আজকে

  • ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৬শে মে, ২০১৮ ইং
  • ১০ই রমযান, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

“দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ হাজির”

Pub: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৮ ৩:৪৮ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৮ ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

সায়েক এম রহমান:
৮ ফেব্রোয়ারি বিএনপি চেয়ার পারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্ণীতি মামলার রায়ের তারিখ। রায়ের তারিখকে কেন্দ্র করে চলছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে পাল্টা পাল্টি ডায়লগ। দেশ আজ উত্তপ্ত। দফায় দফায় চলছে সরকারি দলের ধড়-পাকড়ের হীড়িক। বড় নেতা থেকে ছোট নেতা পর্যন্ত সাথে আছে রিমান্ড, নির্যাতন ও জেল হাজত। এ পর্যন্ত কয়েক শত নেতাকর্মী বন্দীখানায় চলে গেছেন। জনমনে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। সরকার বলছে, রায় নিয়ে রাজপথে কোন বিশৃঙ্খলা করলে, কঠোর হস্তে দমন করবে। সাথে তাদের নেতাকর্মী দেরকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
অপর দিকে,,,,,,রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি বলছে ,শুধু বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাহিরে রাখার জন্য, হীন উদ্দেশ্যে এস এস সি পরীক্ষা এর ভিতরে রেখে দ্রত মামলার রায় ঘোষনার জন্য উঠে পড়ে লেগে আছে। তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ নীতিবাচক রায় হলে রাজপথেই আন্দোলন। অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক এই আট তারিখকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা ট্রানিং পয়েন্ট হিসাবে দেখছেন।

এক.

সরকারি হিসাব অনুযায়ী সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ৩৩ লাখের উপরে বিচারাধীন মামলা রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে পরে আছে আদালতের বাস্কে, কোন সূরাহা হচ্ছে না। হাজার হাজার মানুষ ঐ সমস্ত মামলার নিঃস্পত্তির জন্য দিন গুনতে গুনতে ইহজগত ত্যাগ করে চলে গেছেন। তাদের ছেলে-নাতনীরাও এখন দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে মামলার নাগাল পাচ্ছেন না। সেখানে আজকের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা (এক সাথের মামলা থেকে) শুধু তাঁহার উপরের মামলাগুলি তুলে নিয়ে বড় নজর রাখছেন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মামলার উপর। আজ লক্ষ লক্ষ মামলা আদালতের ড্রয়ারে রেখে সম্পূর্ণ হীন উদ্দেশ্যে এ মামলার কার্যক্রম চলছে প্রতিদিন। কারণ যে কোন উপায়ে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে সাজা প্রদান করে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষনা করার জন্য। তা এখন দিনের মতন পরিস্কার। জিয়া পরিবারকে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করতে না পেরে, আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে শিকার করে যাচ্ছে। মনে হয় যেন বিচারকরা ঠিকাদার এবং বিচারালয়কে ঠিকাদারি প্রতিষ্টানে রুপ দেওয়া হয়েছে। এখানে লক্ষণীয়,,, বিচার ব্যবস্থা মৃতবৎ অবস্থায় দাঁড়িয়েছে।

দুই.

এ দিকে ৩রা ফেব্রোয়ারী শনিবার দুপুরে রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেল থেকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিঠির সভায় দলের চেয়ার পারসন বেগম খালেদা জিয়া বললেন,” আমি যেখানেই থাকি না কেন? আমি আপনাদের সঙ্গেই আছি। আমাকে কোন ভয়ভীতি দেখিয়ে দমাতে পারেনি, পারবেও না। আমি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আছি, দেশের মানুষের সঙ্গে আছি। সাহস সঞ্চয় করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। আসুন সবাই মিলে এই দেশটাকে রক্ষা করি, গনতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এই কথাগুলি বলার সাথে সাথে লা-মেরিডিয়ান হোটেল প্রাঙ্গন শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত উঠলো,” আমার নেত্রী আমার মা, বন্দী হতে দেব না। আমার নেত্রী আমার মা, জেলে যেতে দেব না।
অতঃপর আপোষহীন নেত্রীর বক্তব্যের উল্লেখ যোগ্য বিষয়গুলি ছিল,,,,,,১। কোন অপরাধ আমি করিনি, তারপরও তাদের গায়ের জোরে বিচার করতে চাইছে সরকার।
২। নিম্ন আদালত সরকারের কব্জায়,সঠিক রায় দেওয়ার ক্ষমতা এখন বিচারকদের নেই।
৩। যে কোন কর্মসূচি ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে পালন করবেন।
৪। তারেক রহমানের মামলায় সঠিক রায় দেওয়ায় এক বিচারককে দেশ ছাড়তে হয়েছে। আর সরকারের বিরুদ্ধে বলে, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা কেও দেশ ছাড়তে হয়েছে।
৫। ভোট হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং ভোটের আগে সংসদ ভাঙ্গঁতে হবে। ৬। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে, তারা মোবাইল ফোর্স হিসাবে কাজ করবে।। ৭। নির্বাচনে জোন প্রকার ই ভি এম / ভি ভি এম ব্যবহার করা যাবে না। পরিশেষে বললেন, বিএনপির কোন ভয় নেই, বিএনপির সাথে প্রশাসন আছে,পুলিশ আছে, সশস্র বাহিনী আছে, এ দেশের জনগন আছে, দেশের বাহিরে যারা আছেন, তারাও আছেন। কাজেই বিএনপির কোন ভয় নেই।। ভয়টা আওয়ামী লীগের-ই।


আর সিনিওর ভাইস চেয়ার-ম্যান নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ভিডিও বার্তায় বললেন,” দেশ এক সঙ্কট কাল পার করছে। কারো নির্দেশের অপেক্ষা নয়, আপনি নিজেই নেতৃত্ব গ্রহণ করুণ। আপনার সামনের নেতাকে যদি গ্রেপ্তার করে, আপনি এবং আপনারা বসে নিজেরাই নেতৃত্ব নির্বাচিত করে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। শহীদ জিয়ার সৈনিক হিসাবে পরিস্হিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিন, দেশ ও মানুষের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য একাত্তর সালে কারো নির্দেশের অপেক্ষা না করে যে ভাবে শহীদ জিয়া সিদ্ধান্ত নিয়া ছিলেন। শুধু মনে রাখবেন, গনতন্ত্র পূনঃউদ্ধারের এই লড়াইয়ে আমাদের সর্বাধিনায়ক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন। গনতন্ত্রের বিজয় সন্নিকটে। এ বছর-ই গনতন্ত্রের বিজয় দেখবে বাংলাদেশ। ইনশাআল্লাহ।

তিন.

পাঠক, আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঈন-ফখরুর সাথে আতাঁত করে দেশকে এক ধ্বংস লীলায় পরিণত করেছে। সগৌরভে মঈন-ফখরুর শাসন আমলকে বৈধতা দিয়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নীল-নকশার নির্বাচনের মাধ্যমে একক ক্ষমতার মালিক হন শেখ হাসিনা। অতঃপর শুরু হয় এক এক করে পূর্ব পরিকল্পনার পালা—-১। প্রথমেই তারা ক্ষমতায় আসার তিন মাসের ভিতরেই পিলখানায় ৫৭ জন অফিসারকে হত্যা করে ঘটানো হলো পৃথিবীর নিকৃষ্টতম বর্বরোচিত হত্যাকান্ড এবং দেশকে পিছিয়ে নূন্যতম অর্ধ শত বছরের জন্য। ২। সরকারের অধিকাংশ নীতিনির্ধারক ও রাজনীতিবিধ তত্ত্বাবধারক সরকারের পক্ষে থাকা সত্বেও শুধু মাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধারকের বিপক্ষে থাকায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে বাতিল করা হয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্হা যদিও ঐ রায়ের ভিতরেই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্হা আরো ২/১ ট্রাম চালু রাখার ব্যবস্হা ছিল।

৩। অন্যায় ভাবে হীন উদ্দেশ্যে বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁহার ৩৮ বছরের স্মৃতি বিজড়িত বাড়ী থেকে উচ্ছেদ করা। ৪। ৫ জানুয়ারীর ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাকে পাকা পুক্ত করে ও বিরোধী মত ও পথকে বন্ধ করে দিয়ে, গৃহপালিত বিরোধী দল তৈয়ার করে এবং প্রায় সব কটি মিডিয়া কে হলুদ কাতারে নিয়ে আসা এবং সদ্য ৩২ ধারার মাধ্যমে মিডিয়ার একদম ১২টা বাজিয়ে দেওয়া।
৫। হেফাজতে ইসলামকেও রাতের আঁধারেে স্ট্রিট লাইট বন্ধ করে শত শত আলেমকে হত্যা করে জায়গা মত বসিয়ে দেওয়া।
৬। বিরোধী মত ও পথের হেভিওয়েট নেতাদেরকে মানবধিকারের নামে সত্যিকার ভাবে যাচাই বাচাই না করেই একে একে ফাঁসিতে ঝুলানো। ৭। দেশ নায়ক তারেক রহমানের একটি ষড়যন্ত্র মূলক মামলা নিম্ন আদালতে খালাস পাওয়ার পরও উপরের আদালতে নিয়ে, দলীয় বিচারক দ্বারা দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষনা করা। ৮। এ ছাড়া জঙ্গি হামলার বিভিন্ন নাটক, খুন, গুম,ক্রশফায়ার, জেলজুলুম, অত্যাচার ও ধর্ষণ। ৯। ব্যাঙ্ক ডাকাতী,হল মার্ক,ডেসটিনি, সোনালী, রুপালী,বেসিক ও জনতা ব্যাঙ্ক কেলেঙ্ককারীর মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করা। এমন কি সুইফট কোর্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক পর্যন্ত লুট করা। এ ছাড়া শিক্ষা বিষয়কে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে নিয়ে আসা।
লিখতে হলে লিখা শেষ হবে না, এখানে দৃশ্যায়িত, লক্ষ কোটি শহীদের বিনিময় অর্জিত বাংলাদেশটির গনতন্ত্র আজ নসাৎ, রাষ্টযন্ত্র অকেজো,মানবতা বিপন্ন, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা বিভিন্ন ভাবে প্রশ্নের সন্মোখীন। বাংলার আকাশ আজ অন্ধকার কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে। দেশ এই মহুর্তে এক ক্রান্তিকাল পার করছে।

 

চার.

পাঠক, একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের, মহা সঙ্কট সন্ধিক্ষণে রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন ছিল দিশেহারা ঠিক তখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটি ঘোষনাই জাতিকে সঠিক নির্দেশনা ও সঠিক পথ দেখিয়েছিল। সেই ফল শ্রোতিতে শহীদ জিয়ার হাত ধরেই স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ছিনিয়ে এনে ছিলেন। দেশের এই মহাক্রান্তি লগ্নে জাতি আজ (শহীদ জিয়ার হাতে গড়া দল) জাতীয়তাবাদী দলের দিকে তাকিয়ে আছে। কারণ মানুষের আস্হা ও বিশ্বাসের দল বিএনপি, বিএনপি সঙ্কট উত্তরণের দল, ইতিহাসের পাতা বলে,বিভিন্ন দুর্যোগ থেকে বিএনপিই দেশকে উদ্ধার করেছে বার বার।
আজ দেশের এই সঙ্কটময় মহুর্তে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ হাজির। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধটি হয়েছিল শহীদ জিয়ার ডাকে এবং তাঁহার হাত ধরে। আর আজ তাঁহারই সহধর্মীনি গনতন্ত্রের প্রতিক, আপোষহীন নেত্রী , সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী, দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই যুদ্ধ চলছে। সাধারন মানুষজন বলছেন,শুধু সাজা প্রদান করলে আন্দোলন,নইলে আন্দোলন নয়, এমন যেন না হয়। এ আন্দোলন হবে গনতন্ত্র পূনঃউদ্ধারের আন্দোলন, মানুষ বাঁচার আন্দোলন, পরবর্তীতে এক দফার আন্দোলন।
আর হাঁ, আরেকটি বিষয় না লিখলে না হয়, বিএনপি ও বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের শত শত কমিটি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। সব গুলি কমিটি এই সময়ের আগে সন্পূর্ন করা খুব ই জরুর ছিল। নিঃসন্দেহে তা দলের ব্যর্থতা। হাজার হাজার নেতাকর্মী পদশূন্য অবস্হায় আছেন। তাই বলছি, একটি কথা অবশ্যই আমাদের মনে রাখতে হবে, একাত্তরে কিন্তু কাহারও কোন পদ-পদবী ছিল না। সবাই দেশকে বাঁচানোর জন্য, জাতিকে বাঁচানোর জন্য, গনতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য, মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

 

আজ কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও এখন দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ হাজির। এ যুদ্ধ হবে গনতন্ত্র পূনঃউদ্ধারের জন্য, মানব অধিকারের জন্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য। তবে আমার বিশ্বাস পদ-পদবী ছাড়া যারা এ যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন, দল তাদেরকে অবশ্যই মূল্যায়িত করবে তখন তাদেরকে মূল্যায়িত করাটাই হবে যুক্তিযুক্ত।

আর হাঁ, এই সময়ে সবাই আওয়াজ তুলোন,”হে জাতীয়তাবাদ, হে ইসলামী মূল্যবোধ, হে গনতন্ত্র পূনঃউদ্ধারকারী, হে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী, সবাই জাগ্রত হও, মনোবল হারিও না, গ্রেপ্তারের তালিকা যতো বড় হবে, রাজপথের মিছিল ততো বেশী লম্বা হবে। ইনশাআল্লাহ বিজয় নিঃশ্চিত।

লেখকঃ

লেখক ও কলামিস্ট
সায়েক এম রহমান

এখানে প্রকাশিত সব মতামত লেখকের ব্যক্তিগত, শীর্ষ খবর ডটকম’র সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয়।

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 7367 বার

 
 
 
 
ফেব্রুয়ারি ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« জানুয়ারি   মার্চ »
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮  
 
 
 
 
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com