fbpx
 

ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে দুই জোট: জামায়াত-এলডিপিতে চিন্তা ২০ দলের

Pub: Saturday, November 9, 2019 2:16 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নির্বাচনে অংশ নেয়া এবং প্রার্থী চূড়ান্তের সিদ্ধান্ত তফসিল ঘোষণার পর

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেয়ার চিন্তাভাবনা করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। তবে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বেশ বেগ পেতে হবে বিএনপিকে।

জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি এবার বাগড়া দিতে পারে। বিশেষ করে জামায়াত দক্ষিণে ছাড় দিলেও উত্তরে তাদের প্রার্থী দেয়ার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এলডিপিও উত্তরে তাদের প্রার্থী দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আলোচনার ভিত্তিতে শেষ মুহূর্তে জোটের পক্ষ থেকে মেয়র পদে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারলেও বেশ কয়েকটি কাউন্সিলর পদ জামায়াতকে ছাড় দিতে হতে পারে। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনে অংশ নেয়া এবং প্রার্থী চূড়ান্তে বৈঠকে বসবে ২০ দলীয় জোট। ওই বৈঠকেই সবকিছু চূড়ান্ত হবে বলে জানান জোটের নেতারা।

২০১৫ সালের নির্বাচনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট শুরুর চার ঘণ্টার মাথায় তা বর্জনের ঘোষণা দেয় দলটি। ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে উপনির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞায় তা স্থগিত হয়ে যায়। এ বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। ভোটের প্রতি জনগণের আস্থা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের থাকলেও তা পালনে পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন তারা। তারপরও গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আমরা নির্বাচনে বিশ্বাসী।

তিনি বলেন, নির্বাচনে যাওয়া বা প্রার্থীর ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তফসিল ঘোষণার পর দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত হলে জোটগতভাবেই প্রার্থী দেয়া হতে পারে বলে জানান ২০ দলের এই শীর্ষ নেতা। তবে আলাপ-আলোচনা করেই সবকিছু চূড়ান্ত করা হবে।

সূত্র জানায়, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত করে রেখেছে। উত্তরে আগের প্রার্থী দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালকেই মনোনয়ন দেবে দলটি। তবে দক্ষিণে এবার প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। গত নির্বাচনে এ সিটিতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে সমর্থন দেয় দলটি। এবার আব্বাসের নির্বাচন করার সম্ভাবনা নেই।

সেক্ষেত্রে তার স্ত্রী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দলের যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলও মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী। তবে দক্ষিণে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন ঢাকার সাবেক মেয়র সদ্য প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। দলের হাইকমান্ড থেকে তাকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণে জোটের একক প্রার্থী নিয়ে ততটা বেগ পেতে হবে না। বিএনপি ছাড়া জোটের অন্যান্য দলের শক্ত কোনো প্রার্থী মাঠে নেই। তবে উত্তরে জোটের একক প্রার্থী চূড়ান্তে বেশ বেগ পেতে হবে বিএনপিকে। এখানে জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছে। আদালতে স্থগিত হওয়ার আগে উত্তরের উপনির্বাচনে এ সিটিতে দলীয়ভাবে প্রার্থী ঘোষণা করে জামায়াত।

জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সেলিম উদ্দিন গণসংযোগের পাশাপাশি মনোনয়নপত্র কিনে ছিলেন। ওই সময় ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। জোটের কয়েকটি শরিক জামায়াতের প্রার্থী দেয়ায় প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত জোটগতভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

সূত্র জানায়, এবারও সেলিম উত্তরে মেয়র পদে প্রার্থী হবেন বলে আলোচনা রয়েছে। তাই জামায়াতকে আনতে বেশ বেগ পেতে হতে পারে বিএনপিকে। আলাপ-আলোচনার পর শেষ মুহূর্তে জামায়াত প্রার্থী প্রত্যাহার করলেও বেশ কয়েকটি কাউন্সিলর পদে ছাড় দিতে হবে। কাউন্সিলর পদে ছাড় না দিলে বিএনপির প্রার্থীকে ছাড় দেবে না জামায়াত। তবে বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, এবারের নির্বাচনে জামায়াত বাড়াবাড়ি করলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। নির্বাচন ইস্যুতে জামায়াতকে আপাতত ছাড় দেয়া হবে না।

জামায়াত ছাড়াও উত্তরে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি প্রাথমিক প্রস্তুতিও শুরু করেছেন। এ প্রসঙ্গে সেলিম যুগান্তরকে বলেন, উত্তরে মেয়র পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করি জোট থেকে তাকে সমর্থন দেয়া হবে। এলডিপির রাজনীতি করলেও বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার (সেলিম) ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। কারণ বিএনপি দিয়েই আমাদের রাজনীতির হাতেখড়ি।

সূত্র জানায়, জোটের একক প্রার্থী চূড়ান্তে বাগড়া দিতে পারেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। বর্তমানে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার কিছুটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় মুক্তি মঞ্চ গঠনকে কেন্দ্র করে এ দূরত্ব হয়। মুক্তি মঞ্চের পেছনে জামায়াত বড় ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে অলির বর্তমানে সম্পর্ক বেশ ভালো। অলির প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানেই জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাই বিএনপির প্রার্থীকে সহজেই সমর্থন দেবে বলে মনে করছেন না অনেকে।

জানতে চাইলে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, জানুয়ারিতে নির্বাচন হলে তা এখনও অনেক দূরে। নির্বাচন কখন, কিভাবে হবে আগে দেখি। আমরা সরকারের কর্মকাণ্ড গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। তারপর সবার সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেব।

২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হলে আমরা জোটের বৈঠক বসে নির্বাচনে যাওয়া বা প্রার্থী চূড়ান্তের সিদ্ধান্ত নেব। তবে তার আগে নির্বাচন কতটা অবাধ ও সুষ্ঠু হবে সেই বিষয়টিও আমাদের ভাবতে হবে। তবে যাকেই প্রার্থী করা হবে সে যেন সাধারণ ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় সেদিকে গুরুত্ব দেয়া হবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ