করোনা বনাম বিশ্ব পুঁজিবাদ : ২০২০-২১ বাংলাদেশ বাজেট

Pub: সোমবার, জুন ২২, ২০২০ ৫:০৬ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী। জীবনে বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বহু বাধার মুখেও সত্য ও সংগ্রামের পথে কখনো আপস করেননি। গোটা দেশ, এমনকি গোটা পৃথিবীটাকেই যখন মহামারি করোনা ভাইরাস তছনছ করে দিচ্ছে, তখন আরও একবার করোনা জয় করে মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন একাত্তরের রণাঙ্গনের এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। এখনও হাসপাতালের বেডেই আছেন তিনি। তবে আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন। 

কিন্তু বিশ্রামে থাকার এই দিনগুলোতেও সময়কে বৃথা যেতে দেন না যিনি, তিনি এই জাফরুল্লাহ চৌধুরী। করোনামুক্ত হলেও এখনও তিনি হাসপাতালেই চিকিৎসকদের পরিচর্যায় আছেন। আর ঠিক এই সময়টাতেই তার কলম গড়িয়ে নামছে করোনার অভিজ্ঞতা ও অভিজ্ঞান। হাসপাতালেই বেডে শুয়েই লিখেছেন- “করোনা বনাম বিশ্ব পুঁজিবাদ : ২০২০-২১ বাংলাদেশে বাজেট” শীর্ষক দীর্ষ নিবন্ধ। তাঁর এই লেখায় উঠে এসেছে সমসাময়িক অনেক ভাব-ভাবনা এবং একইসঙ্গে ভবিষ্যত দূরদর্শন। ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি তিন পর্বে পুরো লিখাটি প্রকাশ করবে। যার প্রথম পর্ব আজ প্রকাশ হলো-

‘দুঃখের দিনে পাখিরা কি গান গাইবে? বিষাদের গান গাইবে’!! (বারটোল্ট ব্রেখ্ট, জার্মান দার্শনিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক)

* বিপন্ন পণ্য : বিশ্ব পুঁজিবাদ
সম্প্রতি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দ্রুতগতিতে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বেড়ে উল্কার বেগে ছুটছে। ফলে অনেক রাতকানা দার্শনিক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গভীরভাবে প্রচার করতে শুরু করেছেন যে, সাম্যবাদী সম সুযোগের সমাজ ব্যবস্থার সম্ভবত: কোন ভবিষ্যত নেই। ‘কার্ল মার্কস ইজ ডেড’, বেইজিং এর তিয়ানমিয়ান স্কোয়ারে বিস্মৃত মাও সে তুং, হো চি মিন সিটির স্কোয়ারে শায়িত হো চি মিন। হাভানা স্কোয়ারের কোথাও নেই ফিডেল ক্যাস্ট্রোর ভাস্কর্য, তবু তার উপস্থিতি অনুভবনীয়, চুরুট বিহীন হাসিও আকর্ষণীয়। হাভানার বহু জায়গায় চে গুয়েভারা দৃশ্যমান, চিরতরুণ। কৃষক-শ্রমিকের লাল ঝান্ডা কি আর উড়বে না?

বিশ্ব পুঁজিবাদ হঠাৎ ভয়ানক ধাক্কা খেল এক অজানা, অদৃশ্য কিন্তু সর্বত্র বিরাজমান ক্ষুদ্র ভাইরাস নভেল করোনা কভিড-১৯ এর কাছে। প্রায় অজানা করোনা ভাইরাস সারা পৃথিবীকে ধাবড়িয়ে তুলোধুনো করেছে, ধনী, দরিদ্র, সৎ, দুর্জন, দুর্নীতিপরায়ন রাজনীতিবিদ, আমলা, শিক্ষক, কৃষক জনতাকে। কারো পালাবার পথ নেই। করোনা ভাইরাস ছাত্র, শ্রমিক সবাইকে একটি কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে, রাষ্ট্র ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থায় ফিরে আসবে তো?

প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন মূলকথা নয়, মূলকথা সুন্দর জীবন-জীবিকা এবং জীবনের সব ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের সমঅধিকার ও সমসুযোগ। যার অনুপস্থিতির কারণে কি করোনা ভাইরাসের প্রতিশোধমূলক প্রয়াস, এ থেকে কারো রক্ষা নেই? ফরাসি মার্কসীয় অর্থনীতিবিদ টমাস পিকেটি কী ভাবছেন? নাকমুখে রক্তসঞ্চার স্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়, বরঞ্চ মৃত্যুর সিগনাল। অন্যায় লুঠেরা মুৎসুদ্দি শ্রেণি আজ সাধারণ মানুষের দুর্ভাগ্যের কাতারে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাবার তাদের কোনও পথ খোলা নেই। উন্নয়নের স্বপ্নের রাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশি দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদরা হঠাৎ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন, চোখে অন্ধকার দেখেছেন। অন্ধকার রুমে কালো বিড়াল খুঁজে বেড়াচ্ছেন। মুক্তি যেন সূদুর পরাহত।

* ট্রাস্ট্রি, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র
তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ চীনের উহানকে ছাড়িয়ে গেছে, শিল্প ও স্বাস্থ্যখাত পুরোপুরি বিপর্যস্ত। কেবলমাত্র সুষ্ঠুভাবে চালু আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী, সিএমএইচ এবং কয়েকটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দেশের সবচেয়ে বড় চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিএসএমএমইউ হাসপাতাল সম্পর্কেও প্রশ্ন উঠেছে। হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে, কয়েক শিক্ষকের করোনার মৃত্যুর ঘটনায়, প্রায় ‘লকডাউন’।

স্বাস্থ্য ব্যয় বিল এবং অক্সিজেনের স্বল্পতার আলাপ নাইবা হলো। দেশের প্রায় ৫০০০ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের (ইউএইচএফডব্লিওসি) ১০% ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে একজন ডাক্তারও সার্বক্ষণিকভাবে অবস্থান দূরে থাকুক, নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। ঝড় উঠবে সেখানে। অর্থনীতির সংবাদ আরও দুর্বিষহ।

বোমা ফুটিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) – দরিদ্রতার হার ২০% থেকে বেড়ে ৩২% হবে। উন্নয়ন অন্বেষণের পরিচালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাশেদ তিতুমীরের হিসাবে এ বছরই বাংলাদেশে দরিদ্রতা বেড়ে ৪২-৪৩% পৌঁছবে। ভয়ানক তথ্য, হিসাবে খুব ভুল নাও হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে বাংলাদেশে অন্যূন ৫০ লাখ ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হবে। অতিরিক্ত ২ কোটি দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবার খাদ্য সংকটে আছে, তাদের আয় ভয়ানকভাবে কমেছে, দ্রুত অবস্থার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। এসব সমস্যার মূলে রয়েছে সুশাসনের অভাব ও গণতন্ত্রহীনতা এবং লাগামহীন দুর্নীতি। জনপ্রতিনিধিরা পাপী, আমলারা নিষ্পাপ। আইনশৃংখলা বাহিনী ট্রিগার হ্যাপি।

উহানে করোনার ঢেউ দেখে এসএ টিভির মার্চের (২০২০) টকশোতে প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে আমি বলেছিলাম,‘ঝড় আসছে, হাসপাতাল সামলান, ভেন্টিলেটর নয়, বেশি প্রয়োজন নেবুলাইজার ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ’ এবং ‘একমাসের মধ্যে দ্রুত প্রশিক্ষণ দেয়া কয়েক হাজার সার্টিফিকেটধারী অবেদন চিকিৎসক (Anesthetist) যারা ভেন্টিলেটর চালাবেন, ইনটুবেশন করবেন এবং যাদের শ্বাসনালী (ট্র্যাকসটমী) দ্রুত কেটে বাতাস প্রবেশের দক্ষতা থাকবে’। মূল সমস্যায় নজর না দিয়ে কোভিড চিকিৎসার চিকিৎসক ও সেবিকাদের ৩-৫ তারকা হোটেলে থাকা নিয়ে সময় ক্ষেপণ করলেন। প্রাইভেট হাসপাতালের সাথে লেনদেন করলেন, দুর্নীতির প্রশ্রয় দিলেন, সেবা নিশ্চিত করলেন না। নিবেদিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মান দিলেন না। যারা পালাচ্ছে তাদের উপঢৌকন দিলেন, অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অধিকতর দুর্নীতি ও অজুহাতের সুযোগ করে দিলেন।

বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও গণতন্ত্রের মানসকন্যা একবারও সর্বদলীয় রাজনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ নিলেন না। আপনার রাজনৈতিক কর্মীদেরও বিশ্বাস করতে পারছেন না, কিন্তু কেন? কোথায় সংশয়, আপনার এত ক্ষোভ কেন, দুঃখ কোথায় লুকিয়ে আছে? গোয়েন্দা নির্ভরশীলতা অজান্তে বিপদ ডেকে আনে। আপনার এত কঠোর পরিশ্রম, সজাগ দৃষ্টি, দেশের জন্য পিতার ন্যায় অফুরন্ত ভালোবাসা দেশের জন্য পুরো সুফল আনছে না কেন, ভেবে দেখেছেন কি? দেশবাসী আপনাকে ভালোবাসে, তারা আরো একজনকে ভালোবাসে, তিনি খালেদা জিয়া। তিনি আপনার সমতুল্য না হলেও দেশের কঠিন বিপদ থেকে উত্তরণের জন্য আপনার খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাত প্রয়োজন, অতীতের ন্যায় মহানুভবতা প্রদর্শন করুন। তাঁর সুস্থতা কামনা করে আসুন, দুজনে মিলে জনকল্যাণকর সুশাসিত গণতান্ত্রিক আনন্দের বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করুন।

অতর্কিত করোনা সংক্রমণে বাংলাদেশে কয়েকজন মন্ত্রীর প্রলাপ উক্তি বৈসাদৃশ্য। করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রবাহ হবে ভয়ানক যা দ্বারপ্রান্তে অথচ আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের উন্নয়ন অন্বেষণ ২০২০-২১ বাজেট সম্পর্কিত তত্ত্ব-উপাত্ত আলোচনায় দেখিয়েছেন, যৌক্তিক প্রবৃদ্ধি ৪.২% এর অধিক সম্ভব নয়, উৎপাদনশীল জিডিপি কমবে ১২.৪%, প্রবাসী রেমিটেন্স আয় কমেছে, কয়েক দেশে প্রবাসী অভিবাসী বাংলাদেশিদের কর্মচ্যুতি ঘটেছে। ১৭৪টি রাষ্ট্রে বাংলাদেশের ১ কোটি ২০ লাখ অভিবাসী কাজ করেন, সেখানে কর্মসংস্থান বাড়ছে না, বরঞ্চ কমছে এবং পোশাক শিল্পের আয় স্থবির হয়ে পড়েছে, নীরব ছাঁটাই চলছে, শিক্ষায় সবার সমান সুযোগ নেই, সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা ভোগ করে মাত্র ৯৬ লাখ পরিবার। প্রাপ্তির সঙ্গে আছে দুর্নীতির উইপোকা, বেকারত্ব বাড়ছে ৩% হারে, অসহায়ত্ব শিক্ষিত বেকারদের।

* ২০২০-২১ : দুঃসময়ের বাজেট, কিন্তু আলোচনায় উত্তাপ নেই
দুঃসময়ে গতানুগতিক বাজেটে উত্তীর্ণ হওয়া যায় না, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণ অবসৃত থাকে, পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে কর্মদক্ষতায় ও প্রতিযোগিতায় পেছনে পড়ছে বাংলাদেশের শ্রমিকের উৎপাদন ক্ষমতা। প্রধানমন্ত্রীকে গণতান্ত্রিক আলোচনায় দেখা যায়নি ১৪ দলের সভায়, অধিকাংশ সময়ে তিনি ছিলেন আমলা পরিবৃত্ত, রাজনৈতিক সহকর্মীরা ম্রিয়মান। মৃত ব্যক্তির বন্দনা আছে, সঙ্গে আছে ঢাকঢোলের বাজনা অথচ কর্মীদের হৃদয়ে নেতার আকুতি অনুপস্থিত। এক নাগাড়ে ২০ দিন গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসক ও প্যারামেডিকদের অতুলনীয় সেবা ও জনগণের ক্রমাগত দোয়ায় করোনা মুক্ত হয়ে সরাসরি গত ১৪ জুন ২০২০ তারিখে বনানী কবরস্থানে গিয়েছিলাম মুক্তিযুদ্ধের সতীর্থ নাসিমকে শেষ অভিবাদন জানাতে। তখন রাষ্ট্রপতির গার্ড রেজিমেন্টের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন পর্ব চলছিলো। শহীদ তাজউদ্দিন, নজরুল ইসলাম ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর কবর জিয়ারত না করে গার্ড রেজিমেন্টের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের সাথে সাথে অন্যান্য আওয়ামী লীগ কর্মীরা ফিরে গেলেন। বেগম ফজিতুলন্নেসার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে কাউকে দোয়া করতে দেখলাম না। অধিকাংশ রাজনৈতিক কর্মীরা জানেন না বনানী কবরস্থানে শায়িত আছেন মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী প্রবাসী সরকার। কী দুর্ভাগ্য জাতির।

১) দুঃসময়ের বাজেট নিয়ে আলোচনার উত্তাপ নেই। দেশের এতজন বিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, ব্যাংকার, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী বা রাজনীতিবিদ কেউ সাহস করে সত্য কথা জনসাধারণকে জানাচ্ছেন না। সবাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের জন্য অপেক্ষমান। তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন, এমনকি তোফায়েল, আমু সবাই, তাদের সংশয় কেন? তারা শেখ হাসিনার নির্ভরশীল রাজনৈতিক সহকর্মী।

২) বিএনপি তাদের স্ট্যান্ডিং ও উপদেষ্টা কমিটির সভায় অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য নিবিড়ভাবে পড়ে, অধ্যয়ন করে একাধিক আলোচনা-সমালোচনা করে মননশীল সুষ্ঠু সুপারিশ সরকারকে জ্ঞাত না করে ভুল করছেন। দেশকে তো বাঁচাতে হবে। এটা কেবল হাসিনার দায়িত্ব নয়, খালেদা জিয়ারও।

৩) জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাংসদরা মুখে কলুপ বেঁধেছেন কেন? সুচিন্তিত বাগ্মিতায় সংসদ উত্তপ্ত রাখুন, ভয় পাবেন না, নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করুন। সংখ্যার চেয়ে সাহস বড়।

৪) এরশাদ সাহেব বেঁচে থাকলে বাজেটের প্রতি Item পড়ে বুঝে উপযুক্ত সমালোচনা উন্মুক্ত করতেন, জি এম কাদেরের মত গৃহপালিত প্রাণীর আচরণ করতেন না। জি এম কাদের অনুগ্রহ করে হুক্কা হুয়া করা বন্ধ করুন। জাতীয় পার্টির ভবিষ্যত গড়ার জন্য আপনার অনেক কাজ বাকি।

৫) জনাব ওবায়দুল কাদের অনুগ্রহ করে মুখ বন্ধ রাখেন, বিরোধী দলীয় সকল সমালোচনার উত্তর দিতে হয় না, এটা রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, অর্থমন্ত্রীকে উত্তর দেবার সুযোগ দিন। বাজেট অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব, আপনার নয়।

৬) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সর্বদলীয় রাজনৈতিক সভা ডাকুন, বিপদমুক্তির বাজেট উদ্ভাবনের জন্য। নতুবা কোনও লাভ হবে না দেশের না দেশবাসীর। ওষুধের দাম কমবে না, কৃষক শ্রমিক তার শ্রমের ন্যায্য মূল্য পাবে না, আইসিউ (ICU) প্রতারণা বাড়বে, মৃত্যুর পরও চিকিৎসার বিল দিতে হবে, ফরিয়ারা রাজত্ব করবে, শহরবাসী অত্যাধিক মূল্যে ফলমূল, শস্য কিনে প্রতারিত হবেন। স্বাস্থ্যখাতে নৈরাজ্য অব্যাহত থাকবে, ক্ষুধা-দারিদ্র্য বাড়বে, সঙ্গে যৌন নিপীড়ন, নৈরাজ্য ও ব্যাপক দুর্নীতি। মুখ থুবড়ে পড়বে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী।

(চলবে)

লেখক:  
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক

Hits: 35


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ