fbpx
 

খালেদা জিয়া হাঁটতে-বসতে পারেন না, কিছু খেলেই বমি করেন: জয়নুল আবেদীন

Pub: রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০ ৯:১২ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাঁটতে পারেন না, বসতেও পারেন না বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। 

রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুলের হকের হাইকোর্ট বেঞ্চে জিয়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা শুনানিতে এ কথা বলেছেন তিনি।

শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালতের কাছে এর আগেও আমরা একবার খালেদা জিয়ার জামিন চেয়েছিলাম। আমরা তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়েও আরও অবনতি হয়েছে এবং দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। তাঁর (খালেদা জিয়া) নিজের ছোট বোন সেলিমা বলেছেন, ‘মানবিক কারণে তাঁর (খালেদা জিয়া) মুক্তি চাই।’ সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হয়েছে নতুন গ্রাউন্ড নিয়ে হাইকোর্ট জামিন আবেদন করা হবে। নতুন গ্রাউন্ড হলো- আমরা বলেছি, বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা খুবই খারাপ, তিনি হাঁটতে পারেন না, বসতে পারেন না, খেতেও পারেন না। তিনি কিছু খেলেই বমি হয়। আমরা পিটিশনে বলেছি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ নেয়া দরকার। আমরা বিশেষ করে লন্ডনের কথা বলেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আদালত আমাদের এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কথা শুনে আদেশ দিয়েছেন। সে আদেশে বলা হয়েছে- দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ যে আদেশ দিয়েছেন সেই মোতাবেক তার (খালেদা জিয়া) চিকিৎসা হচ্ছে কিনা এবং চিকিৎসার জন্য তিনি সম্মত আছেন কি-না; সম্মত থাকলে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা কী? এটা জানার জন্য আগামী বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার মধ্যে এই প্রতিবেদনটি আদালতে জমা দিতে হবে এবং বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এ প্রতিবেদনের ওপর শুনানি হবে। পরে আদালত আদেশ দেবেন।’

হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার শারিরিক অবস্থা সম্পর্কে জানাতে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ে এ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পরবর্তী আদেশ দেবেন আদালত।

এর আগে গত মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জামিন আবেদন করলে বুধবার এ শুনানি জন্য আসলে আদালত রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর এ মামলায় তার জামিন আবেদন পর্যবেক্ষণসহ খারিজ করে দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ।  

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর সাত বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। বর্তমানে তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পর খালেদা জিয়া আপিল করলে তা হাইকোর্টে বেড়ে ১০ বছর হয়। ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে খালেদা জিয়া জামিন আবেদন করেন। তবে সেই আবেদন এখনও আদালতে উপস্থাপন করেননি তার আইনজীবীরা।

২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান (বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি) জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সাজা হয়েছে মামলার অপর তিন আসামিরও।

দণ্ডপ্রাপ্ত অপর তিন আসামি হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

এরপর ওই বছরের ১৮ নভেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এর বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। পরে গত বছরের ৩০ এপ্রিল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাত বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অর্থদণ্ড স্থগিত ও সম্পত্তি জব্দ করার ওপর স্থিতাবস্থা দিয়ে দুই মাসের মধ্যে ওই মামলার নথি তলব করেছিলেন।

এরপর গত ২০ জুন বিচারিক আদালত থেকে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে ৩১ জুলাই বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন আবেদন খারিজ করেন।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে জামিন চান খালেদা জিয়া। এ আবেদনের শুনানির পর ১২ ডিসেম্বর সেটি খারিজ হয়ে যায়।

২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা করা হয়। ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে মামলাটি করে দুদক।

তদন্ত শেষে ২০১২ সালে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শেষ হলে দুদকের পক্ষে এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণা করা হয়। 

Hits: 171


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ