একটি “গন-বিস্ফোরণ” এখন সময়ের ব্যাপার

Pub: বুধবার, অক্টোবর ১০, ২০১৮ ১২:১২ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, অক্টোবর ১০, ২০১৮ ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সায়েক এম রহমান:
১। যখন একটি রাষ্ট্রে নেই কোন গনতন্ত্র, নেই মানবাধিকার, নেই স্বাধীনতা! চলছে,,,সংবিধান লুট, আদালত লুট, মানুষ লুট, মালিকানা লুট, ভোট লুট, ব্যাংক লুট,সোনা লুট, কয়লা লুট, আর নির্বিচারে হত্যা, অনাচার, অত্যাচার ও ধর্ষন! যেখানে নির্বাচন শব্দটা হয়ে গেছে আয়লা সিডরের চাইতে ভয়ঙ্কর। চুয়াত্তর বৎসর বয়স্ক বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত তিন তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ ছাত্র -ছাত্রী সহ হাজার হাজার নেতাকর্মী বন্দী যাপন করছেন, দেশময় গায়েবি মামলায় নির্যাতিত হয়ে হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মী আকাশের দিকে তাকিয়ে ক্রন্দন করছে, হাজারো নেতাকর্মীর মা-বাবার কান্নায় আজ আদালত পাড়ার বাতাস ভারী হয়ে আছে। এ-ছাড়া ঘড় ছাড়া, বাড়ি ছাড়া লাখো নেতাকর্মী তাদের বাড়ি ফেরার জন্যে আফসোস করছে। আদালত তার হারানো স্বাধীনতার জন্যে ক্রন্দন করছে। অবৈধ সরকারের ষ্টিম রুলারে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে যখন চতুদিকে আওয়াজ তুলছে,,”” সকল রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, একটি সটিক নির্বাচন ও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ইত্যাদি ইত্যাদি।

ঠিক তখন (৩ অক্টোবর ২০১৮) জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের যোগদান শেষ করে গনভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন,” প্রায় দশ বছরের মতন ক্ষমতায় আছি। এমন কোন অন্যায় কাজ করিনি, যে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে। বন্দী শালায় থাকাকালীন সময়ে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা নিয়ে পরিকল্পনা করেছি। এটি এখন বাস্তবায়ন করছি। উন্নয়ন হচ্ছে, মানুষ এখন শান্তিতে আছে।
পাঠক, এ কথাগুলো বলার পর তাদের চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী তৈলা সাংবাদিক বৃন্দ করতালি দিয়ে গনভবন প্রাঙ্গনকে মুখরিত করে তুললেন। আর অপর দিকে টিভির সামনে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী তাদের হাসি আটকিয়ে রাখতে পারছিলেন না। ধিক্কার জানিয়েছিলেন।


২। এ প্রসঙ্গে বলতেই হয় কারন ইতিহাসই বলে গেছে, পৃথিবীতে যত ফ্যাসিষ্ট এসেছে, তাদের সবারই রুপ, গন্ধ ও লক্ষ্য ছিল একই। সেই উন্নয়ন! উন্নয়ন! উন্নয়ন! উন্নয়নের দশ বছরের গান ঠিক এ ভাবেই আইয়ুবরা ও গেয়ে গেছেন। তাদের পরিনামও সবার জানা। আগেও কোন এক লেখাতে বলেছি, আজ ও বলতে হচ্ছে পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খাঁন কালবার্ট ব্রিজ ও বিভিন্ন কল-কারখানা নির্মান করে উন্নয়নের জোয়ারে দেশ ভাসিয়ে ছিলেন এবং ডাক-ডোল পিটিয়ে ডেকেড অব ডেভেলপমেন্ট অথাৎ উন্নয়নের দশ বছর পালন করে ছিলেন। ভাবছিলেন তাঁহার সিংহাসন আর কেহ নড়াতে পারবে না। মানুষ বোকা -সুকা, কিছু বুঝে -সুজে না, নেতা যা বলে তা-ই ঠিক। কিন্তু না, মানুষ কিন্তু সবই বুঝে ছিল। খাইবার পাস থেকে বান্দরবন পর্যন্ত মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছিল। উন্নয়নের দশ বছরের ফুর্তি পালনের কয়েক মাস পরই আইয়ুবশাহীর পতন হয়েছিল।আজ কিন্তু তার কোন ব্যতিক্রম নয়। সেই আইয়ুব খাঁনের ডায়লগই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখে উচ্চারিত হচ্ছে! কোন কোন ক্ষেত্রে তার চেয়ে ও বেশী। সেই উন্নয়ন! সেই দশ বছরের গান আপনিও গেয়ে যাচ্ছেন। আইয়ুব যে ডাক-ডোল পিটিয়েছিল, সেই ডাক-ডোল আপনিও পিটাচ্ছেন!
আইয়ুব, এহিয়া ও এরশাদ কে যারা হটিয়েছিল, তাদের বংশধররাই আজকের প্রজম্ম তরুন যুব সমাজ। ওরা সবই বুঝে, খুব ভাল করেই বুঝে। কারন ওরা একবিংশ শতাব্দীর যুব সমাজ। আমি নিশ্চিত, তার কিছু টা পরিচয় ইতিমধ্যে পেয়েছেন,,,,””””নিরাপদ সড়ক চাই কোমলমতি সন্তানদের এবং কোটা সংস্কারকারী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে।

৩। বিএনপির চেয়ার পারর্সন বেগম খালেদা জিয়া ৩ রা ফেব্রুয়ারি লা- মেরিডিয়ান হোটেল থেকে কারাগারে যাওয়ার আগে তাঁহার শেষ বক্তব্যে বলেছিলেন,”আমি যেখানে ই থাকি না কেন, আমি আপনাদের সঙ্গেই আছি। দেশের মানুষের সঙ্গে আছি। আমাকে কোন ভয়-ভীতি দেখিয়ে দমাতে পারেনি, পারবেও না। আমি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আছি। দেশের মানুষের সঙ্গে আছি। সাহস সঞ্চয় করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। আসুন সবাই মিলে, সব শ্রেণী মিলে, জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে দেশটাকে রক্ষা করি। গনতন্ত্র ফিরে আনি।
এ লেখাটি লিখা পর্যন্ত,,,
আজ তারই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম মিলে একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রায় হয়ে গেছে।
পাঠক, খাইবার পাশ থেকে বান্দরবন পর্যন্ত যে ভাবে মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছিল। আজ কিন্তু বান্দরবন থেকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত রুখে দাঁড়ানোর সময় অতি সন্নিকটে। দৃশ্যপট বলছে, একটি গন-বিস্ফোরণ অবশ্যম্ভাবী।
তাই বলছি, এই মহুর্তে অবৈধ সরকারকে উচিত,,,,, “” বেগম খালেদা জিয়া সহ সব রাজনৈক বন্দী এবং কোটা আন্দোলন কারী বন্দীদের মুক্তি দিয়ে, সংসদ ভেঙে, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচন কালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারের মাধ্যমে সকল দলের অংশ গ্রহনে একটি সুষ্ট নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্তা করে জনগনের পাশে দাঁড়ানো।

নইলে আপাতত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, স্বৈরাচার আইয়ুব এহিয়া ও এরশাদের চাইতে ভয়াবহ পরিণতি হবে। কারন ইতিহাস বলে, কোন রাষ্ট্র যখন ফ্যাসিষ্টের কবলে পতিত হয়, আর মানুষের ধৈর্য্যের বান যখন ভেঙ্গে যায় তখন বিভিন্ন ডিজিটাল আইন সহ যত ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসুক না কেন, তখন আর কোন প্রকার বাঁধা বিপত্তি মানুষকে আটকিয়ে রাখতে পারে না। তখন পতন হবেই হবে।


পাঠক, ২৮ সেপ্টেম্বর সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভেরীপাইড আইডি থেকে যদিও আমি কবি নই, তারপরও কবিতার আকারে কিছু লাইনদ্বয় লিখে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। সেই লাইনগুলি প্রকাশ হওয়ার কয়েক ঘন্টা পরই আমার ফেইসবুক আইডি টি নাই হয়ে যায়। যাক। আজ ইচ্ছে করছে আমার লেখা সেই লাইনদ্বয় গুলি লিখে আজকের লেখাটি শেষ করি,,,,।
বাংলাদেশ এখন রুখে দাঁড়িয়েছে
হে বিশ্বখ্যাত স্বৈরাচার,
তোমার পতন এখন অবশ্যম্ভাবী
পথ খোঁজ পালাবার,
চতুদিকে চেয়ে দেখ জনতার ক্রোধধার
“গণ-বিস্ফোরণ” এখন সময়ের ব্যাপার।

লেখকঃ
লেখক ও কলামিস্ট
সায়েক এম রহমান
এখানে প্রকাশিত সব মতামত লেখকের ব্যক্তিগত, শীর্ষ খবর ডটকম’র সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয়।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1968 বার