fbpx
 

তরিকুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে যশোরে বিএনপির স্মরণসভা কাল

Pub: Sunday, November 3, 2019 9:54 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক স্মরণসভার আয়োজন করেছে যশোর জেলা বিএনপি। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

শামসুদ্দিন দিদার জানান, আগামীকাল সোমবার দুপুর ২টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মরহুম তরিকুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে যশোর জেলা বিএনপি এক স্মরণসভার আয়োজন করেছে।

স্মরণসভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর ঢাকায় অ্যাপলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তরিকুল ইসলাম বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে সুপরিচিত একজন ত্যাগী রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি একাধারে রাজনৈতিক নেতা- উন্নয়নকর্মী, গণতন্ত্রের বলিষ্ঠ প্রবক্তা এবং কর্মী বান্ধব জননেতা ছিলেন।

তরিকুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকেও কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে আছে যশোরে মরহুমের কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, কোরআন খতম এবং আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তরিকুল ইসলাম স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও বরেণ্য বুদ্ধিজীবীগণ বক্তব্য রাখবেন।

তরিকুল ইসলাম ১৯৪৬ সালের ১৬ নভেম্বর যশোর শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আলহাজ্জ্ব আব্দুল আজিজ ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। মাতা মোসাম্মৎ নূরজাহান বেগম ছিলেন একজন গৃহিণী।

১৯৬১ সালে তিনি যশোর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্টিকুলেশন, ১৯৬৩ সালে যশোর মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয় থেকে আইএ পাস করেন। এরপর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিএ (অনার্স) এবং ১৯৬৯ সালে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।

তরিকুল ইসলাম ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসাবে যশোর এমএম কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৩ সালে সর্বক্ষেত্রে রাষ্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুগ্ম-আহবায়ক ছিলেন।

এম এম কলেজে শহীদ মিনার তৈরির উদ্যোগ নেয়ায় তাকে প্রথম কারা ভোগ করতে হয়েছিল। ১৯৬৬ সালে যশোরের এম এন এ-এর মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগে তরিকুল ইসলাম ৯ মাস কারাবরণ করেন। ১৯৬৯ সালে গণতান্ত্রিক ছাত্র গণ-আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়েও কয়েক দিনের জন্য তাকে হাজতবাস করতে হয়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্র গণ-আন্দোলনে তার পুরো ছাত্রজীবন অতিবাহিত হয়েছিল।

মরহুম তরিকুল ইসলাম ১৯৭০ সালে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপ) যোগদান করেন। ১৯৭১-এ ভারতে অবস্থান করে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন। স্বাধীন হওয়ার পর দেশে ফিরে তিনি ন্যাপের রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

১৯৭৩ সালে যশোর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৭৮ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের দুঃশাসন, একনায়কসুলভ আচরণ ও রক্ষীবাহিনীর নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় তিনি ১৯৭৫ সালে তিন মাস কারাভোগ করেন।

১৯৭৯ সালে ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান যাদু মিয়ার নেতৃত্বে ন্যাপ বিলুপ্ত করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগদান করেন। ১৯৭৫ সালে শাসকদল আওয়ামী লীগ এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল সৃষ্টির ফলে যে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা পূরণের লক্ষ্যে শহীদ জিয়া বিএনপি প্রতিষ্ঠা করে ছিলেন। বিএনপির আদর্শ এবং শহীদ জিয়ার উৎপাদনের রাজনীতিতে আকৃষ্ট হয়ে তরিকুল বিএনপিতে যোগদান করেন।

এর পরপরই দলের যশোর জেলা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব প্রদান করেন। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে যশোর-৩ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। এর মাধ্যমে সংসদীয় রাজনীতিতে তার অভিষেক ঘটে।

১৯৮০ সালে জেলা বিএনপির প্রথম সম্মেলনে তিনি সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। ১৯৮২ সালে বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় তরিকুল ইসলাম সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮২ সালেই তাকে গ্রেফতার এবং এরশাদ হত্যার চেষ্টার কথিত মামলায় আসামি করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে অনেক দিন অজ্ঞাত স্থানে রেখে নির্মমভাবে নির্যাতন করা ছাড়াও দীর্ঘ ৯ মাস কারাবন্দী রাখা হয়। মুক্তিলাভের পর তিনি বিএনপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত আন্দোলনে বৃহত্তর যশোর জেলা এবং কেন্দ্রে সাহসী ভূমিকা রাখেন। এর স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৬ সালে বিএনপির পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে বেগম জিয়া তাকে দলের যুগ্ম মহাসচিবের পদে অধিষ্ঠিত করেন।

তরিকুল ইসলামকে ১৯৯১ সালে সমাজকল্যাণ ও মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯২ সালে তাকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়। খালেদা জিয়া সরকারের মেয়াদকালের পূর্ণ সময় তিনি দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সময়কালে তিনি বিরোধী দলের একজন নেতা হিসেবে সরকারের গণবিরোধী কার্যকলাপের প্রতিবাদ করেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে সাহসী ভূমিকা রাখেন। জাতীয় স্বার্থবিরোধী গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিরোধিতা করে যশোর এবং কেন্দ্রে আন্দোলনে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার পার্বত্য চুক্তিবিরোধী ঐতিহাসিক লংমার্চে তিনি বীরোচিত ভূমিকা পালন করে ছিলেন।

২০০১ সালের নির্বাচনে তরিকুল ইসলাম যশোর-৩ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দেশনেত্রী বেগম জিয়া দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সে সরকারে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সময়কালে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। এ সময়কালে মরহুম তরিকুল ইসলাম বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদে উন্নীত হন। ২০০১-২০০৬ সময়কালে সরকারে এবং দলে দায়িত্বে থাকাকালে নিষ্ঠা ও দক্ষতার পরিচয় দেন।

২০০৯ সালের দলের জাতীয় কাউন্সিলে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নীতিনির্ধারণী ‘জাতীয় স্থায়ী কমিটির’ সদস্য নির্বাচিত হন এবং আমৃত্যু তিনি এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ