fbpx
 

বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ-এর প্রেসব্রিফিং

Pub: Friday, October 25, 2019 8:29 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম। সবাইকে জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও প্রানঢালা অভিনন্দন।

আপনারা জানেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে কারাগারে ভীষণ অসুস্থ। তাঁর অসুস্থতা নিয়ে চলছে সরকারের নির্দয় আচরণ। তাঁর উন্নতমানের সুচিকিৎসার অধিকারটুকু কেড়ে নেওয়া হয়েছে। গত ১৪ দিনে কোন চিকিৎসক তাঁর নিকট যাননি। বিএসএমএমইউ এর ভিসি সাহেব গত সপ্তাহে রিমাটোলজিষ্টদের দিয়ে যে মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছেন অদ্যাবধি সেই মেডিকেল বোর্ড বেগম জিয়া কিংবা তাঁর কোন স্বজনকে চিকিৎসার কোন রিপোর্ট দেননি। প্রচন্ড ব্যথা-বেদনায় দেশনেত্রী রাত্রে মোটেই ঘুমাতে পারছেন না। আগের তুলনায় বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা খুবই শোচনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুই মাস আগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাঁতের এক্সরে করা হলেও এখন পর্যন্ত সেই রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। যেহেতু বেগম জিয়ার ব্লাড সুগারের মাত্রা অতিরিক্ত তাই তাঁর দাঁতের সমস্যার কারণে চোখসহ শরীরের অন্যান্য সমস্যা প্রকট হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশী।

এছাড়াও বারবার ইনস্যুলিন পরিবর্তন এবং ইনস্যুলিনের মাত্রা বৃদ্ধি করার পরেও কোন অবস্থাতেই তঁাঁর সুগার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কোন কোন সময় এটি ২৩-২৪ মিলিমোল পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে। সুগার নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে খাবারের পরিমান অনেক কমিয়ে দেয়াতে শরীরের ওজন অনেকখানি হ্রাস পেয়েছে। তিনি হাঁটতে পারেন না, হাত নাড়াতে পারেন না। যথাযথ চিকিৎসার বিষয়ে আমরা বারবার দাবি করা সত্বেও দেশনেত্রীকে উন্নতমানের যন্ত্রপাতি বিশিষ্ট দেশের কোন বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। দেশনেত্রীর সুস্থ জীবন প্রত্যাশা করছে দেশবাসী সবাই। কিন্তু সরকারের নির্মম আচরণে মানুষ চরম ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে। কারাগারে নেয়ার সময় সুস্থ বেগম জিয়াকে এখন হুইল চেয়ারে চলাফেরা করতে হয়। দেশবাসী দেশনেত্রীর জীবনের পরিণতি নিয়ে এখনও অজানা আতঙ্ক ও শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। সরকার দেশনেত্রীর জীবন নিয়ে গভীর মাষ্টারপ্ল্যানে ব্যস্ত। এই মাষ্টারপ্ল্যান হচ্ছে-গণতন্ত্রের ধ্বংসস্তুপের ওপর জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করে গনতন্ত্রকে ধ্বংস ও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করা। কারণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের এক জাগ্রত অর্নিবান সত্তা। তাই দেশনেত্রীকে নিয়ে বর্তমান মিডনাইট নির্বাচনের সরকার এক সর্বনাশা পথে হাঁটছে বলেই গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রোগে-শোকে-ব্যথা-বেদনায় জর্জরিত রেখে কারাগারে আটকিয়ে রেখেছে।

বন্ধুরা,
বর্তমান মিডনাইট ভোটের সরকার মানবতাবোধশুন্য এবং বেআইনি কাজে এতো অভ্যস্ত যে, তারা বেগম খালেদা জিয়ার বিপজ্জনক অসুস্থতাও ভ্রুক্ষেপ করছে না। সরকারের অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ প্রমান করে দেশনেত্রীর প্রাণনাশ করতে তারা গোপনে মহাপরিকল্পনা আঁটছে। আইন আদালত বর্তমানে শেখ হাসিনার হাতের মুঠোয় আছে বলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিনও শেখ হাসিনার হাতের মুঠোয় বিদ্যমান।

সাংবাদিক বন্ধুরা
দেশের মানুষের কাছে একটি কথা পরিষ্কার হয়ে গেছে শুধুমাত্র ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখতে এবং দেশজুড়ে লুটপাট আর দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলতেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। বিগত ১১ বছরের বেশী সময় ধরে আওয়ামী লীগ দেশ থেকে গনতন্ত্রকে নির্বাসিত করেছে, পাশাপাশি দেশের লক্ষ কোটি টাকাও নির্বাসনে পাঠিয়েছে। দেশে লুটের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে অথচ মুক্তিযুদ্ধে ত্যাগ, তিতিক্ষা, নির্ভয় আত্মোৎসর্গের ব্রত ছিল কিন্তু আওয়ামী লীগের চেতনা হিংসা, প্রতিহিংসা, জিঘাংসা ও ভোগবাদের মিলিত রুপ।

বন্ধুরা,
গত কিছুদিন ধরে তার কিছু নমুনা দেখছেন। রহস্যে ঘেরা দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে ছিচকে দুর্নীতিবাজদের শত শত কোটি টাকা, অবৈধ অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেফতার করছে। কিন্তু তাদের নেতা ও আসল হোতাদের ধরা হচ্ছে না। আসলে এ অভিযানের মুখোশে তাদের তৈরি কোন বিষবৃক্ষকে আড়াল করা হচ্ছে কি না এ প্রশ্ন আজ জনগণের মুখে। আওয়ামী লীগের পুরোনো দস্তাবেজ ঘাটলেও দেখা যাবে দুর্নীতি ও গণতন্ত্রহীনতা সমানভাবে অস্তিত্বমান ছিল।

বন্ধুরা,
বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত সহকারী মন্ত্রী অ্যালিস জি. ওয়েলস বলেন, একাধিক সমমনা অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচন অবাধ কিংবা সুষ্ঠু হয়নি। ওইসব নির্বাচনের আগে সিভিল সোসাইটি, স্বাধীন গণমাধ্যম এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতি পুলিশি নিপীড়ন এবং ভয় ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং দেশটির গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার বিষয়ে উদ্বিগ্ন তারা।
বন্ধুরা, উক্ত রিপোর্টে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সিভিল সোসাইটি সংগঠনগুলোকে কাজ করতে না দেয়া, অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোকে অবাধে তাদের মতামত প্রকাশ করতে না দেয়া এবং গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় রাজনৈতিকবিরোধী দলকে তার আইনসঙ্গত ভূমিকা রাখতে না দেয়ায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রিপোর্টে আরও বলা হয়, সংকুচিত হয়ে পড়া পরিবেশ এবং নিষেধাজ্ঞামূলক খসড়া নিয়ম-কানুনের কারণে সিভিল সোসাইটি হুমকিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের কারণে সাংবাদিকরা সেলফ সেন্সরশিপ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা
শুধু বিদেশী শাসনের অবসানে শুধু মানুষের স্বাধীনতা আসেনা। প্রকৃত স্বাধীনতা আসে নির্ভয়ে চলাচলে ও মতপ্রকাশ ও দেশের স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসীদের নিয়ে সংগঠন গড়ে তোলা। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে ঠান্ডা মাথায় গুম থেকে শুরু করে খুনের সওদাগর হয়ে উঠেছে। তারা চুড়ান্তভাবে গনতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন করতেই নির্দোষ বেগম জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখেছে। আমরা এ মুহুর্তে তাঁর উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা ও নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

সকলকে ধন্যবাদ


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ