ইভিএম! ইভিএম! ইভিএম! ডিজিটাল কারচুপির নীল নকশা

Pub: শুক্রবার, জুন ৮, ২০১৮ ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, আগস্ট ১৯, ২০১৮ ৯:১৭ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে, তা নিয়ে পক্ষগুলির মধ্যে রয়েছে সাংঘাতিক বিতর্ক। তবে সনাতনী ব্যালট পদ্ধতির ভোটে গেলে নির্বাচনে জয়লাভ করার কোন সুযোগ নেই সেটা ভালো করেই জানে বর্তমান দখলদার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার। দখলদার সরকারের করা সকল মাঠ জরিপ নিশ্চিত করেছে যে, যদি ভোট ৬০ ভাগও সুষ্ঠু হয় তাহলেও আওয়ামীলীগের ক্ষমতায় যাওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনাও নেই। আর আসন্ন নির্বাচনে যে তারা অতীতের মতো কারচুপি ও ভোট ডাকাতি করতে পারবে, তেমন ভরসাও পাচ্ছে না। নির্বাচন যত নিকটে আসছে, দখলদার সরকারের ভয়-ভীতি,শংকা-আশংকা, উৎকন্ঠা তত বাড়ছে। ফলে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর নীলনকশা নতুন করে তৈরী করছে। তারা বুঝে গেছে, পুরাতন কায়দায় ক্ষমতায় যেতে হলে কারচুপি ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই। আর সেই কারচুপির জন্য একমাত্র উপযুক্ত পদ্ধতি হলো “ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন” বা ইভিএম। একটি সূত্র জানায় দুই শত চল্লিশ কোটি টাকা বাজেটে বার হাজার ইভিএম মেশিন ক্রয়ের পরিকল্পনা তাদের। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত তারা ২ হাজার ৫৩৫টি ইভিএম কিনে ফেলেছে, যার ৩৮০টি গত সপ্তাহে তাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। বাকিগুলো কিছুদিনের মধ্যেই পৌঁছাবে। ইসি এসব ইভিএম কিনেছে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) কাছ থেকে। আর বিএমটিএফ অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব ইভিএম আমদানি করেছে ফিনল্যান্ড থেকে। প্রতিটি ইভিএমের দাম পড়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ২ হাজার ৫৩৫টি ইভিএমের দাম পড়েছে ৫০ কোটি ৭০ লাখ টাকার মতো।

আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা যেসব আসনে দুর্বল, এমন ১৫০টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করে তাদের অন্তত ১১০ থেকে ১২০ জনকে বিজয়ী দেখানো হবে। বাকি ১৫০ আসন থেকে কারসাজি করে আওয়ামীলীগের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের মতো প্রার্থী বের করে আনবে হাসিনার অনুগত নির্বাচন কমিশন। দেশী বিদেশী চাপের মুখে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। তাতে মানুষ ভোট দেয়ার সুযোগ পেলেও ইভিএম এর কারচুপি ফল বদলে দিবে। এই ব্লু-প্রিন্ট নিয়ে একযোগে কাজ করছে কেএম নূরুল হুদা ও এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ। মুলতঃ দেশের ভোটারদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ডিজিটাল কারচুপি করে আবারও ক্ষমতায় থাকার সব কারসাজির প্রক্রিয়া চলছে খুব গোপনে।

ইচ্ছাকৃতভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতিকে বাতিল করে এবং অত্যন্ত অনির্ভরশীল ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ব্যবহার চালু করে আমাদের দেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনকে প্রায় নিশ্চিতভাবে অনিশ্চিত করে দেশকে এক অনিবার্য সঙ্ঘাত ও অস্থিতিশীলতার মধ্যে নিমজ্জিত করতে তৎপর ফ্যাসিস্টরা । যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ বুশের দ্বিতীয় নির্বাচনকালে ফ্লোরিডা রাজ্যে এই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনায় কারচুপি করায় (বুশের আপন সহোদর তখন ফ্লোরিডার গভর্নর পদে আসীন) সারা যুক্তরাষ্ট্রে ওঠে তীব্র নিন্দা যার জন্য বুশের বিজয় হয়েছিল প্রশ্নবিদ্ধ। জার্মানিতে এই পদ্ধতি নির্ভরযোগ্য নয় বলে এর ব্যবহার সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য, জাপান, ভারত- ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার করে না। হঠাৎ করে এই পরিত্যজ্য পদ্ধতি আমাদের সরকার কেন ভোট গণনায় ব্যবহার করতে আদা-নুন খেয়ে উঠেপড়ে লেগেছে? লক্ষাধিক ইভিএম ক্রয়ের এই অশুভ উদ্যোগের পেছনে কেউ আর্থিকভাবে লাভবান হতে যাচ্ছেন কি? নাকি এই নতুন চালাকির মাধ্যমে আগামীতে ইচ্ছেমতো ভোট গণনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে? এখন পাঠকদের বোঝাতে চেষ্টা করব ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গণনাকে কিভাবে পাল্টে দেয়া যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতানুযায়ী ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বাচনে অতি সহজেই ফলাফল পাল্টে ফেলা সম্ভব। কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা প্রমাণিত করেছেন কিভাবে অপরাধীরা ইভিএম ‘হ্যাক’ করে অনায়াসে ভোট চুরি করতে সক্ষম। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও স্যান ডিয়েগো, মিশিগান ও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ‘রিটার্ন ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং’ ব্যবহার করে ইভিএমকে দুর্ব্যবহার করার সক্ষমতা প্রমাণিত করেছেন। বিশেষজ্ঞদের সামনে তারা দেখিয়েছেন কিভাবে একটা ‘ভাইরাস’ ব্যবহারের মাধ্যমে ইভিএম মেশিনে হ্যাকাররা ভোটের ফলাফল সহজেই ‘ম্যানিপুলেট’ করতে পারে। একটি পত্রিকা [BLITZ] ইতোমধ্যেই প্রকাশ করেছে যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ভারতের কিছু ‘নটোরিয়াস’ হ্যাকারদের সাথে যোগাযোগ করেছে যাতে তাদের নিয়োগ করে বাংলাদেশের নির্বাচনে ভোট গণনায় কারচুপি করা যায়। এই ভারতীয় হ্যাকারদের তাদের এই কর্ম সম্পাদনের জন্য ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেয়ার প্রস্তাবও নাকি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত করার পথে।

বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, ইভিএমের একটি ক্ষুদ্র অংশ যার নাম Detectable Memory Module (DMM)। তার মধ্যেই নির্বাচনের ফলাফল সংরক্ষিত থাকে এবং এই অংশটি ইভিএম থেকে খুলে নেয়া যায় এবং এভাবে অতি সহজেই নির্বাচনের ফলাফলকে পাল্টে দেয়া সম্ভব। আয়ারল্যান্ড ২০০৬ সাল থেকে ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। মার্চ ২০০৯ সাল থেকে জার্মানি ইভিএম-এর ব্যবহারকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছে। ফিনল্যান্ডের সর্বোচ্চ আদালত ২০০৯ সালে মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে ব্যবহৃত ইভিএম-এর ফলাফল ইনভ্যালিড ঘোষণা করেছে। এপ্রিল ২০০৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ইভিএম-এর ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। আর আমাদের সরকার এই অগ্রহণযোগ্য মেশিন ক্রয়ের ও ব্যবহারের জন্য কেন এত উন্মুখ তা বুঝতে কারোরই অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

লেখক: ডাঃ আব্দুল আজিজ

প্রধান সম্পাদক শীর্ষ খবর ডটকম।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 2421 বার