আব্দুল আজিজ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ‘ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার’ এই নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা হবে। বিএনপি বিশ্বাস করে, ‘দল-মত-ধর্ম যার যার নিরাপত্তার পাবার অধিকার সবার’। তিনি বলেন, যে রাষ্ট্র ও সমাজে নারী-শিশু এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিরাপদ নয় নিরাপদ বোধ করেনা সেটি কোনো সভ্য রাষ্ট্র হতে পারেনা।
বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারী ২০২৩) রাজধানী ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে শুভ বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে খ্রিস্টমাস পরবর্তী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে লন্ডন ভার্চুয়াললি যুক্ত হয়ে থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আরো বলেন, দলমত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা, দেশের জনগণের স্বাধীনতা আজ বিপন্ন। তিনি ৭১ এর মতো আবারো দলমত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশ এবং জনগণের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সবাইকে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহবান জানান।

সভায় বাইবেল পাঠের পর প্রধান অতিথির উপস্থিতিতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিয়ে বড়দিনের কেক কাটেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যালবার্ট পি কস্টা। শোভা পরিচালনা করেন এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খোন্দকার মোশাররাফ হোসেন। সভায় তারেক রহমান বলেন, বিএনপি কখনোই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায়না। ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়না। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানাতে চায়না।
তারেক রহমানন বলেন, খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন,পাপাচার-অনাচার-অবিচারের পথ থেকে সরিয়ে, মানব জাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতেই যিশু খ্রীষ্টের আগমন। এই বিশ্বাসের সঙ্গে কারো দ্বিমত নেই। তিনি বলেন, প্রতিটি ধর্মের মূল প্রতিপাদ্যই হচ্ছে স্রষ্টার প্রতি সৃষ্টির নিঃশর্ত আত্মসমপর্ণ। প্রতিটি ধর্মের, প্রতিটি কর্মের, মূল লক্ষ্যই হচ্ছে, পৃথিবীতে সত্য, ন্যায় এবং মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। সুতরাং, শুধু রাজনৈতিক কারণই নয়…অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো প্রতিটি মানুষের ধর্মীয় এবং নৈতিক দায়িত্বও বটে।
‘সাম্য-মানবিক মর্যাদা-সামাজিক সুবিচার’ ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র এ কথা উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্রে প্রতিটি ধর্মের মর্মবাণীর প্রতিফলন ঘটেছে।অথচ আজ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্রের একটি বৈশিষ্টও অবশিষ্ট নেই। বরং বিনাভোটে বছরের পর বছর ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে রাখা আওয়ামী অপশক্তি ক্ষমতার লালসায় ‘ধর্মীয় চেতনা কিংবা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সবকিছুই জলাঞ্জলি দিয়েছে। ক্ষমতার লোভে তারা এখন অন্যায়-অবিচার-টাকাপাচার আর দুর্নীতিকেই নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে। বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের দুর্নীতিবাজদের রক্ষক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে ‘দুদক’।

তারেক রহমান বলেন, দেশে এখন আইনের শাসন নেই। গণতন্ত্র নেই, মানবাধিকার নেই। বিচারালয়ে চলছে অবিচার-স্বেচ্ছাচার। মানুষের বাক ব্যক্তি স্বাধীনতা নেই। জনগণের ভোটের অধিকার নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতিতে অসহায় স্বল্প আয়ের মানুষ। দেশে নীরব দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে প্রতিটি মানুষের বাক ব্যক্তি স্বাধীনতা, ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পূর্ব শর্তই হচ্ছে গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক সমাজ, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এমন একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মানের লক্ষ্যেই, লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরো বলেন, বিনাভোটে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা বর্তমান আওয়ামী লীগের প্রধান শত্রু গণতন্ত্র এবং জনগণ। একইভাবে স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশেও গণতন্ত্র এবং জনগণই ছিল আওয়ামী লীগের প্রধান শত্রু।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রকামী জনগণকে দমন করতে স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ দেশে খুনি রক্ষীবাহিনী তৈরী করেছিল। বিপ্লবী সিরাজ শিকদারকে গুম করে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম-অপহরণ চালু করেছিল। আর বর্তমানে র্যাব-পুলিশের একটি চিহ্নিত চক্র দেশে খুনি রক্ষীবাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। গণতন্ত্রকামী জনগণকে গুম-অপহরণ করতে শেখ হাসিনার নির্দেশে তৈরী করা হয়েছে বর্বর বন্দীখানা ‘আয়নাঘর’ ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, একজন মাত্র ব্যক্তির অবৈধ ক্ষমতার লিপ্সা মেটাতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, জনপ্রশাসন, আদালত, নির্বাচন কমিশন সব মিলিয়ে গত একযুগে দেশে একটি মাফিয়া চক্র তৈরী করা হয়েছে। এই আওয়ামী মাফিয়া চক্রের কাছে ভিন্ন দল মতের মানুষ,সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু, মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী , কেউ নিরাপদ নয়। এমনকি নিরাপদ নয় প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।
তারেক রহমান বলেন, নিজ দেশে জনবিচ্ছিন্ন মাফিয়া সরকার বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক বিশ্ব থেকেও বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর একের সঙ্গে অপরের যোগাযোগের সেতু বন্ধন হচ্ছে ডেমোক্রেসি এন্ড হিউমান রাইটস। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে এর কোনোটিই নেই। ফলে দেশে জনবিচ্ছিন্ন, গণতান্ত্রিক বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন শেখ হাসিনার মাফিয়া সরকার জনগনের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলাসহ প্রায়শই নানা অঘটনের জন্ম দেয়।
তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতাসীন নিশিরাতের সরকারের শাসনামলে গত একযুগে, দেশের বিভিন্ন জেলায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু, তাদের বাড়িঘর কিংবা উপাসনালয়েঅনেকবার হামলা ও ভাংচুর হয়েছে। এসব হামলা-ভাংচুরের পরবা উদ্দ্যেশ্যমূলক ব্লেইম গেইম ছাড়া আজো পর্যন্ত কোনো তারা একটি ঘটনারও সুষ্ঠ তদন্ত কিংবা বিচার করেনি।
তিনি বলেন, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামুতে, ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগর, ২০১৭ সালের ১০ নভেম্বর রংপুরের গঙ্গাচড়া, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ কিংবা সুনামগঞ্জের শাল্লাসহ গত একযুগে দেশের বিভিন্নস্থানে, সংখ্যালঘু ধর্মীয় জনগোষ্ঠী, তাদের বাড়িঘর কিংবা উপাসনালয়ে যেসব হামলার ঘটনা ঘটেছে। জনগণ জানতে চায়, কেন আজ পর্যন্ত কোনো একটি ঘটনারও বিচার করা হলোনা? বিচার করতে আওয়ামী লীগকে কে বাধা দিয়েছে?
তারেক রহমান বলেন, দেশে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপর প্রতিটি হামলা ও নির্যাতনের নেপথ্য কারণ খুঁজে বের করতে তিনি সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে, সর্বদলীয়, সর্বধর্মীয়,একটি ‘নাগরিক তদন্ত কমিশন’ গঠন করার আহবান জানিয়েছেন। কিন্তু নিশিরাতের সরকার এ দাবির প্রতি কর্ণপাত করেনি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময়ই নিজেদের হীন দলীয় স্বার্থে দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিক দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।
তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর প্রত্যেকের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, ‘আপনার, আপনাদের কিংবা আমাদের ধর্মীয় পরিচয়কে আওয়ামী লীগ যেন তাদের নিজেদের হীন দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে’।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, মানুষের ধর্মীয় স্বাতন্ত্রবোধের বাইরেও বাংলাদেশে অনেকগুলো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে।তাদের প্রত্যেকের রয়েছে আলাদা ভাষা ও সংস্কৃতি। এই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষদেরকে জোর করে ‘বাঙালি’ বানাতে দিয়ে, স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে আওয়ামী অপশক্তি একই দেশের মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস ও বিভাজনের বীজ বপন করেছিল।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সৃষ্ট সেই ‘বিভাজনের অভিশাপ ‘থেকে দেশকে বের করে এনে ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে প্রতিটি নাগরিকের একটি অভিন্ন পরিচয় নির্ধারণ করতে স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’।শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশের সকল ধর্ম বর্ণ কিংবা নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর প্রতিটি নাগরিকের গর্বিত পরিচয় নির্ধারণ করেছিলেন ‘বাংলাদেশী’।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা বজায় রেখেই, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী, প্রত্যেকেই একজন ‘বাংলাদেশী’ হিসেবে প্রতিটি নাগরিকবা রাষ্ট্র ও সমাজের সকলক্ষেত্রে সমানাধিকার ভোগ করবে, এটাই বিএনপি’র নীতি, এটাই বিএনপির রাজনীতি।
তারেক রহমান বলেন, ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’এটি কখনোই মানুষের পরিচয় হতে পারেনা। তিনি মত বিনিময় সভায় উপস্থিত খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, এই মুহূর্তে আপনারা যারা ‘ঢাকা’য় রয়েছেন, ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে প্রচলিত পরিসংখ্যানে আপনারা এখন সেখানে ‘সংখ্যালঘু’ । আর আমি এখন যেখান থেকে বসে আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি, ধর্মীয় বিশ্বাসের দৃষ্টিতে প্রচলিত পরিসংখ্যানে. আমি এখানে সংখ্যালঘু। বাস্তবতা হচ্ছে ভৌগোলিক সীমানাভেদে দিনশেষে আমরা একই মানুষ কখনো ‘সংখ্যালঘু’ আবার কখনো ‘সংখ্যাগুরু’। সুতরাং, বর্তমান বিশ্বে তথা একটি আধুনিক রাষ্ট্র ও সমাজে, দেশের জনগোষ্ঠীকে, ‘সংখ্যাগুরু’ কিংবা ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে বিবেচনা করে বৈষম্য সৃষ্টি, একটি অমার্জনীয় অপরাধ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৭১ সালে মুসলমান-হিন্দু, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই মিলে মুক্তিযুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন। কে ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা কে ‘সংখ্যাগুরু’ মুক্তিযুদ্ধের সময় এটি কারো জিজ্ঞাসা ছিলোনা।
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী এবং বিভিন্ন ধৰ্মীয় জনগোষ্ঠির প্রতি আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, নিজেদেরকে সংখ্যালঘু নয় ‘বাংলাদেশী’ ভাবুন। কারণ বাংলাদেশ কোনো ব্যক্তি কিংবা দলের নয়। এই দেশটা আমার-আপনার আমাদের সবার। এই দেশটা জনগণের। সুতরাং, জনগণের বাংলাদেশে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই এখন সময়ের দাবি।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার আদায়,নির্বাচনকালী নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠাসহ ১০ দফা দাবিতে বিএনপি এবং বাংলাদেশের পক্ষের,
গণতন্ত্রের পক্ষের, সকল রাজনৈতিক দল যুগপৎ আন্দোলন করছে।আন্দোলন সফল হলে, মাফিয়া সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর রাষ্ট্রটি মেরামতের জন্য, বিএনপি ইতোমধ্যেই ২৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
শেখ হাসিনার মাফিয়া সরকারের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, চলমান আন্দোলন দেশকে নৈরাজ্য মুক্ত করার আন্দোলন। জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। স্বাধীনতা সুরক্ষার আন্দোলন। এই আন্দোলনে গণতন্ত্রকামী জনগণের বিজয় সুনিশ্চিত ইনশাআল্লাহ
বক্তব্যে তারেক রহমান, শেখ হাসিনার মাফিয়া সরকার মুক্ত পরিবেশে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতি নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ-গনতান্ত্রিক-মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, বিজন কান্তি সরকার, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতৃবৃন্দের মধ্যে শীবল রিবেরু, শশধর দ্রং, জন জেদ্রা, মার্শেল এন চিরান, মৃগেন হাগিদক, যোয়েল আন্তণী চৌধুরী, জর্জ ওয়াসিন্টন, পবিত্র প্রামাণিক, মন্টু পিটার রোজারিও, অনিল লিও কস্তা, শ্যামল রঞ্জন ভৌমিক, নিতাই কুমার সাহা প্রমুখ।
বর্তমান ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারকে হটাতে না পারলে দেশ থেকে ‘অনাচার-অনিয়মমুক্ত’ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই মন্তব্য করেন। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে শুভ বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সাথে এই মতবিনিময়ের এই অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানের লন্ডন থেকে স্কাইপেতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন। বাইবেল পাঠের পর প্রধান অতিথির উপস্থিতিতে খ্রিষ্টান সম্প্রদা্য়রে সদস্যদের নিয়ে বড়দিনের কেক কাটেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ। তারেক রহমান পরে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।
ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘‘এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে আমরা হটাতে চাই, এই সরকারকে না হটাতে পারলে যত অনাচার-অত্যাচার, যত রকমের অন্যায় আছে তা আমরা দূরীভূত করতে পারব না।এখন আমাদেরকে এই বাংলাদেশকে উদ্ধার করতে হবে। আমি আশা করি যে, আমরা বাংলাদেশের সকল মানুষ, খ্রিষ্টান হন, হিন্দু হন, বৌদ্ধ হন, মুসলমান হন আমরা সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের প্রিয় মাতৃভুমিকে উদ্ধার করবো, জনগনের কাছে দেশের মালিকানা ফেরত দিতে পারব।” খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘‘ আজকে আমাদের সামনে একটাই চ্যালেঞ্জ- সেই চ্যালেঞ্জ হচ্ছে যে, এদেশের মালিক জনগন। সেই জনগন আমি-আপনি সকলে। এদেশের সকল জনগন বাংলাদেশী।বাংলাদেশটা এদেশের জনগনের।”













