“একজন প্রধানমন্ত্রী ও একটি ফোনালাপ, ইতিহাসের কালো পাতায় রক্ষিত থাকবে আজীবন”

Pub: সোমবার, মে ৬, ২০১৯ ৫:১৫ অপরাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, মে ৬, ২০১৯ ৫:২১ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সায়েক এম রহমান:

এক.

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের লন্ডন সফরটি অক্ষমাৎ ইমারজেন্সি ও সম্পূর্ণ গোপনে আয়োজন! তারই বড় প্রমান ভয়ংকর “ফণী” কে একদম চুঁইচুঁই রেখে, আটারো কোটি মানুষের বিপদকে পরোয়া না করে লন্ডনের উদ্দেশ্যে উড়াল দেয়া। বিজ্ঞ মহলের মতামত, চোখের চিকিৎসার জন্য একজন রাষ্ট্র প্রধানের এ সময়ে এত তাড়াহুড়ার কোন দরকার ছিল না। বিভিন্ন বিশ্লেষণে এখানে পরিস্কার ভাবে বলা যায়, এটা চোখের চিকিৎসা নয়, কি যেন একটা নিয়ে লুকোচুরি খেলা চলছে। আসলে এই খেলাটা কী? যদিও বলা হচ্ছে অফিসিয়েল সফর! কিন্তু দৃশ্যত অফিসিয়েল কিছুই নেই। ইন্টরেস্টেড ব্যাপার দলীয় নেতাকর্মীদের কেও আসতে নিষেধ করা হয়েছে। মূলত এটি একান্ত প্রাইভেট সফর। অফিসিয়াল বা সরকারি হলে রীতি অনুযায়ী বৃটিশ সরকারের পক্ষ হয়ে কেউ না কেউ এয়ারপোর্ট যেত। তা-ও দেখা যায় নাই। তার মানে এখানে পরিস্কার এই সফর একান্ত প্রাইভেট ও লুকোচুরিপূর্ণ! এছাড়া অনেক ডিগবাজির পর শেষ পর্যন্ত “তাজ হোটেলে” শেখ হাসিনা উঠেছেন, সেই হোটেলে কিন্তু ভারতীয় পতাকা শোভা পাচ্ছে। এখন মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন,” প্রধানমন্ত্রী কিন্তু বাংলাদেশের, তা-হলে পতাকা ভারতীয় কেন? আবার বলা হচ্ছে এই হোটেলের পিছনে একটি ভাড়াকরা বাড়ীতে আছেন। একজন প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে এই ধরনের লুকোচরিতায় অনেক প্রশ্নেরই জম্ম দিয়েছে। আসলে লন্ডনে কি হচ্ছে এবং কি ঘটচ্ছে?

দুই.

পাঠক, পয়লা মে, বুধবার ২০১৯, লন্ডন সময় ৪-৫৫ মিনিটের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছে, হোটেলে যাওয়ার পথে যুক্তরাজ্য বিএনপির ডিমোস্টেশনের তোপের মুখে পড়েন। তখন শেখ হাসিনাকে বহন করা গাড়িটি ট্রাফিক সিগনালে আটকা পড়লে, ডিমোস্টেটাররা দুই মিনিটের সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ইচ্ছে মতন একদম নিকট থেকে ডিম ছুড়তে থাকে, সে সময় খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, মুক্তি চাই,কিলার কিলার, শেখ হাসিনা শেখ হাসিনা বলে ঐ এলাকা মূখরিত করে তুলছিলো তারা। কেউ কেউ খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই পোস্টার শেখ হাসিনার একদম চোখের সামনে গাড়ির গ্লাসে চাপ দিয়ে ধরে রাখছিল। শেষে পুলিশের সহযোগিতায় গাড়িটি গন্তব্য স্হানে চলতে শুরু করে।

অতঃপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষোভে ফেটে নিজ থেকেই যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের কাছে ফোন করেন, তাজ হোটেলের সামনে অবস্হানরত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বললেন,” সে জন্য আমি পরে কথা বলব! যখন আমি আমার চোখের অপারেশন পর,,,,,,,যখন আমি সুস্হ হবো তখন সবার সাথে দেখা করব। অহেতুক যেন হোটেলে ভিড় না করা হয়! এমনিই কোন হোটেলে বুকিং নিতে চায় না। আমি সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আর দেশে গেলে তো দেখা হয়ই। আমি আমার সময় মত দেখা করে যাব। থ্যাংক ইউ কষ্ট করে আসলেন। সবাইকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পরিশেষে বললেন,” ঐ বিএনপিরে জানাই দিয়েন যে,তারেক জিয়া যদি আমার সাথে বেশী বাড়াবাড়ী করে, তার মা আর জীবনেও জেল থেকে বের হবে না।

পাঠক, আমার আজকের নিবন্ধটি একজন প্রধান মন্ত্রীর ফোনালাপ! যে ফোনালাপটি ইতিহাসের কালো পাতায় রক্ষিত থাকবে, পৃথিবী যতদিন থাকবে। আজ বলতে আমার দ্বিধা নেই, ঐ ফোনালাপটি প্রমান করে,,,,১। বাংলাদেশের বিচার বিভাগ কে কন্ট্রোল করেন? ২। গত দশ বৎসরের খুন,গুম,হত্যা, জেল-জুলুম এ সব কার হুকুমে? ৩। হলমার্ক, ডেসটিনি,শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন ব্যাংক লুট কার ইশারায়?
প্রমান হয়ে গেল,,,, আজকের আদালতকে শেখ হাসিনা সরকার একটি প্রতিষ্টানে পরিণত করে বাংলাদেশের সবচাইতে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায় ভাবে জেলে বন্দী করে এবং সাথে তাঁহার হাজার হাজার নেতাকর্মীদের বন্দী রেখে, শুধু তাই নয় লক্ষাধিক নেতাকর্মীর মাথায় গায়েবি মামলার নজরদারি রেখে,,,,একটি ভোট ডাকাতির নির্বাচন করে আবার ক্ষমতা দখল! যে নেত্রী আজ ৩৭ বৎসর যাবৎ গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করে করে আপোষহীন নেত্রী, দেশমাতা, গনতন্ত্রের প্রতীকে ভূষিত হয়েছেন, তিন তিন বার এদেশটির প্রধান মন্ত্রী হয়েছেন,দুই দুই বার বিরোধী দলের নেত্রী হয়েছেন। সেই নেত্রীকে আজ ৭৪ বৎসর বয়সে সম্পূর্ণ হীন উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে জেল কাটাচ্ছেন। আজ তা এখানে পরিস্কার! প্রধান মন্ত্রী তাঁহার ফোনালাপের মাধ্যমে দাম্ভিকতার সাথে পরিস্কার করে দিলেন, তিনিই বেগম খালেদা জিয়াকে জেল কাটাচ্ছেন।

তিন.

এখন প্রশ্ন,,,,,,,,কোথায় আজ প্রিন্ট মিডিয়া কোথায় আজ ইলেকট্রনিকস মিডিয়া? কোথায় সুশীল সমাজবিদরা ও টক শো ওয়ালারা? সবই নিশ্চুপ! আজ যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ফোনালাপটি বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে ভাসছে তখন কিন্তু বাংলাদেশের মেইনস্ট্রিম গণমাধ্যম গুলো হরতাল করে বসে আছে! এর নামই কি মুক্ত গণমাধ্যম? অতীতে দেখেছি ফোনালাপ একটু আধটুকু ফাস হলেই কত যে উৎসাহ নিয়ে টক শো, বক শোর আয়োজন করে টেলিভিশন ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়। কিন্তু একজন প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ ফাস নিয়ে টু শব্দটাই পর্যন্ত করছেন না, শুধু সম্মানের সাথে নিরবতা মাধ্যমে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন করে যাচ্ছেন,আমি এসব মিডিয়াওলাদের ধিক্কার জানানোর ভাষা আমার নেই।

চার.

কোটি জনতার প্রশ্ন,,,,প্রধানমন্ত্রীর এই ফোনালাপটি যে তাঁহার নয়, তিনি কি অস্বীকার করতে পারবেন? যা জানি এখন পর্যন্ত অস্বীকার মূলক কোন কথা শুনা যায় নাই। তা-হলে কি একজন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করেন নাই? এবং তাঁহার হুকুমেই যে বেগম খালেদা জিয়ার জেল হয়েছে, তা কি অস্বীকার করতে পারবেন? জানি পারবেন না। তা- হলে কি এই ফোনালাপটি আদালতে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য যথেষ্ট নয়???

লেখকঃ
লেখক ও উপদেষ্টা সম্পাদক
শীর্ষ খবর ডটকম


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 4303 বার