বাংলাদেশে গণতন্ত্র এবং জিয়া

Pub: রবিবার, জুন ২, ২০১৯ ১১:৩৭ অপরাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, জুন ২, ২০১৯ ১১:৩৭ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ

উপমহাদেশের এ অঞ্চলে গণতান্ত্রিক আদর্শ বরাবর ছিল জনগণের প্রেরণার উৎস। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা জনগণের কাঙ্খিত লক্ষ। এজন্য জনগণ সংগ্রাম করেছে। রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জন করেছে লক্ষ। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে চিরঞ্জীব করাই গণতান্ত্রিক জনগণের একান্ত কামনা।

যা আশা করা গিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশে তাই হয়েছিল। নতুন রাষ্ট্রের জন্মলগ্নেই জনগণ লাভ কওে গণতান্ত্রিক র্সবিধান। ১৯৭২ সালের সমসাময়িক সংবিধান আদেশে (Provisional Constitution Order, 1972) বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয় সংসদীয় গণতন্ত্র। সংসদেও নিকট দায়ী মন্ত্রীপরিষদ হয় রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৭২ সালের সংবিধানে সে ধারা অব্যাহত রইলো। ১৯৭২ সালের মূল সুর সংসদীয় গণতন্ত্র। প্রাপ্তবয়স্কদেও প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ ওজাতীয় সংসদেও নিকট দায়ী মন্ত্রিপরিষদ-এই ছিল সংবিধানের মৌল বক্তব্য। মনে হয়েছিল এ জাতির প্রত্যাশা পূর্ণ হলো। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদেও এ ভ্যবস্থা বেশীদিন টিকেনি। মাত্র ক’বছরের মধ্যে সেই কাঙ্কিত ব্যবস্থা এক-পা দ’পা কওে কতৃত্ববাদী এক ভ্যবস্থায় রুপান্তরিত হলো। ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণীত হলো। সংবিধানে নাগরিকদেও মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের যে ব্যবস্থা গ্রহীত হয়েছিল ১৯৭৪ সালে জরুরি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তার মূল শিথিল করা হলো। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধন আইনের মাধ্যমে সংসদীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রতর্তিত হলো রাষ্ট্রপতি সরকারের রাষ্ট্রপতির কতৃত্ববাদ। বহুদলীয় ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে সৃষ্টি করা হয় একদলীয় একত্ববাদ। মৌলিক অধিকার এবং ন্যায়নীতির অভিভাবক বিচার বিভাগকে আনা হলো নির্বাহী বিভাগের পদতলে। গণতন্ত্রেও অতন্দ্রপ্রহরী সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ কওে অবাধ তথ্য প্রবাহের পরিবর্তে সরকার কতৃক নিয়ন্ত্রিত মাত্র চারটি সংবাদপত্রের প্রচলনের বিধি গৃহীত হয়। যে নির্বাচন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তিমূল তাও অস্বীকার কওে শেখ মুজিবুর রহমানকে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত করা হলো। এমনভাবে যে, তিনি যেন নির্ভাচিত হয়েছেণ। বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রথম অধ্যায়টির সমাপ্তি এভাবে ঘটে।

দীর্ঘদিনের গড়া সৌধ বিধ্বস্ত হতে পাওে এক মুহুর্তে, কিন্তু পুনরায় তা গড়ে তোলা, কোটি কোটি জনগণের স্বপ্ন জড়ানো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে আবারো প্রাণবন্ত করা যে কী কঠিন কাজ তা প্রতি পদে অনুভব করেছেন এ মাটির অন্যতম শ্রেষ্ঠতম সন্তান জিয়াউর রহমান। তিনি সফল হয়েছিলেন। যা অবশিষ্ট চিল তা সম্পূর্ণ করেন তাঁরই সুযোগ্য সহধর্মিণী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, ১৯৯১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। ঐ বছরের ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদ কর্তৃক গৃহীত দ্বাদশ সংশোধন আইন ১৫ সেপ্টেম্বও জনগণ কর্তৃক গণভোটে অনুমোদন লাভ করে।

এদিক থেকে বলা যায়, জিয়া হলেন রুপকথার তেমনি এক রাজপুত্র যার সোনরা কাঠির মোহনীয় স্পর্শে অগণতান্ত্রিক এবং কতৃত্ববাদের সব কলো ছায়া অপসারিত হয়ে গণতান্ত্রিকতার উজ্জ্বল আলোয় চারদিক ঝলমল করে ওটে।

জিয়া শুধুমাত্র একটি নাম নয়, বাংলাদেশে রাজনীতির উজ্জ্বলতম অধ্যায়ের নাম জিয়া। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় রাজনীতির ক্ষেত্রে তার প্রবেশের কথা নয়। জাতীয় ইতিহাসের ক্রান্তিলগ্নে জাতীয় স্বার্থেও টানেই তাঁকে এ পথ মাড়াতে হয়েছিল। একজন সৈনিকের উচ্চাকাঙ্খা প্রতিরক্ষা বাহিনী সমূহের প্রধান হিসেবে অবসর গ্রহণ করা। কিন্তু তা হয়নি। তাঁকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে হয়েছে। তাঁকে হতে হয়েছে ডেপুটি চীফ মার্শাল ল এডমিনিস্ট্রেটর, চীফ মার্শাল ল এডমিনিস্ট্রেটর এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। এ জাতি তাঁকে হারিয়েছে এমন এক সময়ে যখন তাঁরই প্রয়োজন ছিল সবচেয়ে বেশি। ঘাতকের নির্মম আঘাতে তাঁকে সওে যেতে হয়েছে অকালে। সওে যেতে হয়েছে তার আপনজনদেও নিকট থেকে। তিনি কিন্তু বেঁচে রয়েছেন তাঁর কর্মেও মাধ্যমে। সৌকর্যেও সৌরভে। গণতন্ত্রেও দিশারীরুপে বাংলাদেশের মানুষের মনের মণিকোঠায় পরম গৌরবময় জাতীয় সম্পদরুপে।

জিয়াউর যখন পঁচাত্তরের শেষপ্রান্তে ক্ষমতাসীন হলেন তখনকার আর্থ-সামাজিক এবং রাজনৈতিক অবস্থার দিকে তাকিয়ে দেখুন। দেখবেন, যে গণতন্ত্রেও শুভ আর্শীবাদ মাথায় নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ তার জয়যাত্রা শুরু করেছিল, সে গণতন্ত্র রাজনৈতিক সমাজ থেকে নির্ভাসিত। একদলীয় বাকশালের তান্ডবে বহুদলীয় ব্যবস্থা মৃত। সামরিক অভ্যুন্থান এবং প্রতি অভ্যুন্থানের কষাঘাতে জাতীয় সার্বভৌমত্ব বিপন্ন। স্বাধীনতার পক্ষ ও বিপক্ষের অর্থহীন বিতর্কে জাতীয় ঐক্য ছিন্নভিন্ন। ডান, বাম ও কেন্দ্রের টানাপোড়নে গণতান্ত্রিক চেতনা নি:শেষিতপ্রায়। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে একটি অসমাজতান্ত্রিক দল কতৃক দেশে যে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সূচনা হয় সাধারণ মানুষের জীবনকে তা কওে তোলে দুর্বিষহ। “তলাবিহীন ঝুড়ি” অভিধায় বাংলাদেশ বিশ্বময় হয় পরিচিত। দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে বিপুল সংখ্যক জনসমষ্টির প্রাণান্ত হয়। রাজনীতি হারায় তার গতি।চিন্তা এবং মতপ্রকাশের সকল বাতায়ন হয় রুদ্ধ। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ হয়ে পড়ে নি:সঙ্গ, বন্ধুবিহীন, একঘরে। এমনি করুণ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন জিয়া। কোন প্ল্যান পরিকল্পনার মাধ্যমে নয়, নয় কোন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। নিছক রাজনৈতিক নেতৃত্বেও ব্যর্থতার জন্য সৃষ্ট নেতৃত্বের শূন্যস্থান পূর্ণ করেন।

জিয়ার ক্ষমতাসীন হবার বছর দুই পরের দৃশ্য দেখুন। তফাৎটুকু যে কারো চোখে পড়বে। রাষ্ট্রীয় কতৃত্ব যে জনগণের পবিত্র আমানত এবং তার প্রয়োগ যে জনকল্যাণে হওয়া উচিত, দলীয় স্বার্থে নয়, তার দৃষ্টান্ত চোখে পড়বে।বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রেও ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বহুদলীয় কাঠামোয় জনসমর্থন নিশ্চিত করার বিভিন্ন দল কার্যরত রয়েছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুষ্ঠু মাধ্যম হিেিসবে দলকে ব্যবহার কওে নির্বাচন প্রতিষ্ঠানকে পুন:প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায়। গণতন্ত্র যে আইনের শাসন এবং তার পূর্বশর্ত যে আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন তার প্রতিফলন দেখা যায় সমাজের সর্বত্র, বিশেষ কওে পুলিশ বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তার দক্ষতা বৃদ্ধিতে। সামরিক বাহিনীর পেশাদারিত্ব বৃদ্ধিও লক্ষে নতুনভাবে প্রশিক্ষণদান এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা তথা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে সুরক্ষিত করার নতুন আদর্শে প্রতিরক্ষাবাহিনী সুবিন্যস্ত হয়েছে। সংবাদপত্রের চোখ-মুখ-কান খোলা রয়েছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ জায়গা কওে নিয়েছে। আজকের বাজার অর্থনীতির যে বিশ্বময় অবাধ গতি তার সূচনা বাংলাদেশে তখন থেকেই। তলাবিহীন ঝুড়ির শত ছিদ্র ক্রমে ক্রমে বন্ধ হচ্ছে। সংকীর্ণ বাঙালী জাতীয়তাবাদেও আড়ালে যে কদর্য ভেদবুদ্ধি চিহ্নিত হচ্ছিল বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদেও উদার এবং বৃ পরিমন্ডলে জাতীয় ঐক্য ধীওে ধীওে প্রাণবন্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ লাভ করেছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বহুসংখ্যক বন্ধু এবং সহযোগী। জাতিসংঘে বাংলাদেশ সম্মানের আসনে আসীন হয়েছে। হাজার বছরের জমাট বাঁধা সন্দেহ এবং অবিশ্বাসের মধ্যেও দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের নেতৃত্বে আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রদীপ জ্বলে উঠেছে।যেভাবেই দেখুন না কেন, এসব যুগান্তকারী পদক্ষেপের মূলে ছিল জিয়ার নেতৃত্বেও স্পর্শমণি। তিনি যা কিছু স্পর্শ করেছেন বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক এবং রাজনৈতিক জীবনে তাই সোনা হয়ে উঠেছে।

আগেই বলেছি, তিনি ষড়যন্ত্রেও মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেননি। যখন এবং যে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বেও ব্যর্থতা প্রকট হয়ে উঠেছে, জাতি নেতৃত্বেও শূন্যতায় ছটফট করেছে তখনই এবং সেক্ষেত্রে জিয়া এগিয়ে এসছেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বিদ্রোহের মাধ্যমে জিয়ার তো স্বাধীনতা ঘোষণা দেবার কথা নয়, তথাপি তাঁকেই সে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। পাকিস্তানী নেতৃবৃন্দেও সাথে দফায় দফায় আলোচনা কওে আওয়ামী লেিগর শীর্ষস্থানীয় নিতৃবৃন্দ যখন ব্যর্থ হন, বিশেষ কওে পূর্ব বাংলার অবিসংবাদিত নেতা পরম পরাক্রমশালী শেখ মুজিব যখন ২৫ মার্চেও মধ্যরাত্রিতে পাক সেনাদেও নিকট আতœসমর্পন করেন এবং তাঁর বিশ্বস্ত সহযোগীদেও আতœসমর্পেেণর পরামর্শ দেন, জনতার গণতান্ত্রিক চেতনা সামনে রেখে জিয়াকেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে হয়। যারা বলেন, আতœসমফৃণের পূর্বে শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন অথবা চট্টগ্রামে হান্নান সাহেবকে মেসেজ পাঠিয়েছেন তা যে জল্পনা-কল্পনা তা বুঝতে কারো অসুকিধা হয় না। ২৫ মার্চেও রাত্রি সাড়ে দশটা পর্যন্ত পূর্ব বাংলার সকল সংবাদ মাধ্যম ছিল তাঁর নিয়ন্ত্রণে। ধানমন্ডির ৩২নং বাড়ির চারপাশে দেশ-বিদেশের অসংখ্য সংবাদ সংগ্রাহক অপেক্ষা করছিলেন। পুলিশ, ইপিআর আর নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা একটা সংবাদেও জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন। অপেক্ষায় ছিলেন তাঁর দলের ও অন্যান্য দলের রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী। ছাত্রছাত্রীরাও। কারো কাছে কোন কথা না বলে চট্টগ্রামের হান্নান সাহেবকে তিনি খুঁজে পেলেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে সে রাত্রিতে ঢাকার অবস্থা ভিন্নরকম হতো। তা তিনি দেননি। তিনি যদি স্বাধীনতার ঘোষণাই দিতেন তাহলে তিনি নিশ্চয়ই বলতেন, কে হবেন বাংলাদেশের কর্ণধার, কে হবেন তাঁর প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি, যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্বে কে থাকবেন, কোথা থেকে যুদ্দ পরিচালনা করা হবে এবং কোন কোন ফ্রন্টে। স্বাধীনতা বাংলাদেশর প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিলের এক ভাষণে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন মেজর জিয়ার স্বাধনিতার ঘোষণা তিনি শুনেছেন। মেজর জিয়া ২৭ মার্চ এক ঐতিহাসিক মুহুর্তে সামরিক মৃংখলার সবকিছু ঝেড়ে মুছে এগিয়ে এলন স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে। শুধু ঘোষণাই নয় স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম পদক্ষেপ তিনিই নিয়েছেন।

১৯৭৫ সালের ৭নভেম্বর আবার যভন বাংলাদেশের রক্তে রঞ্জিত স্বাধীনতা অনিশ্চিত ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হবার উপক্রম হয়, ছাত্র-জনতা-সিপাহী বিপ্লবের উত্তাল তরঙ্গেও মাথায় হাত রেখে এগিয়ে এলেন জিয়া এবং বাংলাদেশের জাহাজের প্রধান নাবিক হিসেবে হাল ধরলেন শক্ত হাতে।সামরিক শাসক হিসেবে যারা তাঁকে চিহিÍত করতে চান তাদেও জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তিনি সামরিক আইন জারি করেননি। সামরিক অভ্যুন্থনের মাধ্যমে ক্সমতাসীন হননি। তিনি বরং সামরিক শাসন থেকে এক-পা দু’পা কওে ধীওে ধীওে সওে এসে বাংলাদেশকে সিভিল সোসাইটির উপযোগী কওে তোলেন, যেমনটি ফ্রান্সে জেনারেল দ্য গল সমাজকে তৈরি করেন সিভিল সোসাইটির জন্য।

জিয়ার নিকট গণতন্ত্র শুধুমাত্র রাজনৈতিক ব্যবস্থাই ছিল না, গণতন্ত্রকে তিনি দেখেছেন এক জীবন ব্যবস্থারুপে। তাই জীবনকে সুন্দও করার জন্যে যা যা প্রয়োজন তিনি সেদিকে দৃষ্টি দিয়েছেন। শিল্পকলা থেকে শিশু একাডেমী, শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বিএনসিসি, রাজনৈতিক দল থেকে আঞ্চলিক সংস্থা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি থেকে গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি, ক্রীড়ানুষ্ঠান থেকে সংস্কৃতি চর্চা, স্থানীয় সরকার থেকে দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়ের স্বাধীনতা-সকল ক্ষেত্রেই ছিল জিয়ার অবাধ বিচরণ। আজকের বাংলাদেশের চার দেয়ালের যেদিকেই তাকাই না কেন সব দিকেই রয়েছে জিয়ার বৃহৎ প্রতিকৃতি, জনগণের মনের মণিকোঠায়। অনেক কাজ তিনি সম্পাদন করতে পাওে নি বটে,কিন্তু সূচনালগ্নেও তা গৌরবজনক। বাংলাদেশে তাঁকে ভুলবে কার সাধ্য?


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ