আওয়ামী লীগ এখন কোন পথে? এ-ভাবে আর কত দিন?

Pub: সোমবার, ডিসেম্বর ৩, ২০১৮ ১০:৩৬ অপরাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, ডিসেম্বর ৩, ২০১৮ ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সায়েক এম রহমান:

বিজয়ের মাসে লাখো শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজকের আমার এই রচনা।
নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচনের মাঠ ততই গরম হচ্ছে কিন্তু অপর দিকে সরকারের নির্বাচনের বিধিমালা লঙ্ঘন এবং গায়েবী হামলা মামলা ও ধরপাকড়ের মাত্রা ততই বাড়চ্ছে। নির্বাচনী খেলার মাঠে পাহাড়সম ব্যাবধানে একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। যা বাংলাদেশের জন্য একটি অভূতপূর্ব জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

আজকের রচনাটি লিখতে আমাকে কিছু টা পিছনে যেতে হচ্ছে,,,,,,,”সমগ্র জাতি অবগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন পূর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে কথা দিয়েছিলেন। নিয়ম রক্ষার নির্বাচন পর আরেকটি নির্বাচন দিবেন। যদিও ক্ষমতার লোভ লালসা সামলাতে না পেরে এই উন্নত তথ্য – প্রযোক্তির যুগেও পরবর্তীতে অস্বীকার করেন। একটি কথা এখানে উল্লেখ করতেই হচ্ছে যে,,,,” ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পর ২২ শে জুলাই ২০১৪ সালে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তৎকালীন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামারুন নির্বাচন ব্যাপারে তাঁকে হতাশার কথা প্রকাশ করেছিলেন। ঐ সময় দুই প্রধানমন্ত্রীর টেবিলের আলোচনায় গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক অংশ গ্রহণ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা স্হান পায় ও একটা মুক্ত সমাজ ব্যবস্হা ও মুক্ত রাজনৈতিক ব্যবস্হার প্রশ্নে দুই প্রধানমন্ত্রীই একমত হন। কিন্তু শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর দুইমাস গত হলে কোন ব্যবস্হা না নিলে, ঠিক দুইমাস পর ১৭ ই অক্টোবর ২০১৪, ৫ জানুয়ারীর তামাশার নির্বাচনের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ভাবে হতাশা প্রকাশ করে বৃটেন। এ সময় বিশ্ব মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়। এ- ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র দূত মার্সিয়ায় ষ্টিপেন্স বম বার্নিকাট যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র বিষয়ক সিনেট কমিটির সামনে বাংলাদেশ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে বলেছিলেন, ” বাংলাদেশের ৫ জানুয়ারীর সংসদ নির্বাচন নিঃসন্দেহে ত্রুটিপূর্ণ ছিল। আরো বলছিলেন,” বাংলাদেশের rajnoitik দলগুলো গঠনমূলক সংলাপে অংশগহন করা দরকার। যাতে একটি প্রতিনিধিত্ব মূলক সরকার গঠনের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। ইউরোপিয় ইউনিয়ন ও উপরোক্ত বিষয়ে সম্পূর্ণ একমত প্রকাশ করেছিল।

কিন্তু পরবর্তীতে কী হল,,,,,?
বিভিন্ন সোর্স বলে, শেখ হাসিনা কিন্তু আবারও নির্বাচন দেয়ার পক্ষে ছিলেন। নির্বাচন দিতেও চেয়ে ছিলেন। আওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতারাও নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় একজন উপদেষ্টা! বাংলাদেশের জন্য এক মীরজাফরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। সেই উপদেষ্টা গ্যারান্টি দেন নির্বাচন ছাড়াই পাঁচ বৎসর কাটিয়ে দেয়ার। বাদ বাকী তিনিই দেখবেন। সেই উপদেষ্টা কে অবশ্যই অনেকেই জানেন। তারপরও বলছি তিনি হলেন,” আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর যিনি খন্দকার মোশতাক আহমেদকে রাষ্ট্রপতির আসনে বসিয়ে শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে ছিলেন, শেখ হাসিনার প্রধান উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। এই ইমাম সাহেব বলেছিলেন, ” পাঁচ বছর কাটিয়ে দিলে অন্য অবস্থা ধারণ করবে। শেখ হাসিনাও লালসায় পড়ে গেলেন। সেই দিন থেকেই শেখ হাসিনা ফ্যাসিবাদের দিকে পা বাড়ালেন। আর বাংলাদেশের ভাগ্যে দেখা দিল এক স্বৈরশাসক।অতঃপর পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, প্রশাসন ও আওয়ামী ক্যাডার বাহিনী নিয়ে মাঠে নামেন। নির্বাচন পর যৌথ বাহিনী দিয়ে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের উপর শুরু হলো ষ্টিম রুলার, বিরোধী মত ও পথকে রাস্তায় নামতে না দেওয়া, মিডিয়াকে হলুদ কাতারে নিয়ে আসা, পাখির মত মানুষ শিকার করা, মানবতা বিরোধী মামলায় জড়িয়ে হেভিওয়েট রাজনৈতিক নেতাদের একে একে ফাঁসিতে ঝুলানো। এছাড়া খুন,গুম ,ক্রসফায়ার ও বিভিন্ন জঙ্গি হামলার নাটকের মধ্যে দিয়ে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ার ম্যান তারেক রহমানকে অন্যায় ভাবে সাজা দেয়া এবং এদেশের সব চাইতে জনপ্রিয় নেত্রী, বিএনপির চেয়ার পারর্সন, গণতন্ত্রের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে জেলে দিয়ে,গনতন্ত্রের প্রতীকের উপর শেষ পেরেক মেরে দেয়া।
অপর দিকে,,,,, লুটেপুটে খাচ্ছেন সারাদেশ। হলমার্ক, ডেসটিনি, শেয়ার বাজার, বেসিক ব্যাংকসহ প্রায় সব বড় বড় ব্যাংক খেয়ে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসাচ্ছেন দেশ। আজ অত্যাচার, অন্যায়, অনিয়ম ও উন্নয়নের জোয়ারে দেশকে ভাসিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বাণী দিয়েছেন, ” এক নেতা বাণীতে বলছেন, এবার ক্ষমতা হারালে এক রাতেই আওয়ামী লীগের এক লাখ লোক মারা যাবে, আরেক নেতা বাণীতে বলছেন, এবার ভোটে জিততে না পারলে সব টাকা পয়সা নিয়া পালাতে হবে যদিও এখন বাণীতে বলছেন হারলেও দেশ থেকে পালাবেন না। আর আইনমন্ত্রীর বাণী ভোটে জিততে না পারলে কেহই রেহাই পাবে না বাছাধন! প্রধানমন্ত্রী তো বলেই দিছেন, নির্বাচনে না জিতলে কারো পিঠের চামড়া থাকবে না এবং তিনি দলের ও আর দায়িত্বে থাকবেন না।
লিখতে হলে অনেকের বাণী লেখা যাবে আর লম্বা করতে চাই না।

পাঠক উপরোক্ত বাণী থেকে প্রতিয়মান হয়,” কি পরিমাণ ক্ষমতার অপব্যবহার, অন্যায়, অনিয়ম, অত্যাচার, অবিচার, খুন, গুম, মানুষ লুট, নারী লুট, ভোট লুট, ব্যাংক লুট হলে এত ভয়, এত আতঙ্ক বিরাজ করতে পারে সহজেই অনুমেয়। এই কথামালার মাধ্যমে নিজেরাই স্বীকারোক্তি দিচ্ছেন কি পরিমান অন্যায় অনিয়ম অবিচার করছেন। যদিও বিরোধী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২/১ বক্তব্যে বলে গেছেন, ” আমি হাসিনা সরকারের পূর্বের সব কিছু ভুলে যেথে চাই। শেখ হাসিনার পূর্বের সব কিছু মাফ করে দিলাম। শুধু এদেশের মানুষের জন্য একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই, মানুষের অধিকার ফিরে পেতে চাই, মানুষের গণতন্ত্র ফিরে পেতে চাই ।কিন্তু আজ শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ পৃথিবীর সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে, পার্লামেন্টকে বহাল রেখে সর্ব ক্ষমতায় ক্ষমতাবান হয়ে, লক্ষাধিক পুলিশ, ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়াসহ বিভিন্ন মিডিয়া কে কন্ট্রোল করে রাষ্ট্রীয় খরছে নির্বাচনের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করে ও একদল নির্বাচন কমিশনারসহ পুরো একটি রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও সিভিল প্রশাসন নিয়ে, সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আওয়ামী লীগ একটা নির্বাচন দিচ্ছে তারপরও ভয়ে কাঁপছে, হিমশিম খাচ্ছে।

অপর দিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ( বিএনপি ও ২৩ দলীয়) জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ প্রায় ৫০ হাজারের অধিক নেতাকর্মী জেলে রেখে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কে সাজার মাধ্যমে দেশের বাহিরে রেখে, লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর মাথায় গায়েবী মামলার হুলিয়া জারি রেখে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ টি দফার একটি দফাও না মেনে, নির্বাচনী মাঠ পাহাড় সম ব্যবধান থাকার পরও শুধুমাত্র দেশের মানুষের ভালবাসার উপর আস্হা রেখে মানুষের মুক্তির জন্য, গনতন্ত্রের মুক্তির জন্য, নির্বাচনে যাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। দিন দিন ঐক্যফ্রন্টের সমর্থনে জোয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষ বলছে, সরকার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতি যতই অন্যায় ও অনিয়ম করছে, ততই ঐক্যফ্রন্টের জোয়ার সৃষ্টি হচ্ছে ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছাড়াই উত্তপ্ত হতে চলেছে। দীর্ঘ দশটি বৎসর নির্মম নির্যাতন ও নিষ্পেষণের ভিতর দিয়ে তিলে তিলে দুগ্ধ হয়ে, বাংলাদেশ জাতীয়বাদী শক্তি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে একটি মুক্তির আন্দোলন হিসাবে দেখছে। তাই তাদের অনেকটা বিপরীত মূখী মত ও পথের রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে জোটবদ্ধ হতেও আপত্তি নাই। বরং আমন্ত্রণ জানিয়েছে সানন্দে একে অন্যকে। একটি জাতির বৃহত্তর স্বার্থে জাতির ক্রান্তিলগ্নে ভিন্ন মত ও পথ জোটবদ্ধ ভাবে যুক্ত হওয়া, পূর্বে ও হয়েছে এখনও হচ্ছে, তা অতি স্বাভাবিক।

কিন্তু অস্বাভাবিক ব্যপার হলো,,,,,জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আন্দোলন হিসাবে নির্বাচনে যতই অংশগ্রহণ করুক না কেন? শেখ হাসিনা সরকার এত অন্যায়, অনিয়ম, খুন ও গুম করার পর এত সহজে ক্ষমতা ছেড়ে দিবে বলে মানুষ তো দূরের কথা একটা পশু পঙ্কিও বিশ্বাস করে না। এটা কিন্তু মিলিয়ন টাকার প্রশ্ন! এখানে আইয়ুব এহিয়াকে ও হার মানবে।
আবার তা-ও ঠিক হাসিনা সরকার থরথর করে কাঁপছে! কখন কি হয়? হঠাৎ গায়েবী কিছু হয়ে যায় কি না? এছাড়া তাদের গোয়েন্দা রিপোর্ট হলো সত্যিকার নির্বাচনে ৩০/ ৩৩ টির উপরে সিট পাবে না। এত সিট কেমন করে সামাল দিবে, সরকার আসলেই হিমশিম খাচ্ছে । কারণ কেহই জনরোষ কে দমিয়ে রাখতে পারে না। অতীতেও কেহ পারে নাই।

রাজনৈতিক অনেক পর্যবেক্ষক বলেছিলেন,” ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি তখন নির্বাচনে অংশগ্রহন না করে ” ট্রেন মিস করেছিল” কিছু দেরীতে হলেও আজ তা সত্যে পরিণত হয়েছে। আজ আবার অনেক পর্যবেক্ষকরা বলা শুরু করছেন, ” হয়তো অতি নিকটবর্তী সময়ে দেখা যাবে শেখ হাসিনা সদ্য ডঃ কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে সংলাপের মাধ্যমে সুন্দর একটি ফয়সালার সুযোগ ছেড়ে দিয়ে, শেখ হাসিনাও হয়তো ট্রেন মিস করেছেন”। অনেকের মতে এখনও শেখ হাসিনার কাছে যথেষ্ট না হলেও এট লিষ্ট সঠিক সিদ্ধান্তের সময় রয়েছে। এখন কিন্তু সবার প্রশ্ন, আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনা এখন কোন পথে? এভাবে আর কত তিন?

লেখকঃ
লেখক ও কলামিস্ট
সায়েক এম রহমান


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1537 বার