fbpx
 

আ.লীগের নেতৃত্বের ব্যর্থতায় জাতীয় ৪ নেতা হত্যা: প্রযুক্তিমন্ত্রী

Pub: Sunday, November 3, 2019 10:39 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতার কারণেই জাতীয় চার নেতাকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠন করতে পারলে দেশ সাংবিধানিক ধারায় পরিচালিত হতো, অবৈধভাবে সামরিক শাসন জারি করে কেউ ক্ষমতায় আসতে পারতো না।’

রবিবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের (আব্দুস সালাম হল) ‘জেল হত্যা দিবস’ স্মরণে বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে জাতীয় চার নেতা মুক্তিযুদ্ধের সফল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের শক্ররা ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দেশমাত্রিকার সেরা সন্তান জাতীয় চার নেতাকে শুধু গুলি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, কাপুরুষের মতো গুলিবিদ্ধ দেহকে বেয়নেট নিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে ৭১’র পরাজয়ের জ্বালা মিটিয়েছিল। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, স্তম্ভিত হয়েছিল সমগ্র বিশ্ব। কারাগারে নিরাপদে আশ্রয়ে থাকাবস্থায় বর্বরোচিত এ ধরনের হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতার কারণেই এই জাতীয় ৪ নেতাকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠন করতে পারলে দেশ সাংবিধানিক ধারায় পরিচালিত হতো এবং অবৈধভাবে সামরিক শাসন জারি করে জেনারেল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে পারতেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের যে স্বপ্ন ছিল অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক এবং শোষণ বৈষম্যহীন একটি আদর্শ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়ন করবো। সেই প্রতিজ্ঞায় হোক আজকের জেল হত্যা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।’

মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ড ছিল একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খোন্দকার মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে ষড়যন্ত্রকারীরা জাতীয় চার নেতাকে তাদের সরকারে যোগদানের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর জাতীয় চার নেতা ঘৃনাভরে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। এ কারণে তাদের জীবন দিতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘আসলে হত্যাকারীদের ও তার দোসরদের উদ্দেশ্য ছিল পাকিন্তান ভাঙ্গার প্রতিশোধ নেয়া, রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ ও সীমাহীন ত্যাগের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনকারী দেশটিকে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের আবত্তে নিক্ষেপ করা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিকতার পথ থেকে সদ্য স্বাধীন দেশটিকে বিচ্যুত করা এবং বাংলাদেশকে মিনি পাকিস্তান সৃষ্টি করা।’

ইতিহাসবিদ সিরাজ উদ্দিন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জেল হত্যার বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা জরুরি। তাহলে সেদিনের ঘটনার প্রকৃত চিত্র জাতি জানতে পারবে এবং প্রকৃত অপরাধি চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।’

বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. এস এ মালেকের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় নেতা মতিউর রহমান লাল্টুর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বুয়েটের সাবেক  প্রোভিসি অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. প্রিয়ব্রত পাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য ড. হাকিম আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মফিজুর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকুল আরেফিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গনিত বিভাগের অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেরি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফিরোজ আহমেদ প্রমুখ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ