fbpx
 

বিএনপির শেকড় গেড়ে দিতে হবে জনগণের মধ্যে : জিয়াউর রহমান

Pub: সোমবার, জানুয়ারি ২৮, ২০১৯ ৩:১০ অপরাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, জানুয়ারি ২৮, ২০১৯ ৩:১০ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অনেকের মনে একটা প্রশ্ন জাগবে যে, আমরা জাতীয়তাবাদী দল কেন করলাম? এর যুক্তটা কি? এর যৌক্তিকতার জবাব আমাদেরকে দিতে হবে। প্রশ্নটা একদিকে যেমন সোজা অন্যদিকে তেমন কঠিন। আপনাদের মনে আছে গত তেসরা জুনের নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে তিনটি প্রধান ভিত্তিপ্রস্তর ছিল। এক নম্বর: বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ।

দুই নম্বর: জাতীয় ঐক্য।
তিন নম্বর: জনগণের গণতন্ত্র।
এটা ছিল জনগণকে টিকিয়ে রাখার প্রশ্ন। এই তিনটি বিষয়ের ব্যাখ্যা আমি বিস্তারিতভাবে বিভিন্ন সমাবেশে দিয়েছি এবং এ বিষয়ে জনগণের কাছ থেকে সমর্থন নিয়েছি। জনগণকে পরিষ্কারভাবে বলেছি যে, আপনাদের কাছে এটা গ্রহণযোগ্য কিনা। সারা দেশব্যাপী আপনাদের অনেকেই বিভিন্ন জায়গায় আমার সাথে বিভিন্ন পাবলিক মিটিং-এ ছিলেন। সেখানে আপনারা এটা লক্ষ্য করেছেন। জনগণ এ কর্মসূচিকে গ্রহণ করেছে অর্থাৎ এটাকে অনুমোদন দিয়েছে। আমরা নতুন কিছুই করছিনা।

বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ কেন? আজকের দুনিয়াতে যে কোন দেশের দিকে তাকান, সেখানে তারা জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে সবকিছু করছেন অথবা একই রকম আইডিওলজি অনুসরণ করবার চেষ্টা করছেন। তবুও দেশগুলির মধ্যে দ্বন্দ্ব কেন? এর অর্থ এই নয় যে, ইন্টারন্যাশনালিজম সম্ভব নয়। তবে আমাদেরকে কি করতে হবে। আমাদেরকে জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে দেশকে ঐক্যবন্ধ করতে হবে, দেশকে গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখবেন, ১৯৭১ সালে এবং তারপর যেসব ব্যাপার ঘটেছে, সেগুলো থেকে এই প্রমাণ হয় যে জনগণ বারবার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে সমর্থন করেছে।

১৯৭১ সালে আমাদের ধর্ম এবং পাকিস্তানের ধর্ম একই ছিল। কিন্তু তবুও আমরা কেন যুদ্ধ করে দেশকে আলাদা করলাম বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে। ১৯৭১ সালের পরে ইন্দিরা গান্ধীর সরকার উল্টা এ্যাডভানটেজ নিতে গেল, সুবিধা নিতে গেল। তার বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলো। জনগণ আবার প্রমাণ করে দিলেন যে, তারা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ চায়, অন্য কিছু চায় না। এই দেশের উপরে বিভিন্ন সময়ে বাইরের বিভিন্ন ধরণের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক পদ্ধতি চাপাবার চেষ্ঠা করা হয়েছিল। কিন্তু সেটা সফলতা লাভ করতে পারেনি। আপনারা দেখেছেন যে ঔপনিবেশিক আমলে যে সরকারী চাল-চলন, ধরণ-ধারণ, ভিত্তি, কাঠামো ছিল, সেগুলি আমরা আস্তে আস্তে পরিবর্তন করেছি। রাতারাতি পারবো না। দু’শো বছরের এই ব্যাপার। সেই ঔপনিবেশিক আমলের সেই ভিত্তিগুলো, সেই নীতিগুলো এখন আমাদেও কাজে লাগছে না, লাগতে পাওে না। তাই আমাদেরকে আমাদের প্রশাসনিক পদ্ধতির পরিবর্তন আনতে হবে। আপনারা লক্ষ করেছেন যে, গত দুই বছর ধরে আমরা পর্যায়ক্রমে জনগণের যারা প্রতিনিধি ইউনিয়ন কাউন্সিল থেকে উপরের দিকে, তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের যোগ্যতা বাড়িয়ে ধীরে ধীরে তাদের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করছি। ইতিমধ্যেই এ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে সফলতা অর্জন করছে। করতেই হবে।

কেননা, কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারই সবকিছু করতে পারে না। আমাদের সমগ্র দেশকে ও জাতিকে এই কর্মের মধ্যে, কর্মসূচির মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। মনে রাখবেন আমরা যারা রাজনীতি করছি আমরাই দেশকে, জাতিকে সঠিক দিক নির্দেশনা দেবার জন্যে দায়ী এবং দেশে যদি কিছু ভুলভ্রান্তি হয়, যদি কিছু আপদ বিপদ আসে, কিছু যদি দুর্ঘটনা ঘটে তার জন্যে দায়ী আমরা। দেশের এই সব ঘটনার দায়িত্ব আমাদেরকে, রাজনীতিবিদদেরেকেই নিতে হবে এবং ইনশাআল্লাহ আমরা নিব। এদেশে অনেক সমস্যা আছে। রাতারাতি আমরা সবকিছু সমাধান করতে পারবো না, সময় লাগবে। কিন্তু আমাদের লক্ষের দিকে আমাদেরকে জোরে কাজ করতে হবে।

এখন আবার ফিরে আসি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদে। আপনারা বলবেন, এই জাতীয়তাবাদের অর্থ কি? কিভাবে বুঝাবো জনগণকে? জনগণের কাছ থেকে আমি সমর্থন নিয়েছি গত ইলেকশনের আগে এবং তারপরে বিভিন্ন সমাবেশে। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের অর্থ হল আমরা বাংলাদেশী। আমাদেও একটি ভিন্ন ইতিহাস আছে। আমাদের দেশ একটি ভিন্ন প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। আমাদের কৃষ্টি আলাদা। আমাদের কালচার আলাদা, আমাদের আচার-ব্যবহার আলাদা। আমাদের ভাষার রুপরেখা আস্তে আস্তে বদলে যাচ্ছে। আমরা এটাকে আমাদের মত করে নিচ্ছি। এটাকে ন্যাচারালাইজড করছি। আমাদের পদ্য-গদ্য আলদা। আমাদের আর্টস আলাদা, আমাদেও চিন্তাধারা আলাদা, আমাদের ভৌগলিক অবস্থান আলাদা। আমাদের নদী, মাটি আলাদা। আমাদের মানুষ আলাদা। আমরা সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন এবং সার্বভৌম। আজকে আমাদের অন্য কোন দেশ থেকে নির্দেশনা নিতে হয়না। আমরা যা করি, চিন্তা-ভাবনা করে করি। যেটা আমরা ঠিক মনে করি দেশের, দশের স্বার্থে সেটাই করি। আজ আমাদের জনগণের মনে-প্রাণে যে চেতনার সৃষ্টি হয়েছে, এটা আমাদের আশে-পাশের এবং এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলি থেকে আলাদা। আমরা এমন কর্মকান্ড চালিয়ে যাব (রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক) যাতে আমরা আমাদের জনগণের কাছে সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক উন্নতি পৌঁছে দিতে পারি এবং যাতে তাদের বিবেকের মধ্যে আমাদের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে সম্পূর্ণভাবে গেঁথে দিতে পারি। যাতে এদেশের উপরে অতীতের ন্যায় হামলা চলতে না পারে।

আমরা আমাদের দেশের জনগণকে সম্পূর্ণভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই। এটাই হলো বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। এই জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছে শত শত বছর ধরে। অনেক আন্দোলনের পরে, অনেক রক্ত, অনেক জান ক্ষয়ক্ষতি হবার পরে। এটা কোন সোজা কথা নয়। আমি লক্ষ করেছি অন্যান্য দেশে তাদের জাতীয়তাবাদী শক্তিকে তারা গড়ে তুলেছে প্রতিদিনের জন্যে, চিরকালের জন্যে। সত্যি দেখার মত। আমি আশা করি, ভবিষ্যতে আমাদের পার্টি থেকে ছোট ছোট প্রতিনিধি দল বিভিন্ন দেশে গিয়ে দেখবেন তাদের জাতীয়তাবাদকে কিভাবে তুলে ধরেছে এবং শক্তিশালী করে গড়ে তুলেছে। আমাদের জাতীয়তাবাদের দ্বিতীয় মূল উৎপাদন হচ্ছে- আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি অর্থাৎ জাতীয় ঐক্যে ও রাজনীতি। এটা আমি কিছুক্ষণ আগেই ব্যাখ্যা করেছি। অতীতে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে আমরা না নিজেদের জণ্য কিছু করতে পেরেছি, না অন্যের জন্য কিছু করতে পেরেছি, না আমরা আমাদের দেশের উন্নতি সাধন করতে পেরেছি। তাই সেই অনৈক্যের রাজনীতি আর চলতে পারে না। যেটা চলতে হবে- সেটা হলো জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি। এটাও আমরা জনগণের কাছে সুপারিশ করেছিলাম তেসরা জুনের নির্বাচনের আগে এবং পরে। তারা এটাকে সমর্থন জানিয়েছেন, তাই আমরা জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি করতে চলেছি। এর একটা রুপরেখা হলো আমাদের এই দল- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। এটা জনগণের ইচ্ছায় হয়েছে। একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে-একটা শক্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে। এখানে কয়েকটি দল তাদের ঐতিহাসিক দিনগুলির কথা এবং ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা ভুলে গিয়ে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে সকলে একদল হয়েছেন। আমি কিছুক্ষণ আগেও বলেছি এটা একটা বিরাট কৃতিত্বের পরিচয়। এটা একটা বিরাট মহত্বের পরিচয়। এটা সকলে করতে পারেনা। তাই আমি আপনাদেরকে আবার অভিনন্দন জানাচ্ছি।

তিন নম্বর ভিত্তি জনগণের গণতন্ত্র আমরা এটা বলি। এটার আমি ব্যাখ্যা বিভিন্ন জায়গায় দিয়েছি, জনগণ এটাকে সমর্থন করেছন। নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করেই এইগুলি জনগণের সামনে আমরা তুলে ধরেছিলাম অতীতে। জনগণের রাজনীতি কেন? অনেকেই এটাকে নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। আমাদেরকে রাজনীতি শহর ভিত্তিক না করে, পাড়া ভিত্তিক না করে, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গ্রামে নিয়ে যেতে হবে এবং এই রাজনীতি গড়ে উঠতে হবে জনগণের মাধ্যমে। এই রাজনীতির সংযোগ থাকতে হবে জনগণের ইচ্ছা এবং অভিজ্ঞতার সাথে। আমাদের দলের শাখা-প্রশাখা থাকতে হবে গ্রামে গ্রামে, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে, ইউনিয়নে ইউনিয়নে, থানায় থানায় এবং গ্রামের পাড়ায় পাড়ায়। আমাদের দলের কর্মসূচি সঞ্চার করতে হবে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষের প্রাণে এবং এই গণতন্ত্রের শিকড় গাড়তে হবে তাদের মধ্যে। আমরা এই পার্টির মাধ্যমে একটা ইনষ্টিটিউশন গড়ে তুলতে চাই। আমরা ব্যক্তি কেন্দ্রিক কিংবা ফ্রাকশন কেন্দ্রিক দল এখানে রাখতে চাই না। যদিও অনেকে চেষ্ঠা করবেন বিভিন্ন রকম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করার জন্য কিন্তু ইনশাআল্লাহ পারবেন না কারণ এর প্রতি সমর্থন রয়েছে জনগণের। আমরা কয়েকজন ঘরে বসে এই দলের সৃষ্টি করি নি। এই দল একটা বিরাট বিপ্লবের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। বিপ্লবের মাঝে সমর্থন পেয়েছে। সেই বিপ্লব হলো কয়েকমাস আগে যে নির্বাচন আপনারা করলেন। এটা আপনাদের ইচ্ছাতেই হেয়ছে। আমরা আজকে যারা বসে আছি সেই নির্বাচনে আমরা কাজ করেছিলাম এবং সেই নির্বাচনের কর্মকান্ডের মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রাণকে জনগণের প্রাণের সাথে মিলিয়ে দিয়েছি। এটা একটা মস্ত বড় কথা, এটা বুঝতে হবে। আজ আমরা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারবো না। এবং বিচ্ছিন্ন হবার কোনই কারণ নেই। আজ আমাদেরকে জনগণের মধ্যে, তাদের মনে, প্রাণের মধ্যে, আরো বিশেষভাবে এবং গভীরভাবে প্রবেশ করতে হবে। আমাদের শেকড় গেড়ে দিতে হবে জনগণের মধ্যে। তাহলে এইে যে আমরা গণতেন্তর কথা বলছি, এর শিকড় মজবুত হবে এবং জনগণ ভিত্তিক গণতন্ত্র হবে। আমরা চাই না যে আগের মত নির্বাচনের পরে প্রাসাদ রাজনীতি হোক। আমরা ঢাকায় থাকবো না আমরা কেউই থাকবো না। আমি তো থাকবই না, আপনারা কেউ থাকবেন না।

যতদিন না আমরা জনগণকে একটা রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক আন্দোলনের মধ্যে আনতে পারবো ততদিন পর্যন্ত এই দেশের উন্নতি সাধন হতে পারেনা। আমরা জনগণের থেকে পৃথকভাবে আনন্দ উপভোগ করতে পারবো না। এই জেনারেশনকে আমাদের সবকিছু ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য দিতে হবে-তবেই আমরা দেশকে গড়ে তুলতে পারবো। আমাদের পার্টি কিছু দিনের মধ্যেই দেখতে পাবেন যে উপরের দিকে ফিরে আসছে এর গতি একদিকে যেমন উপর থেকে নীচের দিকে হবে, তেমনি এর প্রধান গতি হবে নীচের থেকে উপরের দিকে। স্থরে স্থরে পর্যায়ে পর্যায়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে আমরা আমাদের পার্টির নেতৃত্ব এবং দেশের জনগণের নেতৃত্ব স্থাপন করবো। মনে রাখবেন যে আমাদেরকে জাতীয় স্বার্থ সবচেয়ে উর্ধ্বে রাখতে হবে। দেশের স্বার্থ, জাতীয় স্বার্থ সর্বপ্রথম, তারপরে আমাদের পার্টির স্বার্থ এবং সর্বশেষে আমাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ। যদি এর উল্টা হয়, যদি পার্টির স্বার্থ দেশের উপরে যায় তবে দেশ, জাতি ও পার্টি সবই ধ্বংস হয়ে যাবে এবং যদি আমরা ব্যক্তিগত স্বার্থকে দলগত স্বার্থের উপরে ধরি, একইভাবে সে ব্যক্তি ধ্বংস হয়ে যাবে। অতীতেও হয়েছে । ইতিহাস তাই বলে। আমাদেরকে ইতিহাস থেকে শিখতে হবে। তাই এখন যেটা বললাম সংক্ষেপে তা এই দাঁড়ায় যে আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির তিনটি প্রধান ভিত্তি হলো: এক নম্বর: বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এবং কেবলমাত্র বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদই ধর্ম, গোষ্ঠি, দল নির্বশেষে জাতিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবে। অন্য কোন বাদ পারবে না। দুই নম্বর: ইতিহাস বলে যে জাতীয় ঐক্য ছাড়া আমরা আমাদের দেশের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ মজবুত করতে পারবো না। জোরদার করতে পারবো না। তিন নম্বর : জনগণ ভিত্তিক এই গণতন্ত্র স্থায়ী না করতে পারলে গণতন্ত্রের উপর আবার হামলা আসবে। আমরা যেই হইনা কেন, যেই গণতেন্ত্র বিরুদ্ধে কাজ করবে তাকে চেক দিতে হবে। তাকে থামাতে হবে। কারণ দেশ প্রথমে, দল তারপর, ব্যক্তি সর্বশেষে। আমরা কেউ দেশের উর্ধ্বে হতে পরি না। তারপর আমরা আমাদের অর্থনৈতিক কর্মসূচি তুলে ধরেছিলাম জনগণের কাছে। আপনার প্রত্যেকে এর সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করেছেন। আমরা বিভিন্ন জাযগায় সরকারীভাবে এবং আমাদের রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে এই কর্মসূচিকে জনগণের সামনে তুলে ধরেছি এবং তাদের কাছ থেকে সমর্থন নিয়েছি।

অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা এখন আমাদের চিন্তাধারাকে ঠিক রেখায় আনতে পেরেছি মাত্র। খুব একটা বিরাট কিছু করতে পারি নি। কারণ এইগুলি চিন্তা ভাবনা করে সঠিক লাইনে আনতেও কয়েক বছর লেগে যায়। তবে আজ আমরা আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে একটি বাস্তব স্থানে আনতে পেরেছি। দুনিয়ার সাথে এখন আমরা কথা বার্তা বলি বিভিন্ন ধরনের সাহায্যের জন্যে। তরা আমাদের এই সব চিন্তাধারা এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনাগুলিকে বাস্তব এবং সঠিক পরিকল্পনা হিসাবে গণ্য করেন। আসল ব্যাপার হলো, আমরা আমাদের নিজের দেশেকে নিজেরাই চিনি না। আমাদের দেশ আসলে সম্পদের দেশ। আমাদের দেশের বিরাট সম্পদ রয়েছে। কিন্তু আমরা কোনদিন আমাদের দেশকে চিনতে শিখি নি। আমরা অতীতে জনগণের গরীবি হাল এবং তাদের দুর্দশার প্রতি মৌখিক সহানুভূতি দেখিয়ে রাজনীতি করেছি। আমরা গরীবকে আরও গরীব বানিয়েছি এবং ধনীকে আরো ধনী বানিয়েছি। কারণ আমাদের অতীতের অর্থনৈতিক চিন্তাধারার উপর বিশেষ প্রভাব ছিল বাইরের। আজ যদি আমরা জনগণের মধ্যে যাই, গ্রামে গ্রামে, গঞ্জে গঞ্জে যাই এবং আমাদের পার্টির কর্মসূচির বাস্তবায়ন সম্পর্কে ব্যাখ্যা করি এবং নিজের দেশকে চিনতে চেষ্ঠা করি তাহলে আমি আপনাদেরকে নিশ্চিত করে বলতে পারি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই আপনারা নিজের দেশকে সম্পূর্ণভাবে চিনতে পারবেন। কিন্তু ঢাকায় বসে চিনতে পারবেন না। এসব দালান কোঠায় বসে চিনতে পারবেন না। কিংবা টাউনের ঘর-বাড়ীতে বসে জানতে পারবেন না। আপনাদেরকে গ্রামে গ্রামে যেতে হবে। চোখ দিয়ে মাটি দেখতে হবে, মাটিতে সব কিছুই আছে। কি নাই।

অর্থনৈতিক উন্নতি সাধানের জন্যে যে বিরাট প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে দেশে সেই সম্বন্ধে এখন আমি কয়েকটা কথা বলতে চাই। আমরা বর্তমানে কি করছি? আমরা বর্তমানে দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের কাছে ভিক্ষা চেয়ে বেড়াচ্ছি। আমরা সব সময় আমাদের জনগণকে বেচারা হিসেবে দেখেছি। তারা বেচারা নয়। যে জাতি যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে সেই দেশের জনগণ বেচারা নয়। তারা প্রত্যেকে এক একজন দেশের সৈনিক এবং দেশ গড়ার সৈনিক। তাদেরকে বুঝতে হবে, তাদের মনে প্রাণে কনফিডেনস আনতে হবে। আমরা অতীতে আমাদের কনফিডেনস হারিয়ে ফেলেছিলাম। আবার বর্তমানে তা ফিরে পাবার চেষ্ঠা চলছে। জনগণের প্রাণের মধ্যে, মনের মধ্যে এই আত্নবিশ্বাস ও ভরসা আনতে পারলে আমরা সব কাজ করতে পারব। এটা নিশ্চয়ই আমরা পারবো। ভবিষ্যতের একটা রুপরেখা সঠিকভাবে দেখাতে নিশ্চয়ই আমরা পারবো। কিন্তু তার জন্য জনগণের কাছে যেতে হবে তাহলে অবশ্যই আমরা সারা দেশবাসীকে আমাদের পার্টির অর্থনৈতিক কর্মসূচির রুপরেখার মধ্যে নিয়ে আসতে পারবো। মনে রাখবেন দুনিয়াতে কোন জিনিসই অসম্ভব নয়, সবই সম্ভব। যদি আমাদের চিন্তাধারা সঠিক থাকে, লক্ষ ঠিক থাকে এবং যদি কঠিন পরিশ্রম করতে প্রস্তুত থাকি, তবে অবশ্যই সবকিছুই আমরা সম্ভব করে তুলতে পারবো।

১৯৭১ সালের আগে যখন আমরা স্বাধীনতার কথা বলতাম, তখন অনেকে বলতেন, বাংলাদেশ কি স্বাধীন হতে পারবে? তারা কি নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা করতে পারবে? বেশীর ভাগই বতেন পারবে না। তাই আমাদেরকে টিকে থাকতেই হবে পাকিস্তানের সাথে, যা-ই করুক না কেন তারা। ১৯৭১ সালের পরে যারা স্বাধীনতার দাবীদার হলো তারা আসলে যুদ্ধ করেন নি। তারা কোলকাতার রাস্তায় রাস্তায় আনন্দ উপভোগ করেছেন। তাই ১৯৭১ সালের পরে একটা কথা উঠলো যে তাদের সহযোগিতা ছাড়া আমরা আমাদের প্রতিরক্ষা করতে পারবো না। কিন্তু জনগণ তা বিপরীত প্রমাণ করে দিলে। জনগণ প্রমাণ করে দিল যে, আমরা আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা করতে পারবো। ১৯৭৫ সালে আমাদের সেনাবাহিনী মোটেই ছিল না। তখন আমরা আবার জনগণের কাছে গিয়েছিলাম আমাদের মধ্যে অনেকে আমার সাথেও ছিলেন। বর্ডারে বর্ডারে আমরা গিয়েছি। জনগণ তখন বললো কি করতে হবে বলেন। জনগণের মনে যদি এত হিম্মত থাকতে পারে আমরা কেন নিজেদের মধ্যে আত্নবিশ্বাস আনতে পারবো না? আমাদের মধ্যে যদি কনফিডেন্স না থাকে আমরা জনগণকে, দেশকে কিভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবো? আমাদের মধ্যে কনফিডেন্স আনতে হবে। আমরা প্রত্যেকেই মরণশীল। একদিনই মারা যাওয়া ভালো, প্রত্যেকদিন মারা যাওয়ার চেয়ে। তাই আপনারা যেটাকে বিশ্বাস করেন, সেটাকে সম্পূর্ণভাবে তুলে ধরুন এবং কাজে ঝাপিয়ে পড়ুন। আমাদের অতীত ইতিহাস আমরা সবকিছুরই গ্যারান্টি চাই। বাঁচব কি বাঁচবো না, হবে কি হবে না, ঠিক কি ঠিক না। যেটাতে কনফিডেন্স আছে বা সঠিক মনে করেন এবং যারা এখানে এসছেন এই পার্টি করবেন বলে এবং যদি এই পার্টিতে বিশ্বাস থাকে, কর্মসূচিতে বিশ্বাস থাকে, জনগণের প্রতি বিশ্বাস থাকে, নিজেদের উপর বিশ্বাস থাকে তাহলে এখান থেকে যাবার আগে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে যাবেন যে, যাই হোক, যে কষ্টেরই সম্মুখীন হতে হোক না কেন, আমরা আমাদের কর্মসূচিকে তুলে ধরতে ১৯৭১ সালে যেভাবে সম্পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে জাতি দেশ ও জনগণের বিশ্বাস নিয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলাম এবং যুদ্ধ করতে গিয়েছিলাম সেইভাবে এখন দেশ গড়ার যুদ্ধেও সম্পূর্ণভাবে ঝাপিয়ে পড়ব। যতই অসুবিধা ভোগ করতে হোকনা কেন, যতই বাধাবিঘ্ন আসুক না কেন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে থাকবো এবং পার্টির ডিসিপ্লিনের মধ্যে কাজ করে যাব।

আপনারা প্রস্তুত আছেন? (সমস্বরে জবাব, আছি)। আপনরা যা কিছু করবেন বিশ্বাসের সাথে করবেন এবং সম্পূর্ণভাবে করবেন। আধাআধিভাবে করবেন না। আর একটা কথা মনে রাখবেন, আমরা একটা নতুন জাতি। আমাদের ইতিহাস অনেক কষ্টের ইতিহাস। খুব ভাল ইতিহাস না অতীতের ইতহাস। সব কথাতেই আমরা যদি দেই। যদিটা কি জানেন? ঐদিটা কাজ না করার একটা ফন্দি। এ কথাটা বাদ দিয়ে দেন, যদি কথাটা উঠিয়ে দেন। সব কিছু করতে পারবেন। আমরা গ্রামে গ্রামে বক্তৃতা দেওয়ার সময় বলি যে জনগণতো মোটা ভাত, মোটা কাপড়েই সন্তুষ্ট। এটা আমি আজ আপনাদেরকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিচ্ছি যে, জনগণ আর মোটা ভাত, কাপড়ে সন্তুষ্ট নয়। তারা বলবে যে, তোমার মোটা ভাত, কাপড়ে সন্তুষ্ট না আর আমরা সন্তুষ্ট থাকব, আমরা কি দোষ করলাম? তাই আমাদেরকে অল্প কিছু করলে চলবে না, বড় বড় কাজ করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিতে হবে। জনগণের উপর কনফিডেন্স রাখতে হবে। জনগণ লেট ডাউন করবেন না কখনো। জনগণ ধোকা দেবেন না, জনগণ ধোকা দিতে পারবেন না। কারণ তারা জানে ধোকা দিলে তাদেরই ক্ষতি হবে।

একটা কথা, অতীতে আমরা অনেকেই সরকারের সাথে জড়িত থেকে, পার্টির সাথে জড়িত থেকে ভিন্ন লাইনে কথা বলেছি-এটা ঠিক নয়। এটাতে তার বিজ্ঞতার প্রমাণ হয় না। আমাদের সকলকে, পার্টি ও পার্টির সকলকে এক লাইনে কথা-বার্তা বলতে হবে। এই পার্টির মেনিফোষ্টোতে বিশ্বাস রেখে, বলীয়ান হয়ে আমরা এই পার্টিতে যোগদান করেছি। এটা শুধু আমার বা আপনারা পার্টি নয়, জনগণের পার্টি। আমরা এই পার্টির ভিত্তি প্রস্তুত করেছি জনগণের ইচ্ছায়, এটা জনগণের পার্টি। কখনও বাইরে বলবেন না আমার পার্টি, আমাদের পার্টিতে এস জয়েন করেন। বলবেন আপনাদের পার্টিতে জয়েন করেন। এটা যে জনগণের পার্টি তা কয়েকদিনের মধ্যে প্রমাণিত হয়ে যাবে। দেখবেন, এই পার্টির মাধ্যমে এই দেশের মধ্যে কর্মের এমন ঢেউ উঠবে যা এর আগে কোনদিন এদেশ দেখেনি। সেই ঢেউ শুরু হয়ে যাবে কয়েকদিনের মধ্যে এবং সেই ঢেউ উঠাবেন আপনারাই। সেই ঢেউ উঠিয়ে সেটাকে আয়ত্বে রাখতে হবে। ঢেউটা যেন আপনাদের আগে চলে না যায়। আপনাদের দৌড়াতে হবে ঢেউয়ের সঙ্গে তাল রেখে। অল্প সময়ের মধ্যে আমাদেরকে যথেষ্ট সফলতা অর্জন করতে হবে। অল্প অল্প করে কাজ করলে চলবেনা। তাই আমার অনুরোধ সকলের প্রতি যারা পার্টিতে আছি, সরকারের সাথে প্রতক্ষ্য এবং পরোক্ষভাবে জড়িত আছি, আমরা সকলে একই লাইনে কথা বলবো এখন থেকে। পার্টিতে আমরা একটি কনডাক্ট কমিটি গঠন করেছি এবং আমি আশা করি সেই কমিটির মাধ্যমে সহায়তা পাবো। আমরা কাউকে ভিকটিমাইজ করতে চাই না। আমরা অপোজিশন চাই। এ সম্বন্ধে আমি আগেও বক্তব্য রেখেছি। অপোজিশন থাকতে হবে। স্বাস্থ্যকর অপোজিশন থাকতে হবে। বিরোধী দল থাকতে হবে। গণতন্ত্রের এটা প্রধান মূলমন্ত্র- অপোজিশনকেও আমরা গড়ে উঠতে সাহায্য করবো। আমরা চেষ্টা করবো, আমাদের কর্শসূচির ভিত্তিতে অন্যদেরকে বুঝিয়ে তাদের মন জয় করে আমাদের পার্টিতে আনতে হবে।

আমদের পার্টির ফ্লাগ সম্বন্ধে দুই একটি কথা বলতে চাই। এই ফ্লাগে দুটি রং রয়েছে। এই দুটি রং আমাদের দেশ এবং আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধকে তুলে ধরেছে এবং এর মধ্যে রয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল হুইল এবং ধানের শীষ। অর্থাৎ বাংলাদেশর সমস্ত জনগণকে এই ফ্লাগের মধ্যে রিপ্রেজেন্ট করা হয়েছে। উপরে রয়েছে দিকনির্দেশনা তারা এবং সেই হলেন আপনরা। এখন বুঝুন, আপনাদের কাঁধের উপরে কত বিরাট দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের মধ্যে অনেকই যুবক রয়েছেন, কম বয়স্ক রয়েছেন, তাদের উপর আমার দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে।

প্রবীণরা নবীনদের সঠিক দিক নির্দেশনা দিবেন। তাদেরকে সঠিক এ্যাডভাইস দিবেন। যারা যুবক তারা তাদের সমস্ত শক্তিকে চালিত করবে দেশ গঠনে। তাদেও মাধ্যমে আমরা সারা দেশব্যাপী যুব আন্দোলন গড়ে তুলব। যুব আন্দোলন গড়তে বেশী সময় লাগবে না, তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ইতিমধ্যে করা হয়েছে। কিন্তু সেই আন্দোলনের রুপরেখা, সেই আন্দোলনের নীতি, লক্ষ ব্যক্তিস্বার্থের উপরে রাখতে হবে। তেমনিভাবে ছাত্রদের জন্যও আমরা একটি গঠনমূলক সংগঠন এভং কর্মসূচির ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আজকের যুবক এবং আজকের ছাত্র আগামী দিনের নেতৃবৃন্দ। তাদেরকে আমাদের সুষ্ঠুভাবে গড়ে তুলতে হবে। সে দায়িত্ব আমাদের। আমাদের পার্টিতে আমরা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলেছি। সেখানে আমরা প্রবীণ-নবীন সকলকে প্রশিক্ষণ দেবো। প্রশিক্ষণ সীমাহীন, অন্তহীন-প্রশিক্ষণের কোন শেষ নেই। তাই আমাদের বয়স যতই হোক না কেন, আমাদের সকলকে প্রশিক্ষণ নিতে হবে।

অন্যদিকে আমাদের বাংলাদেশের নারী সমাজ আজ পুরুষের পাশাপাশি এসে দাঁড়িয়েছে। অতীতে তাদেরকে নগণ্য বলে সরিয়ে রাখা হতো। কিন্তু আজ সেসময় নেই। বাংলাদেশের উন্নতি সাধন করতে হলে প্রত্যেকটি মানুষকে- নারী-পুরুষ নির্বিশেষে- দেশের গঠনমূলক কাজে আত্ননিয়োগ করতে হবে। আজ দুনিয়ার কোন দেশেই, এর মধ্যে মুসলিম দেশগুলিও শামিল রয়েছে, নারী সমাজ পিছিয়ে নেই। তাই আমরা আমাদের নারী সমাজকে কেন পিছিয়ে রাখবো? তাদের যে অধিকার রয়েছে সে অধিকার আল্লাহ তায়ালা দিয়েছেন। তার থেকে কেন আমরা তাদেরকে বঞ্চিত করবো? তাই তাদেরকে সমান অধিকার প্রদান করা হবে, দেশের কাজে তাদেরকেও আত্ননিয়োগ করতে হবে।

জেলা পর্যায়ে এবং তার নীচের পর্যায়ে আমাদের নারী সদস্যদেও সংখ্যা দিনে দিনে বাড়বে। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নারী একদিন না একদিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্যা হবেন। এই দলে সকলের জন্যে, ধর্ম নির্বিশষে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। এই দলকে আমরা অল্প সময়ের মধ্যে দেশের আনাচে-কানাচে নিয়ে যাব। বাংলাদেশের সমাজের মধ্যে এই দলের শিকড় আমরা শক্তভাবে গেড়ে দেব। আমাদের দেশকে আমরা অল্প সময়ের মধ্যে এগিয়ে নিয়ে যাব। ইনশাআল্লাহ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দুনিয়ার বুকে বাংলাদেশকে একটি অতি সম্মানিত এবং শক্তিশালী দেশ হিসাবে আমরা গড়ে তুলবো। এ দায়িত্ব আমাদের সকলের। একটি স্বাধীন দেশের সরকার এবং জনগণের মধ্যে কোন তফাৎ থাকে না। আমরা গত তিন বছর ধরে এ কথা বলছি। এবং তারই ভিত্তিতে আজ এই জাতীয়তাবাদী দল এত অল্প সময়ের মধ্যে সংগঠন করা সম্ভবপর হয়েছে। আপনারা অসম্ভবকে সম্ভব বানিয়েছেন, সেই জন্য আমি আপনাদের সকলকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আজকে এই সকালে, ভোর আমি এখানে শেষ করতে চাই। আপনাদের সারা দেশবাসীর তরফ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং আপনারা অনেকে কষ্ট স্বীকার করে দূর এলাকা থেকে এসছেন অল্প সময়ের নোটিশে- সেজন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আবার আপনাদের সাথে কয়েক দিনের মধ্যে দেখা হবে এবং আপনাদের নিজ নিজ এলাকায় দেখা হবে।

খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ।

বিএনপি’র প্রথম আহ্বায়ক কমিটির সম্মেলনে জিয়াউর রহমানের ভাষণ থেকে সংকলিত।

(শহীদ জিয়ার ১৫০ মিনিটব্যাপী এই বক্তৃতা দৈনিক আজাদ এর, অক্টোবর ২৪,২৫,২৬,২৭,২৮,২৯,৩১, নভেম্বর ২,৩,৪,১৯৭৮ তারিখের সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।)


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ