fbpx
 

সরকারি দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনুমতি লাগে না, বিএনপির জন্য লাগবে কেন?

Pub: বুধবার, মার্চ ২৮, ২০১৮ ১০:৩৩ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৯, ২০১৮ ৩:০৮ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক অনুশীলন যথা- জনসভা, বিক্ষোভ, পথসভা, মানববন্ধন, এমনকি পার্টি অফিসের সামনে দু’দণ্ড দাঁড়িয়ে থাকলেও নোংরা গরম পানিতে ভাসিয়ে দেয়া হয় পুরুষ বা মহিলা নেতাকর্মীদের। সাদা পোশাকধারীরা নেতাদের ধরে আনে পার্টি অফিসের ভেতর থেকে। কেন এসব করা হচ্ছে? এর উত্তর, পুলিশের অনুমতি ছাড়া রাজনৈতিক দল কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারবে না। তবে এ আইন সরকারি দলের জন্য প্রযোজ্য নয়, বরং কঠোরভাবে বিরোধী দলের জন্য প্রযোজ্য। স্বীকৃতভাবেই এ দেশে আইন দু’ভাগে প্রয়োগ হয়। সরকারি দলের জন্য আইন একভাবে এবং একই আইন একই বিরোধী দলের জন্য প্রয়োগ হয় ভিন্ন ও কঠোরভাবে। এ দেশে আইন প্রয়োগকারীরা বিরোধী দলের কর্মসূচিতে গ্রেফতার, লাঠিপেটা, গরম পানি ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। অন্য দিকে, একই কর্মসূচির জন্য সরকারি দলকে পুলিশ পাহারায় দেয়া হচ্ছে পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে।

পুলিশ এটা প্রমাণ করেছে, ন্যায়-অন্যায় যা-ই হোক না কেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ পালন করাই তাদের চাকরির মূল শর্ত। ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করে, নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার যা-ই হোক না কেন, যাদের হাতে ঊর্র্ধ্বতনদের প্রমোশন ও লোভনীয় পদে পোস্টিং; তাদের খুশি রাখাই ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে তারা ডান-বাম চিন্তা করেন না। নৈতিকতা বোধ, আর্দশিক কোনো চিন্তাধারা বা একজন স্বাধীন দেশের নাগরিকের সাথে পরাধীন নাগরিক বা প্রাগৈতিহাসিক যুগের দাস-দাসীদের মতো ব্যবহার করার সময় তাদের মনমানসিকতা ও বিবেক একটুও নাড়া দেয় না, বরং কী করলে প্রমোশন ও লোভনীয় পোস্টিং (অর্থাৎ যে পোস্টিংয়ে ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়) সেদিকেই জনগণের অর্থে লালিত পুলিশসহ সব রাষ্ট্রীয় বেতনভুক্ত কর্মকর্তার মনোযোগ বেশি। ম্যাজিস্ট্র্রেটরা এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। তারা বলেন, ওপরের চাপে (ম্যাজিস্ট্রেটদের) বিচারিক সিদ্ধান্ত দিতে বাধ্য হন। অথচ সাংধানিকভাবে বিচারিক সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষেত্রে তারা ‘স্বাধীন’।

বিএনপি নেতারা অনেক দিন থেকেই অভিযোগ করে আসছেন, তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার অধিক মাত্রায় সংকুচিত করা হচ্ছে। রাজপথে তাদের কর্মসূচিতে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। নূন্যতম নাগরিক অধিকার ভোগ করতে পারছে না তারা। তবে সরকার বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করে আসছে এবং বিএনপির অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে আন্দোলন সংগ্রাম বিষয়ে কোনও প্রকার ছাড় না দেয়ার কৌশল নিয়েছে।

বিএনপি বর্তমানে কেমন আছে? বিষয়টি নিয়ে দেশের প্রথম সারির একটি গণমাধ্যম তাদের বিশ্লেষণে বলেছে, বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা অনেক আগে শেষ হয়ে গেলেও বিএনপি এখনো সেই ‘জরুরি অবস্থার’ মধ্যেই আটকে আছে। মামলা হামলা আর গ্রেফতার দলটির নেতাকর্মীদেরকে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সাদা চোখে দেখলে বিএনপির নামক দলটির জন্য সাংবাধানিক নাগরিক অধিকার এবং গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ সুবিধা অন্যদের তুলনায় অনেকটাই সংকুচিত বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা যেদিন জেলে যান দেশজুড়ে সেদিন টানটান একটা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সবার চোখ ছিল সেই ঘটনা প্রবাহে আর আশংকা ছিল সহিংস কোনও ঘটনার। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় নিঃশব্দেই ঘটে গেলো পরবর্তী সব ঘটনা। দেশবাসী অবাক হয়ে প্রত্যক্ষ করলো নতুন এক বিএনপিকে। বিএনপি ঘোষণা দিল অহিংস আন্দোলনের। গান্ধীবাদী এই আন্দোলনের কথা বিএনপি যে শুধু মুখে বললো তা-ই নয়, বিচ্ছিন্ন কিছু কর্মকাণ্ড ছাড়া তারা তাদের কর্মসূচিতেও তার সাক্ষর রাখছে বলতে হবে।

সরকারি দলের পক্ষ থেকে যদিও বলা হচ্ছে কঠোর কর্মসূচির মুরোদ নেই বলেই অহিংস আন্দোলনের পথে হাঁটছে তারা। কিন্তু বিএনপির বর্তমান কর্মসূচি যে দেশে বিদেশে যথেষ্ট সুনাম আর আস্থা কুড়িয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এতকিছুর পরও রাজপথে কর্মসূচির জন্য যথেষ্ট স্পেস দেয়া হচ্ছে না দলটিকে, আপতদৃষ্টিতে তাই মনে হচ্ছে।বিএনপি

পুলিশের প্রধান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকালই সাংবাদিকদের বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জনসভার অনুমতি দেবে পুলিশ, তার এই বক্তব্যে এটা প্রমাণিত হয়েছে, দেশ চালাচ্ছে পুলিশ। দেশে খুনখারাবি বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও খুনের ঘটনা ঘটছে। আর পুলিশ বাহিনী প্রতিনিয়ত ব্যস্ত বিরোধীদের দমনে। আওয়ামী লীগ ক্ষয়িষ্ণু রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে বলেই দেশটা এখন পুলিশের কব্জায়।
চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ডাকা বৃহস্পতিবারের পুলিশের অনুমতি না পেয়ে সমাবেশ স্থগিত করেছে দলটি।বিগত ২৪ মার্চ গণতন্ত্র হত্যার দিনে সরকার প্রধানের পৃষ্ঠপোষকতায় জাতীয় পার্টিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে দেয়া হয়েছে।বিএনপিকে না দেওয়ার ঘটনায় গণতন্ত্রকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করা হলো। এছাড়াও সম্প্রতি আওয়ামী জোটের ছোট ছোট আরো অনেক দলকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে। বিএনপিকে দেওয়া হবে না কেন? তাহলে জনগনের প্রশ্ন বিএনপিকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ রাজনৈতিকদল?

পাঠক কান্না ও মায়াকান্নার তফাৎ মানুষ বোঝে। সমাজে বাহবা পাওয়ার জন্য অনেকেই অনেক কথা বলে, যা শুনতে ভালো লাগে। কিন্তু কার্যকর না হলে বক্তার প্রতি অবিশ্বাস বেড়ে যায়। রাজনৈতিক চর্চা করায় সাংবিধানিক অধিকার যখন আইনি দোহাই দিয়ে পুলিশ ক্ষুণ্ন করে, তখন প্রতীয়মান হয় সরকার সংবিধানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাজ্য শাসন করছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের জন্য যেখানে সাংবিধানিক অনুমতি লাগবে কেন? সরকারি দলের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তো পুলিশের অনুমতি লাগে না, তবে বিরোধী দলের জন্য তা লাগবে কেন? এসব প্রশ্ন জনমনে নিয়মিত দোল খাচ্ছে।এই বছর স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায় ঢুকেছে নতুন করে পাঁচটি দেশ।নতুন যোগ হওয়া  বিশ্বের ৫ স্বৈরতান্ত্রিক দেশের এক দেশ বাংলাদেশ।

লেখক: সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও

প্রধান সম্পাদক শীর্ষ খবর ডটকম


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ