ধর্ম যদি হয় যার যার উৎসব কেন বাধ্যতামূলক সবার ?

Pub: শনিবার, এপ্রিল ১৪, ২০১৮ ৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, এপ্রিল ১৪, ২০১৮ ৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আশিক ইসলাম :
শুভ নব বর্ষ। ১৪ এপ্রিল ২০১৮ পহেলা বৈশাখ । বাংলা নববর্ষ ১৪২৫। এবার এই একই দিনের রাতটি মুসলমানদের বিশ্বাসের রাত। পুন্যের রাত। যে রাত মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে শবে মে’রাজ নামে পরিচিত। পবিত্র এ রাতে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মহান আল্লাহ্‌ তায়ালার দিদার লাভ করেন এবং তার উম্মতের জন্য ৫ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন করেন। যেহেতু এ বছর এই দুইটা দিন একই সাথে পড়েছে তাই ধর্মকে হেয় করতে উৎসবকে “সার্বজনীন” আক্ষায়িত করে বাধ্যতামূলক পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নানা কর্মসুচী হাতে নিয়েছে ধর্ম ভন্ড শেখ হাসিনা ও তার অবৈধ সরকার।

১. দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মঙ্গল শোভাযাত্রা পালন সরকারিভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মঙ্গল শোভাযাত্রা পালন করতে হবে।
২. দেশের সকল মাদ্রাসায় বাধ্যতামূলক মঙ্গল শোভা যাত্রা পালন করতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক (প্রশাসন) মো. শাহীনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত আদেশে মাদরাসাগুলোতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
৩. ইসলামকে অবমাননা করে নিজেদেরকে ধর্ম নিরপেক্ষ প্রমানে ব্যাস্ত হাসিনা সরকারের কিছু মন্ত্রীর পৃষ্ঠপোশকতায় এ বছর পহেলা বৈশাখের শাড়িতে আল্লাহু এবং ত্রিশূলের মিশ্রণের ডিজাইন করা হয়েছে। ডিজাইনার লিপি খন্দকারের ফ্যাশন হাউজ “বিবিয়ানা” এই শাড়ি বাজারে এনেছে। যা নিয়ে ইতমধ্যেই প্রতিবাদ সহ নানা লেখালেখি এবং ফেইস বুক, ইউটিউবে ঝড় বইলেও আমলে নেয়নি সরকার। বরং এক মন্ত্রীর স্ত্রীর পাক্ষিক পত্রিকায় ফলাও করে বিবিয়ানার প্রচারনা চালানো হয়েছে।
সরকারের এ নির্দেশনা কতটুকু যৌক্তিক তার বিচার বিবেকবান মানুষের যার যার। এমন ডিজাইনের শাড়ি কে পড়বে বা পড়বে না, সেটাও যারা শাড়ি পড়েন তাদের রুচির ব্যপার। তবে অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, বাংলাদেশের জনগণের একটি বড় অংশ আদর্শিকভাবেই এই শোভাযাত্রার পক্ষে নয়। আর আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস মঙ্গল শোভাযাত্রাকে এ বছর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে হীন উদ্দেশ্যে। জোর করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কলেজ মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে ।কেন ? কাদের কে তুষ্ট করার জন্য ? এ প্রশ্ন অনেকের।
বস্তুত বাংলাদেশে মঙ্গল শোভাযাত্রায় যেসব নির্দিষ্ট মূর্তি প্রদর্শন করা হয়, সেগুলোর অধিকাংশই হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন দেব-দেবীর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। একইসাথে বিভিন্ন রাক্ষস-খোক্ষসের প্রতিকৃতি ও মুখোশও প্রদর্শন করা হয়। রাক্ষস-খোক্ষস নিশ্চয়ই মঙ্গলের প্রতীক হতে পারে না, বরং অশুভ ও অমঙ্গল তথা শয়তানের প্রতীক বলা যেতে পারে। তাহলে কেন এসবের প্রদর্শনী? বাস্তবতা হচ্ছে, পেঁচা, রাক্ষস-খোক্ষসের প্রতিকৃতি ও মূর্তি নিয়ে মাতামাতি ও বাধ্যতামূলক করার পেছনে রয়েছে ইসলাম বিরোধী সুদুর প্রসারী পরিকল্পনা। প্রাচীনকালে দেব-দেবতার উপাসনা করার পাশাপাশি শয়তানেরও উপাসনা করা হতো তাকে সন্তুষ্ট করার জন্য, যাতে কোনো কারণে রুষ্ট হয়ে শয়তান অমঙ্গল বা অকল্যাণ না ঘটায়। নিকট অতীতে বাংলাদেশে বর্ষ বরনে আনান্দ শোভাযাত্রার প্রচলন ছিল। এখন মঙ্গল শোভাযাত্রা মানে নতুন বছরে মঙ্গল কামনার উদ্দেশ্যে শোভাযাত্রা করা, আয়োজকেরা মনে করেন এর ফলে অমঙ্গল দূরীভূত হবে । অন্যদিকে বাংলাদেশের অনেক মুসলমানদের ঈমান-আকিদার সাথে এই শোভাযাত্রা সাযুজ্য নয়, বরং বিরোধী বলে মনে করেন। মুসলমানরা একমাত্র আল্লাহতায়ালার কাছেই মঙ্গল কামনা করেন এবং অমঙ্গল দূরীকরণের জন্য তারা আল্লাহর কাছেই পানাহ চান। এর ব্যত্যয় ঘটলে তা অবশ্যই শীর্ক। পহেলা বৈশাখের সময়কার মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ঐতিহ্য বলাও ভুল এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একই সাথে সরকারী নির্দেশে বাধ্যতামূলক করা নিন্দনীয়।
সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মঙ্গল শোভাযাত্রা প্রকৃতপক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিষ্ণু নামক দেবতার স্ত্রী লক্ষ্মী দেবীর বাহন পেঁচার শোভা যাত্রা। আর এই শোভাযাত্রাকে ‘বাঙালি’র সার্বজনীন ঐতিহ্য আখ্যায়িত করে যখন বাংলা নববর্ষ উদযাপনের মধ্যে চতুরভাবে তা পালন করা হয় এবং এ ব্যাপারে প্রচারণাও চালানো হয়, ঠিক তখনই এর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ধরা পড়ে; কারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনো পৌত্তলিক পূজা তথা ধর্মীয় আচারকে যদি ‘সার্বজনীন’ বলে কোনো জাতীয় উৎসবের মধ্যে স্থাপন করা সম্ভব হয়, তাহলে বাংলাদেশের মুসলিম বাঙালিদের মধ্যে বিরাজমান তাওহিদভিত্তিক বা একত্ববাদভিত্তিক চেতনাকে দুর্বল করার সম্ভাব হবে। এবং এভাবেই আমাদের মুসলিম জাতিসত্তার রাজনৈতিক আত্মপরিচয়কে স্লো পয়জনিং এর মাধ্যমে বিনাশ করা সম্ভব। এ চক্রান্ত আজকের নয় শত শত বছর পুরাতন। “ধর্ম যার যার উৎসব সবার” এ শ্লোগানে হাসিনা সরকার মানুষের মাঝে মঙ্গল শোভা যাত্রাকে প্রথমে সার্বজনীন আর এ বছর বাধ্যতামূলক করেছে। একই সাথে মানুষের ধর্মীয় চেতনা, ধর্মীয় অনুভুতি পরিমাপের জন্য শাড়িতে ত্রিশূলের ওপর আল্লাহু লেখা ডিজাইন করেছে।
যদি আমরা একটু কষ্ট করে বঙ্কিম সাহিত্য যুগে দৃষ্টি দেয় তবে দেখতে পায়, সে সময়কার অনেকের লেখনীতে বলা হয়েছে, “বাঙালি মানেই হলো হিন্দু, আর হিন্দু মানেই বাঙালি। বাঙালি হিন্দু বা বাঙালি মুসলমান বলে কিছু নাই”।
বস্তুত বাঙালি-অবাঙালি সব মুসলমানকে হিন্দু বানানোর এই প্রকল্প ঐতিহাসিক এবং সুদূর পরিকল্পিত । যা এক শ্রেনীর মানুষের বিকৃত মস্তিস্কের যন্ত্রনা বা উপদ্রব। এ কারনেই লক্ষ্য করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে মাথা নষ্ট হাসিনার আওয়ামীলীগ নামক দলটি যখনই ক্ষমতায় থেকেছে এবং যে সকল উৎসবে হিন্দুত্ববাদের অস্তিত্ব এনেছে সে সকল উৎসবকে “সার্ব জনীনতার” মোড়কে চালাতে চেয়েছে । যা হিন্দু এবং মুসলমান দু ধর্মকেই খাটো করেছে। কারন প্রতিটি মানুষের কাছে তার ধর্ম তার বিশ্বাস। আর সকলের এ বিশ্বাসের প্রতি বাস্তবে শ্রদ্ধাশীল না হয়ে বার বার আওয়ামীলীগ সকল ধর্মকে আপমান আপদস্ত, করেছে এবং করছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1693 বার