“একজন তারেক রহমান ও ১৩তম কারাবন্দী দিবস”

Pub: শুক্রবার, মার্চ ৮, ২০১৯ ৩:৪২ অপরাহ্ণ   |   Upd: শুক্রবার, মার্চ ৮, ২০১৯ ৩:৪২ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সায়েক এম রহমান :

আজ একবিংশ শতাব্দীর জাতীয়তাবাদী শক্তির ভিশনারী সফল সংগঠক দেশনায়ক তারেক রহমানের ১৩তম কারাবন্দী দিবস।

২০০৭ সালের ৭ মার্চের ঐ কালো রাতে ওয়ারেন্ট, মামলা, মোকদ্দমা বা কোন প্রকার জিডি ছাড়াই ১/১১ এর মঈন-ফখরুর বিতর্কিত সেনা সরকারের বিশেষ পরিকল্পনায় তারেক রহমানকে এরেস্ট করে।

এক.

যে নেতা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে, তাঁহার পিতার আদর্শ ও মায়ের সত্যনিষ্ট পরিশ্রমকে সামনে রেখে ঘুরেছেন ৫৫হাজার ৫শত ৯৮ বর্গমাইল। কখনও চলে গেছেন দিনমজুর কৃষক থেকে শুরু করে গ্রামের বয়োবৃদ্ধ মুরুব্বির কাছে, কখনও চলে গেছেন ছাত্র শিক্ষকদের কাছে, আবার কখনও বেরিয়ে গেছেন দলের মূল চালিকাশক্তি তৃর্ণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে বনভোজনের উদ্দেশ্যে কোথাও খোলা আকাশের নিচে। এভাবেই এই ভিশনারী নেতা মিশে যান বাংলার গ্রাম থেকে গ্রামান্তর, প্রান্ত থেকে প্রান্তর।

তারই ফসল কুড়িয়ে ছিলেন ২০০১ সালে। পাঠক অবশ্য অবগত, ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচন তিনি নিজেই পরিচালনা করে এক বিশাল বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৯৩ টি আসন জয়লাভ করেছিলেন। আর আওয়ামী লীগ পেয়েছিল মাত্র ৬২টি আসন। ২০০১ এর এই বিশাল বিজয়ের মূলে ছিল, ভিশনারী সংগঠক তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও স্ট্যাটেজি। শুধু তাই নয়, ২০০৪ সালে তাঁহার অফিসে বসেই এই ভিনারী সংগঠক এক এক করে বিশ্বের প্রায় ১৯ টি দেশের প্রবাসী বাংলাদেশী দের সঙ্গে অনলাইনে তাঁহার বক্তব্য শুনিয়েছেন, তাদের বিভিন্ন প্রশ্ন উত্তরের জবাব দিয়েছেন, একে অন্যের কুশল কামনা করেছেন। দেশনায়ক তারেক রহমানই প্রথম এভাবে প্রযোক্তির সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে প্রবাসীদের মুখোমুখি হয়ে দেশ, দল, ও সরকারের বিভিন্ন কার্যকর্মের বর্ণনা করেছেন। প্রযোক্তির মাধ্যমে এটাই ছিল বাংলাদেশে প্রথম।
এতেই ভিশনারী সংগঠক দেশনায়ক তারেক রহমানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, রাজনৈতিক ছিন্তাধারা ও বিভিন্ন কর্ম কৌশলের বিশালতা-ই প্রকাশ পেয়েছিল।
তাতেই জাতীয়তাবাদ অপছন্দের অংশের মানুষদের বুঝতে কিছুই বাকী রহিল না। ভিশনারী সফল সংগঠক, দেশনায়ক তারেক রহমানই যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য সন্তান। দেশনায়ক তারেক রহমানই একবিংশ শতাব্দীর ভিশনারী সফল সংগঠক হিসাবে নেতৃত্ব দিবে এবং বাংলাদেশকে নেতৃত্ব করবে।

দুই.
পাঠক মূল বক্তব্যে চলে আসি,,,,,,যার দরুন ১/১১ সরকারের এত সব নীপিড়ন নির্যাতন! তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারকে অবৈধ সরকার বলুন আর বিনা ভোটের সরকার বলুন আর ভোট ডাকাত সরকারই বলুন, তাদের নীপিড়ন নির্যাতন আরও বহুগুণে অব্যাহত।
তারেক রহমানকে এরেস্ট করার পরপরই তাঁহার উপর তেরটি মামলা দায়ের করে। উল্লেখ্য কোন মামলায় ই কিন্তু তাঁহার কোন নাম গন্ধও ছিল না ও তাঁকে আটারো মাস জেল কাটতে হয়েছিল ।বিভিন্ন মামলার আসামি দেরকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে তাঁহার নাম ডুকানো হয়েছিল। মূল কথা হল, তাদের টার্গেট বা নিশানা একটাই ছিল ” তারেক রহমান”। তাদের পরিকল্পিত লক্ষ্যে যেতে হলে, জাতীয়তাবাদকে ধংস করতে হলে, এদেশের জাতীয়তাবাদী পরিবারের ভবিষ্যৎ কে ধংস করতে হবে। ভিশনারী সফল সংগঠক কে ধংস করতে হবে। সেই টার্গেট অনুযায়ী প্রথমেই তারেক রহমানের উপর আঘাত হানছিল। এ আঘাত ছিল একটি কঠিনতম আঘাত! ইতিহাসের বর্বরতম আঘাত! হিংস্রতার বর্বরতার যত প্রকার দৃশ্য ছিল। রিমান্ডের নামে তারা সবই প্রয়োগ করেছিল, ২০০৭ সালের ৩১শে ডিসেম্বর ভয়ংকর রাত্রিতে। সেই রাতটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি হিংস্র ও বর্বরতার রাত!
দেশনায়ক তারেক রহমান নিজেই সেই ভয়াল রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে লন্ডনে বলেছিলেন, ” সেই রাতে আমার উপর পৃথিবীর নিকৃষ্টতম নির্যাতন করা হয়েছিল। অনেক ধরনের নির্যাতন! রিমান্ডের দিনগুলিতে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮ ঘন্টা ই চোঁখ বাঁধা থাকতো। এর মধ্যে ইলেকট্রিক শর্ট। আরেকটি ছিল হাত চোঁখ বেঁধে অনেক উপর থেকে বার বার নীচে ফেলা। অসহ্য যন্ত্রণায় বহুবার বেহুশ হয়েছি। সেই দিন সেই অফিসার দের দায়িত্ব ই ছিল এই যন্ত্রনা দিয়ে দিয়ে আমাকে মেরেই ফেলা। কিন্তু আমি জানতাম না, আমার অপরাধ কি ছিল?
হায়রে হিংস্রতা! হায়রে বর্বরতা! মানুষ কত হিংস্র, কত পাষাণ হলে, এমন পৈশাচিক কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারে? সেই দিন সিনেমার টর্চার সেলকে হার মানিয়ে দিয়েছিল। প্রশ্ন তাঁহার অপরাধ কি ছিল? আজ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ” তাঁহার অপরাধ হল,তাঁহার জনপ্রিয়তা ও জিয়া পরিবারের জনপ্রিয়তা। আজ এটাই সত্য, এটাই বাস্তবতা।

তিন.

এদিকে আজ হাসিনা সরকার ক্ষমতা দখল করার পর থেকে ১/১১ জরুরি সরকারের চাইতে বহুগুণ প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে, রাষ্টীয় সর্ব শক্তি প্রয়োগ করে বিভিন্ন নতুন পুরাতন মামলা ও মামলার তাল্লাশি শুরু করে কিন্তু বাস্তবতা হল, একটি মামলায় ও দোষী সাব্যস্ত করতে পারেনি। যার কারণে,,,মানুষ দেখেছে,নিম্ন আদালতের খালাশ পাওয়া মামলা উচ্চ আদালতে নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে, তাদের দলীয় বিচারক এনায়েতুর রহিমের মাধ্যমে ৭ বৎসরের সাজা ও ২০ কোটি টাকা জরিমানা করে রায় ঘোষনা করা হয়। ২১জুলাই ২০১৬। সেই রায়ে সেই দিন মানুষ স্তম্ভিত হয়েছিল। কারণ সরকারের চাপ থাকা সত্বেও ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর নিম্ন আদালতে মামলার রায়ে মো মোতাহার হোসেন কোন সাজা দিতে পারেননি। কেননা? কোন সাজা দেয়ার মত কোন পয়েন্ট বা যুক্তি ছিল না। যে রায়ে পরিস্কার লেখা ছিল, আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য,,, ঐ সময়কার দুদকের আইনজীবী বর্তমান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিচারক মোতাহার হোসেনের উপর খুবই ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। যার দরুন মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে দুদক ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে বিচারক মোতাহার হোসেনকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করিয়েছিলেন যেমনি প্রধান বিচারপতিকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল। এই হল শেখ হাসিনা সরকারের বিচারিক ব্যবস্হা। প্রায় প্রতিটি বিচারকার্য এভাবেই সম্পূর্ণ হচ্ছে। দলের চেয়ার পার্সন গণতন্ত্রের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়াকে ও অন্যায় ভাবে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে । আজ এদেশের জাতীয়তাবাদকে ধংস ও নসাৎ করার জন্য আওয়ামী শাসক গোষ্ঠীর প্রধান টার্গেট ও নিশানা গণতন্ত্রের প্রতীক দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া ও ভিশনারী সংগঠক দেশনায়ক তারেক রহমান। কারন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা। পর্যবেক্ষদের বিশ্লেষণে বার বার উঠে এসেছে, যতবারই বাংলাদেশ সংকটে পড়েছে, ততবারই বিএনপির মাধ্যমে, জিয়া পরিবারের মাধ্যমে সংকট উত্তীর্ণ হয়েছে। জিয়া পরিবার মানেই হল,” বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদের প্রবর্তন, স্বাধীনতার ঘোষণা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, এখনও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। ইহাই বাস্তবতা, ইহাই অকাট্য সত্য। যেকারনে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে জেগে উঠতে হবে,জিয়া পরিবারকে জেগে উঠতে হবে।

লেখক ও উপদেষ্টা সম্পাদক
শীর্ষ খবর ডটকম


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1413 বার