একজন মইনুল হোসেনকে আর কত? আওয়ামী ফ্যাসিজমের শেষই বা কোথায়?

Pub: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৮, ২০১৮ ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৮, ২০১৮ ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সায়েক এম রহমান:

১। আজ দেশের এই মহাক্রান্তি লগ্নে দেশকে বাঁচানোর জন্য, মানুষকে বাঁচানোর জন্য, যে সব সিনিয়র সিটিজেন বা বিশিষ্ট জনরা আরেকটি গৌরবময় ইতিহাসে ভুমিকা দিচ্ছেন ও ভুমিকা নিচ্ছেন, সরকার তাহাদেরকে বিভিন্নভাবে হেনেস্থা করে, অপমান করে, পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা দিয়ে নির্যাতন করছে। তাতে দেশ ও জাতি লজ্জিত হচ্ছে, অপমানিত হচ্ছে।
পাঠক অবগত, মজলুম সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান কে কুষ্টিয়ার আদালতে আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ কতৃক পুলিশ প্রহরায় রক্তাক্ত ও লাঞ্চিত হওয়ার তিন মাস পর আবার একই কায়দায় আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ কর্তৃক গত ৪ নভেম্বর রংপুর চিপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেইট আদালতের সামনে লাঞ্চিত হলেন, নিউ নেশন পত্রিকার সম্পাদক, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের নেতা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। এখানে শুধু লাঞ্চিত বললে ভুল হবে। আদালতের সামনে বন্দী মইনুল হোসেনকে পুলিশ প্রহড়ায় শারীরিক ভাবে নির্যাতন, রীতিমত কিল ঘুসি মারা এবং জুতা ও ডিম নিক্ষেপ করা হয়। মজার ব্যাপার হল,” পুলিশ প্রহড়ায় আদালতের সামনে যুবলীগ ছাত্রলীগ কর্তৃক লাঞ্চিত হলেন মইনুল হোসেন আর পুলিশ ও লীগ বাহিনী উল্টো মামলা দিল প্রায় দুইশত বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে। ওই দিন রাতেই প্রায় দশজন বিএনপি নেতাকর্মী কে গ্রেপ্তারও করা হল । কি আজব কারবার! কি আজব দেশ!
মানুষজন এ সব দেখে অবশ্য আর স্তম্ভিত, আতংকিত বা আশ্চর্যম্ভিত হয় নাই কারন দেশের সিনিয়র সিটিজেন ও সম্মানিত নাগরিকদের উপর এ ধরনের লাঞ্চনা, বঞ্চনা, নিপীড়ন, নির্যাতন এ সবই এ সরকারের খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে গেছে। মানুষ শুধু ঘৃনা ভরে ধিক্কার জানাচ্ছে আর বলছে,” একজন মইনুল হোসেনকে আর কত? আওয়ামী ফ্যাসিজমের শেষই বা কোথায়?২। রাষ্ট্রের শীর্ষ স্থান থেকে বলা হলো,” মামলা করেন, আমরা দেখব”। মামলার হিড়ীক পড়ল। ১৮টির মতন মতন মামলা হলো । একই মামলা সর্বত্র! যদিও আইনে আছে এক মামলা অন্য আদালতে হওয়ার নিয়ম নাই। সিনিয়র আইনজীবীরা বলছেন,” ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেনকে যে মামলায় পাঠানো হয়েছে, সেটা জামিন যোগ্য তারপরও তাঁকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এখানেও শেষ নয় তাঁকে সাধারণ কয়েদীর সাথেও থাকতে হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সিনিয়র আইনজীবীরা আরো বলছেন,” মানহানীর মামলায় আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্র তার নাগরিককে গ্রেপ্তার করতে পারে না। এ ধরনের মামলায় আসামি দোষী সাব্যস্ত হলে, বড় জোর তাহার উপর জরিমানাই করা হয়। জেল এর প্রশ্নই আসে না। তারপরও সবই হচ্ছে। এখন প্রশ্ন একজন মইনুল হোসেনের উপর এমন কেন? এছাড়া শীর্ষ স্থান থেকে তাঁকে ব্যাক্তিগত ভাবে এর্টাকও করা হয়েছে! কেন তাঁকে এত নিপীড়ন, নির্যাতন ও হেনেস্থা আর কে ইবা এই মইনুল হোসেন একটু দেখে আসা জরুর মনে করছি,,,,,,,,””” পাঠক, মইনুল হোসেনের বাবা তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ছিলেন সেই সময়ের নামকরা কলম যোদ্ধা এবং জাতীয়তাবাদ ও রাজনৈতিক আন্দোলনের একজন যাদুকর। তিনি ছিলেন হোসেন সোহরাওয়ার্দীর অনুসারী এবং শেখ মুজিবুর রহমানের একজন সহযোগী কিন্তু আওয়ামী লীগে যোগ দেন নাই ও কোন রাজনৈতিক দলের পদপদবি ও গ্রহণ করেন নাই। উল্লেখ্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধান মন্ত্রী হওয়ার পর তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়াছিলেন। তিনি তাতেও রাজি হননি। সেই পিতার পুত্র ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন।

এখানেই শেষ নয়,,,,,সাংবাদিক হিসাবে মানিক মিয়ার আরেকটি নাম ছিল,”মোসাফির”। “রাজনৈতিক মঞ্চ” নামে তাঁহার একটি কলাম তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানে গনজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। সেই কলামের লেখকের নাম হল,”মোসাফির “। সেই ক্ষুরধার কলম সৈনিক ই প্রতিষ্টা করেছিলেন ” দৈনিক ইত্তেফাক “এবং ৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের সাধারণ নির্বাচনে ঐ “দৈনিক ইত্তেফাক” ই সব চেয়ে বড় ভুমিকা পালন করেছিল। ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক বিভাগের ভিত গড়ার পিছনেও রয়েছে মানিক মিয়ার বিশাল অবদান।নেপোলিয়ান বোনা পার্টের মতে,,”” এক লাখ সৈনিকের চেয়ে আমি তিনটি সংবাদ পত্রকে ভয় করি, আর সংবাদ পত্রের সম্পাদক যদি হয় তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মতন ক্ষুরধার কলম সৈনিক। সেই ক্ষুরধার কলম সৈনিকের রক্তে প্রবাহিত এ সময়ের সাহসী সন্তান ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। যিনি ষাট দশকে লন্ডন থেকে বার এট “ল” করে আইনি পেশায় নিয়োজিত, আর যখন ৭৪ সালে শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল গঠন করে, গণতন্ত্র কে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিয়েছিলেন, তখন এই ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন ই প্রথম আওয়ামী লীগের সংসদ থেকে পদত্যাগ করে বাকশাল বিরোধী জোটে অংশ গ্রহণ করে গণতন্ত্রের পক্ষে জনতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। উল্লেখ্য একই ভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেঃ এম এ জি ওসমানী গণতন্ত্রের পক্ষে জনতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এছাড়া আজ দেশের এই মহাক্রান্তি কালে ডঃ কামাল হোসেনের নের্তৃত্বে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের জন্য যে ৫/৬ জন অন্যতম ভুমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে একজন হলেন ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন। তাই আজ এই মইনুল হোসেন কে জামিন যোগ্য মামলায় জামিন না দিয়ে বিভিন্ন ভাবে হেনেস্থা করা হচ্ছে, লাঞ্চিত করা হচ্ছে।
একই ভাবে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের আরেক অন্যতম কর্নধার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্টাতা ডঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী উপর উপর্যপরি মামলা, তাঁহার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানি অব্যাহত রয়েছে।আমরা সবাই জানি জাফরুল্লাহ স্যার বয়স্ক এবং অসুস্থ। তাঁহাকে মিটিংয়ে এক নেতা বলেছিলেন, ” আপনি অসুস্থ এবং দুই কিডনি বিকলের পথে! আমরা জানি সপ্তাহে তিন দিন আপনাকে ডায়ালাইসিস করতে হয়। চিকিৎসার সামগ্রী নিয়েই মিটিংয়ে আসতে হয়। এত রিক্স নিয়ে মিটিংয়ে না আসলে কি হয় না? উত্তরে জাফরুল্লাহ স্যার বললেন,”মরতে তো হবেই। দেশের চেয়ে আমি বেশি অসুস্থ নই! বুঝিয়ে বললেন,, আমি মারা গেলে একাই চলে যাব। কিন্তু দেশ মারা গেলে, দেশের ১৮ কোটি মানুষের কি হবে। এই হলো জাফরুল্লাহ স্যারের বক্তব্য!
পাঠক আমি স্তব্ধ হয়ে গেছি, লেখনি আর লম্বা করতে চাই না। আজ সর্ব মহলে একই প্রশ্ন, রাষ্ট্রের সিনিয়র সিটিজেন ও প্রতিথযশা ব্যাক্তি বর্গের উপর আওয়ামী ফ্যাসিজম আর কত? পরিশেষে বলতে চাই,” ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেনের মুক্তির লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের ভুমিকা দৃশ্যমান হওয়া জরুর।

লেখকঃ
লেখক ও কলামিস্ট
সায়েক এম রহমান
উপদেষ্টা সম্পাদক
শীর্ষ খবর ডটকম

এখানে প্রকাশিত সব মতামত লেখকের ব্যক্তিগত, শীর্ষ খবর ডটকম’র সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয়।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1604 বার