আবরারকে হত্যা করা হয়েছে-এটা কোনো মতেই কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। একজন সাধারণ নাগরিক ছাত্র যে, তার দেশের স্বার্থ সম্পর্কে একটা মতামত দিতে পারবেন না-এটা কখনো চিন্তা করা যায় না। আমরা মনে করি যে, ভারতে যে প্রধানমন্ত্রী গিয়েছিলেন এবং সেখানে তিনি যে চুক্তিগুলো করেছে, যেসব এমওইউ সেই করেছেন সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি। শুধু তাই নয় বলা যেতে পারে যে, বাংলাদেশের স্বার্থ বিঘিœতও হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, কথা বলতে গিয়ে একজন প্রাণ হারাবে এটা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি তো মনে করি যে, এজন্যই সরকারের পদত্যাগ করা উচিত ছিলো। আর ভোলার ব্যাপারটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। একেবারেই আমি বলব যে, এই ধরনের ঘটনাগুলোকে আমার কেনো যেন সন্দেহ হয়, নিশ্চিয়ই কোনো না কোনো মহল থেকে এই ধরনের ঘটনাগুলোকে উস্কানি দেয়া হচ্ছে। যারা এই ধরনের লেখা লেখেন আমাদের রসুল (সা.) সম্পর্কে, ধর্ম সম্পর্কে, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করেন এটা নিন্দনীয়, একই সঙ্গে পুলিশ যে গুলি করেছে সেটা আরো বেশি নিন্দনীয়। এজন্য যে, আমরা দেখলাম ভোলায় কোনো রকমের ভায়োলেন্স ছিলো না, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর পুলিশ আক্রমণ করেছে, গোলাগুলি করেছে। এতে প্রমাণিত হয়- ভিন্নমত প্রকাশে কোনো স্বাধীনতা নেই। যেটা আমরা বার বার বলে আসছি।

সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, এই সরকার একটার পর একটা সমস্যা তৈরি করেছে এর প্রধান কারণ হচ্ছে যে, তারা তো নির্বাচিত হয়ে আসেনি। নির্বাচিত হয়ে আসলে যে ধরনের দায়িত্বশীলতা সেই দায়িত্বশীলতা থাকতো। এখানে সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ হচ্ছে।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন ৩০ ডিসেম্বর মানুষ ভোট দিতে পারেনি- এই বিষয়টি সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মেনন ভাইকে ধন্যবাদ দেই যে, এতোদিন পরে তিনি সত্য কথা বললেন। এরপর সরকারের উচিত অবিলম্বে পদত্যাগ করা।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের পরিচালিত শুদ্ধি অভিযান কী রকম দেখছেন প্রশ্ন করা হলে ফখরুল বলেন, এই শুদ্ধি অভিযান সম্পূর্ণভাবে আইওয়াশ বলে আমি মনে করি।

বিমানবন্দরে মহাসচিবকে অভ্যর্থনা জানান বিএনপি নেতা ফরহাদ হোসেন আজাদ, যুবদল নেতা এসএম জাহাঙ্গীর, তরুন দে, শায়রুল কবির খান, মো. ইউনুস আলী প্রমুখ।

সফর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি গিয়েছিলাম সিঙ্গাপুরের আমার চিকিৎসার কিছু ফলোআপ ছিলো। ওখানে দুইদিন থাকার পরে আমি অস্ট্রেলিয়াতে গিয়েছি। সেখানে আমার বড় মেয়ে (সামারুহ মির্জা) থাকে। আমি দলের কাছ থেকে ছুটি নিয়েছিলাম যে কিছুদিন একটু ওদের সাথে কাটিয়ে আসবো। অস্ট্রেলিয়াতে আবার আমার এশিয়া প্যাসিফিক ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের একটা কনফারেন্স ছিলো। আর অস্ট্রেলিয়ার যে রুলিং পার্টি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি তারা আমাকে দাওয়াত করেছিলো তাদের ফেডারেল কনফারেন্সে। এটা শেষ করে দেশে ফিরেছি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ