করোনা, পুঁজিবাদ ও বাজেট ২০২০-২১

Pub: শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২০ ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী

‘দুঃখের দিনে পাখিরা কি গান গাইবে? বিষাদের গান গাইবে’!
বারটোল্ট ব্রেখ্ট, জার্মান দার্শনিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক

বিপন্ন পণ্য : বিশ্ব পুঁজিবাদ
সম্প্রতি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বাড়ছে দ্রুতগতিতে। ফলে অনেক রাতকানা দার্শনিক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গভীরভাবে প্রচার করতে শুরু করেছেন যে, সাম্যবাদী সম সুযোগের সমাজ ব্যবস্থার সম্ভবত কোনো ভবিষ্যৎ নেই। ‘কার্ল মার্কস ইজ ডেড’, বেজিং-এর তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে বিস্মৃত মাও সে তুং, হোচি মিন সিটির স্কোয়ারে শায়িত হোচি মিন হো। হাভানা স্কোয়ারের কোথাও নেই ফিডেল ক্যাস্ট্রোর ভাস্কর্য, তবু তার উপস্থিতি অনুভবনীয়, চুরুটবিহীন হাসিও আকর্ষণীয়। হাভানার বহু জায়গায় চে গুয়েভারা দৃশ্যমান, চিরতরুণ। কৃষক শ্রমিকের লাল ঝাণ্ডা কি আর উড়বে না?

বিশ্ব পুঁজিবাদ হঠাৎ ভয়ানক ধাক্কা খেল এক অজানা, অদৃশ্য কিন্তু সর্বত্র বিরাজমান ক্ষুদ্র ভাইরাস নভেল করোনা কোভিড-১৯ এর কাছে। প্রায় অজানা করোনাভাইরাস সারা পৃথিবীকে দাবড়িয়ে তুলোধুনো করেছে, ধনী, দরিদ্র, সৎ, দুর্জন, দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতিবিদ, আমলা, শিক্ষক, কৃষক জনতাকে। কারো পালানোর পথ নেই। করোনাভাইরাস ছাত্র, শ্রমিক সবাইকে একটি কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে, রাষ্ট্র ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থায় ফিরে আসবে তো?

প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন মূলকথা নয়, মূলকথা সুন্দর জীবন জীবিকা এবং জীবনের সব ক্ষেত্রে সব নাগরিকের সমঅধিকার ও সমসুযোগ। যার অনুপস্থিতির কারণেই কি করোনাভাইরাসের প্রতিশোধমূলক প্রয়াস? যা থেকে কারো রক্ষা নেই? ফরাসি মার্কসীয় অর্থনীতিবিদ টমাস বেকেটি কী ভাবছেন? নাকমুখে রক্ত সঞ্চার স্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়, বরঞ্চ মৃত্যুর সিগনাল। অন্যায় লুটেরা মুৎসুদ্দি শ্রেণী আজ সাধারণ মানুষের দুর্ভাগ্যের কাতারে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার তাদের কোনো পথ খোলা নেই। উন্নয়নের স্বপ্নের রাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশী দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদরা হঠাৎ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন, চোখে অন্ধকার দেখেছেন। অন্ধকার রুমে কালোবিড়াল খুঁজে বেড়াচ্ছেন। মুক্তি যেন সুদূরপরাহত।
তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ চীনের উহানকে ছাড়িয়ে গেছে, শিল্প ও স্বাস্থ্যখাত পুরোপুরি বিপর্যন্ত। কেবল সুষ্ঠুভাবে চালু আছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী, সিএমএইচ এবং কয়েকটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। দেশের সবচেয়ে বড় চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইঝগগট হাসপাতাল সম্পর্কেও প্রশ্ন উঠেছে। হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে, কয়েক শিক্ষকের করোনা মৃত্যুর ঘটনায়, প্রায় ‘লকডাউন’।

স্বাস্থ্যব্যয় বিল এবং অক্সিজেনের স্বল্পতার আলাপ নাই বা হলো। দেশের প্রায় ৫০০০ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের (টঅঋডঈ) ১০ শতাংশ কেন্দ্রে একজন ডাক্তারও সার্বক্ষণিকভাবে অবস্থান দূরে থাকুক, নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। ঝড় উঠবে সেখানে। অর্থনীতির সংবাদ আরো দুর্বিষহ।

বোমা ফাটিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (ঈচউ) – দারিদ্র্যের হার ২০% থেকে বেড়ে ৩২% হবে। উন্নয়ন অন্বেষণের পরিচালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাশেদ তিতুমীরের হিসাবে এই বছরই বাংলাদেশে দারিদ্র্য বেড়ে ৪২-৪৩% পৌঁছবে। ভয়ানক তথ্য, হিসাবে খুব ভুল নাও হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে বাংলাদেশে অন্যূন ৫০ লাখ ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হবে। অতিরিক্ত ২ কোটি দরিদ্র ও নি¤œবিত্ত পরিবার খাদ্যসঙ্কটে আছে, তাদের আয় ভয়ানকভাবে কমেছে, দ্রুত অবস্থার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। এসব সমস্যার মূলে রয়েছে সুশাসনের অভাব ও গণতন্ত্রহীনতা এবং লাগামহীন দুর্নীতি। জনপ্রতিনিধিরা পাপী, আমলারা নিষ্পাপ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ট্রিগার হ্যাপী।

উহানে করোনার ঢেউ দেখে এসএ টিভির মার্চের (২০২০) টকশোতে প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে আমি বলেছিলাম, ঝড় আসছে, হাসপাতাল সামলান, ভেন্টিলেটর নয়, বেশি প্রয়োজন নেবুলাইজার ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ এবং এক মাসের মধ্যে দ্রুত প্রশিক্ষণ দেয়া কয়েক হাজার সার্টিফিকেটধারী অবেদন চিকিৎসক (অহবংঃযবঃরংঃ) যারা ভেন্টিলেটর চালাবেন, ইনটুবেশন করবেন এবং যাদের শ্বাসনালী (ট্র্যাকটমি) দ্রুত কেটে বাতাস প্রবেশের দক্ষতা থাকবে। মূল সমস্যায় নজর না দিয়ে কোভিড-এর চিকিৎসক ও সেবিকাদের ৩-৫ তারকা হোটেলে থাকা নিয়ে সময়ক্ষেপণ করলেন। প্রাইভেট হাসপাতালের সাথে লেনদেন করলেন, দুর্নীতির প্রশ্রয় দিলেন, সেবা নিশ্চিত করলেন না। নিবেদিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মান দিলেন না, যারা পালাচ্ছে তাদের উপঢৌকন দিলেন, অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অধিকতর দুর্নীতি ও অজুহাতের সুযোগ করে দিলেন।

বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও গণতন্ত্রের মানসকন্যা একবারও সর্বদলীয় রাজনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ নিলেন না। আপনার রাজনৈতিক কর্মীদেরও বিশ্বাস করতে পারছেন না, কিন্তু কেন? কোথায় সংশয়, আপনার এত ক্ষোভ কেন, দুঃখ কোথায় লুকিয়ে আছে? গোয়েন্দা নির্ভরশীলতা অজান্তে বিপদ ডেকে আনে। আপনার এত কঠোর পরিশ্রম, সজাগ দৃষ্টি, দেশের জন্য পিতার ন্যায় অফুরন্ত ভালোবাসা দেশের জন্য পুরো সুফল আনছে না কেন, ভেবে দেখেছেন কি? দেশবাসী আপনাকে ভালোবাসে, তারা আরো একজনকে ভালোবাসে, তিনি খালেদা জিয়া। তিনি আপনার সমতুল্য না হলেও দেশের কঠিন বিপদ থেকে উত্তরণের জন্য আপনার খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ প্রয়োজন, অতীতের ন্যায় মহানুভবতা প্রদর্শন করুন। তার সুস্থতা কামনা করে আসুন, দু’জনে মিলে জনকল্যাণকর সুশাসিত গণতান্ত্রিক আনন্দের বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করুন।

অতর্কিত করোনা সংক্রমণে বাংলাদেশে কয়েকজন মন্ত্রীর প্রলাপ উক্তি বিষদৃশ। করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রবাহ হবে ভয়ানক যা দ্বারপ্রান্তে অথচ আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমিরের উন্নয়ন অন্বেষণ ২০২০-২১ বাজেট সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত আলোচনায় দেখিয়েছেন যৌক্তিক প্রবৃদ্ধি ৪.২% এর অধিক সম্ভব নয়, উৎপাদনশীল জিডিপি কমবে ১২.৪%, প্রবাসী রেমিট্যান্স আয় কমেছে, কয়েকটি দেশে প্রবাসী অভিবাসী বাংলাদেশীদের কর্মচ্যুতি ঘটেছে। ১৭৪টি রাষ্ট্রে বাংলাদেশের এক কোটি ২০ লাখ অভিবাসী কাজ করে, সেখানে কর্মসংস্থান বাড়ছে না, বরঞ্চ কমছে এবং পোশাক শিল্পের আয় স্থবির হয়ে পড়েছে, নীরব ছাঁটাই চলছে, শিক্ষায় সবার সমান সুযোগ নেই, সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা ভোগ করে মাত্র ৯৬ লাখ পরিবার। প্রাপ্তির সাথে আছে দুর্নীতির উইপোকা, বেকারত্ব বাড়ছে ৩% হারে, অসহায় শিক্ষিত বেকাররা।

২০২০-২১ : দুঃসময়ের বাজেট কিন্তু আলোচনায় উত্তাপ নেই
গতানুগতিক বাজেটে দুঃসময় উত্তীর্ণ হওয়া যায় না। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণ অবসৃত থাকে, পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে কর্মদক্ষতায় ও প্রতিযোগিতায় পেছনে পড়ছে বাংলাদেশের শ্রমিকের উৎপাদন ক্ষমতা। প্রধানমন্ত্রীকে গণতান্ত্রিক আলোচনায় দেখা যায়নি ১৪ দলের সভায়, অধিকাংশ সময়ে তিনি ছিলেন আমলা পরিবৃত, রাজনৈতিক সহকর্মীরা ম্রিয়মান। মৃত ব্যক্তির বন্দনা আছে, সঙ্গে আছে ঢাক ঢোলের বাজনা অথচ কর্মীদের হৃদয়ে নেতার আকুতি অনুপস্থিত। এক নাগাড়ে ২০ দিন গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসক ও প্যারামেডিকদের অতুলনীয় সেবা ও জনগণের ক্রমাগত দোয়ায় করোনামুক্ত হয়ে সরাসরি গত ১৪ জুন ২০২০ বনানী কবরস্থানে গিয়েছিলাম মুক্তিযুদ্ধের সতীর্থ নাসিমকে শেষ অভিবাদন জানাতে। তখন রাষ্ট্রপতির গার্ড রেজিমেন্টের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনপর্ব চলছিল। শহীদ তাজউদ্দীন, নজরুল ইসলাম ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর কবর জেয়ারত না করে প্রেসিডেন্টের সাথে সাথে অন্যান্য আওয়ামী লীগ কর্মী ফিরে গেলেন। বেগম ফজিলাতুন্নেছার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে কাউকে দোয়া করতে দেখলাম না। অধিকাংশ রাজনৈতিক কর্মী জানে না বনানী কবরস্থানে শায়িত আছে মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী প্রবাসী সরকার। কী দুর্ভাগ্য জাতির।

১. দুঃসময়ের বাজেট নিয়ে আলোচনার উত্তাপ নেই। দেশের এতজন বিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, ব্যাংকার, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী বা রাজনীতিবিদ কেউ সাহস করে সত্য কথা জনসাধারণকে জানাচ্ছেন না। সবাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের অপেক্ষায়। তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন, এমনকি তোফায়েল, আমু সবাই। তাদের সংশয় কেন? তারা শেখ হাসিনার নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক সহকর্মী।

২. বিএনপি তাদের স্ট্যান্ডিং ও উপদেষ্টা কমিটির সভায় অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য নিবিড়ভাবে পড়ে, অধ্যয়ন করে একাধিক আলোচনা সমালোচনা করে মননশীল সুষ্ঠু সুপারিশ সরকারকে জ্ঞাত করেছে। দেশকে তো বাঁচাতে হবে। এটা কেবল হাসিনার দায়িত্ব নয়, খালেদা জিয়ারও।

৩. জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংসদ সদস্যরা মুখে কলুপ বেঁধেছেন কেন? সুচিন্তিত বাগ্মিতায় সংসদ উত্তপ্ত রাখুন, ভয় পাবেন না, নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করুন। সংখ্যার চেয়ে সাহস বড়।

৪. এরশাদ সাহেব বেঁচে থাকলে বাজেটের প্রতি ওঃবস পড়ে বুঝে উপযুক্ত সমালোচনা উন্মুক্ত করতেন, জিএম কাদেরের মতো গৃহপালিত প্রাণীর আচরণ করতেন না। জিএম কাদের অনুগ্রহ করে হুক্কাহুয়া করা বন্ধ করুন। জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য আপনার অনেক কাজ বাকি।

৫. জনাব ওবায়দুল কাদের অনুগ্রহ করে মুখ বন্ধ রাখুন, বিরোধীদলীয় সব সমালোচনার উত্তর দিতে হয় না, এটা রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, অর্থমন্ত্রীকে উত্তর দেয়ার সুযোগ দিন। বাজেট অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব, আপনার নয়।

৬. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সর্বদলীয় রাজনৈতিক সভা ডাকুন, বিপদ মুক্তির বাজেট উদ্ভাবনের জন্য। নতুবা কোনো লাভ হবে না। না দেশের, না দেশবাসীর। ওষুধের দাম কমবে না, কৃষক শ্রমিক তার শ্রমের ন্যায্যমূল্য পাবে না, আইসিউ (ওঈট) প্রতারণা বাড়বে, মৃত্যুর পরও চিকিৎসার বিল দিতে হবে, ফড়িয়ারা রাজত্ব করবে, শহরবাসী অত্যধিক মূল্যে ফলমূল, শস্য কিনে প্রতারিত হবে। স্বাস্থ্যখাতে নৈরাজ্য অব্যাহত থাকবে, ক্ষুধা দারিদ্র্য বাড়বে, সঙ্গে যৌননিপীড়ন, নৈরাজ্য ও ব্যাপক দুর্নীতি। মুখথুবড়ে পড়বে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী।

পরিশোধিতব্য সুদ ২০২০-২১ বাজেটে
আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রাপ্য বিদেশী ঋণের সুদ এবং পিপিপি (চঁনষরপ চৎরাধঃব চধৎঃহবৎংযরঢ়) ভর্তুকি ও দায়বদ্ধতা পরিশোধ করতে ১০০৪১১ (এক লাখ চারশত এগারো) কোটি টাকা প্রয়োজন যা ২০২০-২১ বাজেটের মোট বরাদ্দের ১৭.৬৮%। খাদ্য, দুর্যোগ, কৃষি, পানি সম্পদ ও স্থানীয় সরকারের মোট বরাদ্দের ১৩.৩৬% চেয়ে ২৫০০০ কোটি টাকা বেশি। স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় বরাদ্দ মাত্র ৭৯৯৪১ কোটি যা বাজেটের ১৪.২৫%। সংসদে এই সম্পর্কে প্রশ্ন না ওঠা দুর্ভাগ্যজনক। পরিশোধিতব্য বিদেশী ঋণের বিষয়টি জনসাধারণের শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবর্গের ব্যর্থতা রাজনীতিতে তাদের অপরিপক্বতার পরিচায়ক এবং দুঃখজনক।
বাংলাদেশের জনপ্রশাসন মাথাভারী, নিত্যনতুন সিনিয়র সচিবের জন্ম হচ্ছে, বাজেটের মোট বরাদ্দের প্রায় এক পঞ্চমাংশ ব্যয় জনপ্রশাসনে। ভোটারবিহীন নির্বাচনের জন্য এনাদের উর্বর মস্তিষ্ক খুব কার্যকর।

শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানহানি
শেখ মুজিবের মন, মনন, মহানুভবতা, চিন্তা, চেতনা ও ভালোবাসার ঘ্রাণ নিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ওলেমা লীগ সবাই অক্ষম, অন্ধ, বধির। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে ঢাক ঢোল পিটিয়ে, পায়ে নূপুর বেঁধে নেচে-গেয়ে আমাদের স্বপ্নদ্রষ্টা নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে অজান্তে খাটো করার চেষ্টা করছেন।

আওয়ামী লীগ, যুবলীগ কর্মীরা যদি শেখ মুজিবকে ভালোবাসেন তবে ১৯৭৫ সালের ১৭ জুলাই মাসের নির্দেশনামা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে তাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। শেখ মুজিব গ্রামের মানুষকে ভালোবাসতেন নিজের চেয়েও বেশি, তাদের দুঃখ মোচন ও ক্ষমতায়ন ছিল তার স্বপ্ন। এবারের বাজেট হওয়া উচিত শেখ মুজিবের স্বপ্নের বাস্তবায়ন, স্বনির্বাচিত স্থানীয় প্রশাসন, দুর্নীতিমুক্ত সম-অধিকারে সুশাসিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। শেখ মুজিবুরের মহানুভবতা আত্মস্থ করতে আওয়ামী লীগের অধিকাংশই অক্ষম, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও বিভ্রান্ত। মৌলিক সংস্কারের বিকল্প নেই। পিতার স্বপ্নের বাস্তবায়ন করুন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে অমর হওয়ার শেষ সুযোগ যার মূল্য নোবেল পুরস্কারের চেয়ে অনেক বেশি। ২০৪১ পর্যন্ত অপেক্ষা করা ভুল সিন্ধান্ত, পিতার ভুল থেকে শিক্ষা নিন। আমলাদের বেশি বিশ্বাস করতে নেই। স্বচ্ছ রাজনীতি আপনার বর্ম ও ধর্ম।

শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ও ভালোবাসা
দলমত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক কর্মী এবং গ্রামগঞ্জের সাধারণ কৃষক শ্রমিকের জন্য ছিল শেখ মুজিবুরের অফুরন্ত ভালোবাসা। তার হৃদয়ের দরজা ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত, তাদের খাদ্য নিরাপত্তা দেয়া, কৃষক শ্রমিক সন্তানের শিক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা ছিল তার জীবনের ব্রত। সবাই তার একান্ত জন, আত্মীয় তুল্য। যাকে একবার শেখ মুজিব দেখেছেন, তাকে তিনি স্মরণ রেখেছেন। কেন্দ্রিকতা তাকে করাচি ও ইসলামাবাদের শাসনের কথা বারে বারে স্মরণ করিয়েছে নির্মমভাবে। পাকিস্তানের কেন্দ্রিকতা পূর্ব পাকিস্তানবাসীর সমসুযোগ ও সমউন্নয়নের ছিল প্রধান বাধা। কেন্দ্রিকতা, যানজট, শাসনজট ও সময় মতো স্বাস্থ্য সুবিধা থেকে বঞ্চনার নির্মম মাফিয়া শাসন। পাকিস্তান ভাঙ্গার অন্যতম কারণ কেন্দ্রিকতা, ধর্মের অপব্যবহার এবং কেন্দ্রিকতা দুর্নীতির সোপান, মুখে রক্ত সঞ্চারের মতো। শহরের সব সুযোগ নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন শেখ মুজিব। সঙ্গে গ্রামবাসীদের জন্য নির্মল বাতাস ও লোকজ সংস্কৃতির বিস্তার।

তৃণমূলের অধিকার আদায় ও জবাবদিহিতামূলক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৬৪ জেলায় ৬৪ জন গভর্নর নিয়োগ দিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৭ জুলাই মাসে, আগস্ট মাস অবধি চলছিল গভর্নরদের প্রশিক্ষণ। তিনি বুঝেছিলেন, পূর্ব পকিস্তানে শিল্প নেই কিন্তু ব্যাপক কৃষি সম্ভাবনা আছে। আছে শিল্পের উৎপাদন সৃষ্টির, তাই কৃষি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তার বাহন, পদ্ধতি হবে ইউরোপীয় সমবায় ব্যবস্থাপনা, মেজর খালেদ মোশাররফের ছোট ভাই রাশেদ মোশাররফকে ইউরোপে পাঠিয়ে ছিলেন সমবায় পদ্ধতি অবলোকন ও অধ্যয়নের জন্য। উদ্যোগ নিয়েছিলেন মৌলিক সংস্কারের যা আজও অসম্পূর্ণ। এই ব্যর্থতার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এড়াতে পারেন না। পরিবর্তনকে আপনি ভয় পাচ্ছেন কেন? দেশ ও দেশবাসীকে ভালোবাসাই শেখ হাসিনার শক্তি। গণতন্ত্রে আসন পরিবর্তন কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়। প্রকৃতির নিয়ম।
দ্রুত বিপদমুক্তির জন্য সবচেয়ে বেশি সরকারি বিনিয়োগ করতে হবে বেসরকারি কৃষি উৎপাদনে, সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও তদারকিতে উদ্বৃত্ত হয়ে ফিরে আসবে সব বিনিয়োগ। ব্যাংক খেলাপির ঝামেলায় ঘুম হারিয়ে যাবে না। শিল্পপতিদের বিশ্বাস করা যায় না, কিন্তু কৃষককে বিশ্বাস করা যায়, তারা মিথ্যাচার কম করেন, কারণ তারা ধর্মে বিশ্বাসী ও নীতিবান, তাদের ক্ষুধা সীমিত। মৎস্য, পানি সম্পদ, পোলট্রি,স্বাস্থ্যসেবা, ডেইরি ও খাদ্য নিরাপত্তায় ব্যাপক বিনিয়োগ নিশ্চিত করুন নির্ভাবনায়। ইওউঝ (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস) ও অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তদারকির মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে সঠিক নিবন্ধন, সঠিক কৃষককে সময়মতো ঋণদান, সময়মতো দুর্নীতিমুক্ত ঋণপ্রাপ্তি। সাথে রাখুন ঘএঙ দের, তারা তৃণমূলে সম্পৃক্ত এবং পরিশ্রমী, ক্ষুদ্রঋণ দ্রুত প্রসার করে নারীদের ক্ষমতায়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। নোবেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ব্র্যাকের স্যার ফজলে হাসান আবেদ ও ‘আশা’র শফিকুল হকের অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণযোগ্য।

স্থানীয় শাসন কমিশন ও গভর্নর নিয়োগদান
১. বৃহত্তর জনসাধারণের কল্যাণই রাজনীতি। সঠিক সময়ে নির্ভয়ে সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দ্রুত বাস্তবায়ন নিঃস্বার্থ রাজনৈতিক কর্মীকে মাথা উঁচু করে থাকা রাজনৈতিক নেতায় উন্নীত করে, ইতিহাসে স্থান করে দেয়। প্রাণপ্রিয় নেতার অসমাপ্ত কর্মসূচির বাস্তবায়নের জন্য প্রতিযোগিতামূলক স্বনির্বাচিত, স্বশাসিত ৬৪ জেলা স্টেট (উরংঃৎরপঃ ঝঃধঃব) সৃষ্টির লক্ষ্যে অনতিবিলম্বে কমিশন গঠন করুন, ৬৪ জন গভর্নর নিযুক্তি দিন তৃণমূল রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, শিক্ষক, আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত আমলা, পুলিশ ও সামরিক কর্মকর্তা, বিচারক, বিচারপতি, দানশীল ব্যবসায়ী, প্রখ্যাত সাংবাদিকদের মধ্য থেকে। ৬ মাসের মধ্যে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। কেন্দ্র ও জেলা স্টেটে প্রশাসনিক সামঞ্জস্য থাকবে, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে দ্রুত উন্নয়ন হবে কিন্তু দুর্নীতি বহুলাংশে কমবে, সমঅধিকার ও সমসুযোগ সৃষ্টি হবে, জবাবদিহিতা থাকবে, সুখের পায়রার বাকবাকুম শুনতে হবে না, জন প্রতিনিধিদের সার্বক্ষণিকভাবে নিজ জেলা স্টেটে সপরিবারে অবস্থান হবে তাদের নৈতিক দায়িত্ব। সরকারি কর্মকর্তাদের বেলাতেও এই নিয়ম কঠোরভাবে প্রযোজ্য হবে। তাদের সন্তানদের স্ব স্ব জেলা স্টেটে অধ্যয়ন করতে হবে স্থানীয় কৃষক শ্রমিকের সন্তানদের সাথে একই বেঞ্চে বসে। দুই জায়গায় পরিবার রাখা মানে দুর্নীতিতে সজ্ঞানে অংশগ্রহণ, কর্তব্যে অবহেলা ও স্থানীয় উন্নয়নে মনোযোগ না দেয়া। স্বচ্ছ জবাবদিহিতামূলক দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন সৃষ্টির লক্ষ্যে দুটি প্রশাসন ক্যাডার সৃষ্টি বিবেচ্য হওয়া উচিতÑ ব্যাপক জেলাস্টেট ক্যাডার এবং সীমিত কেন্দ্রীয় প্রশাসন ক্যাডার। কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পররাষ্ট্রনীতি, আকাশ সমুদ্রপথ, আন্তঃজেলা যোগাযোগব্যবস্থা, আয়কর ব্যবস্থাপনা ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা। পুলিশ হবে জেলাস্টেট সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন। কোটা নয় প্রতিযোগিতাই হবে প্রশাসনে প্রবেশ পথ। বয়স সময়সীমা অহেতুক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সামরিক বাহিনীতে যোগদানে বয়সসীমা বিবেচ্য হতে পারে অন্যত্র নয়। স্বাভাবিক প্রশাসনে অহেতুক দুর্নীতি সৃষ্টি করে, সব কর্মচারী কর্মকর্তাদের অবশ্যই ধূমপান, পানসেবন ও মাদকা-আসক্তি মুক্ত হতে হবে, এগুলো দুর্নীতির প্রথম ধাপ। সবার আয়কর তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক।

স্থানীয় শিক্ষিতদের ব্যাপক কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টি হবে জেলা প্রশাসনে, কৃষি উৎপাদন সমবায়ে এবং কৃষি বাজারজাত সমবায়ে। বহু দলীয় গণতন্ত্রের বিকাশ হবে। কমিউনিস্ট ও বাম রাজনৈতিক নেতারা তাদের ত্যাগ তিতিক্ষার পুরস্কার অর্জন করতে পারবেন কোনো-না-কোনো জেলা স্টেটে, তাদের শাসনের ধরন নিশ্চয়ই ভিন্ন হবে। নির্মল পরিবেশে আধুনিক শিক্ষা সংস্কৃতির নতুন শহর গড়ে উঠবে জেলা স্টেটে, কেন্দ্রীয় রাজধানী ঢাকার সমমানের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সুবিধা, সাথে মুক্তচিন্তার সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যময় লোকশিল্প নিয়ে। শান্তির দ্বীপ হবে সব জেলা স্টেট, সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নারীর জীবন যাত্রা হবে নিরন্তর নিরাপদ ও আনন্দময় এবং সম্পত্তিতে সমান অধিকার। জনসংখ্যা ভেদে প্রতি জেলা সংসদে ৪০ থেকে ৮০ জন। বিধায়ক সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। সর্বোচ্চ ১০ (দশ) জনের মন্ত্রিসভা, প্রশাসন শীর্ষে গভর্নর। কেন্দ্র নিয়োগ দেবে জেলা হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের জেলা স্টেটের সিভিল সার্জনের পরামর্শে, কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের (টঐঋডঈ) সব চিকিৎসক, সেবিকা ও কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মীদের নিয়োগ উন্নয়ন নির্ধারণ করবেন জেলা স্টেট (উরংঃৎরপঃ ঝঃধঃব) কর্তৃপক্ষ।

৫০০০ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণকেন্দ্র
২.সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্য সুবিধা ছাড়া আধুনিক জীবনযাত্রা অসম্পূর্ণ ও অকল্পনীয়। করোনা প্রতিরোধে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের মূল ভূমিকা, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও সেবিকারা মূল সেনানী। এখানে বিনিয়োগ হবে অর্থবহ এবং অবশ্য প্রয়োজনীয়। কেবল যন্ত্রপতি ক্রয় নয়, যন্ত্রপাতির সহায়তায় সময়মতো স্বাস্থ্যসেবা প্রদানই লক্ষ্য। চিকিৎসক ও সেবিকাদের জ্ঞান ও সেবার উন্নয়ন হবে করোনা ও অন্যান্য মহামারী থেকে আত্মরক্ষার প্রধান অস্ত্র।

আগামী ১০-১৫ বছরে একটি ইউনিয়নের লোকসংখ্যা পৌঁছবে ৫০,০০০ থেকে ৭০,০০০ হাজারে। জনগণের চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য ৬ ফুট উঁচু, ৮০০ অধিক রানিং ফুটের নিরাপত্তা বেষ্টনী, গভীর নলকূপ ও ইলেকট্রিসিটির ব্যবস্থা, সাথে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের পরিচালকের জন্য ১০০০ বর্গফুটের বিনা ভাড়ায় পারিবারিক বাসস্থান, মেট্রন, একজন দন্ত চিকিৎসক, একজন ফিজিওথেরাপিস্ট, একজন ফার্মাসিস্ট, দু’জন নবীন চিকিৎসক ও দু’জন ইন্টার্ন চিকিৎসকের জন্য ৬০০ বর্গফুটের ৮টি ফ্রি বাসস্থান, মেডিক্যাল, ডেন্টাল, নার্সিং, ফিজিওথেরাপি ছাত্র ও টেকনিশিয়ানদের জন্য ক্লাসরুম, লাইব্রেরি, বিনোদন কক্ষ, ডাইনিং রুম, টয়লেট সুবিধাসমেত ৪৫০০ বর্গফুটের ডরমিটরি এবং ২০ শয্যার ইনডোর হাসপাতাল, চিকিৎসকের চেম্বার, প্যাথলজি, এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাম ও ছোট অপারেশন কক্ষ বাবদ ৫০০০ বর্গফুট স্থাপনা হবে জনগণকে দেয়া বঙ্গবন্ধুর স্বাস্থ্য সুবিধা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রমাণ।

যেসব চিকিৎসা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে (টঐঋডঈ) সম্ভব হবে না সেগুলো রেফার হবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নত চিকিৎসার জন্য। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসকগণ কমিউনিটি ক্লিনিকেও প্রতি সপ্তাহে চিকিৎসা পরামর্শ দেবেন, স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও ধাইদের ক্রমাগত আধুনিক চিকিৎসা তথ্য জ্ঞাত করাবেন। তদুপরি তারা মেডিক্যাল ও অন্যান্য ছাত্রদের শিক্ষা প্রদানের দায়িত্ব পালন করবেন যার জন্য একটা শিক্ষকতা ভাতা (ঞবধপযরহম অষষড়ধিহপব) পাবেন। তিন মাস মেয়াদি কোনো একটা সার্টিফিকেট অধ্যয়ন ও পরীক্ষা দিয়ে জুনিয়র বিশেষজ্ঞ পদে উন্নীত হবেন। কমপক্ষে ২০,০০০ টাকা অতিরিক্ত ও পরিশ্রম ভাতা পাবেন। বিনা ভাড়ায় বাসস্থান সুবিধা পাবেন। গ্রামবাসীদের নিরন্তর চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য চিকিৎসকদের জন্য জনগণের পুরস্কার। সব সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল, ডেন্টাল ও নার্সিং কলেজকে এক বা একাধিক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের (টঐঋডঈ) সাথে সম্পৃক্ত হবে উন্নত মানের চিকিৎসা সেবা শিক্ষাদানের জন্য। মুক্তিযুদ্ধ ও দরিদ্র শ্রেণীর সাথে পরিচিতি দেশপ্রেমের অংশ।

স্বাস্থ্যখাতের অন্য মৌলিক সংস্কার
৩. প্রায় এক লাখ ব্যক্তি কারাবন্দী আছে, জেল হাসপাতাল দুর্নীতির আখড়া এবং চিকিৎসক স্বল্পতা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। দেশের রাজনৈতিক নেতারা, আমলা ব্যবসায়ীদের, ভরসা সামরিক বাহিনীর হাসপাতাল সিএমএইচ (ঈগঐ), সব কারাগার, পুলিশ, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আনসার ও বর্ডার গার্ড, হাসপাতালসমূহ সরাসরি অৎসু গবফরপধষ ঈড়ৎঢ়ং (অগঈ) কর্তৃক পরিচালিত হলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে, চিকিৎসকের অভাব হবে না। অগঈ হবে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, সব চিকিৎসক, সেবিকা ও টেকনিশিয়ানদের পদবি হবে সামরিক বাহিনীর- অগঈ র। তারা সুযোগ সুবিধা বেশি পাবেন। তাই তাদের কাজে থাকবে প্রশান্তি ও আনন্দ এবং সময়মতো পেশাতে অগ্রগতি।
বেসামরিক অনেক সরকারি হাসপাতাল বর্তমানে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে অগঈ চিকিৎসকদের দ্বারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব সদস্য ও পরিবারবর্গ সামরিক বাহিনীর সমান সুযোগ পাবেন। সামরিক বাহিনীর মেডিক্যাল কলেজে অধ্যায়নরত এমবিবিএস পাস করে পাঁচ বছর অগঈ তে চাকরি করতে বাধ্য থাকবেন, নতুবা ক্ষতিপূরণ দেবেন ৩০ লাখ টাকা।

ওওও. স্বাস্থ্যখাতের অন্য মৌলিক সংস্কার প্রায় এক লাখ ব্যক্তি কারাবন্দী আছেন, জেল হাসপাতাল দুর্নীতির আখড়া এবং চিকিৎসক স্বল্পতা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। দেশের রাজনৈতিক নেতারা, আমলা ব্যবসায়ীদের, ভরসা সামরিক বাহিনীর হাসপাতাল সিএমএইচ (ঈগঐ), সব কারাগার, পুলিশ, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আনসার ও বর্ডার গার্ড, হাসপাতালসমূহ সরাসরি অৎসু গবফরপধষ ঈড়ৎঢ়ং (অগঈ) কর্তৃক পরিচালিত হলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে, চিকিৎসকের অভাব হবে না। অগঈ হবে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, সব চিকিৎসক, সেবিকা ও টেকনিশিয়ানদের পদবি হবে সামরিক বাহিনীর- অগঈ র। তারা সুযোগ সুবিধা বেশি পাবেন। তাই তাদের কাজে থাকবে প্রশান্তি ও আনন্দ এবং সময়মতো পেশাতে অগ্রগতি।

বেসামরিক অনেক সরকারি হাসপাতাল বর্তমানে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে অগঈ চিকিৎসকদের দ্বারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব সদস্য ও পরিবারবর্গ সামরিক বাহিনীর সমান সুযোগ পাবেন। সামরিক বাহিনীর মেডিক্যাল কলেজে অধ্যায়নরত এমবিবিএস পাস করে পাঁচ বছর অগঈ তে চাকরি করতে বাধ্য থাকবেন, নতুবা ক্ষতিপূরণ দেবেন ৩০ লাখ টাকা।

ওঠ. ঢাকা শহরে জেনারেল প্র্যাকটিশনার্স ও রেফারেল পদ্ধতির প্রবর্তন
ঢাকা শহরে ১০০ ওয়ার্ডে প্রস্তাবিত ২০২০-২১ বাজেটে জেনারেল প্র্যাকটিশনার্স (এচ) ও রেফারেল পদ্ধতির জন্য ২০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিন। ২ কোটি নগরবাসীর জন্য খুব বেশি বরাদ্দ নয়। ঢাকা শহরের সব জেনারেল প্র্যাকটিশনার্স সেন্টারে চিকিৎসকের কাছে লিপিবদ্ধ নাগরিকরা বিনা ফিতে পরামর্শের পাশাপাশি ইসিজি, অ্যাম্বুবেগ, অক্সিজেনপালস অক্সিমিটার ও নেবুলাইজার সুবিধা, ফার্মাসি, ছোট ল্যাব, এএনসি-পিএনসি ও ফিজিওথেরাপি সুবিধা পাওয়া যাবে। অতিরিক্ত থাকছে স্বাস্থ্য শিক্ষা, স্কুল স্বাস্থ্য কার্যক্রম ও হোমভিজিট বাড়িতে গিয়ে রোগী দেখা এবং প্রেসক্রিপশন অডিট ব্যবস্থাপনা। অতিরিক্ত ওষুধের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার অপচয় বটে, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও বটে।
রোগীরা ন্যায্যমূল্যে সরকারি ওষুধ কোম্পানি ইডিসিএলের (ঊউঈ) সব ওষুধ পাবেন অল্প খরচে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সকল রোগী বিনা ফিতে চিকিৎসকের পরামর্শ পাবেন, বিকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ পাবেন সরকারি নির্ধারিত একটা ন্যায্য ফিতে। কেবলমাত্র জিপি চিকিৎসকরা রোগীদের নির্দিষ্ট হাসপাতালে অধিকতর চিকিৎসার জন্য রেফার করতে পারবেন, রোগীর হয়রানি কমবে। এচ এবং হাসপাতালের চিকিৎসকদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও পেশাসংক্রান্ত সম্পর্ক গভীর হবে। হোম ভিজিট করলে এচ অতিরিক্ত ফি পাবেন। ফলে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমবে। কিছু জেনারেল প্র্যাকটিশনার্স নিকটবর্তী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে খণ্ডকালীন শিক্ষকতার দায়িত্বও পালন করতে পারবেন আনন্দের সাথে, পাবেন শিক্ষকতা ভাতা। সাথে তার পছন্দ মতো বিষয়ে সার্টিফিকেট কোর্সে অংশগ্রহণ করে, পরীক্ষায় পাস করে জুনিয়র বিশেষজ্ঞ পদ ও পাবেন, সাথে আনুমানিক ২০,০০০ টাকার অতিরিক্ত ভাতা।

পুষ্টি ব্যতীত স্বাস্থ্য অকল্পনীয়
৫. দেশে দুই কোটি দরিদ্র ও নি¤œ আয়ের পরিবারকে করোনা উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আগামী ছয়মাস ফ্রি রেশন দেয়া সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। চার থেকে ছয়জনের পরিবারের জন্য প্রতিমাসে চাল ২০ কেজি, আটা পাঁচ কেজি, আলু ১০ কেজি, সরিষার তেল এক লিটার, সয়াবিন তেল এক লিটার, পেঁয়াজ এক কেজি, মসুর ডাল দুই কেজি, আদা ২০০ গ্রাম, রসুন ২০০ গ্রাম, শুকনা মরিচ ২০০ গ্রাম, লবণ ১-২ কেজি, চিনি ১-২ কেজি ও সাবান দুটিসহ মোট খাদ্য প্যাকেটে ব্যয় হবে অনধিক দুই হাজার টাকা। ফ্রি খাদ্য রেশনে কেন্দ্রীয় সরকারের মাসিক ব্যয় মাত্র চার হাজার কোটি টাকা। খাদ্যগুদামে স্থান বাড়বে যা কৃষকের শস্য উৎপাদনে আকর্ষণ বাড়াবে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রতি মাসে প্রতি পরিবারকে আরো দিতে হবে দুই কৌটায় ২০০ আয়রন টেবলেট, ৬০ মিলিলিটারের এক বোতল প্যারাসিটামল সাসপেনশন, ৩০টি ৫০০ মিলিগ্রামের প্যারাসিটামল ট্যাবলেট, ১০০ মিলিলিটার ক্লোরহোভিন এবং পাঁচটি ঙজঝ সাসেটস, এতে ব্যয় হবে মাসে অনধিক দুইশ’ টাকা। সাথে উঠানে সবজি চাষে সহযোগিতা। গর্ভবর্তী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের প্রতি সপ্তাহে একবার দুধ, ডিম খাওয়ার সুবিধার জন্য মাসে ৫০০ টাকা নগদ সহযোগিতা দেয়া কাম্য হবে। স্মরণ রাখতে হবে, নগদ অনুদান অধিকতর দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করে। সুতরাং নগদ অনুদানের পরিমাণ যথাসাধ্য কম রাখতে হবে। খাদ্য সহযোগিতা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে হবে, সর্বদলীয় রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্র ও এনজিওদের সহায়তায়, সাথে থাকবেন সামরিক বাহিনীর দেশপ্রেমিক সেনানীরা।

অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাস সামাজিক বৈষম্য নিরসনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি

৬. ক. নতুন সিনিয়র সচিব নয়
নিত্যনতুন সিনিয়র সচিব সৃষ্টি কাম্য নয়, কোনো আমলাকে চাকরিতে এটেনশন দেয়া অনভিপ্রেত। তারা রাজনীতিবিদদের প্রতিপক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচনবিরোধী, সুখের পায়রা, জনগণ বিচ্ছিন্ন। জনগণের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি এবং জবাবদিহিবিহীন প্রশাসনে এদের বিশেষ পারদর্শিতা রয়েছে।

খ. সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও করপোরেট কর্মকর্তাদের বেতন হ্রাস

ইন্সপেক্টর থেকে আইজিপি, ক্যাপ্টেন থেকে জেনারেল, সেকসন অফিসার থেকে সিনিয়র সচিব, লেকচারার থেকে উপাচার্য, করপোরেট কর্মকর্তা, ব্যাংকার, বিচারক থেকে বিচারপতি, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের আগামী এক বছর ২০ শতাংশ বেতন ও ভাতা হ্রাস করা হবে করোনা সৃষ্ট পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য এবং দেশের সার্বিক অবস্থার বিবেচনায় যৌক্তিক কার্যক্রম নিতে হবে। এক শ্রেণীর নাগরিক প্রাচুর্যের মধ্যে জীবন যাপন করবেন আর শ্রমিকরা অর্ধাহারে কালাতিপাত করবেন, এটা সভ্যতার লক্ষণ নয়।

গ. পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া সব প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের টিউশন ফি ২৫ শতাংশ হ্রাস বাঞ্ছনীয়।
ঘ. বিদেশে সরকারি অর্থে চিকিৎসা সুবিধা রহিতকরণ।

সরকারি অর্থায়নে বিদেশে চিকিৎসা সুবিধা পাবেন না সংসদ, মন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট বা অন্য কোনো নাগরিক। সবাইকে নিজ দেশে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে।

ঙ. ক্ষতিপূরণ ব্যতিরেকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার কুইক রেন্টাল-২০২০ বাজেট থেকে প্রত্যাহার, দেশবাসী আর কতদিন ব্যবসায়ীর হাতে প্রতারিত হবেন। মেগা প্রকল্পের লাগাম কিছুদিন ধরে রাখুন।

চ. জনপ্রশাসন (আমলাতন্ত্রের) বিভাগের ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাসের ব্যবস্থা নিন।

ছ. প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীসহ সব ভিআইপির নিরাপত্তা ব্যয় ৫০ শতাংশ কমানো হলে পুলিশ ও এলিট ফোর্সের সদস্যরা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অধিক মনোযোগ দেয়ার সুযোগ পাবেন, খুনখারাবি কমবে এবং রাহাজানি, ছিনতাই, পথেঘাটে যৌননিপীড়ন হ্রাস পাবে, সফলতার জন্য পুলিশ পুরস্কৃত হবে। পুলিশ হবে জনগণের সত্যিকারের বন্ধু।

জ. বিজ্ঞান শিক্ষাকে মাদরাসা শিক্ষার সাথে যুক্ত করে তা সব সম্প্রদায়ের জন্য উন্মুক্ত করা যেতে পারে। মসজিদকে প্রাক স্কুল শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যায় কিনা সেটি দেখা যেতে পারে।

ঝ. ব্যয় হ্রাসের অজুহাতে কোনো শ্রমিক ছাঁটাই চলবে না।

রাষ্ট্রের আয় বৃদ্ধি উন্নয়নের জন্য অত্যাবশ্যক

৭. ক. নগণ্য নিবন্ধিত আয়কর দাতা
দেশে বর্তমানে মাত্র ২২ লাখ ব্যক্তি আয়কর নিবন্ধিত আছেন। এটা হতে হবে কমপক্ষে এক কোটি। ফেরিওয়ালা, নিরাপত্তা প্রহরী, চা-ওয়ালা, ছোট দোকানদার, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, কার ড্রাইভার, বেবিট্যাক্সি ড্রাইভার ও ফুটপাথের ফল ও হোটেল মালিক, সিগারেটের দোকানদার, সবজিওয়ালা, সরকারি-বেসরকারি নি¤œশ্রেণীর কর্মচারী, কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক, অনভিপ্রেত কোচিং সেন্টার মালিকÑ সবাইকে নিবন্ধিত হতে হবে। গৃহকর্মীদেরও নিবন্ধিত হতে হবে। তবে গৃহকর্মীদের নিবন্ধন ফি দেবেন গৃহকত্রীরা। বাৎসরিক নিবন্ধন ফি এক হাজার টাকার বিনিময়ে পাবেন পুলিশের হয়রানি থেকে রক্ষা এবং ব্যাংক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জেনারেল প্রাকটিশনার্স পরামর্শ ও ফ্রি স্বাস্থ্য সুবিধা, কতক ওষুধ ও বড় হাসপাতালে পূর্বাহ্নে নির্ধারিত রেফারেল সুবিধা। সরকারের আয় বাড়বে এক হাজার কোটি টাকা।

খ. আয়করমুক্ত করসীমা : পাঁচ লাখ টাকা
আয়করমুক্ত করসীমা ৩.৫০ লাখের পরিবর্তে ৪.৫ লাখে নির্ধারণ করুন, বয়োবৃদ্ধ ও বিধবাদের জন্য অতিরিক্ত পঞ্চাশ হাজার টাকা। বয়োবৃদ্ধদের ব্যক্তি স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় অত্যধিক, যৌক্তিক আয়কর হবে ৫ থেকে ৩০ শতাংশ। ব্যাংক ও করপোরেট ট্যাক্স ন্যূনতম ৪৫ শতাংশ নির্ধারিত থাকা বাঞ্ছনীয়। সাথে বাধ্যতামূলক বিনিয়োগ শর্তও থাকবে।

গ. সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল ও প্রসাধনীর মূল্যবৃদ্ধি
স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, পরিবেশের জন্য অমঙ্গলকর ধূমপান, জর্দা, পানসেবন, মাদকাসক্তি, অপ্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন এবং ক্ষতিকর প্রসাধনী উৎপাদন ও বিপণন হ্রাস করার জন্য ১০০ শতাংশ শুল্ক ধার্য যৌক্তিক উদ্যোগ। নি¤œস্তরের প্রতি শলাকা সিগারেট ১৫ টাকা (১০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্কসহ) মধ্যম শ্রেণীর প্রতি শলাকা ২৫ টাকা এবং উচ্চস্তরের প্রতি শলাকা সিগারেট পঞ্চাশ টাকা এবং ফিল্টারবিহীন প্রতি ১০ শলাকার বিড়ির প্যাকেট মূল্য হবে ৫০ টাকা (সম্পূরক শুল্কসহ), ফিল্টারযুক্ত ১০ শলাকার বিড়ির প্যাকেটের মূল্য ষাট টাকা নির্ধারণ করুন, নাগরিকদের ক্ষতি কমবে, পরিবেশ উন্নত হবে এবং সরকারের আয় কমপক্ষে কয়েক হাজার কোটি টাকা বাড়বে। প্রতি ১০ গ্রাম জর্দা ও গুলের মূল্য (সম্পূরক শুল্কসহ) যথাক্রমে ১২০ ও ১০০ টাকা ধার্য করুন।

একইভাবে লিপস্টিক ও অন্য প্রসাধনী পারফিউমের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করুন। অতিরিক্ত লিপস্টিক ও প্রসাধনী শরীরের জন্য ক্ষতিকর ও পুঁজিবাদী প্রচারণা। বিষয়টি সম্পর্কে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নারীদের অজ্ঞতা দুঃখ ও বিপজ্জনক। নারীর তথাকথিত সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ক্ষতিকর প্রসাধনী ব্যবহার বৃদ্ধির মতো পুঁজিবাদী মাধ্যমে প্রচারণা থেকে সতর্ক করার জন্য শিক্ষা কার্যক্রম ব্যবহার করুন। স্মরণ রাখবেন, বিভিন্ন ধরনের অনেক ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কারসিনোজেন সংযুক্ত থাকে লিপস্টিক ও প্রসাধনীতে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে।
হাট-বাজার, ট্রেন, বাস স্টেশন, পার্ক, লঞ্চঘাটে প্রকাশ্যে ধূমপান নিষিদ্ধ হওয়া বাঞ্ছনীয়। ব্যত্যয় ঘটলে প্রতিবার জরিমানা হবে ১০০ টাকা, অর্জিত জরিমানা অর্ধেক পাবে পুলিশ, বাকি টাকা যাবে সরকারি তহবিলে। পানের পিক ফেললেও জরিমানা হবে, পার্কে বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে পান সেবন দৃষ্টিকটু, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

ঘ. যানবাহনের রেজিস্ট্র্রেশন ও রোড ট্যাক্স বাড়ান
দেশে প্রায় ৪৪ লাখ যানবাহন আছে। তন্মধ্যে ৫০ হাজার বাস, এক লাখ ৫৩ হাজার ট্রাক, তিন লাখ অটোরিকশা, প্রায় দেড় লাখ কভারড ও উন্মুক্ত ভ্যান এবং পিকআপ, ৩০ লাখ মোটরসাইকেল, জিপ ৬৫ হাজার, মাইক্রো ও মিনিবাস এক লাখ ৩৫ হাজার, প্রাইভেট প্যাসেঞ্জার কার তিন লাখ ৬০ হাজার, সামরিক যানবাহন হিসাব প্রকাশ্য জ্ঞাত নয়। সব সরকারি-বেসরকারি মোটরযান ও মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়ান, বাৎসরিক রোড ট্যাক্স হওয়া উচিত ন্যূনতম এক লাখ টাকা। তবে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার টাকা পর্যাপ্ত। সরকারি-বেসরকারি পাবলিক ট্রান্সপোর্টের রোড ট্যাক্স বৃদ্ধি বাঞ্ছনীয় নয়। আইনশৃঙ্খলা ও সামরিক বাহিনীর সব যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক এবং রোড ট্যাক্স হবে বেসামরিক যানবাহনের সমতুল্য। কৃষি যানবাহন, ট্রাক্টর রেজিস্ট্র্রেশন ও রোড ট্যাক্সের আওতায় আসবে। সব সরকারি-বেসরকারি কোম্পানির প্রত্যেক যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন ফি প্রতি পাঁচ বছরে এক লাখ টাকার অনধিক হওয়া বাঞ্ছনীয় হবে না। সমহারে বাৎসরিক রোড ট্যাক্স বাড়বে।

পরিবার দ্বিতীয় গাড়ি ব্যবহার করলে দ্বিতীয় মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন ফি ও রোড ট্যাক্স হবে প্রথম গাড়ির দ্বিগুণ। পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে সপ্তাহে একদিন সব প্রাইভেট গাড়ির চলাচল বন্ধ রাখার চেষ্টা করা উচিত। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করতে হবে। ছাত্ররা অর্ধেক ভাড়ায় ও মাসিক পাশে এবং বয়োবৃদ্ধরা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারের সুবিধা পাবেন বিনা ভাড়ায় দুপুর ১টা থেকে বেলা ৩টা অবধি। নগরপিতারা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন।

প্রত্যেক ট্রান্সপোর্ট মালিক তার গাড়ি নগরপুলে যুক্ত করবেন, তার দায়িত্ব শেষ। সমপরিমাণ লাভ পাবেন, তাদের বিনিয়োগ হবে আয়করমুক্ত। নারী ড্রাইভার হবে নারী নির্যাতন রোধের প্রধান প্রতিষেধক। অহেতুক প্রতিযোগিতা না থাকায় নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। এককালীন রেজিস্ট্র্রেশন ও প্রতি বছরের রোড ট্যাক্স বাবদ সরকারের আয় বাড়বে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। প্রাচুর্যে বসবাসের জন্য তো একটা ন্যূনতম মূল্য দিতে হবে। আর্টিকুলেটেড লরি, ট্রাক, বাস ড্রাইভারদের ক্রমাগত উচ্চতর ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা, নারীদের প্রফেশনাল ডাইভিং প্রশিক্ষণে ব্যয় রাস্তায় দুর্ঘটনা কমাবে। ট্রান্সপোর্টে যৌননিপীড়ন হ্রাস পাবে। প্রশিক্ষণব্যয় বছরে এক হাজার কোটি টাকার অনধিক কিন্তু প্রশিক্ষণ আয় বছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকা হওয়া সম্ভব। নারীদের বিদেশে ডাইভিং কর্মসংস্থান সম্ভব হবে। বিশেষত মুসলিম দেশগুলোতে অতিরিক্ত আকর্ষণ। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ১৯৮২ সালে প্রথম নারী ডাইভিং শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছিল। সালেহা বাংলাদেশের প্রথম প্রফেশনাল নারী ড্রাইভার এবং মৌ ক্রিমিনাল সমস্যা প্রধান। মৌ-এর মেয়ে ম্যাজিস্ট্রেট, নিজে ইউনিসেফ ড্রাইভার, আমার চেয়ে বেশি আয় করেন। অপর নারী ড্রাইভার রেখা আখতার সাবেক বিশ্ব ব্যাংক প্রধান ক্রিশিয়ান ওয়ালিসের ড্রাইভার ও সহকর্মী, ইংরেজি শিখেছিলেন গণবিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র তিন মাসে, অপূর্ব প্রতিভা দরিদ্র কন্যার। কেবল প্রয়োজন প্রশিক্ষণের জন্য দ্বার খুলে দেয়ার।

ঙ. কোর্ট ফি বৃদ্ধি কোর্টে নৈরাজ্য কমাবে
কোর্টে নৈরাজ্য চলছে, লাগাম টেনে ধরার সময় এসেছে। ন্যূনতম কোর্ট ফি উচিত হবে পাঁচ হাজার টাকা, তিনবারের অতিরিক্ত প্রতিবার
সময় প্রার্থনার জন্য বাধ্যতামূলক ফি হবে পাঁচ হাজার টাকা, শাস্তিমূলক কোর্ট ফি জমা দেয়ার পর নতুন তারিখ পাবেন। এক বছরের মধ্যে সমস্যার নিষ্পত্তি না হলে প্রতিবার ১০ হাজার টাকা কোর্ট ফি জমা দিতে হবে। সরকার পাবে ৫০ এবং প্রতিপক্ষ পাবে ৫০ শতাংশ। এতে অনাকাক্সিক্ষত মামলা কমবে।

ফৌজদারি মানহানি মামলার ন্যূনতম কোর্ট ফি হবে ২০ হাজার টাকা। সিভিল মানহানি মামলার কোর্ট ফি হবে দাবি অনুসারে, যত বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করবে, তত বেশি কোর্ট ফি জমা দিতে হবে। তবে ৫০ হাজার টাকার কম দাবি চলবে না, অগ্রিম কোর্ট ফি জমা না দিলে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করবে না। অভিযোগকারী হারলে সব টাকা হারাবেন। ঠুনকো মান-অভিমানের অবকাশ নেই। অযথা হয়রানি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। কেবল মানহানি মামলার কোর্ট ফি জমা দেয়ার পর থানা মামলা লিপিবদ্ধ করবে, তৎপূর্বে নয়। ডিজিটাল আইনের অপব্যবহার বন্ধ করা অত্যাবশ্যক। ডিজিটাল আইনে মামলা হারলে মামলাকারী অভিযুক্তকে ন্যূনতম এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে ও ক্ষমা চাইতে বাধ্য থাকবেন। কোর্ট ক্ষতিপূরণের ৫০ শতাংশ পাবে কোর্ট এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি পাবেন ৫০ শতাংশ। রাজনীতিবিদদের মধ্যে হাস্যরস কাম্য।

হাইকোর্টের বিভিন্ন ছুটি হ্রাস মামলার জট কমানোতে সহায়ক হবে। সুপ্রিম কোর্টে পাঁচটি স্থায়ী বেঞ্চ সৃষ্টি সময়ের দাবি- ১. ক্রিমিনাল, ২. সিভিল, ৩. শ্রমিক অধিকার ও কোম্পানি বিষয়ক, ৪. সংবিধান ও মৌলিক অধিকার এবং ৫. নারী নির্যাতন নিবারণ, নারী অধিকার পারিবারিক সমস্যা নিরসন। ন্যূনতম দুই-তিনজন স্থায়ী বিচারপতি একত্রে বেঞ্চ পরিচালনা করবেন। প্রধান বিচারপতি সরকারি হস্তক্ষেপে স্থায়ী বেঞ্চের বিচারপতি বদলাতে পারবেন না। খয়ের খাঁ প্রধান বিচারপতি আইনের প্রতি জনগণের অনাস্থা বাড়ায়। বিভিন্ন (জবারব)ি মামলায় প্রত্যেক বেঞ্চের প্রধানরা অংশ নেবেন কমপক্ষে বছরে ১২ বার। সুপ্রিম কোর্টে ন্যূনতম ২৭ জন সিনিয়র বিচারপতির নিয়োগ হবে যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ। হাইকোর্টের জন্য ২০২০-২১ সালের বাজেটে ন্যূনতম এক হাজার কোটি বরাদ্দ প্রয়োজন। ২২২ কোটি অত্যন্ত অপ্রতুল। সুপ্রিম কোর্ট ও তার পাঁচটি স্থায়ী বেঞ্চের অবস্থান হবে কেন্দ্রীয় রাজধানী ঢাকায় এবং ৬৪ হাইকোর্ট বসবে জেলা স্টেটে (উরংঃৎরপঃ ঝঃধঃব)। দ্রুত ন্যয়বিচার নিশ্চিতকরণই লক্ষ্য।

চ. কয়েকটি শুষ্ক বৈষম্য ও ছাপার ভূত
স্বাস্থ্যের জন্য অপ্রয়োজনীয় বা ক্ষতিকর সব প্রকার মিনারেল ওয়াটার, বিয়ার, ভরমুথ, স্কচ, স্পিরিট, ইথাইল অ্যালকোহল, এটাক্ট, এসেন্স, চিনি, লবণ, চুরুট, রিকনসটিউটেড তামাক, টেস্টিং সল্ট, (মনোসসাডিয়াম গ্লুটামেট), রোস্টেড কফি, নন অ্যালকোহলিক এনার্জি ড্রিংকসের শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ থেকে ১০০ শতাংশে উন্নীত করা হবে যৌক্তিক কাজ। রাষ্ট্রের আয় বৃদ্ধি হবে এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে, স্থ’ূলতা (ঙনবংরঃু) কমবে, উচ্চ রক্তচাপ ও বহুমূত্র সম্ভাবনাও কমবে।

ওষুধের কাঁচামাল আমদানির ওপর কয়েক ধরনের শুল্কহার আছে। এন্টিবায়োটিকের জন্য দুটো দর সকল পেনিসিলিন, স্ট্রেপটোমাইসিন, টেট্রাসাইক্লিন ও ক্লোরামফেনিকল শূন্য শতাংশ, এজিত্রিমাইসিন ও ইরিত্রোমাইসিনে ১৫ শতাংশ অযৌক্তিক। সব এন্টিবায়োটিকের জন্য একটি শুল্কদর থাকা বাঞ্ছনীয়, যাতে কাস্টমস হাউজে দুর্নীতির দরাদরি না হয়।

সব ঘুমের ওষুধ, ভিটামিন, ক্যান্সার চিকিৎসার ওষুধ এন্টিম্যালেরিয়া, এন্টি যক্ষ্মা, এন্টিকুষ্ঠ, হৃদরোগ নিবারক, এন্টিহেপাটিক কেপালোপেথিক, কিডনি ডায়ালাইসিস সলিউশন, পরিবার পরিকল্পনার ওষুধ ও দ্রব্যাদি, এন্টিসেরা ও ব্লড ফ্রাকসন, হেপাটাইটিস সি’র ওষুধ, থ্যালাসেমিয়ায় ওষুধ, মানুষ ও প্রাণীর ভ্যাকসিন, ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু নির্ণয় কিট প্রভৃতি আমদানি শুল্ক শূন্য শতাংশ, তবে কুইনাইন, কেফিন, ইফিড্রিন, কেটামিন, বিভিন্ন এনেসথেটিকস, মাদকদ্রব্য (ঘধৎপড়ঃরপং), আরগোমেট্রিন প্রভৃতির আমদানি শুল্ক রয়েছে ৫ যা ২৫ শতাংশ হওয়া উচিত। সব ঘুমের ওষুধের শুরু শুল্ক শূন্য-এর পরিবর্তে ২৫ শতাংশ হওয়া বাঞ্ছনীয় স্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে। ডায়াগনস্টিক রিএজেন্টস, ব্লাডগ্রুপ রিএজেন্টস এন্টিসেরা, জীবাণুুমুক্ত স্টেরাইল গজ, সুচার, অ্যাডহেসিভ ড্রেসিংয়ের একই দর হওয়া উচিত ৫ বা ১০ শতাংশ। ভিন্ন ভিন্ন দর ভিন্ন প্রক্রিয়ায় হয়রানি ও দুর্নীতি সৃষ্টি করে। ডেন্টাল ক্লিনিকের বেলায়ও আমার মতে, দুটো দরই যথেষ্ট শূন্য ও ১০ শতাংশ। স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর সব প্রকার এনার্জি ড্রিংকসের জন্য শুল্ক ১০০ শতাংশ বাঞ্ছনীয়।

অন্য কয়েকটি অসঙ্গতি ইসিজি, আলট্রাসনিক যন্ত্রপাতির ট্যাক্স ১ শতাংশ কিন্তু রোগী মনিটরের শুল্ক ৫ শতাংশ। খালি প্রিফিল্ড ইনজেকশন শুল্ক, ইউভি কেনুলা, ফিডিং টিউব, ফিস্টুলা নিউল, ড্রেনেজ ব্যাগ, স্ক্যালপ ভেইন, সাকসন ক্যাথেটারে ১০ শতাংশ শুল্ক কিন্তু ইনসুলিন কার্টিজে শুল্ক শূন্য শতাংশ। উভয় ক্ষেত্রে শূন্য বা ৫ শতাংশ দরে শুল্ক স্থির করা যৌক্তিক কাজ হবে, হিয়ারিং এইডস ও পেসমেকার, হার্টের ভালব মেডিসিন ছাড়া বা মেডিসিনযুক্ত করোনারি স্ট্যান্টের শুল্ক শূন্য শতাংশ। কিন্তু স্ট্যান্ট চার্জ এখন খুব বেশি, ২৫ হাজার টাকা থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা।

দুর্নীতির খাঁচার মুখের প্রহরী কি চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ না স্ট্যান্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান? সব মেডিক্যাল যন্ত্রপাতির শুল্ক ১ শতাংশ সীমিত করলে আপত্তির কারণ থাকবে না। ইনফ্লুশনে ২৫ শতাংশ ইসিজি পেপারে ১০ শতাংশ ভুল সিদ্ধান্ত একই হার যুক্তি সঙ্গত। দেশে কাঁচামাল উৎপাদিত হলে আমদানি পুরো বন্ধ, রফতানির নামেও নয়, রফতানির জন্য ন্যূনতম আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ হওয়া বাঞ্ছনীয়। সব মেডিক্যাল যন্ত্রপাতির ট্যাক্স ১ শতাংশ সীমিত থাকবে। রেফারেল ও গ্র্যাজুয়েটের স্টাডিসের বই শূন্য শুল্ক, অন্যদের ৫ শতাংশে সীমিত করুন। বিদেশি ক্যালেন্ডার ও আকর্ষণীয় অভিনন্দন কার্ডের শুল্ক ২৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ ধার্য করুন। বিলাসিতার একটা মূল্য তো দিতে হবে।

এয়ারক্র্যাফটস, এরোপ্লেন শূন্য শুল্ক কিন্তু বাস, ট্রাক, ট্যাক্সি, ট্যাঙ্ক, আরমার্ড ভেহিকলস, এয়ার কমব্যাট সিমুলেটরস ৫ শতাংশ শুল্ক, বেলুন গ্লাইডারসে ১০ শতাংশ। সেইলবোট, ইয়টে ২৫ শতাংশ শুল্ক যথেষ্ট নয়, ১০০ শতাংশ হওয়া বাঞ্ছনীয়। মোটরসাইকেলে ২৫ শতাংশ শুল্ক যুক্তিসঙ্গত।

আমদানি শুল্কের কারণে ওষুধের মূল্য বাড়ে না, বাড়ে ওষুধ কোম্পানির অতিরিক্ত লোভ-লালসা ও প্রতারণার অভ্যাসের দরুণ এবং সরকারের সাথে অনৈতিক বন্ধুত্বের কারণে। ১৯৮২ সালে জাতীয় ওষুধ নীতির মূল্যনির্ধারণ নীতিমালা যথাযথভাবে প্রয়োগ না করলে ওষুধের খুচরা মূল্য কমবে না, ক্রমাগত দাম বাড়াবে ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি। সাথে বাড়বে ভেজাল ও নি¤œমানের ওষুধের ব্যাপক সরবরাহ, যার ভিড়ে সঠিক গুণের ওষুধ চাপা পড়ে যায়।
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার ১১৬ ও ১১৯ পৃষ্ঠায় ২০২০-২১ সালে বরাদ্দে কিছু ভিন্নতা ছাপা হয়েছে। ছাপার ভূত ভর করেছে।

উপসংহার : শেখ মুজিবুরের স্বপ্নের বাস্তবায়ন এবং করোনার সাথে যুদ্ধব্যয়

৮. অনতিবিলম্বে করণীয় বিষয় ও বিশেষ বরাদ্দ :

র. গভর্নর নিয়োগ ও সংবিধান সংস্কার : ৬৪ জেলা স্টেট কমিশন ও গর্ভনর নিয়োগ এবং ছয় মাসের মধ্যে সংবিধান সংশোধন করে শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের বাস্তবায়ন শুরু করুন।
রর. খাদ্য নিরাপত্তা : দুই কোটি দরিদ্র ও নি¤œবিত্ত পরিবার

ছয় মাস। ফ্রি মাসিক খাদ্য রেশন সুবিধা দিন যাতে প্রতি পরিবারের জন্য ব্যয় হবে দুই হাজার টাকা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে ২০০ টাকা অনধিক।
৩২ হাজার ৪০০ কোটি এবং + শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও প্রসূতির ডিম, দুধ খাওয়ার জন্য ৫০০ টাকা ক্যাশ ওহপবহঃরাব, এনজিও সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রত্যেক বাড়ির সবজিবাগান সৃষ্টিতে সহযোগিতা প্রদান।
ররর. সঠিক নিবন্ধন: দুর্নীতি থেকে উত্তরণ, গবেষণা ও তদারকির কাজের জন্য ইওউঝ ও অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেয় দুই হাজার কোটি টাকা অনুদান।

রা. কৃষিতে ব্যাপক বিনিয়োগ: ব্যাপক কর্মসংস্থান ও খাদ্যনিরাপত্তা সৃষ্টির পাশাপাশি রফতানিও সম্ভব। বেসরকারি খাতে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, ডেইরি ও পোলট্রির উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সুদবিহীন ব্যাপক সরকারি বিনিয়োগ দিতে হবে। তদারকি করবে এনজিওরা। ঋণ পৌঁছানোর জন্য ইওউঝ ও অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব গ্রহণ করবে, সঠিক চিত্র প্রকাশ করবে। তাই এনজিওরা ঋণ দান কর্মসূচি ভালোভাবে পরিচালনার জন্য শস্য উৎপাদন ও আহরণের ছয় মাস পর টাকা আদায় করে দেয়ার জন্য এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাবে, ২.৫ শতাংশ হারে। কৃষকের উপর কোনো সুদ বর্তাবে না।

ঠ. তৃণমূল স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ আবশ্যক : ক. করোনা প্রতিরোধের জন্য। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা বেষ্টনীর, চিকিৎসক ও অন্যদের বাসস্থান, ডরমিটরি এবং ২০ শয্যার হাসপাতালও যন্ত্রপাতি সংগ্রহে ব্যয় ২৫ হাজার কোটি টাকা। খ. ঈড়ৎড়হধ জরংশ অষষড়ধিহপব- এক হাজার কোটি টাকা।

গ. চিকিৎসকদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন বিষয়ে তিন মাস মেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্স প্রর্বতন এবং বিশেষ ভাতা প্রদান। অবস্থানের পর ন্যূনতম দুই বছর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্রে সার্বক্ষণিকভাবে ভাতা পাবেন। ব্যয়- এক হাজার কোটি টাকা।

ঠও. ঢাকা শহরের ১০০টি ওয়ার্ডে জেনারেল প্রাকটিশনার্স ও রেফারেল পদ্ধতির প্রচলন, দুুই হাজার কোটি টাকা

ঠওও. সিএমএইচ , কারাগার হাসপাতাল, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাসপাতালের সংযুক্তিকরণ এবং দুই হাজার কোটি টাকা সামরিক মেডিক্যাল কোরের (অগঈ) নিয়ন্ত্রণাধীনে আনা নতুন আধুনিক ব্যবস্থাপনার অংশ।

ঠওওও. প্রবাসী দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারকে রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী

ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একত্রে মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব ও আফ্রিকা পরিভ্রমণ প্রয়োজন+অভিবাসীদের আর্থিক সাহায্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রদান।

ওঢ. বয়োবৃদ্ধদের চিকিৎসাসেবা এবং স্কুল স্বাস্থ্য কার্যক্রম। পাঁচ হাজার কোটি টাকা.

ঢ. যৌন নিপীড়ন নিবারণে ও যানবাহনে নারীর নিরাপত্তা প্রদানের জন্য ভিআইপি ডিউটি থেকে অব্যাহতি প্রাপ্ত এলিট পুলিশ ও সামরিক সদস্যদের নতুন দায়িত্ব দিন, পথে ঘাটে, যানবাহনে, হাট-বাজারে নারীদের নিরাপত্তা প্রদান ও যৌন নিপীড়ন নিবারণ, নারী নির্যাতন ও যৌন নিপীড়ন অবসানের ভূমিকা রাখা জন্য মাদরাসা, মসজিদ ও অন্যান্য শিক্ষকদের মানবিক উন্নয়ন প্রকল্প নিন, শহরে পাঁচহাজার কোটি টাকা। গ্রামে শত শত পথনাটক পরিচালিত হলে নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। নির্বাচিত নারী মানে নির্যাতিত রাষ্ট্র ও জাতি। যৌন নিপীড়নের চেয়ে বড় কোনো ন্যক্কারজনক ঘটনা নেই। ঠওচ. নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে বিশেষ অনুদান। এক হাজার কোটি টাকা
সর্বমোট : এক লাখ ৯২ হাজার কেটি টাকা

২০২০-২১ বাজেটের এক-তৃতীয়াংশ দাবি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অন্যায় আবদার নয়। ন্যায্য অধিকার আদায়ের অংশ।
বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর উন্নয়নই শেখ মুজিবের স্বপ্নের বাস্তবায়ন এবং তা হবে তার জন্মশতবার্ষিকীতে শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধার্ঘ। জয় হোক জনতার।
তথ্যসূত্র : বাজেট বক্তৃতা ২০২০-২১, অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথপরিক্রমা আহম মুস্তফা কামাল, অর্থমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকার।
লেখক : ট্রাস্ট্রি গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র

Hits: 31


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ