একটি ঘোষণা,একজন মেজর জিয়া এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম

Pub: সোমবার, জুন ১০, ২০১৯ ৩:৩৩ অপরাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, জুন ১০, ২০১৯ ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

একটি ঘোষণা : আজ থেকে ৪৮ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে একটি ঐতিহাসিক ঘোষণা উচ্চারিত হয়েছিল চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে। সেই ঘোষণাটি ছিল বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষণা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত মেজর জিয়াউর রহমান তখন চট্টগ্রামের ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে পাকবাহিনীর অপারেশন সার্চলাইট নামে চালানো নির্বিচার গণহত্যার খবর পেয়ে তিনি নিজ ব্যাটালিয়নসহ বিদ্রোহ ঘোষণা করেন তাৎক্ষনিকভাবে এবং পরদিন ২৬ মার্চে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে নিজেকে হেড অফ দ্য স্টেট বা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বর্ণনা করে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। একই ঘোষণায় তিনি তার নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে বলেও জানান দেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা শিরোনামের অধ্যায়ে ২৬ মার্চ পর্যন্ত উদ্ধৃত ছিল—‘…Yahya Khan left Dacca abruptly on 25 March 1971 and Tikka Khan let loose his reign of terror the same night. The next day, while the whereabouts of Mujib remained unknown, Major Ziaur Rahman announced the formation of Provisional Government of Bangladesh over Radio Chittagong.

অর্থ্যাত্ ‘…ইয়াহিয়া খান হঠাত্ করেই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঢাকা ত্যাগ করেন এবং টিক্কা খান সেই রাতেই তার সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। পরদিন যখন মুজিবের খোঁজ অজানা তখন মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম বেতার থেকে অন্তর্বর্তীকালীন বাংলাদেশ সরকার গঠনের ঘোষণা দেন।’ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মিত্রবাহিনী ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে উদ্ধৃত এই অনুচ্ছেদটির ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, মেজর জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চে প্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন। ওই ঘোষণাটি পরবর্তী সময়ে একদিন পর ২৭ মার্চে তৎকালীন বাস্তবতার নিরিখে যথোপযুক্তভাবে সংশোধন করে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বারবার প্রচার করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বস্তুতপক্ষে তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণাকে রাজনৈতিকভাবে আরও গ্রহণযোগ্য ও ব্যাপকভিত্তিক করার লক্ষ্যে ‘…On behalf of our great leader Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman…’ কথাটি ইংরেজি সংস্করণের সংশোধিত ঘোষণায় সংযোজন করেন। এই সংশোধিত ঘোষণাটি বাংলায় ছিল—‘… প্রিয় দেশবাসী, আমি মেজর জিয়া বলছি। আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ঘোষণা করছি। আপনারা দুশমনদের প্রতিহত করুন। দলে দলে এসে যোগ দিন স্বাধীনতা যুদ্ধে। গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীনসহ বিশ্বের সব স্বাধীনতাপ্রিয় দেশের উদ্দেশ্যে আমাদের আহ্বান আমাদের ন্যায়যুদ্ধে সমর্থন দিন এবং স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিন। ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদের অবধারিত।’ এই বাস্তবানুগ সংশোধনীর ফলে ২৭ মার্চের সংশোধিত ঘোষণাটি ২৬ মার্চের প্রথম ঘোষণার তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর হয়েছিল এবং সারাদেশে এমনকি বিশ্বজুড়ে তা বিপুলভাবে সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছিল।

২৬ মার্চের প্রথম ঘোষণায় মেজর জিয়া নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের হেড অফ দ্য স্টেট বা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করলেও সংশোধিত ঘোষণায় নিজেকে বাংলাদেশের মুক্তি বাহিনীর অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান (Provisional Commander in Chief of Bangladesh Liberation Army) হিসেবে ঘোষণা করেন। সংশোধিত স্বাধীনতার ঘোষণাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এতে রাজনৈতিক, সামরিক ও আন্তর্জাতিক সহ প্রয়োজনীয় সবগুলো উপাদানই সুচিন্তিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কার পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হচ্ছে তা যেমন যুক্ত করা আছে, আক্রান্ত দিশেহারা দেশবাসীর প্রতি দুশমনদের প্রতিহত করার এবং দলে দলে এসে স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগ দেয়ার আহ্বান রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের প্রতি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি ও ন্যায়যুদ্ধে সমর্থনের আবেদনও জানানো হয়েছিল। এভাবে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষণাটি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ২৭ মার্চ এসে পরিপূর্ণতা লাভ করেছিল এবং বিপন্ন দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় উভয়কেই এর মাধ্যমে যথাযথভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বার্তাটি পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছিল।

একজন মেজর জিয়া : সেই দিশাহীন সময়ে গ্রহণযোগ্য কারোর কাছ থেকে একটি সুস্পষ্ট ঘোষণার খুবই প্রয়োজন ছিল। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল দিকনির্দেশনার। তৎকালীন পরিস্থিতির বিচারে স্বাভাবিক হত যদি সেই সময়ের প্রধান রাজনৈতিক নেতা ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই দিতে পারতেন সেই ঘোষণাটি। সেক্ষেত্রে হয়ত আজ ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতে পারত। নির্বিচার গণহত্যাও হয়তবা সেক্ষেত্রে এড়ানো যেত। কিন্তু তিনি তা করতে ব্যর্থ হলেন। মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রিত্বের দাবিদার শেখ মুজিবুর রহমান জেনারেল ইয়াহিয়ার সঙ্গে সমঝোতার আলোচনা চালিয়ে যেতে লাগলেন। অথচ সেই দরকষাকষির আলোচনার আড়ালে যে পাকিস্তানি বাহিনী নির্মম গণহত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছে তা তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেননি। যদি বিবেচনায় নিতেন তবে হয়ত আত্মরক্ষা তথা সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে কার্যকর পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা যেত। তার রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন একপর্যায়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে রূপলাভ করলে করণীয় কি হবে, তা কি তিনি জানতেন? তার নেতৃত্বে পরিচালিত রাজপথের আন্দোলন ও অসহযোগ কর্মসূচির বিপরীতে যদি সশস্ত্র আঘাত এসে পড়ে তবে তার পাল্টা ব্যবস্থাই বা কি হতে পারে, তা কি তিনি ভেবে রেখেছিলেন? ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, এমন সব জরুরি বিষয়ে তার কিংবা তার দলের কোন যথাযথ বিশ্লেষণ ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছিল না।

ফলে যখন পূর্ব পাকিস্তান নামক ভূখণ্ডে বসবাসকারী বাঙালি জনগোষ্ঠীর স্বাধীনতা লাভের আকাঙ্ক্ষা সবকিছুকে ছাপিয়ে উঠল এবং এক সময় সার্বিক পরিস্থিতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল তখন তিনিসহ তার দলীয় নেতারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লেন। ২৫ মার্চ রাতে নিজ গৃহে অবস্থান করে স্বেচ্ছায় গ্রেফতার বরণের মত অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত না নিলেও তিনি পারতেন। সেক্ষেত্রে স্বাধীনতার দাবিতে উন্মুখ জাতি যখন পাকবাহিনী কর্তৃক আক্রান্ত হল তখন স্বাধীনতার ঘোষণা উচ্চারণ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রত্যক্ষ নেতৃত্বও তিনি দিতে পারতেন। কিন্তু যা করা উচিত ছিল তিনি তা করতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ব্যর্থ হলেন। তিনি গ্রেফতার বরণের পর তার পক্ষ থেকে সিনিয়র নেতাদের মধ্যে কেউ একজন এগিয়ে এসেও স্বাধীনতার ঘোষণাটি উচ্চারণ করতে পারতেন। ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার বরণের আগেই সঙ্গীসাথী সবাই নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নিলেন এবং যথাসম্ভব দ্রুততায় পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করলেন। পেছনে পড়ে রইল সাড়ে সাত কোটি নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালি, হানাদার পাকবাহিনীর গণহত্যার সহজ শিকার হওয়ার জন্য। যারা বেঁচে গেল, তারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ছুটল এদিক সেদিক।

শহর ছেড়ে গ্রামে, গ্রাম ছেড়ে জঙ্গলে। এমনতর কঠিন সময়ে জাতির কি করণীয়, কে বলে দেবে তাদের? উন্নত শির এক বীর সিপাহসালার ঠিকই এগিয়ে এলেন জাতির ত্রাণকর্তা হিসেবে। নিজ সৈন্যদলসহ বিদ্রোহ করলেন ২৫ মার্চ রাতেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এবং পরদিন ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে ঘোষণা দিলেন—‘…আমি মেজর জিয়া বলছি। আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি।…’ মহান স্বাধীনতার এই ঘোষণাটি উচ্চারণের মধ্য দিয়ে একজন আপাত অখ্যাত মেজর জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিলেন। তার অন্য সব পরিচয় ছাপিয়ে সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে উঠল তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক। ১৯৭৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সংবর্ধিত করতে গিয়ে ভারতের তত্কালীন রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীব রেড্ডি যথার্থই বলেছিলেন—‘…Your position is already assured in the annals of the history of your country as a brave fighter who was the first to declare independence of Bangladesh…’

অর্থ্যাত্ ‘…আপনার স্থান আপনার দেশের ইতিহাসে ইতিমধ্যে গ্রন্থিত রয়েছে একজন সাহসী যোদ্ধা হিসেবে, যিনি প্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন…।’

একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম : মেজর জিয়ার কণ্ঠে মহান স্বাধীনতার ঘোষণা ধ্বনিত হওয়ার পর সেই ঘোষণার প্রতিক্রিয়া হয়েছিল খুবই ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী। বিদ্যুত্গতিতে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। স্বাধীনতাকামী বাঙালি জাতি যেন এই ঘোষণার মাধ্যমে নিকষ কালো অন্ধকারে হটাৎ আলোর দিশা খুঁজে পায়। বিশেষ করে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক সামরিক কায়দায় চালানো নির্বিচার গণহত্যার বিপরীতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতেই কর্মরত একজন বাঙালি মেজর সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাক দিচ্ছেন, তা ভীত-সন্ত্রস্ত বাঙালি জাতির মনে বিশেষ সাহস জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হয়। নিরস্ত্র একটি জাতি সশস্ত্র হয়ে শত্রুর মোকাবিলা করার জন্য মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। সম্মিলিতভাবে হানাদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার জন্য অনুপ্রাণিত হয়। ‘মরতে হলে কাপুরুষের মত নয়, লড়াই করেই মরব’—ধরনের মনোভাব তৈরি হয়। মরণপণ লড়াই করে ঘোষিত স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনা এবং স্বাধীন দেশের মাটি হানাদার মুক্ত করার সংকল্প জেগে ওঠে। স্বনামখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম মেজর জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা প্রসঙ্গে বলেন—‘…মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে আমি নিজেও উৎসাহিত হয়েছি। গোটা জাতি উৎসাহিত হয়েছে…।’ মেজর জিয়ার নেতৃত্বে ২৫ মার্চ রাত থেকেই সামরিক প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল চট্টগ্রামে। তিনি তার নিজ ব্যাটালিয়নের বাঙালি সৈন্যদলসহ পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বাঙালি সেনা কর্মকর্তা ও জওয়ান এবং পুলিশ ও ইপিআরে কর্মরত বাঙালিদের জড় করে এক দুর্ধর্ষ বাহিনী গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তার গঠিত এই বাহিনীকেই মুক্তিবাহিনীর প্রাথমিক রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত তার এই বাহিনীই চট্টগ্রামসহ এর আশপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। এরই স্বীকৃতি হিসেবে পরবর্তী সময়ে গঠিত অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিলে তার ভাষণে বলেন—‘…সর্বপ্রথম মেজর জিয়াউর রহমান ঘোষিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছে এবং সেখান থেকেই মুক্ত অঞ্চলগুলো শাসিত হচ্ছে..।’

লক্ষণীয় যে, এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভারতের মাটিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হওয়ার আগেই ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র জন্মলাভ করেছিল একজন মেজর জিয়ার ঘোষণার মাধ্যমে। বস্তুত তার স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল এই নতুন রাষ্ট্রের জন্ম সনদ (Birth Certificate)। এই জন্ম সনদের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক নেতারা সংগঠিত হয়ে নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় নানা আনুষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলেন। সুদীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় হানাদারমুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশ। তাই প্রতি বছর ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। এই দিনটি স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মদিন এবং সে কারণে এই দিনটি বিশেষভাবে একজন মেজর জিয়ার। এই দিনে অবিরামভাবে বাংলাদেশের আকাশে বাতাসে গমগম করে যেন বাজে তার সেই অনন্য ঘোষণাটুকু ‘…আমি মেজর জিয়া বলছি…। আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি..।’

লেখক : প্রধান সম্পাদক শীর্ষ খবর ডটকম ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ