“শুধু নিরাপদ সড়ক নয় নিরাপদ রাষ্ট্রও চাই”

Pub: রবিবার, আগস্ট ১২, ২০১৮ ৪:২১ অপরাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, আগস্ট ১২, ২০১৮ ৪:২১ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

সায়েক এম রহমান
১। কোমলমতি বাচ্চাদের নয় দিনের আন্দোলন শুধু দেখেছি, কিছুই লিখিনি তবে প্রতিদিন মনে মনে লিখেছি। আজ ঠিকই খাতায় লিখছি কিন্তু ভারাক্রান্ত মন নিয়ে,,,,,।

রক্তে রঞ্জিত ক্ষত-বিক্ষত কোমলমতি বাচ্চাদের মুখ আজ যায় না চেনা! তাদের উপর দিয়ে চলেছে পাষন্ডদের গুলি, বারুদ, টিয়ার সেল, জেল,জুলুম, নির্যাতন ও সম্ব্রম হানী। আইয়ুবী হায়েনাদেরকে ও হার মানিয়ে দিয়েছে। কোমলমতি শিশু-কিশোরদের জীবন প্রদিপ নিভিয়ে দিয়েছে গণ ধিকৃত বর্বর হায়েনারা। তারা আজ বাকরুদ্ধ!

“কিশোর আন্দোলন ২০১৮” নিঃসন্দেহে বাংলাদেশে একটি যুগান্তকারী ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। নিরাপদ সড়কের দাবীতে টিন-এইজ ছাত্রদের নেতৃত্বে পুরো বাংলাদেশ কে ঐক্যবদ্ধ করেছে। ৪৭ বৎসরের আবর্জনা তারা দেখিয়ে দিয়েছে! দাম্ভিকতা-পূর্ণ দাপুটে মন্ত্রী, এমপি, সচিব, বিচারপতি, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও মিডিয়া সহ প্রায় অনেক-ই কোমলমতিদের কাছে ধরা খেয়েছেন, লজ্জিত হয়েছেন চরম ভাবে। যা কখনও কল্পনা করা যায় নাই। অসম্ভবকে তারা করেছে সম্ভব। প্রচন্ড ঝাঁকুনি খেয়েছে রাষ্ট্র যন্ত্র। আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও সব কয়টি সোস্যাল মিডিয়া ফলাও করে প্রচার করেছে যদিও দেশীয় মিডিয়া ছিল অনেকটা নিরব ভূমিকায় আর কিছু মিডিয়া ছিল বেগুন চাষে ব্যস্ত !

২। পাঠক, বাংলাদেশের নিরাপদ সড়কের দাবীতে সব ক্ষোভ একত্রে করে, কিশোর আন্দোলনকে আরব বসন্তের ন্যায় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো,,,,, আজকের শিশু -কিশোর দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎরা। তারাই আগামীর বাংলাদেশ, তারাই দেশের মালিক। তাই তারা হয়েছিল উদ্যমী। ওরাই দেশের বীর, ওরা চঞ্চল, ওরা প্রতিবাদী, ওরা আমাদের গৌরব। ওরা দেখিয়ে দিয়েছে ছাত্র আন্দোলন কত সুশৃঙ্খল হয়। তাদেরকে শত সহস্র বার স্যালুট জানাই। একটা নিঃশ্বাষ ফেলেছি! নতুন প্রজম্ম আমাদের কনফিডেন্সকে অনেক উপরে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশ আর ভুটান সিকিম হবে না, এটা জাতি বুঝে গেছে। ওরাই পারবে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাতে। তারা দেখিয়ে দিয়েছে বায়ান্নর ছাত্র আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি, তারা দেখিয়ে দিয়েছে তিলত্তমা ঢাকা নগরী কে জানজট মুক্ত করতে কত সময় লাগবে, তারা দেখিয়ে দিয়েছে মন্ত্রী, এমপি, সচিব, এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সহ ক্ষমতাশালীদের বিভিন্ন অনিয়ম।

অপর দিকে,,,, যে দলটির জম্ম হয়েছিল, শাসক শোসক ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রত্যয় নিয়ে, যে দলটি জন্মেছিল গনতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানবিকতার জন্য, যে দলটি ঐতিহাসিক ৫২,৫৪,৬৯,৭০ ও ৭১ এর নেতৃত্ব দিয়েছিল। তারাই আজ বিপরীত অবস্হানে। তারাই আজ শাসক, শোসক ও স্বৈরাচারের ভূমিকায় অবতীর্ণ। বিশ্বে আজ ফ্যাসিষ্ট হিসাবে পরিচিত। তার-ই জ্বলন্ত উদাহরন,,,, কিশোর-ছাত্র আন্দোলনের অষ্টম ও নবম দিনে সরকারের এবং সরকারের হেমলেট বাহিনীর মারমুখী আক্রমনে টিয়ার সেল,গুলি ও বারুদের ধুঁয়ায় ঢাকার আকাশ ছিলো অন্ধকারছন্ন! রাজধানী ঢাকায় যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার আলেপ্পো নগরী, কাশ্মীর, ফিলিস্তিন, আফগান ও আরাকানের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছিল। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল এটা রাজধানী ঢাকা।

নিরাপদ সড়কের দাবীতে আন্দোলন রত শিশু -কিশোরদের আন্দোলনকে বিভিন্ন কৌশলে দমাতে না পেরে পাষান্ডতা ও বর্বরতার রক্তাক্ত পথই বেচে নিল সরকার। প্রথিতযশা ফটো সাংবাদিক শহিদুল আলমকে তুলে নিয়ে অমানবিক ভাবে নির্যাতন করছে। বিশ্বখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে নির্যাতনে বিশ্ব মিডিয়া সয়লাব। এ যেন ভয়ংকর সাংবাদিক দমননীতির ই অংশ। কিশোরদের অভূতপূর্ব আন্দোলনকে দমনের জন্যই এই সব কৌশল। বসুন্ধরায় ব্লক রেইড করা,বিভিন্ন বাসা বাড়িতে ছাত্রদের খোঁজা -খোঁজি করা। ২২ জন ছাত্রকে কমরে রশি বেঁধে টেনে চিঁছড়ে নেওয়া, বিভিন্ন স্কুলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বহিস্কারের চাপ দেওয়া এবং কারা কারা আন্দোলনে ছিল তাদের সনাক্ত করার চেষ্টা ইত্যাদি। এ যেন আইয়ুবশাহীর স্টাইলে ছাত্র দমননীতি।

৩। সরকার শুধু ক্ষমতার জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে সীমানা অতিক্রম করতে করতে এমন একটি স্হানে পৌঁছছে যে,,,,,তারা খুব ভাল করেই জানে যদি একটি বার ক্ষমতা হারায়, তা-হলে তাদের সব শেষ। ইতিহাস বলে, ” ভয়ংকর অপরাধীদের সাইকোলজি এমনি হয়। তা আমরা আরব বসন্ত থেকেও দেখে এসেছি। এ ছাড়া সাধারণ মানুষ আজ এ সরকারের বিভিন্ন কার্যকলাপ দেখে অহরহই বলছে,” আওয়ামী লীগ সরকার এত বেশি অন্যায়, অনিয়ম ও অবিচার করেছে, তাদের পরিনাম তারা জানে। তাই তারা ক্ষমতা ছাড়ার সাহস হারিয়ে ফেলেছে। সে জন্যই তারা এত বেপরোয়া। সে জন্য ই তারা ফ্যাসিষ্ট। তাই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, লাইসেন্স বিহীন ড্রাইভার যদি বিপদজনক হয়, লাইসেন্স বিহীন সরকার তো এমনি হবে!

৪। পাঠক, আজকের ছাত্র আন্দোলনের ঢেউ বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরেছে। বিশ্বের বাংলা ভাষা ভাষী ছাত্র-ছাত্রীরা পৃথিবীর বড় বড় শহর থেকে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছে, এ সরকারকে ধিক্কার জানাচ্ছে এবং তারা আওয়াজ তুলছে, এখন শুধু নিরাপদ সড়ক নয়, নিরাপদ রাষ্ট্রও চাই। দেশ ও জাতি আজ বড়-ই অনিরাপদ। নিরাপদ সড়ক ও নিরাপদ রাষ্ট্র আজ গণমানুষের দাবী।

লেখকঃ
লেখক ও কলামিস্ট
সায়েক এম রহমান
উপদেষ্টা সম্পাদক শীর্ষ খবর

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 2201 বার

আজকে

  • ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ১৫ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 
 
 
 
 
আগষ্ট ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« জুলাই   সেপ্টেম্বর »
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com