ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচন: প্রচারে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি

Pub: Monday, January 20, 2020 1:47 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিরাপদ ঢাকা গড়ার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের
প্রচারাভিযানে জনভোগান্তি রোধে সতর্ক থাকার আহ্বান

উন্নত ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা গণসংযোগ চালাচ্ছেন। ১০ম দিনের প্রচারাভিযানে রোববার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় তারা জনসভা ও জনসংযোগ করেছেন। প্রচারের সময় যেন জনভোগান্তি না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে নেতাকর্মীদের প্রতি তারা আহ্বান জানান। ডিএনসিসিতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে নিরাপদ, পরিষ্কার ও আলোকিত ঢাকা গড়ে তোলা হবে। ডিএসসিসিতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, মেট্রোপলিটন নগরীর সব সুযোগ-সুবিধা ঢাকাবাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হবে। নিরাপদ ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন। হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক নিয়ে তারা প্রচারাভিযান চালান।

রাজধানীর কল্যাণপুরের খাজা মার্কেটের সামনে থেকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন আতিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে ঢাকাকে নারীবান্ধব করা হবে। এজন্য সিসিটিভি ক্যামেরা ও ৪২ হাজার বাতি লাগানোর পরিকল্পনা আছে। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে ক্যামেরা ও বাতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আতিকুল ইসলাম আরও বলেন, আমরা ঘরে ঘরে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। দায়িত্ব নেয়ার পর নয় মাসে ডিজিটাল সিটি কর্পোরেশন গড়ার জন্য বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। এরই মধ্যে আমরা একটি কমান্ড সেন্টার চালু করেছি। কোথায় ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়নি তা জেনে কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিরাপদ, পরিষ্কার ও আলোকিত ঢাকা গড়তে ইতিমধ্যে আমরা কমান্ড সেন্টারের কাজ শুরু করেছি। এক বছরের মধ্যে সব চলে আসবে কমান্ড সেন্টারের অধীনে।

১০ম দিনের প্রচারে কল্যাণপুর, পাইকপাড়া, দক্ষিণ পাইকপাড়া, মধ্য পাইকপাড়া, গাবতলী, গোলারটেক, মাজার রোড, দারুস সালাম, লালকুঠিসহ ঢাকা-১৪ আসনের আওতাধীন ৯, ১০ ও ১১নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও পথসভা করেন আতিকুল ইসলাম। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এসএ মান্নান, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খানসহ নেতাকর্মীরা।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আতিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনী প্রচার চালাতে গিয়ে কোনোভাবেই জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না। যানজট যেন সৃষ্টি না হয় সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। মানুষের দুর্ভোগ হয় এমন কোনো কাজ নেতাকর্মীরা করবেন না। নির্বাচিত হলে জনগণের সেবক হয়ে কাজ করতে চাই। এ সময় এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা আপনাদের পাশে থাকব, নৌকার কোনো ব্যাক গিয়ার নেই। নৌকা হচ্ছে উন্নয়নের গিয়ার। নৌকা দিয়েছে লাল-সবুজের পতাকা। নৌকা দিয়েছে স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ। নৌকা দেবে উন্নয়ন। নৌকা দেবে শান্তি-শৃঙ্খলা। নৌকা দেবে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। দুর্নীতিমুক্ত সিটি কর্পোরেশন গড়ার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, সরাসরি কেউ যদি ট্যাক্স দিতে যায়, তাহলে অসাধু কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে নেগোসিয়েশন হয়। এ ফ্ল্যাটের ট্যাক্স এত, ওই ফ্ল্যাটের ট্যাক্স এত টাকা। এগুলো চলবে না। চলতে দেয়া হবে না। অনলাইনের মাধ্যমে সবাই বাড়ির ট্যাক্স দেবেন। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে আর যেতে হবে না। এ ধরনের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে এ বন্দোবস্ত করা হবে।

নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে আতিকুল বলেন, নির্বাচন কমিশন দেরিতে হলেও সরস্বতী পূজা আমলে নিয়ে নির্বাচন পিছিয়েছে। বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ, এটাই তার প্রমাণ। ১১তম দিনে খিলক্ষেত রেলগেট থেকে প্রচার শুরু করবেন আতিকুল ইসলাম। এরপর লেকসিটি, কনকর্ড, কুড়িল, যমুনা ফিউচার পার্ক, ডুমনি, তলনা, পাতিরা ও আশকোনা এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভার মধ্য দিয়ে নৌকায় ভোট চাইবেন তিনি।

মতিঝিলে নটর ডেম স্কুলের পাশে রোববার জনসংযোগ শুরু করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি বলেন, নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন হয়েছে। এজন্য হয়তো নগরবাসীর কাছে যেতে আমরা আরও একটু বেশি সুযোগ পাব। শিক্ষার্থী ভাইবোনদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছি। কারণ এসএসসি পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীর জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যে গণসংযোগ করছি সে কারণে তাদের মনসংযোগে ব্যাঘাত ঘটছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের তারিখ না পিছিয়ে বরং এগিয়ে আনলে সবার জন্য ভালো হতো। শিক্ষার্থীদের অসুবিধা হতো না। এক প্রশ্নের জবাবে তাপস বলেন, সিটি নির্বাচন নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই। প্রতিটি এলাকায় তাদের (বিএনপি) যথেষ্ট পোস্টার রয়েছে। তারা সুন্দর লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে গণসংযোগ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন যদি কেউ গণসংযোগ না করে ঘরে বসে থাকে তাহলে তো সেটার বিষয়ে আমাদের বলার কিছু নেই। আমরা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। ঢাকাবাসীর ঘরে ঘরে যাচ্ছি। স্বতঃস্ফূর্ত সাড়াও পাচ্ছি। আশা করি ১ ফেব্রুয়ারি সুষ্ঠু, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, ঢাকাবাসীর জীবনযাত্রা উন্নয়নের লক্ষ্যে যে পরিকল্পনা দিয়েছি তা জনগণ সাদরে গ্রহণ করেছে। আমরা আশাবাদী ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণে নৌকা বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।

প্রচারের সময় রাস্তায় যেন যানজট না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে সুশৃঙ্খলভাবে গণসংযোগ করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, যত বেশি মানুষের দোরগোড়ায় যেতে পারব, বার্তা পৌঁছাতে পারব ততই আমাদের ব্যবধান বৃদ্ধি পাবে। আমরা বিশাল ব্যবধানের ম্যান্ডেট নিয়ে ঢাকাবাসীর জন্য উন্নত ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে চাই। ঢাকাবাসী যাতে আর অবহেলিত ও বঞ্চিত না হয় সেদিকে নজর দেয়া হবে। একটি মেট্রোপলিটন নগরীর সব সুযোগ-সুবিধা ঢাকাবাসী যাতে পায় সেই লক্ষ্যে আমাদের নবযাত্রা শুরু হয়েছে।

তাপস আরও বলেন, আপনারা আমাকে ১ ফেব্রুয়ারি ভোট দিন, আগামী পাঁচ বছর আমি আপনাদের সেবা দেব। নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করব। এ সময় ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল প্রার্থী মোজাম্মেল হক এবং মহিলা কাউন্সিলর মিলু রহমানকে তিনি পরিচয় করিয়ে দেন। পরে মতিঝিল, গুলিস্তান, শান্তিনগর এলাকায় তাপস গণসংযোগ করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদে কামরান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোর্শেদ কামাল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক তারেক সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।

১০ম দিনের মতো নির্বাচনী প্রচার চালাতে গিয়ে রাজধানীর আরামবাগে ৯২ নম্বর বাড়িতে গিয়ে তাপস আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। এ বাড়িতে শিশুকালে থেকেছেন তিনি। প্রচার চালানোর এক পর্যায়ে ওই বাড়ির সামনে গিয়ে কিছু সময়ের জন্য দাঁড়ান তিনি। কিছুক্ষণের জন্য যেন ফিরে যান তার সেই শৈশবে, খুঁজে ফিরেন সেই দিনগুলোর স্মৃতি। বাড়ির লোকজনকে তিনি জড়িয়ে ধরেন, কথা বলেন। কেমন আছেন সেই খোঁজখবরও নেন। এ সময় বাড়ির মুরব্বিরাও তাকে কাছে পেয়ে আবেগে জড়িয়ে ধরেন। মাথায় হাত দিয়ে তারা দোয়া করেন, দীর্ঘায়ু কামনা করেন। এ এলাকার অলিগলিতে গিয়ে নৌকা মার্কায় তিনি ভোট চান।

এ বিষয়ে শেখ ফজলে নূর তাপসের মিডিয়া সমন্বয়ক তারেক শিকদার গণমাধ্যমকে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর পরিবারের সঙ্গে এ বাড়িতে শৈশবের দিনগুলো কেটেছে তাপসের। বসবাসের জন্য ধানমণ্ডিতে যাওয়ার আগে তারা এ বাড়িতে থাকতেন।

দুর্নীতিমুক্ত নগরভবন গড়ার অঙ্গীকার বিএনপি প্রার্থীদের

নির্বাচন প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্র চলছে

দুর্নীতিমুক্ত নগরভবন গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে (ডিএসসিসি) বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা রোববার প্রচারাভিযান চালিয়েছেন। সব সংস্থাকে সমন্বয় করে নগরবাসীর সেবায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা বলেন, সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে গণতন্ত্র রক্ষায় ভোটের লড়াইয়ে জয়ের বিকল্প নেই। নেতাকর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশে তারা বলেন, সিটি নির্বাচনকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্র চলছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। রোববার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগকালে ডিএনসিসিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল এবং ডিএসসিসিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন এসব কথা বলেন।

তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন আরও বলেন, এ নির্বাচন হচ্ছে ঢাকাকে ধ্বংসের কবল থেকে রক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার নির্বাচন। এ নির্বাচন হচ্ছে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির একটি সুযোগ। ঢাকাবাসীর উদ্দেশে তারা বলেন, আপনারা কোনোভাবেই এ সুযোগকে হাতছাড়া করবেন না। নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং ভোট দেবেন। গণসংযোগ শুরুর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে তার মাজারে শ্রদ্ধা জানান। গণসংযোগের ১০ম দিনে মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে থেকে গণসংযোগ শুরু করেন উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। এ সময় তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণা থেকেই নির্বাচন কমিশন বিতর্ক সৃষ্টি করছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশন কী কী পদক্ষেপ নেয়- আমরা সেদিকে তাকিয়ে আছি। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আগামী নির্বাচনে জয়ের বিকল্প নেই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ লড়াইয়ে আমাদের জিততে হবে। নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তাবিথ বলেন, তারা তফসিল ঘোষণা থেকেই বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। পূজার দিনে ভোটের তারিখ দিয়ে একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। দেরিতে হলেও তাদের বোধোদয় হয়েছে। তিনি বলেন, সিটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার যোগ্যতা ইসির নেই। তারা যে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না এ প্রমাণ দিচ্ছেন। ভোটের তারিখ পেছানোই এর বড় প্রমাণ। নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার জন্য দায়িত্বশীল সবাইকে সজাগ থাকতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক কিছু করে দেখাতে হবে। এজন্য আমরা আগামী দিনগুলোতে দেখতে চাই, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে কী কী পদক্ষেপ নেয়।

তাবিথ আউয়াল আরও বলেন, ভোটারদের অধিকার রক্ষা করায় আমরা আন্দোলন করছি এবং এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করবে। সামনে আরও নাটক আমরা দেখতে পাব। নির্বাচন যে তারিখেই হোক আমরা প্রস্তুত। সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে আমরা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেব- ভোটের অধিকার বেশিদিনের জন্য কেউ ছিনতাই করতে পারে না। মিরপুর বিআরটিএ থেকে শুরু করে ভাষানটেক, মাটিকাটা চেকপোস্ট, মানিকদী বাজার এলাকা, বালুঘাটসহ ৯, ১০ ও ২০নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদিন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায়, আকরামুল হাসান, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টনসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাবিথের পক্ষে গণসংযোগ করেন দলটির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। রোববার উত্তরের ১৬নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালান তিনি। এ সময় এ ওয়ার্ডের দল সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী রাব্বির পক্ষেও তিনি ভোট চান। আজ সোমবার ৭নং ওয়ার্ড থেকে গণসংযোগ শুরু করবেন তাবিথ আউয়াল। ৬, ৩, ৬ ও ২নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে প্রচার চালাবেন তিনি।

রাজধানীর আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ধানের শীষের প্রচার শুরু করেন ডিএসসিসিতে মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন। গণসংযোগ শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, মেয়র নির্বাচিত হলে ঢাকাকে নিরাপদ বাসযোগ্য ও সিটি কর্পোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ৫২টি প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করব। এজন্য শুধু সরকারের সদিচ্ছা প্রয়োজন। আধুনিক ঢাকা গড়া ও নাগরিক সেবা নিশ্চিতে নগর সরকারের বিকল্প নেই জানিয়ে তিনি বলেন, যে সরকারই থাক আমি এ দাবি জানিয়ে যাব। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন হচ্ছে ঢাকাকে ধ্বংসের কবল থেকে রক্ষা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির একটি সুযোগ। আপনারা কোনোভাবেই সেই সুযোগকে হাতছাড়া করবেন না। নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং ভোট দেবেন। তিনি বলেন, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বর্তমানে ঢাকা পৃথিবীর সবচেয়ে অবাসযোগ্য শহরে পরিণত হয়েছে। এ সরকার দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থেকেও এ শহরের পরিবর্তন আনতে পারেনি। তাই একটি পরিবর্তন দরকার। আগামী নির্বাচনে আপনাদের ভোটের মাধ্যমে সেই পরিবর্তন সম্ভব।

সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ইশরাক আবেগ-আপ্লুত কণ্ঠে ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আজকে আমার বাবা নেই। আপনারাই আমার অভিভাবক। আপনাদের দোয়ায় আমি কোনো কিছুতে ভয় করব না। নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত আপনারা মাঠে থাকবেন। আপনাদের পাশে আমি আছি ও থাকব। গণসংযোগকালে তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা মীর শরাফত আলী সফু, এসএম জিলানী, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, রফিক শিকদার, শরিফ হোসেন, ওলামা দলের নেতা মাওলানা রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ছাপরা মসজিদ, আজিমপুর কবরস্থান, জগন্নাথ সাহা রোড ও লালবাগের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন ইশরাক। রাস্তার পাশে থাকা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তিনি কুশল বিনিময় করেন এবং ধানের শীষে ভোট চান। তার সঙ্গে থাকা বিএনপির নেতাকর্মী-সমর্থকরা ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’, ‘খালেদা জিয়ার সালাম নিন, ধানের শীষে ভোট দিন’, ‘হবে হবে হবে জয়, ধানের শীষের হবে জয়’সহ নানা ম্লোগান দেন। গণসংযোগ চলাকালে এলাকার অনেক ভোটার ইশরাককে বুকে জড়িয়ে ধরেন। অনেক বহুতল ভবনের ওপর থেকে সাধারণ ভোটাররা ইশরাককে হাত নাড়িয়ে অভিনন্দন জানান। অনেকে ফুল ছিটিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। তিনি হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

সাংবাদিকদের কাছে ইশরাক অভিযোগ করেন, তার ও কাউন্সিলরদের পোস্টার লাগাতে বাধা দেয়া হচ্ছে। অনেক স্থানে তাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ও পুলিশকে অবহিত করেও প্রতিকার মিলছে না। তিনি বলেন, পোস্টার ছেঁড়া ছোটলোকি কাজ। পোস্টার ছেঁড়ার মাধ্যমে জনগণের মন থেকে আমাদের মুছে ফেলতে পারবে না। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। এ নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের যা যা করণীয় তাই করব। জনগণ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে আছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ন্যূনতম সুষ্ঠু ভোট দিতে সক্ষম হলে আমাদের বিজয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।

সন্ধ্যায় সুবজবাগ বৌদ্ধ মন্দিরে যান ইশরাক হোসেন। সেখানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করেন। আজ সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে থেকে গণসংযোগ শুরু করবেন ইশরাক।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
নিউজটি পড়া হয়েছে 1002 বার

Print

শীর্ষ খবর/আ আ