আজকে

  • ৭ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২১শে জুন, ২০১৮ ইং
  • ৬ই শাওয়াল, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

এ কোন হিংস্রতা, বর্বরতা ও নগ্নতা!!! এর শেষ কোথায়?

Pub: শনিবার, মার্চ ১০, ২০১৮ ৯:২১ অপরাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, মার্চ ১০, ২০১৮ ৯:২৮ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

সায়েক এম রহমান:
এক.আজ একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে, প্রেস ক্লাবের মত একটি স্পর্শ কাতর স্হানে কারাবন্দী দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে, শান্তিপূর্ণ অবস্হান কর্মসূচিতে,,,,, ডি বি পুলিশের এ কোন হিংস্রতা বর্বরতা? একাত্তরের বর্বরতা হার মেনে গেছে, মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর বর্বরতার প্রতিচ্ছবি ফুঠে উঠছে। এই ফুটেজ গুলা দেখে বিশ্ব মানবতা আজ থর থর করে কাঁপছে। ৮ই মার্চ একটি শান্তিপূর্ণ অবস্হান কর্মসূচির মধ্য স্হান থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মীর সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মিজানুর রহমান রাজকে টেনে হেঁচড়ে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। দলটির মহাসচিব কে জড়িয়ে ধরে ও শেষ রক্ষা পায়নি রাজ! মহাসচিব সহ হাজার হাজার নেতাকর্মী অসহায় রোহিঙ্গাদের মত তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু -ই করার ছিল না। ইতিহাসের নির্মম সাক্ষী হয়ে রহিল এই নির্মম হৃদয়বিধারক ঘটনাটি। উল্লেখ্য এখানে কারাবন্দী দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার কঠোর নির্দেশ,,,,সব কর্মসূচি যেন হয় শান্তিপূর্ণ, কাহার-ও ফাঁদে যেন পা না দেওয়া হয়। সম্ভবত সরকার চাচ্ছে দলকে সহিংস আন্দোলনে জড়াতে। কিন্তু না তারা হাই কমান্ডের সাথেই অনড়।
এখন প্রশ্ন,,, এ ভাবে ডি বি পুলিশের অত্যাচার নির্যাতন হিংস্র বর্বরতা ও নগ্নতা আর কত সহ্য করবে দলটি? এটা অনেকের-ই প্রশ্ন,,,,। দলটি দেয়াল চাপতে চাপতে দেয়ালের ভিতর চলে গেছে। দেখা যাক, এখন সময়ই বলে দিবে কোন দিকে যাবে? এ দিকে ডি বি পুলিশ এখন আর ডি বি নয়, ওরা আর বি তে রুপান্তরিত হয়ে গেছে। অর্থাৎ রক্ষী বাহিনীতে রুপান্তরিত হয়ে গেছে। কারন সাধারন মানুষ এখন বলছে, আজকের ডিবির মধ্যে ৭৫ পূর্ব সেই রক্ষী বাহিনীর প্রতিচ্ছবি ফুঠে উঠছে। তাদের এই গত কয়দিনের হিংস্র বর্বরতায় জাতি এখন স্তম্ভিত! সাধারণ মানুষ রীতিমত হতবাক!


দুই. পাঠক, সর্ব স্তরের মানুষ জানে, প্রেস ক্লাব একটি নিরপেক্ষ ও স্পর্শ কাতর স্হান। এখানে ডি বি পুলিশ অস্ত্র উঁচিয়ে ছোটা ছোটি করে অভিযান পরিচালনার ঘটনা নজিরবিহীন! উল্লেখ্য সাদা পোষাকধারী পুলিশের অভিযান পরিচালনারর নামে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ সহ নানাবিধ অপরাধ মূলক ঘটনা সংগঠনের অভিযোগ উঠায়, ইতি পূর্বে সাদা পোষাকে ডি বি পুলিশের অভিযান পরিচালনা ও ওয়ারেন্ট বিহীন গ্রেপ্তার করা, হাইকোর্ট কতৃর্ক নিষেধাঙ্গা জারি হওয়ার পরও সন্ত্রাস ও আতঙ্ক জনক অবস্হা সৃষ্টি করে বিএনপি সিনিওর নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে (নয়া পল্টন অফিসের সামন থেকে) স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শফিউল বারী বাবু (দুই দিন আগে) ও ছাত্রদল নেতা মিজানুর রহমান রাজকে সশস্ত্র কমান্ড স্টাইলে চোর-ডাকাতের মত টেনে হেঁচড়ে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সিনিওর নেতাসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীর সামন থেকে ধরে নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবকে সন্তান যে ভাবে একজন বাবাকে জড়িয়ে ধরে, সেই ভাবে জড়িয়ে ধরেও তাহার গ্রেপ্তার এড়াতে পারে নাই। টেনে হেঁচড়ে জামা কাপড় ছিঁড়ে হাতে পা বেড়ি দিয়ে ডি বি পুলিশ নিয়ে যায়। সারা জাতি প্রত্যক্ষ করেছে এসব নির্মম দৃশ । এ সব কিসের আলামত বহন করে? আর কেন-ই বা তারা এতো উৎসাহী হয়ে এমন করছে? জাতি উদবিগ্ন! এ কোন জাতীয় বর্বরতা নৃশংসতা ও নগ্নতা? এর শেষ কোথায়? এ সব প্রমান করে সত্যিই আজ দেশ বেদখল হয়ে গেছে।
একটি ৫ জানুয়ারির অবৈধ নির্বাচন দেশটিকে বেদখল করে গেছে। ধ্বংস করেছে মানবতা,মানুষের অধিকার,মানুষের স্বাধীনতা। নেই গনতন্ত্র, নেই বিচার। রাষ্টের প্রতিটি যন্ত্র কে করা হয়েছে মৃতবৎ।
এখন চলছে আরেকটি ৫ জানুয়ারির মত নির্বাচনের পায়তারা,,,,যার জন্য এতো সব! দেশের মানুষ অবশ্যই এ সব অবগত।
এই মহুর্ত্তে একটি দেশের সব চাইতে জনপ্রিয় দলের,জনপ্রিয় নেতাকে মিথ্যা বানোয়াট মামলায় জেলে রেখে, আর দলের নেতাকর্মীকে কোন সভা-সমাবেশ করতে না দিয়ে, এমন কি মানববন্ধনের মতন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করতে না দিয়ে, দলের অফিসের সামনে কালো পতাকা প্রদর্শনে বাঁধা দিয়ে, প্রেস ক্লাবের মত স্পর্শ কাতর এরিয়ায় ডি বি নামধারী পুলিশরা হাত উঁচু করে অস্ত্র চালিয়ে, হাজার হাজার নেতাকর্মী মধ্য থেকে টেনে হেঁচড়ে শত শত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে জেল ভর্ত্তি করবেন।
আর অপরদিকে,,,, সরকারি দলের নেতারা ডাক-ডোল বাঁজিয়ে, স্কুল কলেজ অফিস আদালত বন্ধ করে দিয়ে বড় বড় সভা সমাবেশ করবেন সরওয়ার্দী উদ্যানে এবং সরকারি খরছে হেলিকাপ্টারের পাখার সাথে নৌকাকে বেঁধে নিয়ে আকাশে উড়ে দেশময় নির্বাচনের জন্য ভোট চাইবেন। এ কোন গনতন্ত্র? এ কোন নির্বাচন? সাবাশ আওয়ামী লীগ! সাবাশ নির্বাচন কমিশনার!! মানুষ এতো বোকা নয়! জাতি এ সব মানবে না। আর ৫ জানুয়ারীর মত কোন নির্বাচন এদেশে করতে দিবে না। ২০১৪ সাল আর ২০১৮ সাল এক নয়। অতীতের ন্যায় মানষের অধিকার, মানুষের গনতন্ত্র, মানুষের স্বাধীনতা জনগণ ফিরে আনবেই আনবে।


তিন. আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ডাক ডোল পিঠিয়ে পালন করলো সরওয়ার্দী উদ্যানে। সমাবেশ থেকে ফেরার পথে রাস্হায় দাঁড়িয়ে থাকা অনেক নারীর কাপড় খুলে আমোদ করলো যুবলীগ ছাত্রলীগ কর্মীরা। বাদ গেল না ছাত্রলীগের ছাত্রীরাও! সমাবেশ শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যায় ৬/৭ জন মেয়ে তাদের হ্যারাস মেন্টের কথাগুলু ফেসবুকে স্ট্যাটাসেরর মাধ্যমে তুলে ধরলো জাতির সামনে,,,,, রাতের ভিতরেই ভাইরাল হয়ে যায় সারা দেশে, সোনার ছেলেদের বর্বরতা ও নগ্নতা! দেশ আজ বহুবিধ হিংস্রতা বর্বরতা ও নগ্নতায় আক্রান্ত।
খুব ফুর্তি আমোদ করে সমাবশে যেতে আসতে ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্হায় রাস্হায় গ্রূপ বেঁধে বেঁধে মেয়েদের হ্যারাস করে রাজধানী কে তাদের জন্য এক আনন্দ উৎসবের নগরীতে পরিণত করেছিল।

এ সব দেখে এক মুরুব্বি দুঃখ করে বলছিলেন, ঠিক আছে,বের হইছো কেন বাসা থেকে,জানো না আজকে রাস্হায় বেশী ছেলে থাকবে? মেয়েটি বলছিলো,,,,”আল্লাহ কেন মেয়েদের মাত্র দুটি হাত দিলো? দুটি হাত থেকে বুক পেট বাঁচাবো না কি কোমর পিঠ বাঁচাবো? ওড়না ধরে রাখবো না কি তাদের হাতগুলি সরাবো?
আরেকজন মেয়ে বলছিলেন,,,একটা পুলিশ অফিসার এই মলেস্টিং চক্রে ডুকে আমাকে বের করে এন্ড একটা বাস থামায়ে বাসে তুলে দেয়। বাকিটা পথ সেইফলি আসছি। প্রচন্ড শরীর ব্যথা ছাড়া আর কোন কাটা ছেড়া নাই। মেন্টালী ভয়াভহ বিপর্যস্ত বাট শাররীক ভাবে ভাল আছি। আমি এই শোয়ারদের দেশে থাকবো না। জয় বাংলা বলে যারা মেয়ে মলেস্ট করে, তাদের দেশে আমি থাকবো না, থাকবো না,থাকবো না। পাঠক,জাতি বহুবিধ বর্বরতা নগ্নতায় বিপর্যস্ত। এ হিংস্রতা ও বর্বরতায় দেশ ও জাতিকে বার বার উলঙ্গ করছে,শুধু অবৈধ ক্ষমতায়, এদের কাছে দেশ ও জাতি নিরাপদ নয়। সেদিন রাষ্টপতি বললেন, প্রশ্ন পত্র ফাঁস কারীদের ফায়ারিং স্কোয়াডে দেওয়ার জন্য। শুনে মানুষ খুশি হয়েছে। এ ধরনের অসভ্য বর্বরোচিত কাজ যে শোয়াররা করবে,তাদেরকে যদি রাষ্টপতি ফায়ার স্কোয়াডের জন্য আইন করতেন,জাতি চীর কৃতজ্ঞ হতো।

চার. জনগনের নিরাপত্তার জন্য, জনগনের ট্যাকসের টাকায় পরিচালিত হয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাবেশে আতঙ্ক জনক অবস্হা তৈয়ার করা ডি বি পুলিশের কাজ হতে পারে না। এমনিতেই আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সাধারন মানুষের আস্হাহীনতা প্রবল। এ ধরনের ঘটনা সাধারন মানুষের আস্হাহীনতা আরো বহুগুন বাড়িয়ে দিচ্ছে।
নাগরীকের মানবধিকার ও হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে,,, ডি বি পুলিশের এমন অভিযান বন্ধ হওয়া অতীব প্রয়োজন। আতঙ্ক সৃষ্টি নয়,,,,গুম-অপহরণ, মানবধিকার ও আইন লঙ্ঘনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্হা গ্রহন করাই মূল দায়িত্ব। একটা দেশের পুলিশ বাহিনী যতই রাজনৈতিক প্রভাবের ভিতর থাকুক না কেন? তবুও সে দেশের সাধারন মানুষের নিরাপত্তার জন্য পুলিশই শেষ ভরসা। তাদের মনকে প্রশ্ন করতে হবে,,,,দেশ কোথায় যাচ্ছে? আমরা কোথাকার নাগরিক? আমরা তো ভুটান সিকিম হতে চাই না? তখন উত্তর পেয়ে যাবেন। আমরা এ দেশেরই নাগরীক। আমার আপনার সবার কাজ হবে,এ দেশের মানুষের ভাল মন্দ দেখা। আমরা কেউই একদিন থাকবো না, কিন্তু আমাদের সন্তানাদি থাকবে, বংশ বুনিয়াদ থাকবে,তারা যাতে একটি সুন্দর বাংলাদেশে থাকতে পারে সেটাই হবে আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। দেশ এখন কঠিন সময় পার করছে। বিশেষ করে এই মহুর্ত্তে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা দেশ ও জাতির জন্য খুবই প্রয়োজন।

লেখকঃ
লেখক ও কলামিস্ট
সায়েক এম রহমান

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 2775 বার

 
 
 
 
মার্চ ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« ফেব্রুয়ারি   এপ্রিল »
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com