সাইকেল চোরের অস্কারে ভোট চোরের লালসা!

Pub: শুক্রবার, এপ্রিল ১২, ২০১৯ ২:৪৭ অপরাহ্ণ   |   Upd: শুক্রবার, এপ্রিল ১২, ২০১৯ ২:৪৭ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গোলাম মাওলা রনি :
বহু দিন আগে সাইকেল চোর নামে একটি সিনেমা দেখেছিলাম। আমার অভ্যাস হলো- কোনো সিনেমা যদি খুব ভালো লাগে তবে সেটি একাধিকবার দেখা। কোনো কোনো সিনেমা ভালো লাগার এমন স্তরে পৌঁছে ছিল, যার কারণে আমি সেগুলোকে ১০-১২ বার দেখার পরও সিনেমার কাহিনী, চিত্রনাট্য ও চিত্রসমালোচনাগুলো অধ্যয়ন করে মনের পিপাসা মিটিয়েছি। আমার ভালো লাগা সিনেমাগুলোর মধ্যে সাইকেল চোর অবশ্যই অন্যতম। তবে সাইকেল চোর সিনেমাটি দেখার পর আমি আর সেটি দ্বিতীয়বার দেখিনি- সত্যি বলতে কী, দ্বিতীয়বার সিনেমাটি দেখার সাহস হয়নি। সিনেমার প্রতিটি দৃশ্য, ঘটনা, চরিত্র এবং প্রেক্ষাপট আমার হৃদয়ে এমনভাবে গেঁথে গিয়েছিল, যার কারণে সেটিকে দ্বিতীয়বার দেখার প্রয়োজন হয়নি। অন্য দিকে, দ্বিতীয়বার সাইকেল চোর সিনেমা দেখার সাহস না হওয়ার অন্তর্নিহিত কারণ হলো- সিনেমাটির কেন্দ্রীয় দু’টি চরিত্র যথা- নায়ক এবং তার বালক পুত্রের সুনিপুণ অভিনয়ে হৃদয়ে এমন মর্মবেদনার সহানুভূতি সৃষ্টি হয়েছিল যার কারণে প্রায় কয়েক সপ্তাহ ধরে আমার মন খারাপ হয়েছিল।

আজকের নিবন্ধের বিষয়গুলো যেন সম্মানিত পাঠক সহজে অনুধাবন করতে পারেন, সে জন্য আমি সাইকেল চোর সিনেমাটি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করে দুই চোর অর্থাৎ সাইকেল চোর ও ভোট চোরের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে একটি সহজ-সরল সমীকরণ রচনার চেষ্টা করব। শিরোনামের কথামালার মাধ্যমে আমি বুঝাতে চেয়েছি, ভুবনবিখ্যাত ও সর্বকালের অন্যতম সেরা ইতালীয় চলচ্চিত্র দ্য বাইসাইকেল থিফ যেভাবে অস্কার জয় করেছিল, ঠিক একইভাবে ভোট চুরির কাহিনী নিয়ে নির্মিতব্য সিনেমার পাণ্ডবেরা হয়তো নিজেদের কুকর্মকে মহিমামণ্ডিত করার জন্য অস্কার জয়ের চেষ্টা করবে। ভোট চোরের কাহিনীকে অস্কারজয়ী সিনেমার পর্যায়ে নিয়ে যেতে হলো চোরা কাহিনীর নায়ক-নায়িকা, পাত্র-পাত্রী, সংলাপ রচয়িতা, কাহিনীকার, পরিচালক, ক্যামেরাম্যান, শব্দসৈনিক এবং অপরাপর কৌশলীদের কী কী করতে হবে, তার একটি ধারণা সাইকেল চোর চলচ্চিত্রের ঘটনা বর্ণনার মাধ্যমে দেয়ার চেষ্টা করব।

সাইকেল চোর চলচ্চিত্র সম্পর্কে আলোচনার শুরুতেই বলে নেয়া ভালো, চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছিল ১৯৪৮ সালে- অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার অব্যবহিত পরে। ইতালির অমর কথাশিল্পী লুইজি বার্টোলিনির কাহিনী অবলম্বনে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন তৎকালীন দুনিয়ার অন্যতম সেরা ও আলোচিত চলচ্চিত্র পরিচালক ভিত্ত্বোরিও ডি সিকা। মূল উপন্যাসের কাহিনীকে প্রাণবন্ত ও হৃদয়গ্রাহী চিত্রনাট্যে রূপান্তর করেন আরেক কিংবদন্তি চিত্রনাট্যকার সিজারি জাভাট্রিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইতালির অর্থনীতি, সমাজব্যবস্থা ও পরিবারগুলোতে অভাব-অনটনের যে নির্মম বাস্তবতা ছিল সেগুলোকে উপজীব্য করে সাইকেল চোর সিনেমায় অনবদ্যভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। একটি সাদামাটা কাহিনী যে দর্শকদের কতটা আলোড়িত এবং অভিভূত করতে পারে তা কেবল সিনেমাটির গুণমুগ্ধ দর্শকই বলতে পারবেন। আমার দুর্বল কলম এবং সীমাবদ্ধ জ্ঞান দিয়ে সিনেমাটির কাহিনীর ভাবগাম্ভীর্য ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়। তবুও পাঠকদের কৌতূহল নিবৃত্তির জন্য অতি সংক্ষেপে কাহিনীটি বর্ণনা করে মূল আলোচনায় চলে যাবো।

সাইকেল চোর সিনেমার নায়ক, তার স্ত্রী ও একমাত্র বালক পুত্রটিকে নিয়ে পুরো সিনেমার কাহিনী আবর্তিত হয়। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক, পিতা-পুত্রের সম্পর্ক, বালক বয়সের অভিব্যক্তি, ব্যর্থ পিতার হাহাকার করা আকুতি, দরিদ্র স্ত্রীর প্রেমভরা মায়াবী বদন, দরিদ্র বালকের ছোটখাটো স্বপ্ন, ইচ্ছে, রাগ-অভিমান এবং বুদ্ধিমত্তাকে সাহিত্য রসে টইটম্বুর করে চলচ্চিত্রের প্রতিটি দৃশ্যে এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যার দ্বিতীয় নজির বিশ্ব চলচ্চিত্রে আজ অবধি কেউ স্থাপন করতে পারেননি। নায়ক চরিত্রে ল্যামবারতো ম্যাজিওরানি এবং নায়কের পুত্রের চরিত্রে এনজো স্টায়োলো পিতা-পুত্রের প্রাকৃতিক তথা মহাজাগতিক সম্পর্কের এমন এক রসায়ন ফুটিয়ে তুলেছেন, যা বিশ্ব মানবতার এক অকাট্য দলিলে পরিণত হয়েছে। যার কারণে ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট সুপারিশ করেছে যে, ১৪ বছর বয়স হওয়ার আগেই সিনেমাটি অবশ্যই দেখা উচিত।

আলোচনার এই পর্বে এবার সাইকেল চোর সিনেমার কাহিনী বলছি। দরিদ্র নায়ক অনেক চেষ্টার পর একটি চাকরি পেলেন। তবে চাকরির প্রধান শর্ত হলো- প্রার্থীকে অবশ্যই নিজের একটি সাইকেল থাকতে হবে। নায়কের কোনো সাইকেল ছিল না। নিয়োগকর্তা তাকে একদিন সদয় দিয়ে বললেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সে যদি একটি সাইকেল জোগাড় করতে পারে তবেই তাকে চাকরিতে নিয়োগ দেয়া হবে। নায়ক ক্লান্ত বিধ্বস্ত ও হতাশাগ্রস্ত মন নিয়ে বাড়ি ফিরলেন এবং স্ত্রীকে পুরো ঘটনা খুলে বললেন। স্বামী-স্ত্রীর কথোপকথনে বোঝা যায় যে, একটি সাইকেল ক্রয় অথবা ভাড়া নেয়ার মতো কোনো সঙ্গতি তাদের ছিল না।

এ অবস্থায় নায়কের বুদ্ধিমতী এবং প্রেমময়ী স্ত্রী অনেক ভেবেচিন্তে মর্মস্পর্শী এক উপায় বের করলেন। তাদের ঘরে সম্পত্তি বলতে ছিল একটি বিছানার চাদর ও একটি কম্বল, যা বিয়ের সময় নায়িকাকে তার দরিদ্র পিতা-মাতা উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। নায়িকা বহু যতœ করে বহুক্ষণ ধরে পুরনো সেই বিছানার চাদর ও কম্বল ধুয়ে এবং ইস্ত্রি করে ঝকঝকে নতুনের মতো করে ফেললেন। তারপর সেগুলোকে নিয়ে একটি দোকানে গিয়ে বিক্রি করে যে অর্থ পেলেন তা দিয়ে একটি পুরনো সাইকেল কেনার অর্থের সংস্থান হয়ে গেল।

নায়ক তার সাইকেলটি নিয়ে মহাআনন্দে কর্মস্থলে যোগ দিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় জনৈক পেশাদার চোর তার সাইকেলটিকে চুরি করে। নায়ক চোরের পিছু নিয়ে জীবনের মায়া ত্যাগ করে বহুক্ষণ ধরে ব্যস্ত রাজপথের যানবাহনের তলায় পড়ে মরে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে প্রাণান্ত দৌড়াদৌড়ি করেও চোর ধরতে ব্যর্থ হন। এরপর তিনি তার বালক পুত্রকে নিয়ে চুরি যাওয়া সাইকেলের খোঁজে শহরের অলি-গলি, সাইকেলের গ্যারেজ, চোরাই সাইকেলের মার্কেট খুঁজতে গিয়ে চোর এবং সাইকেল দুটোরই সন্ধান পান। কিন্তু নির্মম বাস্তবতার কারণে তিনি তার সাইকেল উদ্ধার তো করতে পারলেনই না- বরং উল্টো চোরের দলের সিন্ডিকেটের হাতে নিষ্ঠুরভাবে পিটুনি খেয়ে নিজেকে আরো দুঃখ ভারাক্রান্ত করে ফেললেন।

এ অবস্থায় তিনি জীবনের নীতিবোধ ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেললেন এবং নিজে একটি সাইকেল চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হলেন। তার বালক পুত্র পিতার এই দৈন্যদশা স্বচক্ষে দেখে মর্মবিদারি কান্না শুরু করল- কিন্তু তাতে গণপিটুনি থামল না। উত্তেজিত লোকজন নায়ককে বেধড়ক পিটুনি দিয়ে রাস্তায় ফেলে দিলে নায়কের বালক পুত্র তাকে সেবাযতœ এবং শোকের অশ্রুজল দ্বারা সুস্থ করার চেষ্টা করতে থাকে।

সাইকেল চোর সিনেমার কলাকুশলীদের সবচেয়ে বড় সফরতা হলো চমৎকার একটি পরিবেশ এমনভাবে বাস্তবধর্মী ও হৃদয়গ্রাহী করে ফুটিয়ে তোলার, যে কারণে নায়ক যখন সাইকেলটি চুরি করছিল তখন তার প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি না হয়ে বরং রাজ্যের সহানুভূতি, আবেগ ও ভালোবাসার ঢেউ বানের পানির মতো উথলে পড়েছিল। এ অবস্থায় নায়কের সাইকেল চুরি এবং চুরি করা সাইকেল নিয়ে পালিয়ে যাওয়া জীবন-মরণ চেষ্টার সময় সব দর্শক কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করতে থাকে যাতে করে নায়ক নিরাপদে তার চৌর্যবৃত্তির ফসল নিয়ে সটকে পড়তে পারে। কিন্তু নায়ক যখন উত্তেজিত জনতার হাতে ধরা পড়ে যান, তখন সব দর্শক এমনভাবে বেদনাহত হন, যা দেখে মনে হতে পারে যে- দর্শক হয়তো নিজে অথবা তার প্রাণপ্রিয় পিতা নতুবা কলিজার টুকরো সন্তান পরিস্থিতির শিকার হয়েছে।

সাইকেল চোর সিনেমার কাহিনী নিয়ে আর অতিরিক্ত কিছু বলব না। এবার বরং ভোট চোর এবং ভোট চুরি নিয়ে কিছু বলি। সাইকেল চুরি আমাদের দেশের গ্রামবাংলার কলা-কচু-মুলা অথবা মুরগির ডিম চুরির ঘটনার মতো ছিঁচকে চুরির সমপর্যায়ের অপরাধ। অন্য দিকে, ভোট চুরির মতো নির্মম, ধ্বংসাত্মক, বীভৎস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা জমিনে দ্বিতীয়টি নেই। একজন দুর্ধর্ষ ডাকাত যদি কোনো বাড়ির লোকজনকে জিম্মি করে সেই পরিবারের পুরুষদের সামনে মহিলাদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়, বাড়ির কর্তাকে যদি বাধ্য করে সেই পাশবিক দৃশ্য ভিডিও করার এবং পরে ডাকাতকে হাত পা টিপে দেয়ার জন্য- তখন কী ধরনের হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হতে পারে তা সভ্য সমাজ কল্পনা করতে গিয়ে হয়তো শিউরে উঠবে।

ডাকাত যদি তার কুৎসিত কর্মকে আরো দীর্ঘায়িত করে এবং বাড়ির ছেলে-মেয়েদেরকে বাধ্য করে তাকে বাবা ডাকতে এবং পাশবিকতার শিকার মহিলাদের বলা হয় ডাকাতকে দেবতারূপে পূজা করার জন্য, তবে সেই দৃশ্যটি কতটা নির্মম হবে তা কল্পনা করা মাত্র বিবেকবান মানুষের অন্তরাত্মা ভয়ে কেঁপে উঠবে।

উল্লিখিত ডাকাতের কুকর্মের চেয়েও ভোট চোরেরা সমাজে বেশি মাত্রার বেদনা ছড়াতে থাকে। কারণ আধুনিক গণতান্ত্রিক দুনিয়ায় প্রতিটি নাগরিক তার রাষ্ট্রকে নিজের পরিবার, পরিজন, প্রিয়জন ও প্রিয়বস্তু থেকে বেশি ভালোবাসে। নাগরিকেরা তাদের সহায় সম্পত্তি, ধন-সম্পদ, নিজেদের নিরাপত্তা এমনকি জীবনটি পর্যন্ত রাষ্ট্রের কাছে জমা অথবা সংরক্ষণ করতে বাধ্য হয়। নাগরিকেরা নিজে না খেয়ে রাষ্ট্রকে টাকা দিতে বাধ্য হয়। নিজের বিচারের ভার রাষ্ট্রের ওপর ছেড়ে দেয়- নিজের সহায় সম্পত্তি ও জীবন হরণের ক্ষমতাও তারা রাষ্ট্রকে দিয়ে দেয়। কাজেই সেই রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করবেন তারা হবেন পিতার চেয়ে দায়িত্ববান। মায়ের চেয়ে মমতাময়ী, স্ত্রীর চেয়ে প্রেমময়ী, সন্তানের চেয়ে আদরণীয় এবং শিক্ষকের চেয়েও উত্তম জ্ঞানী ও শ্রদ্ধাভাজন। গণতান্ত্রিক বিশ্বে তাই নেতা নির্বাচনের জন্য সে ভোটযুদ্ধ হয়ে থাকে সেখানে যুদ্ধবিজয়ী নেতাকে প্রমাণ করতে হয় যে, তিনি জনগণের জন্য তার যেকোনো আপনজনের চেয়ে সব দিক থেকে নিকটতম, যোগ্যতম এবং বিশ্বস্ততা ও নির্ভরতার বির্মূত প্রতীক।

যখন কোনো ভোট চোর জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে নেতার পদে বসে যায়, তখন তাকে দিয়ে যেকোনো নির্মম ঘটনা ঘটানো সম্ভব। তার প্রতি সব মানুষের অভিশাপ, হাহাকার, দীর্ঘশ্বাস এবং আর্ত চিৎকারের মর্মস্পর্শী আওয়াজ আঘাত হানতে থাকে। জনগণ যাকে নেতা হিসেবে পছন্দ করে তাকে বঞ্চিত বা বন্দী করে কোনো ভোট চোর যদি চুরি-ডাকাতির প্রহসন চালিয়ে জনগণকে বাধ্য করে তাকে নেতা হিসেবে তোয়াজ তদবির করার জন্য তখন যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তা সাধারণ ডাকাতদের ডাকাতি কর্মস্থলে নারীদের ওপর পাশবিক নির্যাতনের চেয়েও গুরুতর।

কাজেই দেশ দেশান্তরের এবং কাল কালান্তরের ভোট চোরেরা নিজেদের কুকর্মকে আড়াল করে সাইকেল চুরির সিনেমার মতো বাহারি চিত্রনাট্য তৈরি করে নিজেদের কুকর্মের ব্যাপারে জনগণকে উল্টোরথে চড়তে বাধ্য করে। তারা মিথ্যা সংলাপ, মিথ্যা সাইড ইফেক্ট, শব্দমালা ও আলোক তরঙ্গ সৃষ্টি করে হররোজ নিত্যনতুন নাটক, যাত্রাপালা, থিয়েটার, পুতুল নাচ, বায়োস্কোপ ইত্যাদির মহড়া দিয়ে হাত-পা বাঁধা জনগণকে বন্দুক-গুলি-লাঠি, টিয়ার শেল, মামলা-হামলা ও নির্যাতনের বিভীষিকার মধ্যে ফেলে একরকম বাধ্য করে থাকে চুপ থাকার জন্য নতুবা ভোট চোরদের গুণগ্রাহী দর্শক-শ্রোতায় পরিণত হওয়ার জন্য।

বর্তমানের ভোট চুরির রঙের দুনিয়ার ভেলকিবাজি দেখে আমার মনে হচ্ছে যে, ভোট চোর, ভোট ডাকাত, ভোট গুণ্ডা, ভোট বদমাস, ভোট প্রতারক, ভোট খাদক, ভোটের জুয়ারী,, ভোট বলাৎকারকারী প্রভৃতি অভিধায় কলঙ্কিত দুর্বৃত্তরা বিশ্বব্যাপী তাদের নেটওয়ার্ককে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, চোরাচালান, নারী ও মাদক পাচার চক্রের মতো একক গডফাদারের অধীন পরিচালিত করবে। তারা নিজেদের কুকর্মে রঙচঙ লাগিয়ে মাশরেক থেকে মাগরেব এবং উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরুর প্রতিটি জনপদে প্রদর্শনের জন্য ভোট চোর নামক একটি চলচ্চিত্র নির্মাণে হাত দেবে। তারা ভোট চুরিকে জায়েজ করার জন্য চুরির সাথে সম্পৃক্ত পাত্র-পাত্রীদের ব্যাপারে দর্শকদেরকে আবেগপ্রবণ ও সহানুভূতিশীল বানানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করে সুবিখ্যাত সাইকেল চোর সিনেমার আদলে চিত্রনাট্য, সংলাপ রচনা করবে এবং উপযুক্ত অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালক ও কলাকুশলীর মাধ্যমে এমন কিছু নির্মাণ করবে যা দিয়ে চলচ্চিত্রের নোবেল বলে স্বীকৃত অস্কার বা অ্যাকাডেমি পুরস্কার হাসিলের তৎপরতা চালাবে।

ভোট চোরেরা সাইকেল চোরের মতো কালজয়ী সিনেমা বানানোর জন্য বর্তমান দুনিয়ার বড় বড় চলচ্চিত্র পরিচালকদের হাতে-পায়ে ধরবে। তারা নাম করা অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের বাগে আনার জন্য রাজভাণ্ডার উজাড় করে দেবে। তারা কাহিনীর জন্য যোগ্যতম কাহিনীকার, সংলাপের জন্য সংলাপ রচয়িতার পাশাপাশি নৃত্যগীত এবং মারামারির দৃশ্যে সর্বাত্মক উত্তেজনা ফুটিয়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজে দেদার তেল-পানি, গ্যাস-বিদ্যুৎ, সিএনজি-এলএনজি, সোনা-রূপা, ডলার-পাউন্ড ইত্যাদি ঢালতে থাকবে। তারা এসব করবে মহাকালের আজাব-গজব, দুর্বিপাক এবং নিয়তির অভিশাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার মানসে।

কারণ অতীতের ভোট চোরেরা উত্তম চলচ্চিত্রের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে ব্যর্থ হয়ে সবাই অভিশপ্ত পরিণতির শিকার হয়েছে। ঘৃণিত, লাঞ্ছিত ও অভিশপ্ত ভোট চোরদের ইহকালের শেষ দিনগুলোতে ঘটে যাওয়া নির্মম দৃষ্টান্তগুলো পৃথিবীবাসীর মন ও মানসে চিরস্থায়ী চলচ্চিত্ররূপে অনাদিকাল থেকে রোজ কিয়ামত পর্যন্ত যে দৃশ্য প্রকৃতি তার আপন লীলায় অঙ্কন করে দিয়েছে এবং যে সংলাপ পৃথিবীবাসীর কর্ণকুহরে বাজাচ্ছে তা মাটিচাপা দিয়ে একালের ভোট চোরেরা প্রকৃতির ওপর কতটা মাস্তানি করার দুঃসাহস দেখিয়ে কত দিন টিকতে পারে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া সাধারণ মানুষের আর কিছুই করার নেই।

লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1096 বার