আ.লীগ খেকশিয়াল আর বিএনপি সিংহ : ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের নিবন্ধ

Pub: শুক্রবার, জানুয়ারি ১১, ২০১৯ ২:৪৮ অপরাহ্ণ   |   Upd: শুক্রবার, জানুয়ারি ১১, ২০১৯ ২:৫২ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশে রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে ‘খেকশিয়াল’ আর বিএনপিকে ‘সিংহ’ বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। পত্রিকাটি বলছে, বাংলাদেশে এখন শিয়ালের দিন কিন্তু আঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে সিংহ।
গতকাল পত্রিকাটির ভারতীয় সংস্করণ বাণিজ্যিক দৈনিক মিন্টের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এই মন্তব্য করা হয়।
‘ফক্স অ্যান্ড লায়ন ইন বাংলাদেশ : ইডিওলজিক্যাল রাইভালরি ইজ রেসপন্সিবল ফর ভোলাটিলিটি ইন ইন্ডিয়া’স ইস্টার্ন নেইবার (বাংলাদেশের খেকশিয়াল ও সিংহ : ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশীর অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী আদর্শিক দ্বন্দ্ব)’ শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধে এই মন্তব্য করা হয়।
উল্লেখ্য, চতুর, দুর্বৃত্ত, ধূর্ত অর্থেও ফক্স বা খেকশিয়াল কথাটি ব্যবহৃত হয়। সিংহ কথাটি সাধারণত এর বিপরীত অর্থ বহন করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে বিএনপি হলো সিংহের দল। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ হলো খেকশিয়ালের আস্তানা। এই শ্রেণীকরণকে অনেকে সরলীকরণ করতে পারেন। তবে এর মাধ্যমে বিভক্ত দেশটির অত্যাবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্য ও রাজনৈতিক গতিশীলতা বোঝা যাবে।’
নিবন্ধে খেকশিয়াল ও সিংহের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে এখন যা ঘটছে তার চিত্র বর্ণনা করেছেন অর্থনীতিবিদ ভিলফ্রেডো প্যারোটো তার দা মাইন্ড অ্যান্ড সোসাইটি (১৯৩৫) গ্রন্থে। প্যারোটো সমাজের এলিটদের দুটি শ্রেণীতে ভাগ করেছেন। এদের একটি হলো ফক্স বা খেকশিয়াল। বলেছেন— যারা উদ্ভাবনী ক্ষমতার, বুদ্ধিদীপ্ত এবং সাধারণভাবে উঁচুমানের মধ্যস্থতাকারী হয়ে থাকে। অন্যদিকে সমাজের রক্ষণশীল শক্তিগুলো হলো সিংহ। তবে কার্যকর সরকারের জন্য দরকার খেকশিয়াল ও সিংহের সংমিশ্রণ। গণতন্ত্রে, আদর্শিক মেরুকরণে এবং তীব্র প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে খেকশিয়াল ও সিংহের এলিটদের মধ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে।
নিবন্ধে বলা হয়, ‘আওয়ামী লীগ হলো বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্বজাধারী এবং এই দলটি দেশটির ইতিহাসের রক্ষণশীল ও ইসলামি ব্যাখ্যার বিরোধী। দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামকে ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে সংযুক্ত করে দেখার অগ্রণী হলো এই দলটি যা ১৯৪৭ সালে দক্ষিণ এশিয়া ভাগের দ্বিজাতি তত্ত্বের বিরোধী।’
অন্যদিকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান আওয়ামী লীগের বিপরীতে। দেশটির গ্রামীণ এলাকায় বিএনপির আদর্শ ও রাজনীতি ব্যাপকভাবে অনুরণিত হয়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আদর্শ শহুরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছে।
নিবন্ধে বলা হয়, দেশটি যেহেতু মূলত গ্রামীণ এলাকা ভিত্তিক এবং দেশের ১৬ কোটি ৩০ লাখ জনগোষ্ঠীর মধ্যে শহরে বাস করে মাত্র ২৯ শতাংশ লোক, সে কারণে ভোটের দিক থেকে বিএনপি স্বাভাবিকভাবেই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
নিবন্ধে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে যে তিক্ত লড়াই চলছে তা শুধু ব্যক্তিগত রেষারেষি নয়, তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত (দ্বন্দ্বের) উপাদান নিশ্চয়ই রয়েছে। তবে মূল লড়াইটা মূলত আদর্শিক— প্রগতিশীলতা ও রক্ষণশীলতার দ্বন্দ্ব।
নিবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশে নির্বাচন একটি তিক্ত বিষয়। বিরোধীদের বর্জনের কারণে ক্ষমতাসীন দলের ভূমিধস বিজয় নতুন নয়। যেমনটা চলতি মাসের শুরুর দিকের নির্বাচনে পেয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। ৩০০ আসনের মধ্যে দলটি পেয়েছে ২৩২ আসন। তবে অর্ধেকের বেশি আসনে বিনা ভোটে জয়ী হওয়ায় নির্বাচনের অতিপ্রয়োজনীয় বৈধতার মৃত্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বলছে, ওই নির্বাচনের বৈধতা নেই।
নিবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কারণে দেশটির ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে অনিবার্য কারণেই ভারতের গভীর দৃষ্টি রয়েছে।
ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগ ভারতের ঘনিষ্ঠ এবং বিএনপির অবস্থান তার বিপরীতে। এর মানে এই নয় যে, ভারত কখনো বিএনপির সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করেনি। সমস্যা হলো, বিএনপির মিত্র জামায়াতে ইসলামী ঘোর ভারতবিরোধী। এ কারণে ভারত যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক স্রোতের বিপরীতে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। ফলে একটি দলের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে ভারতের ভাগ্য।
নিবন্ধে ভারতের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে এখন খেকশিয়ালের দিন। কিন্তু আঘাত করার জন্য অপেক্ষায় আছে সিংহ।’

https://www.livemint.com/Opinion/TcSE3RPEWQkqNgXjlhvJ3N/Fox-and-lion-in-Bangladesh.html


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ