আরাফাত রহমান কোকোর ৫১তম জন্মদিন

Pub: Wednesday, August 12, 2020 4:29 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরাফাত রহমান কোকোর ৫১তম জন্মদিন আজ। আরাফাত রহমান কোকো জন্ম (১২ আগস্ট ১৯৬৯ মৃত্যু ২৪ জানুয়ারি ২০১৫) আরাফাত রহমান কোকো হলেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক বীর উত্তম সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপির চেয়ারপারসন,বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র। তিনি কোকো নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন।

আরাফাত ২০০৭ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের সময় মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেফতার হন। তিনি ২০০৮ সালে ১৭ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড যান এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে মালয়েশিয়ায় গিয়ে বসবাস ও চিকিৎসা করছিলেন। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কুয়ালালামপুরের মালয়েশিয়া জাতীয় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ও সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

আরাফাত রহমান কোকো ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালায়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। কোকো ছিলেন বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তিনি রাজনীতিবিদের চেয়ে একজন ব্যবসায়ী হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও সিটি ক্লাবের সাথে যুক্ত ছিলেন। দুই মেয়ের জনক কোকোর বয়স ৪৫ বছর।দেশ ছাড়ার পর স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কুয়ালালামপুরের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি।

পরবাসী কোকো
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের মে মাসে আটক অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। তারপর থেকে তিনি বিদেশেই অবস্থান করছিলেন। আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা বিচারাধীন ছিল। খালেদা জিয়া ২০১২ সালে কোকোর সাথে সিঙ্গাপুরে সাক্ষাত করেন। কিন্তু জিয়া পরিবার ২০০৭ সালের পরে কখনওই একসাথে হতে পারেনি।

পরিবার
আরাফাত রহমান কোকোর বাবা মহান স্বাধীনতার ঘোষক বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। কোকো তাঁদের কনিষ্ঠ ছেলে। তাঁর বড় ভাই তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারমেন।আরাফাত রহমান শর্মিলা রহমানকে বিয়ে করেন। তাদের দুই মেয়ে হয় যাদের নাম জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান।

১/১১ পরবর্তী ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গ্রেপ্তার হন তিনি। একই বছরের ৭ মার্চ গ্রেপ্তার হন ভাই তারেক রহমান। যদিও পৃথকভাবে তারেক রহমান ও কোকোর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হয় বিএনপি চেয়ারপারসনের। চিকিৎসার জন্য ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান লন্ডন যান। একই বছরের ১৭ জুলাই জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরদিন চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড যান কোকো। একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থাইল্যান্ড থেকে মালয়েশিয়ায় আসেন তিনি। এরপর থেকে সেখানেই অবস্থান করছিলেন খালেদা জিয়ার এই ছোট ছেলে।

মায়ের সাথে মুক্তিযুদ্ধের সময় ছোট্ট কোকো
১৯৬৫ সালে মা খালেদা জিয়া স্বামীর সাথে পশ্চিম পাকিস্তানে (বর্তমানে পাকিস্তান) যান। তারা ১৯৬৯ সালের মার্চ পর্যন্ত করাচিতে সাথে ছিলেন। এরপর ঢাকায় চলে আসেন। কিছুদিন জয়দেবপুর থাকার পর চট্টগ্রামে বাবা জিয়ার পোস্টিং হলে তার সঙ্গে সেখানে এবং চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় বসবাস করেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে মায়ের সাথে কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর ১৬ মে নৌপথে পরিবারের সাথে ঢাকায় চলে আসেন কোকো। বড় খালা খুরশিদ জাহানের বাসায় ১৭ জুন পর্যন্ত থাকেন পরিবারের সবাই। ২ জুলাই সিদ্ধেশরীতে জনাব এস আব্দুল্লাহর বাসা থেকে পাকসেনারা মা ও বড়ভাই তারেকসহ আরাফাত রহমান কোকোকে বন্দি করে। তাঁরা ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে মা-ভাইসহ তিনি মুক্তি পান। আরাফাতের মা বেগম জিয়া রাজনীতিতে আসার আগ পর্যন্ত একজন সাধারণ গৃহবধূ ছিলেন। দুই পুত্র আরাফাত ও তারেককে লালন পালন ও ঘরের কাজ করেই সময় কাটাতেন।

কোকোর সাত মামলা
সিঙ্গাপুরে ২০ কোটি টাকার বেশি অর্থের অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে ২০০৯ সালের ১৭ মার্চ কাফরুল থানায় আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২০১১ সালের ২৩ জুন এ মামলার রায় হয়। মামলায় পলাতক দেখিয়ে কোকোকে ছয় বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে সাড়ে ১৯ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। এরই মধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে কোকোর পাচার করা অর্থের একটা অংশ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কোকোর বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকির অভিযোগে ২০১০ সালের ১ মার্চ এনবিআর একটি মামলা করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কোকোর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দুটি চাঁদাবাজির মামলা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক একটি মামলা করে। আর সোনালী ব্যাংকের ঋণখেলাপের মামলায় ভাইয়ের সঙ্গে এবং গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় মায়ের সঙ্গে কোকোও আসামি ছিলেন ।

লেখক: প্রধান সম্পাদক
শীর্ষ খবর ডটকম


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
নিউজটি পড়া হয়েছে 1008 বার

Print

শীর্ষ খবর/আ আ