লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বাস্তবে কতটা দৃশ্যমান ?

Pub: শনিবার, ডিসেম্বর ১, ২০১৮ ৯:০৫ অপরাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, ডিসেম্বর ১, ২০১৮ ৯:০৫ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নির্বাচন হচ্ছে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক খেলা, যেখানে নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে রেফারিং করতে হয়। খেলোয়াড়টি যত শক্তিশালী, অর্থাৎ তার গায়ে যে দলের জার্সিই থাকুক না কেন, ফাউল করলে তাকে হলুদ এবং প্রয়োজনে লাল কার্ড দেখানো রেফারির (নির্বাচন কমিশন) দায়িত্ব। যদি রেফারি এই দায়িত্বটি সুচারুরূপে পালনে ব্যর্থ হন, তখন খেলায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সবার জন্য সমান সুযোগ থাকে না। সবার জন্য সমান সুযোগ না থাকার অর্থই হলো বিশেষ কেউ সুবিধা পাচ্ছে। বিশেষ কারো সুবিধা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা তথা ব্যক্তি ও দল নির্বিশেষে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিতে গণমাধ্যমেরও একটি বড় দায়িত্ব আছে। কেননা, কোন প্রার্থী কোথায় কীভাবে অন্যের সুযোগ নষ্ট করছেন বা ফাউল করছেন, সেটি গণমাধ্যমের ক্যামেরাই প্রথম ধরা পড়ে। কিন্তু গণমাধ্যম সেই ছবি কতটা দেখাতে পারছে—তার ওপরেই মূলত নির্ভর করে খেলাটি কতটা উপভোগ্য হবে কিংবা কতটা একপেশে।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচন গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিন দশক ধরে নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে চলমান রাজনৈতিক মতবিরোধ। এর উত্তরণের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে যদি নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারে। সারা বিশ্বের গণতন্ত্রমনা মানুষ অধীর আগ্রহে বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে চেয়ে আছে। এ নির্বাচন কলঙ্কিত হলে শুধু দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না; ক্ষতিগ্রস্ত হবে ১৫ কোটি মানুষ। আমাদের দেশে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ইতিহাস তিক্ত। কারণ যারাই ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনের আয়োজন করেছেন, তারাই জনগণের ভোটের অধিকার ভূলুণ্ঠিত করেছেন। হ্যাঁ-না ভোটের কথা আজকের তরুণ প্রজন্ম না জানলেও ‘গায়েবি’ ভোটের কথিত নির্বাচন দেখেছে।

নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে দেশবাসীর মধ্যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর শঙ্কা ততই বাড়ছে। জনমনে সংশয়- নির্বাচন অবাধ, ‍সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হবে তো? সবাই নিশ্চিন্তে ভোট দিতে যেতে পারবে তো? নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে তো? সর্বোপতি একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বাস্তবে কতটা দৃশ্যমান হবে তা নিয়েই এখন টানাপোড়েন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে।

তবে তফসিল ঘোষণার পর লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনও যে নিশ্চিত হয়নি তা স্পষ্ট। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আওতায় সব কিছু চলে আসে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করাও তাদেরই দায়িত্ব। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে নির্বাচনী মাঠে সমান সুযোগের জোর দাবি থাকলেও এ বিষয়ে এখনও মুখে কুলুপ এঁটে নাকে তেল দিয়ে নিশ্চিন্তে নির্ভার অবস্থানে নির্বাচন কমিশন (ইসি)!

তফসিল ঘোষণার পর থেকে সব দলের জন্য সমান সুযোগ দেয়ার ঘোষণা দেয় ইসি। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন উত্তোলন ও জমা দেয়ার সময় কর্মীদের মিছিল-সমাবেশসহ নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে সরকার সমর্থিত রাজনৈতিক দলগুলো। অন্য দিকে নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি পুলিশি তল্লাশি ও গ্রেফতারসহ নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

বিগত ৮ নভেম্বর তফসিলের দিন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেন, ‘ভোটার, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রার্থী, প্রার্থীর সমর্থক ও এজেন্ট যেন বিনা কারণে হয়রানির শিকার না হন বা মামলা-মোকদ্দমার সম্মুখীন না হন তার নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কঠোর নির্দেশ থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘দলমত নির্বিশেষে সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ধর্ম, জাত, বর্ণ ও নারী-পুরুষভেদে সবাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। ভোট শেষে নিজ নিজ বাসস্থানে নিরাপদে অবস্থান করতে পারবেন। নির্বাচনী প্রচারণায় সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে। সবার জন্য অভিন্ন আচরণ ও সমান সুযোগ সৃষ্টির অনুকূলে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হবে।’

কিন্তু সিইসি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার কথা বললেও তফসিল ঘোষণার পরও তার কার্যকর কোনও ব্যবস্থা এখনও চোখে পড়ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তফসিল ঘোষণার পরও অব্যাহত রয়েছে বিরোধী দলগুলোর ওপর বিশেষত বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের গ্রেফতার অভিযান। বিএনপিসহ সরকারবিরোধী নেতাকর্মী সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় অনেককেই এখনও গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। এতে সারা দেশে বিরোধীদলের নেতাকর্মী এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপরদিকে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা নিরবিঘ্নে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার বিষয়টি ভোটের আগেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

তফসিল ঘোষণার পর বিএনপির ৪৭২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে দলটি। এছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেয়া ‘গায়েবি মামলা’ প্রত্যাহারসহ গ্রেফতার নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তফসিল ঘোষণার পর গত ৯ নভেম্বর থেকে দলীয় প্রার্থীদের কাছে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে (৩/এ) এই কার্যক্রম চলে। মনোনয়নপত্র ক্রয়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। সকাল থেকেই শোডাউন করতে করতে আসেন মনোনয়ন কিনতে আসা নেতাকর্মীরা।

দলে দলে মিছিল নিয়ে আসেন ধানমন্ডিমুখী মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। ব্যানার-ফেস্টুনসহ নানা বাদ্যযন্ত্র রয়েছে তাদের বহরে। ভিড় সামলাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বেগ পেতে হয়। ঢাকাসহ সারা দেশ থেকে আসা নেতাকর্মীদের সমাগমে পুরো ধানমন্ডিতে দেখা দেয় যানজট। এর মধ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো ঘটনাও ঘটে। এরপরও পুলিশ অথবা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

অন্যদিকে গত ১২ নভেম্বর থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করে বিএনপি। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ উপলক্ষে নেতাকর্মীদের ব্যাপক সমাগমে সারা দিন জনসমুদ্রে পরিণত হয় রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকা। সকাল থেকেই ব্যানার-ফেস্টুনসহ মিছিল নিয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসতে থাকেন। অনেকে ব্যান্ড পার্টি, হাতি ও ঘোড়াও সাথে আনেন।

গত ১৪ নভেম্বর বুধবার হঠাৎ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের তৎপর বেড়ে যায়। সকাল থেকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাকর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল। পুলিশ আশাপাশের রাস্তায় তাদের দাঁড়াতে দিচ্ছিল না। মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রমের এক পর্যায়ে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। বেলা ১টা থেকে পরবর্তী এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আহত হন পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে। এ ঘটনায় তিনটি মামলায় বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রায় একই সময়ে আওয়ামী লীগ উৎসবমুখর পরিবেশে মিছিল শোডাউন নিয়ে মনোনয়নপত্র দেয়া নেয়া করলেও মাথা ব্যথা ছিল না ইসির। কিন্তু বিএনপির মনোনয়ন বিক্রি শুরু হলে হঠাৎ নড়েচড়ে বসে কমিশন। ১২ নভেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মিছিল, শোভাযাত্রা ও মহড়া বন্ধের ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয় ইসি। আচরণবিধি প্রতিপালনে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা একজন করে নির্বাহী হাকিম নিয়োগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় ইসির যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান।

যে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করে না, সেখানে সুষ্ঠু ভোটাভুটি কিংবা সমতল নির্বাচনী খেলার মাঠ প্রত্যাশা করা যায় না এবং ক্ষমতাসীনেরা অসমতল মাঠে খেলতে পছন্দ করে। কারণ তারা জানে অসমতল মাঠে বিশ্বচ্যাম্পিয়ানরাও হেরে যায়। আর দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীনেরা এত বেশি ‘পেনাল্টি’ পায় যে, প্রতিপক্ষ মাঠে থাকলে কী আর না থাকলেই বা কী। তখন প্রতিপক্ষ কেবল লালকার্ড পাবে। এ দিকে, ক্ষমতাসীন দল ফ্রি কিক পায় ডি বক্সের সামনে। নির্বাচনের মাঠে বড় খেলোয়াড় আওয়ামী লীগ সরকার এবং ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচন কমিশন হচ্ছে রেফারি। নিরপেক্ষভাবে রেফারির দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও এই কমিশন নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারছে না। সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনের ভূমিকা অপরিসীম। নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন হলেও বাস্তবে তারা কতটুকু স্বাধীন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কমিশন ইচ্ছা করলে ভোট কারচুপি, ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই কিংবা অবৈধ সিলমারা প্রতিরোধ করতে পারে। আমাদের দেশে দৃঢ় নির্বাচন কমিশনের যেমন উদাহরণ আছে, তেমনি সরকারের কাছে নতজানু কমিশনেরও দৃষ্টান্ত অনেক। নির্বাচন কমিশন সত্যিকার অর্থে নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে বাধ্য; কিন্তু লজ্জাকর হলেও সত্য, যারা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থাকেন তারা দৃঢ়তা দেখাতে পারেননি। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা একটি নিরপেক্ষ ও সাহসী নির্বাচন কমিশন পাইনি। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না বলেই কেয়ারটেকার সরকারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছিল। ১৯৯৫-৯৬ সালে তৎকালীন সরকার সে দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। ফলে সংবিধানে সংযোজিত হয়েছিল নির্বাচনকালীন কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি। তৎকালীন বিরোধী দল ও আজকের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কেয়ারটেকার সরকারপদ্ধতির বিধান সংবিধানে সংযুক্ত করতে এমনকি, নৈরাজ্যের পথ বেছে নিয়েছিল। অথচ তারাই পরে ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থাকে বাতিল করে দিলো। অজুহাত, কেয়ারটেকার ব্যবস্থা নাকি সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। তা এমন একটি পদ্ধতি কি বের করা যেত না, যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে?

বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচনী উৎসবে আনন্দে মাতোয়ারা থাকে। সর্বত্র বিরাজ করে নির্বাচনী আমেজ। এবারের নির্বাচন অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রথম নির্বাচন হতে যাচ্ছে, যেখানে পার্লামেন্টের ৩৫০ জন এমপি স্বপদে বহাল থেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সে কারণে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও ভয় কাজ করছে। তফসিল ঘোষণার পরও বেশির ভাগ থানায় আগের ওসিরাই রয়েছেন। তারা দলীয় সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন বলে ভাবা যায় না। নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করতে পারে, এমন সম্ভাব্য কর্মকর্তাদের ব্যাপারে ইতোমধ্যে আইন প্রয়োগকারী বাহিনী খোঁজখবর নিচ্ছে। এ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সমতল মাঠ, মন্ত্রী-এমপিদের পছন্দের ইউএনও এবং ওসিদের বদলি করা প্রয়োজন অবিলম্বে। কারণ ক্ষমতাসীনেরা গত ১০ বছরে এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, যেখানে বলয় সৃষ্টি করেননি। নির্বাচন কমিশনের অদক্ষতা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার নজির আমাদের দেশে বহু, যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির হাস্যকর নির্বাচন।

তফসিল ঘোষণার পরও আইন প্রয়োগকারী বাহিনী এবার দলীয় বাহিনীর মতো আচরণ করছে। জামায়াত আর বিএনপির নেতাকর্মীদের গণহারে গায়েবি মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। অথচ ক্ষমতাসীন দলের দলীয় কোন্দলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দু’জন নিহত হলেও পুলিশ নির্বিকার। এহেন পক্ষপাতমূলক আচরণ অব্যাহত থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না।

লেভেল প্লেয়িং কোথায় আছে? পোস্টার দেখলেই তো বোঝা যায়। রাজধানীর এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে নৌকার বিলবোর্ড, পোস্টার বা ব্যানার দেখা যাবে না। রাজধানীর বেশির ভাগ স্থানে নৌকার প্রচার অবিরাম চলছে। এমনকি সরকারি অফিসের সামনেও নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে লাগানো বিলবোর্ডগুলো দৃশ্যমান। আসলে আওয়ামী লীগ তার সমালোচনা সহ্য করতে পারে না। ক্ষমতায় আসার পর তারা লুটপাট করেছে, তা লিখলে হয়ে যাবে মহাকাব্য। সরকারের তলপিবাহকেরা ভাঙা রেকর্ডের মতো উন্নয়নের গল্পে জাতিকে বুঁদ রেখে বিভ্রান্ত করছে। তাদের মুখে উন্নয়নের স্লোগান যেভাবে মুখরিত হয়, সেভাবে যদি নির্বাচনী সমতল মাঠের দাবি শোনা যেত, তা হলে দূর হয়ে যেত সুষ্ঠু ভোটের ভয়।

লেখক : প্রধান সম্পাদক
শীর্ষ খবর ডটকম


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1634 বার