বিএনপির ভিশন ২০৩০: প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতায় ভারসাম্য ও সংসদের উচ্চ কক্ষ প্রতিষ্ঠা করা

Pub: শনিবার, এপ্রিল ১৩, ২০১৯ ৩:৪৬ অপরাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, এপ্রিল ১৩, ২০১৯ ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা সংসদীয় সরকারের আবরণে একটি “একনায়কতান্ত্রিক” শাসনের জন্ম দিয়েছে।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যমান একক নির্বাহী ক্ষমতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনবে। এ জন্যে জাতীয় সংসদে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি সংবিধান সংশোধন করে গণভোটের ব্যবস্থা পুনপ্রবর্তন করবে বিএনপি।
ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে জাতীয় সংসদকে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে বলেও উল্লেখ আছে ।

বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪ বাতিল, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবসান এবং সব ধরনের “কালাকানুন” বাতিল করা।

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য

বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোয় প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা এককভাবে প্রধানমন্ত্রীর ওপর ন্যস্ত। এটি সংসদীয় সরকার পদ্ধতির স্বীকৃত রীতির পরিপন্থী। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা সংসদীয় সরকারের আবরণে একটি স্বৈরাচারী একনায়কতান্ত্রিক শাসনের জন্ম দিয়েছে। সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনা হবে।

জাতীয় সংসদ

সংবিধানের এককেন্দ্রিক চরিত্র অক্ষুণ্ন রেখে বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। জাতীয় সংসদকে সব জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে।

সাংবিধানিক সংস্কার

আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর সংবিধানের পঞ্চদশ ও ষষ্ঠদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোটের ব্যবস্থা বাতিল, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল, সংসদ বহাল রেখে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান প্রবর্তন, সংবিধানের কিছু বিষয় সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ এবং সংবিধানের কিছু ধারা-উপধারা সংশোধনের অযোগ্য করার বিধান, উচ্চ আদালতের বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত করার বিধানসহ কয়েকটি ‘অগণতান্ত্রিক’ বিধান প্রণয়ন করেছে। বিএনপি এসব বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক বিধান পর্যালোচনা ও পুনঃপরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কার করবে।

গণভোটের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনবে। বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ বাতিল এবং ন্যায়পালের পদ সৃষ্টি করা হবে।

সুশাসন

দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। সে জন্য জনপ্রশাসন, বিচার, পুলিশ ও কারাগার—এই চার প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক সংস্কার করা হবে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক সুশাসনের জন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আইনি ও প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপ নেবে তাঁর দল। প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা, সততা, মেধার উৎকর্ষ এবং সৃজনশীলতাকে বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করা হবে। দলীয় ও সব ধরনের আইনবহির্ভূত হস্তক্ষেপের অবসান ঘটিয়ে বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও পুলিশের আইনানুগভাবে কর্তব্য পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। পুলিশ বাহিনীকে একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক সমাজের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। পুলিশের ওপর বিচার বিভাগীয় তদারকি নিশ্চিত করে জবাবদিহি ও কল্যাণমূলক জনপ্রশাসন গড়ে তোলা হবে।

বিচার বিভাগ

বর্তমান বিচারব্যবস্থা সংস্কারের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের জুডিশিয়াল কমিশন গঠন, যোগ্যতা, মেধা ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংবিধানের আলোকে বিচারপতি নিয়োগের জন্য আইন করে বাছাই কমিটি ও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। অধস্তন আদালতকে নির্বাহী বিভাগের আওতামুক্ত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে আলাদা সচিবালয় করা হবে।

সন্ত্রাসবাদ

সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ সব রাষ্ট্রের জন্যই হুমকির কারণ। এ কারণে বিএনপি বাংলাদেশের ভূখণ্ডের মধ্যে কোনো রকম সন্ত্রাসবাদী তৎপরতাকে বরদাশত করবে না এবং সন্ত্রাসবাদীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে না।

পররাষ্ট্রনীতি

বিএনপি অন্য কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং অন্য কোনো রাষ্ট্রের জন্য নিরাপত্তার সমস্যা সৃষ্টি করবে না। একইভাবে অন্য কোনো রাষ্ট্রও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় হুমকি সৃষ্টি করলে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

যোগাযোগ

দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে রেল ও নৌপথের ওপর অধিকতর গুরুত্ব দেওয়া হবে। চট্টগ্রাম উপকূলীয় এলাকায় বঙ্গোপসাগরে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করে একে একটি ‘রিজিওনাল হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করে রাজধানী ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ‘সুপার হাইওয়ে’ দ্বারা সংযোগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ আরও সহজসাধ্য করা হবে। এশিয়ান হাইওয়ে এবং ঢাকা-কুনমিং রেল, সড়কযোগাযোগসহ আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা এবং সার্কভুক্ত ও আশিয়ান দেশসমূহের সঙ্গে রেল ও সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলার উদ্যোগ; গণচীনের ‘ওয়ান বেল্ট-ওয়ান রোড’ উদ্যোগে সংযুক্ত হওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইসিটি খাত

তথ্য ও প্রযুক্তি খাত হবে বিএনপির বিশেষ অগ্রাধিকার খাত। ২০৩০ সালের মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতকে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে রূপান্তর করা হবে। তিনি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল এবং ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি

শিক্ষাকে কর্মমুখী ও ব্যবহারিক জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হবে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, এই খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করা হবে। স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করা হবে। ২০৩০ সাল নাগাদ আনুমানিক ৩৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

লেখক : প্রধান সম্পাদক
শীর্ষ খবর ডটকম


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1139 বার