fbpx
 

রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ, ওরা-ই লেন্দুপ দর্জির প্রেতাত্না !

Pub: শনিবার, মার্চ ২৪, ২০১৮ ৯:১০ অপরাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, মার্চ ২৫, ২০১৮ ২:১২ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সায়েক এম রহমান:

এক. একটি জাতি দুইশত বৎসর বৃটিশ জিঞ্জিরে আবদ্ধ থাকার পর, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে ১৯৪৭ সালের ১৪ ই আগষ্ট স্বাধীনতা লাভ করে পাকিস্তান (ইস্ট পাকিস্তান) নামে। অতঃপর পাক হানাদারদের অনাচার, অত্যাচার, শাসন ও শোষন যার ফলে,,,,,৫২ এর ভাষা আন্দোলন,৬৯ এর গণ-অভ্যূৎখান, ৭০ এর নির্বাচন। তারই পথ পরিক্রমায় একাত্তরের ২৫ ও ২৬ মার্চ সেই ভয়াল রাতে জাতি যখন মহা সংঙ্কট -সন্ধিক্ষনে দিক-নির্দেশনায় হাবু ডুবু খাচ্ছিল,,,,।
তখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাষায়,,,,,
সময় ছিল অতি মূল্যবান। আমি ব্যাটালিয়নের অফিসার, জেসিও, আর জোয়ানদের ডাকলাম। তাদের উদ্দেশ্যে ভাষন দিলাম। তারা সবাই জানতো। আমি সংক্ষেপে সব বললাম এবং নির্দেশ দিলাম সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে। তারা সবাই সর্ব সন্মতি ক্রমে হৃষ্ট চিত্তে এ আদেশ মেনে নিল। আমি তাদের একটা সামরিক পরিকল্পনা দিলাম।
তখন রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিট। ২৬ মার্চ। ১৯৭১ সাল। রক্তের আখরে বাঙ্গালীদের হৃদয়ে লিখা একটা দিন। বাংলাদেশের জনগন চীর দিন স্বরণ রাখবে, ভালবাসবে। এই দিনটিকে তারা কোন দিন ভূলবে না! কো-ন দি-ন – না।

পাঠক, আমি মেজর জিয়া বলছি,”সেই দৃঢ় ইস্পাত কঠিন উচ্চারণ জাতিকে দিয়েছে সাহস, নিশ্চয়তা ও গন্তব্যস্থান। স্বাধীনতাকামী মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছে পাক-হানাদারদের উপর। অতঃপর লক্ষ কোটি শহীদের রক্তের বিনিময় একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ১৬ ডিসেম্বরের বিজয়ের মাধ্যমে লাল পতাকা খচিত একটি দেশ, তার নাম “বাংলাদেশ”। সে দেশটি আজ পা পা করে স্বাধীনতার ৪৭ বৎসরে দাঁড়িয়ে ও দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রে এক চরম সঙ্কটকাল পার করছে। নসাৎ গনতন্ত্র, অকেজো রাষ্টযন্ত্র, নেই বিচার, নেই মানবতা,চতুর্দিকে জেলজলুম,অনাচার, অত্যাচার ও খুনগুম অহরহ চলছেই।

দুই. এ ষড়যন্ত্র ও আগ্রাসন পূর্ব থেকেই চলে আসছে। কোথাও যেন থেমে নেই।
ইতিহাস বলে,” কোটি কোটি মানুষ হত্যা করে ইতিহাসের খল নায়ক লেলিন, স্ট্যালিনরা গড়ে তুলেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। সন্ত্রাসী রাষ্ট ইসরাইল পৃথিবীর বুকে যার কোন পরিচয়ই ছিল না, বিশ্ব মোড়লদের সহযোগিতায় দখল করে নেয় ফিলিস্তিন। স্হানিয় ও জাতিগত একটা দেশকে লন্ডবন্ড করে, লক্ষ লক্ষ মানুষকে যাযাবর করে ফেলে। সম্প্রতি হাজার বছরের স্হায়ী বাসিন্দা রোহিঙ্গাদের কে মিয়ানমার সরকার তাদের নিজ দেশ থেকে উচ্ছেদ করে দেয়। আজ লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশে শরনার্তী হিসাবে দিন যাপন করছে। ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গারা আজ নির্যাতিত ও নিস্পেশিত হচ্ছে বিশ্ব বিবেকের সামনে।

এ ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাস বিভিন্ন ভাবে এসেছে,,,যেমন এসেছে ইরাক লিবিয়া ও সিরিয়ায়।
পাঠক, এ সব ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসে ভারত কোন দিকে পিছিয়ে নেই, থেমে ও নেই। ইতিহাস-ই বলে দেয়, তারা কোন কৌশলে দখল করে নেয় হায়দারবাদ, সিকিম। বিশ্ব অবগত, লেন্দুপ দর্জির মাধ্যমে, ভারতের ” র” এজেন্টদের দ্বারা সিকিমকে বিভিন্ন ভাবে হত্যা ও সন্ত্রাসের রাজ্যে পরিণত করে,,, নাটকীয়ভাবে ৭৫ সালে সিকিম দখল করে নেয় ভারত।
আজ স্বাধীনতার ৪৭ বৎসর পর তার প্রতিচ্ছবি বহুভাবে ফুঠে উঠছে বাংলাদেশের উপর। অনেক পর্যবেক্ষক বলছেন,দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ই তাদের আলাদা একটা নজর বাংলাদেশের প্রতি। তাই চলে একের পর এক ষড়যন্ত্র,,,,দেশের মূল চালিকা শক্তি সেনা বাহিনী, গার্মেন্টস, অর্থনীতি, চিকিৎসা ও শিক্ষা ধ্বংসের জন্য লেগে থাকা। সীমান্তে পাখির মতন গুলি করে মানুষ মারা। ভারত ও আওয়ামী লীগের যৌথ প্রযোযনায় যুদ্ধপরাধ,মানবতা বিরোধ ও জঙ্গী নামক শব্দকে ব্যবহার করে জাতিকে মেধা শূন্য করা। বিশেষ করে ভারতে প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশের হত্যাকান্ডের বিভিন্ন নাটক চলে জঙ্গীবাদের নামে। আসলে বাংলাদেশে কোন আই এস বা জঙ্গী নেই। যা আছে ভারতের এজেন্ট আর এজেন্টই বা কারা তা ইতি মধ্যে বিভিন্ন জঙ্গী হামলার নাটকে বিশ্ব মিডিয়া সহ দেশবাসী উপলব্ধি করতে পেরেছে।
৭১ সালে পাক ইয়াহিয়া সরকার বাংলাদেশের যে ক্ষতি করতে পারেনি,২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হাসিনা সরকারের আমলে ই দেশীবিদেশী চক্রান্তে পিলখানায় ৫৭ জন অফিসারদের মৃত্যু ঘটানো সম্বব হয়েছে। যে অপূরণীয় ক্ষতিটা করা হয়েছে। যা কোন দিনও পূরন হওয়ার নয়।
যে দেশে ধর্মীয় কারনে প্রায় প্রতিদিনই সংখ্যালঘুরা খুন হচ্ছে, নির্যাতিত হচ্ছে,ধর্মের কারণে মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে গরু জবাই এবং গরুর মাংস নিষিদ্ধ করছে। তারা-ই আবার বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের গল্প দিয়ে মিডিয়ায় ঝড় তুলে, বাংলাদেশকে নিন্দনীয় স্হানে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত অহরহ করে যাচ্ছে। আর এ সব চক্রান্তের মূলে তাদেরই আশির্বাদে জন্ম নেওয়া ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিনা ভোটের সরকার। এখন নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সব চাইতে জনপ্রিয় দলের, জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে জেলে বন্দী রেখে, বিনা ভোটের সরকারের সিনিয়র নেতারা দলে দলে ভারত গেছেন, ভারতের পতাকা গলায় ঝুলিয়ে আরেকটি বিনা ভোটের সরকার গঠন করার আর্শিবাদ নেওয়ার অভিপ্রায়ে। এদিকে বিনা ভোটের সরকারে সাধারন সম্পাদক বলে দিয়েছেন, নির্বাচনের জয়ের ব্যাপারে কোন ছিন্তা নাই, শুধু আনুষ্টানিকতা বাকী। অর্থাৎ হাই কনফিডেন্স! আওয়ামী নেতারা ভারতের পতাকা গলায় ঝুলিয়ে ভারতের নেতাদের সাথে সাক্ষাতের খবর গুলা ভারতেরই কয়েকটি পত্রিকা ফলাও করে প্রচার করে। এ ছবি সম্বলিত খবরে বাংলাদেশের অন-লাইন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। চেতনার সরকারকে জাতি ধিক্কার জানিয়েছে। লেন্দুপ দর্জির সাথে তুলনা করেছে। ভারত পন্তি বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক পেজে অনেকজনই কড়া কমেন্ট করেছেন।
* শাহরিয়ার লিখেছেন, ,,,,,, ” ভারতের পতাকা কাদে না মাখিয়ে, ভারতের নাগরিত্ব নিয়ে নেন। তাতে ভাল হয়, হায়রে সোনার বাংলা আর কি করলে হয় সারা।
* কবির লিখেছেন,,,,,,”ছিঃ ছিঃ,,,, মুক্তি যুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির এ কি বেহাল দশা! ঠিক যেমন ছাগলের গলায় দড়ি আর আওয়ামী নেতাদের গলায় ভারতীয় পতাকার ওড়না। এ ভাবে অসংখ্য কমেন্টস পড়ে ও শেষ করা যাবে না, লিখে ও শেষ করা যাবে না।

তিন. পাঠক, এখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন,,,,,,,,এর নাম কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা? মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তো এ দেশের মানুষ যুদ্ধ করেছিল,শহীদ হয়েছিল। গনতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানবতার জন্য। কারো কাছে আবারো কোন গোলামীর জিঞ্জিরে আবদ্ধ হওয়ার জন্য নয়। আজ সারা জাতি দেখছে, লেন্দুপ দর্জির প্রেতাত্না মুক্তিযুদ্ধের চেতনার লেবাস পড়ে জাতিকে ধোকা দিচ্ছে।
উত্তাল মার্চ, স্বাধীনতার মাস,গৌরবের মাস, শেষ পর্যন্ত এই স্বাধীনতার মাসেই মুক্তিযুদ্ধেরর চেতনা নামদারী শেখ হাসিনা সরকারকে ইতিহাসের কালো পাতায় নাম লিখতে হলো “স্বৈরশাসক” হিসাবে!স্বৈরশাসনের পতন এখন সময়ের ব্যাপার। এখন প্রয়োজন মূল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একাত্তরের মত আবারও গনতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানবতার জন্য এ দেশের মানুষকে রুখে দাঁড়াতে হবে।

লেখকঃ
লেখক ও কলামিস্ট
সায়েক এম রহমান

এখানে প্রকাশিত সব মতামত লেখকের ব্যক্তিগত, শীর্ষ খবর ডটকম’র সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয়।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ