এক জীবন্ত কিংবদন্তি ছাত্র নেতার নাম ইসহাক সরকার️!

Pub: সোমবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮ ২:০৯ অপরাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮ ২:১০ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ইসহাক সরকার শুধু ছাত্রনেতা নয় একজন মানবতার বন্ধু দলের জন্য একজন নিবেদিত প্রাণ, সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে তার ছিল অগ্রণী ভূমিকা রাজপথে ইসহাক সরকার ছিল জলন্ত অগ্নিগিরি বর্তমান বিনা ভোটে নির্বাচিত ফ্যাসিস্ট সরকারের আতঙ্ক তাই মামলার পাহাড় মাথায় দলীয় সকল কর্মসূচিতে ছিল সোচ্চার তাই তার মাথায় মামলার পাহাড়।

যার মামলার সংখ্যা ১৭০ টা। বিএনপির প্রতিটা প্রোগ্রামে যিনি উপস্থিত থাকতেন শতশত কর্মীদের সাথে নিয়ে। অসহযোগ আন্দোলনের সময় পুলিশ ইসহাক সরকারের বাসার পানির, গ্যাস এবং বিদুৎতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। বিএনপির সম্মেলনে যখন সকল কেন্দ্রীয় নেতারা স্টেজে উঠে বসে আছেন। তখন ইসহাক সরকার জনসভার মাঠে পায়ে হেঁটে হেঁটে সম্মেলনে আসা নেতা-কর্মীদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং স্যালাইন সহ খাবার পানি ভিতরন করেছেন। যেখানে তিনি নিজেই প্রতিটা সেকেন্ডে জীবন-মরনের সন্ধিক্ষনে রয়েছেন……সেখানে তিনি কিনা গুম ও খুন হওয়া নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। দিয়েছেন তাদের পরিবারকে সান্তনা দিয়েছেন সাধ্য অনুযায়ী আর্থিক সাহায্য ও করেছেন । এতকিছুর মাঝে ও তিনি ছুটে গিয়েছেন উত্তর বঙ্গে বন্যা কবলিত মানুষের কাছে। তাদের মুখে তুলে দিয়েছেন খাবার।


নিয়েছেন তাদের ও খোঁজ-খবর। ইসহাক সরকার ছুটে গিয়েছেন মিয়ানমার থেকে শুধুমাত্র জীবনটা নিয়ে পালিয়ে আশা মুসলিম রহিঙ্গাদের কাছে। পরম মমতায় কুলে তুলে নিয়েছে মাসুম বাচ্চাদের। তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন উনার সাধ্যমত খাবার ও অর্থ। এইতো সেইদিন যখন বিএনপির সমাবেশ যাতে সফল না হয় তার জন্য নেতা-কর্মীদের বাসায় পুলিশ তল্লাশি চালায়। ইসহাক সরকারের বাসায় তল্লাশি করে তাকে না পেয়ে তার স্নেহধর ছোট ভাইকে মসজিদ থেকে ধরে নিয়ে যায় ফ্যাসিস্ট সরকারের পুলিশ। ঠিক তার ২০ মিনিটের মধ্যেই ইসহাক সরকার তার ফেইসবুক পেইজে স্টাটাস দেন..”পুলিশের কাজ পুলিশ করেছে,আমাদের কাজ আমরা করব”। তিনি ঠিকেই শত শত কর্মীনিয়ে সমাবেশে উপস্হিত হয়েছেন এবং এই প্রচন্ড গরমে ও তিনি অন্য নেতাদের মত স্টেজে না গিয়ে কর্মীদের সাথেই থেকেছেন। রক্তে আগুন ঝরা স্লোগান দিয়ে কর্মীদেরকে প্রাণবন্ত করে রেখেছিলেন।


১৯৯৬ সালের ২৭শে এপ্রিল রাজধানীর রমনা পার্ক থেকে প্রথমবারের মতো আটক হয় ইসহাক সরকার । ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি শহিদউদ্দিন চৌধুরী এনি ও ইসহাক সরকার সহ ছাত্রদলের ৩৪ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। যার মধ্যে ২২ জনই ছিলেন কোতয়ালি থানা ছাত্রদলের নেতাকর্মী। আটককৃতদের পুলিশ কন্ট্রোল রুমের খোলা মাঠে সারাদিন খালি গায়ে রাখা হয়। পরদিন বাংলাদেশের গণমাধ্যমসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম হয় ।

১৯৯৯ সালে হরতাল চলাকালে বংশাল বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পিকেটিং করার সময় দ্বিতীয়বারের মতো আটক হয় ইসহাক সরকার । ১৭টি মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয় ইসহাক কে । কোতয়ালি থানায় রিমান্ডে থাকাকালীন সময়ে খাবার দিতে এসে পুলিশের হাতে আটক হয় তারই সহোদর ইসমাইল সরকার(১৭) ও তাঁর সহযোগী নীরব। ৪ মাস পর জেল থেকে মুক্তি পান ইসহাক সরকার । সেই একই বছরের শেষ দিকে বংশাল বিএনপি কার্যালয়ের ভেতর থেকে ইসহাক সরকার কে পুনরায় আটক করে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ !
ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে প্রথম বারের মতো ১০৭ মামলায় গ্রেফতার হয়ে দেড় বছর কারাবরণ করেন তিনি।


কারাগারে থাকাকালীন সময়ে তাঁর বাবার মৃত্যু হলে ৪ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নিয়ে আবার কারাগারে গমন করেন তিনি। বাবার জানাজায় ডাণ্ডা-বেড়ি পরে অংশ নিতে আসলে, তাঁকে এক নজর দেখার জন্য হাজার হাজার জনতার ঢল নামে। যা পুরাতন ঢাকায় ব্যাপক আলোচিত হয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইসহাক সরকারের মুক্তি কামনা করে বলেন “কারাগারে থাকা অবস্থায় কিছুদিন পূর্বে ইসহাকের পিতার মৃত্যু হয় কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠে তাঁকে পিতৃবিয়োগের শোক সংবরন করতে হচ্ছে। আমি অবিলম্বে ইসহাকের নিঃশর্ত মুক্তির দাবী জানাই। সব মামলায় জামিনের পর এক এক করে ৫ টি নতুন মামলায় কারাগেট থেকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। ️১০৭ মামলায় কারাগারে থাকার সময় বিএনপির “ঢাকা টু পঞ্চগড়” লংমার্চের ২২ টি জন সভা ও পথসভায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেনঃ “আমার ২৫ বছর বয়সের ছাত্রনেতা ইসহাক সরকারকে ১০৭ টি মামলা দেওয়া হয়েছে। এটা ইতিহাসে নজিরবিহীন।” এরই প্রেক্ষিতে “আর কাউকে জেলগেট থেকে গ্রেফতার করা যাবেনা”- হাইকোর্টের এমন আদেশের পর মুক্তি পান ইসহাক সরকার।


ইসহাক যখন ১০৭ মামলায় কারাগারে, ঠিক তখনি ২৫টি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রাজনীতি না করা ছোট ভাই ইসমাইল সরকারকে দ্বিতীয় বারের মতো কারাগারে প্রেরণ করা হয়। দুই ভাই জেলে থাকাকালীন সময়ে তাঁদের মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমন্ত্রনে সাক্ষাত করতে যান গর্বিত সেই মা জননী। ২০০০ সালের প্রথম দিকে ইসমাইল সরকার কে ৩০ টি মামলায় আবার গ্রেফতার দেখানো হয়। ২০০৯ সালে হাসিনা সরকার যখন আবার ক্ষমতায় আসে তখন এই বীর পরিবারের উপর নির্যাতনের “নীলনকশা” তৈরি করা হয়। আবার শুরু করে অত্যাচার-নির্যাতন। শুরু হয় আবার একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার নগ্ন পরিকল্পনা। ইসহাক সরকার এর উপর দায়ের করা হয় একের পর এক মিথ্যা মামলা। এ ব্যাপারে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে সংসদে দাড়িয়ে বলেছিলেন “ইসহাকের উচিত কোর্টের পাশেই ঘর বানিয়ে থাকার। যেন সকাল হলেই কোর্টে গিয়ে হাজিরা দিতে কষ্ট না হয়।


২০১৩ সালের ১৮ জুন বিশ্ববিখ্যাত ইংরেজি পত্রিকা দ্যা গার্ডিয়ান তাদের বিশ্বরাজনৈতিক পাতায় ইসহাক সরকারের প্রতিবাদমুখর এক আলোকচিত্র দিয়ে তৈরি করে তাদের মূল প্রচ্ছদ ও প্রতিবেদনঃ সবশেষে তাঁর গণতন্ত্রের মুক্তির আন্দোলনের অগ্রযাত্রা রুখতে তাঁর নাম নথিভুক্ত করা হয় র‍্যাব এর ক্রসফায়ার তালিকায় ! এতসব নির্মম নির্যাতনের পরও গনতন্ত্রের স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যাচ্ছে ছিলেন । তা ছাড়া তিনি মানবিক কাজে সবসময় এগিয়ে আসেন। গত কিছুদিন আগে দিনাজপুর বন্যার্ত মানুষের ত্রাণ ও নগত অর্থ বিতরন সহ মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী মাঝেও নগত অর্থ ও ত্রাণ বিতরন করেন।ইসহাক সরকার শুধু ছাত্রনেতা নয় একজন মানবতার বন্ধু দলের জন্য একজন নিবেদিত প্রাণ।এক জীবন্ত কিংবদন্তি ছাত্র নেতার নাম ইসহাক সরকার। সর্ব শেষে বলি সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হউক এবং ইসহাক সরকারকে শিগ্রীই মুক্তি দিবেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 2061 বার