“প্রয়োজন শুধু ইস্পাত কঠিন আন্দোলন “

Pub: শুক্রবার, আগস্ট ৩১, ২০১৮ ১১:৪৭ অপরাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮ ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সায়েক এম রহমান:

১। নির্বাসিত গনতন্ত্রে দেশ আজ ভয়াবহ অর্থনৈতিক সামাজিক রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের মুখে পতিত। ইতিহাস বলে,”২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর মঈন ফখরুর শাসন আমলকে বৈধতা দিয়েই তাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা মোতাবেক নীল-নকশার নির্বাচনের মাধ্যমে একক ক্ষমতার মালিক হন আজকের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। অতঃপর এক এক করে চললো ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতা ধরে রাখার বিভিন্ন কূট কৌশল। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার ক্ষমতায় আসার প্রথম তিন মাসের ভিতরেই পিলখানায় ঘটানো হলো পৃথিবীর নিকৃষ্টতম হত্যাকান্ড। বিভিন্ন বিরোধী মত ও পথের হেভিওয়েট নেতাদের কে মানবধিকারের দোহাইয়ে বিচারের সন্মুখীন করা এবং একে একে ফাঁসিতে ঝুলানো। গ্রামীন ব্যাংকের প্রতিষ্টাতা ডঃ মোহাম্মদ ইউনুস-কে গ্রামীন ব্যাংক থেকে অপসারণ করা এবং বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁহার স্মৃতি বিজরিত ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা। পশ্চিমাদের মন জয় করার অভিপ্রায়ে বিভিন্ন জঙ্গী হামলার নাটক করে অসংখ্য শিশু – নারী -পুরুষকে হত্যা করা। সরকারের অধিকাংশ নীতিনির্ধারক, রাজনীতিবিদ ও সুশীলরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্হার পক্ষে থাকার পরও শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে থাকায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে( যদিও আরো ২/৩ টা ট্রাম চালুর রাখার ব্যবস্হা ছিলো) বিদায় করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্হা। হেফাজতে ইসলামের অসংখ্য আলেম উলেমাকে শাপলা চত্বরে ষ্ট্রিট লাইট অফ করে হত্যাকান্ড ঘটিয়ে জায়গা মতে বসিয়ে দেয়া। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটার বিহীন তামাশার নির্বাচনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী কায়দায় বিরোধী মত পথ কে বন্ধ করে দিয়ে,গৃহ পালিত বিরোধী দল।
নিয়ে আবারও ক্ষমতায় আসা!
বিরোধী দলের মহাসচিব সহ প্রায় সব সিনিয়র নেতা ও বিভিন্ন দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের কে অন্যায় ভাবে বিভিন্ন দুর্ণীতি ও নাশকতা মামলায় জড়িয়ে সাজা প্রদান করা এবং নেতাকর্মীদেরকে নির্যাতন,জেলজুলুম,খুন, গুম তো আছেই। জিয়া বিমান বন্দর থেকে শুরু করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানে সব নাম করন মুছে ফেলা। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কে পরিকল্পিত সাজানো মামলায় পাঁচ বৎসরের সাজা দিয়ে জেলে রাখা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দুইটি বানোয়াট মামলায় সাজা দেয়া। এখন সামনে আছে ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলার এবং দশ ট্রাক অস্র মামলার রায়। সর্বশেষ নিরাপদ সড়কের দাবীতে ছাত্র আন্দোলন, যে আন্দোলন পুরো বাংলাদেশের প্রশংসা কুড়িয়েছে, পুরো বাংলাদেশকে ঐক্য বদ্ধ করিয়েছে, তাদেরকে ও রেহাই দেয় নাই জেল জুলুম বিভিন্ন প্রকার নির্যাতনের মাধ্যমে বসিয়ে দেয়া হয়েছে। সব মিলে এ যেন স্বৈরাচার আইয়ুব এহিয়াকে ও হার মানিয়ে দিয়েছে।
এ ছাড়া,,,ব্যাংক বীমা লুট করা। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ পান্ড থেকে,,,,,, রিজার্ভের এ পর্যন্ত সরকারের স্বীকারকৃত ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার লোপাট হওয়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা তামা হওয়া, কয়লা নাই হওয়া, শেয়ার বাজার, ডেসটিনি, হলমার্ক, সোনালী, রুপালী, জনতা ও বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি সহ রাষ্ট্রয়াত্ত ব্যাংকগুলোর হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করা। পাঠক সমষ্টিতে এখানে প্রতিয়মান হয়,” বাংলাদেশ এখন টাকা রপ্তানীর দেশে পরিণত। বিভিন্ন গন মাধ্যমে প্রকাশিত হাসিনা সরকারের আমলে গত দশ বৎসরে প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বড় বড় ব্যাংকগুলা যখন বলছে তারা ফোকলা হয়ে গেছে তখন সরকারি দলের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাঁর দলের নেতাকর্মীদের হুুসিয়ার করে বলে দিলেন,” আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে,টাকা পয়সা নিয়া পালাতে হবে। কাদের সাহেব এই কথায় কি বুঝালেন? যাক! ভারতের আনন্দ বাজার পত্রিকায় প্রখ্যাত কলামিস্ট অমিত বসু বাংলাদেশের ব্যাংক লুট প্রসঙ্গে তাঁহার এক আর্টিকেলে লিখেছিলেন,,” দরজা জানালা খোলা রেখে এসি চালালে কি লাভ? ঘড় ঠান্ডা তো হবেই না বরং মধ্য পথে হুু হুু করে শুধু কারেন্টই জ্বলবে! তার মানে কি দাঁড়ায়? তার মানে কি আওয়ামী লীগ সরকার আবারও দেশকে বটমলেস বাস্কেটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে?
২। পাঠক,,,,আজ থেকে তিন মাস পর ডিসেম্বর মাস। ডিসেম্বর মাসেই সম্ভবত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নিরপক্ষ নির্বাচনের দাবীতে দেশের রাজ পথ উত্তপ্তের পথে,,,,,,,,,,,নির্বাচন যত নিকটে আসছে, সরকারের উৎকন্ঠা ও ভয়ভীতি ততই বাড়ছে।
কবি না বলে গেছেন,” দিনে দিনে বহু বাড়িয়েছে দেনা, শুধিতে হবে ঋণ “।
ইভিএম এখন হট ইস্যু, কিছু বলতেই হবে তবে দীর্ঘ করতে চাই না। সরকার কিন্তু ভাল করেই জানে সনাতনী ব্যালট পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচনে গেলে বর্তমান শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে খোঁজেই পাওয়া যাবে না। এমনকি পঞ্চাশ ভাগ চুরি চামারি করে নির্বাচন করলেও ক্ষমতায় আসার ক্ষীণ সম্ভবনা ও নাই। তাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য সরকার ও ইসি উঠে পড়ে লেগেছে । যেখানে বিভিন্ন অভিজ্ঞতায় আয়ারল্যান্ড ২০০৬ সাল থেকে ইভিএম পদ্ধতি নিষিদ্ধ করেছে। জার্মানী ২০০৯ সাল থেকে ইভিএম পদ্ধতি কে অসাংবিধানিক বলে ঘোষনা করেছে। ফিনল্যান্ডের সর্বোচ্চ আদালত ২০০৯ সালের মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতির ফলাফল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে । পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে ও ইভিএম পদ্ধতি কে না বলে দিচ্ছে। এ ছাড়া কিছু দিন আগেও সিইসি ইভিএম পদ্ধতি কে না বলে দিছেন । সেখানে হঠাৎ ১০০টি আসনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য সরকার ও ইসি সিরিয়াস হওয়াতে,,,,,ডাল মে কুচ কালা লাগরা হে! রাজনৈতিক পর্যবেক্ষরা বলছেন,” ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে তাদের ১৫৪ টি সিট ছিল বিনা ভোটে নির্বাচিত। আর এবার তারা ১০০ টি সিটের একটা ফন্দি আঁকছে । বাস্তবতা হলো,,,আওয়ামী লীগ আজ অগনতান্ত্রিক পন্তায় ক্ষমতা উপভোগ করতে করতে,,,,, প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্যায় অনিয়ম অবিচার ও দুর্নীতি করে, প্রতিটি সীমানা অতিক্রম করে এমন এক স্হানে পৌঁছেছে, তারা এখন ক্ষমতা ছাড়ার সাহস হারিয়ে ফেলেছে।
৩। মূল কথায় চলে আসি,,,,,আগামী তিনটি মাস বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুবই গুরুত্ব পূর্ন মাস,সতর্কতার মাস, আন্দোলনের মাস, বিজয়ের মাস। এখানে বাংলাদেশের রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট রয়েছে। তাই শাসক দল অস্হির ও দিশাহারা হয়ে উম্মাদের ন্যায় দৌঁড় ঝাঁপ করছে, বিভিন্ন আমলা দেরকে এবং বিভিন্ন বাহিনীকে পদোন্নতি দিয়ে, পদোন্নতির জোয়ারে দেশ ভাসাচ্ছে। সংবিধানের দোহাই দিচ্ছে। সংবিধানের দোহাই অতীতে সব স্বৈরাচারাই দিয়েছে। আইয়ুব এহিয়ারাও দিয়েছে। একটি কথা অন্য লিখায়ও বলেছি , আজ ও বলছি,,”” ইতিহাস বলে যখন গনতন্ত্রের নিয়মতান্ত্রিক সব পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং অন্যায় যখন নিয়ম হয়ে যায় তখন আর নিয়ম নীতি মেনে জনতার দাবী আদায় করা যায় না। তখন নিজের বিবেককে প্রশ্ন করতে হয়, আইন কার জন্যে? তখন আপনার বিবেকই বলে দিবে আইন তো মানুষের ই জন্যে। মানুষ ই তৈয়ার করবে মানুষের আইন। মানুষের অধিকার, মানুষের স্বাধীনতা, মানুষের সার্বভৌমত্ব, মানুষের বুকের পাঠা দেখিয়ে আদায় করতে হয়। ইতিহাস আমাদের আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে,, ৪৭, ৫২, ৭১ ও ৯০ এ সেই স্বৈরাচারদের আইন মানলে আমাদের কোন বিজয় ই আসতো না।
অতএব,,এই মহুর্তে ছাত্র শিক্ষক কৃষক শ্রমিক দলমত নির্বিশেষে ঐক্য বদ্ধ হয়ে, দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করার জন্য,,,ইস্পাত কঠিন আন্দোলনের প্রয়োজন। নইলে তাদের টার্গেট অনুযায়ী ২০৪১ সাল পর্যন্ত স্বৈরাচার সরকারের অধীনেই থাকতে হবে। তাই আর মিটিং মাটিং, ডেইটিং, ব্রিফিং দিয়ে সময় নষ্ট করে লাভ নেই। কেউ কাউকে ক্ষমতা দিবে না,ক্ষমতা আদায় করতে হয়। এ যাবৎ পৃথিবীতে যত গনতান্ত্রিক আন্দোলন সফল হয়েছে, তা কেবল নিজ নিজ দলের ইস্পাত কঠিন আন্দোলনে ই সফল হয়েছে।

লেখকঃ
লেখক ও কলামিস্ট
সায়েক এম রহমান
উপদেষ্টা সম্পাদক
শীর্ষ খবর

এখানে প্রকাশিত সব মতামত লেখকের ব্যক্তিগত, শীর্ষ খবর ডটকম’র সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয়।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 2240 বার